📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 পর্দা করার নির্দেশ

📄 পর্দা করার নির্দেশ


আল-কুরআনে যে সকল আয়াতে পর্দার নির্দেশ রয়েছে সেগুলো হচ্ছে-“হে নবী, মু'মিন পুরুষদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য বেশি পবিত্র পদ্ধতি। যা কিছু তারা করে আল্লাহ তা জানেন। এবং মু'মিন নারীদের বলে দাও, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোকে হেফাজত করে আর তাদের সাজসজ্জা না দেখায়, যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তাছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে। তারা যেনো তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে। তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া-স্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের, নিজের মালিকানাধীনদের, অধীনে থাকা পুরুষদের, যাদের অন্য কোনো রকম উদ্দেশ্য নেই। এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া, যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনও অজ্ঞ। তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার জন্য সজোরে পদক্ষেপ না করে।” (সুরা নূর: ৩০-৩১)

হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা তো সাধারণ নারীদের মতো নও। যদি পরহেজগারী অবলম্বনের ইচ্ছা থাকে তাহলে কোমলভাবে কথা বলো না। কারণ এতে যাদের অন্তরে খারাপ বাসনা আছে তারা তোমাদের উপর এক ধরনের আশা পোষণ করে বসবে। সোজা সোজা ও স্পষ্ট কথা বলো। আপন ঘরে অবস্থান করো এবং অতীত জাহেলিয়াত যুগের ন্যায় রূপ সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে বেড়িয়ো না। (সূরা আহজাব : ৩৩)

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 পুরুষের পর্দা

📄 পুরুষের পর্দা


আল কুরআনে সূরা আন নূরে পুরুষকেই প্রথম পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, হে নবী! মু'মিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে।”

“আল্লাহর কিতাবের এ হুকুমটির যে ব্যাখ্যা হাদীস করেছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো-
১. নিজের স্ত্রী ও মুহাররাম নারীদের ছাড়া কাউকে নজর ভরে দেখা পুরুষের জন্য জায়েয নয়।
২. একবার নজর পড়ে গেলে ক্ষমাযোগ্য, কিন্তু প্রথম দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় মনে হলে সেখানে আবার দৃষ্টিপাত করা ক্ষমাযোগ্য নয়।
৩. তিনি এ ধরনের দেখাকে চোখের যিনা বলেছেন।

রাসূল (সা:) বলেছেন, “হে আলী! এক নজরের পর দ্বিতীয় নজর দিয়ো না। প্রথম নজর তো ক্ষমার যোগ্য কিন্তু দ্বিতীয় নজরের ক্ষমা নেই।” (আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ)

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি নবী (সা:)-কে জিজ্ঞেস করলাম, 'হঠাৎ চোখ পড়ে গেলে কি করব?' তিনি বললেন “চোখ ফিরিয়ে নাও অথবা নামিয়ে নাও।” (মুসলিম, আহমাদ, তিরমিযী)

হাদীসে কুদসীতে রাসূল (সা:) বলেছেন, “আল্লাহ বলেন, দৃষ্টি হচ্ছে ইবলীসের বিষাক্ত তীরগুলোর মধ্য থেকে একটি তীর। যে ব্যক্তি আমাকে ভয় করে তা ত্যাগ করবে, আমি তার বদলে তাকে এমন ঈমান দান করবো যার মিষ্টি সে নিজের হৃদয়ে অনুভব করবে।”

আবু উমামা রেওয়ায়েত করেছেন, রাসূল (সা:) বলেন, “যে মুসলমানের দৃষ্টি কোনো মেয়ের সৌন্দর্যের উপর পড়ে এবং সে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় এ অবস্থায় আল্লাহ তার ইবাদাতে বিশেষ স্বাদ সৃষ্টি করে দেন।”

আলহামদুলিল্লাহ! কি চমৎকার কথা।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 নিজেদের ব্যাপারে উদাসীন

📄 নিজেদের ব্যাপারে উদাসীন


আমার মুসলিম ভাইয়েরা উপযুক্ত হাদীসের এবং আল কোরআনের শিক্ষাটুকু যদি বাস্তবায়িত করতেন তাহলে আমাদের অত কষ্ট হতো না।

কারণ মহিলাদের পর্দা আরো ব্যাপক। তাদেরকেও দৃষ্টি সংযত করা এবং লজ্জাস্থানের হিফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত কিছু নির্দেশ আছে। যেমন :
১. তারা যেন বড় ওড়না বা চাদর দিয়ে নিজেদের দেহ পুরাপুরি ঢেকে রাখে।
২. সাজসজ্জা এবং রূপ সৌন্দর্য পর পুরুষকে না দেখায়।

কোনো প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলেই ইসলামের নির্দেশ মোতাবেক মহিলাদের সাজসজ্জা এবং রূপ সৌন্দর্য ঢাকতে হলে মুখ মণ্ডলও ঢেকে রাখতে হয়, যাতে পর পুরুষে না দেখে। এটা কিন্তু বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার। পুরুষেরা যদি আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক তাদের দৃষ্টি অবনমিত রাখত তাহলে কিন্তু মহিলাদের এত কষ্ট করতে হতো না। অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো আমাদের অনেক আলেম এবং ওয়ায়েজীন আছেন যারা নিজেদের পর্দা করার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে শুধু মহিলাদের ওয়াজ-নসিহত করেন। এমন অনেক লেখকও আছেন, যাদের লিখিত বড় বড় কিতাবে শুধু মেয়েদের ই উপদেশ খয়রাত করা হয়েছে। মেয়েদেরই হাম্বিতাম্বি করা হয়েছে। অথচ পর্দার হুকুম যে তাদের উপরও নাযিল হয়েছে একথা যেন তারা জানেই না। নিজেদের ব্যাপারে তারা একেবারে উদাসীন।

📘 দাউস কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না > 📄 বে-আলেম পুরুষ

📄 বে-আলেম পুরুষ


উপরে গেল আলেম পুরুষদের কথা, তারা নিজেরা পর্দা না করলেও স্ত্রী কন্যাদের পর্দা করায়, এতেই হয়ত আত্মতৃপ্তি পায়।
ভাবে পর্দার আদেশের হক ঠিক মতোই পালন করলাম, দাইয়ুস তো আর হতে হবে না।
তারা কি সূরা সফের এই আয়াত পড়েনি? “হে ঈমানদার বান্দাগণ! তোমরা এমন কথা কেন বল, যা নিজেরা করো না? আল্লাহ্র কাছে খুবই ক্রোধ উদ্রেককারী ব্যাপার হলো যা অন্যকে করতে বলো, কার্যত নিজেরা তা করো না।”
এইবার আসা যাক বে-আলেম পুরুষদের ব্যাপারে। তারা নিজেরা পর্দা করে না, স্ত্রী কন্যাকেও করতে দেয় না।
আমার নিকটতম প্রতিবেশী খুবই বেপর্দায় চলাফেরা করেন। ভদ্র মহিলা উচ্চ শিক্ষিতা। স্মার্ট এবং সুন্দরী। যা হোক একদিন তার ব্যালকনীতে লম্বা জুব্বা আর টুপি পরিহিত এক বুযুর্গকে দেখে অবাক হলাম। তার বাসায় গেলাম। এক পর্যায়ে বুজর্গকে দেখিয়ে বললাম “ইনি কে?”
ভদ্রমহিলা বললেন “আমার আব্বা।” বললাম "এই বাপের মেয়ে এমন হয় কিভাবে?”
আমার প্রশ্নের উত্তরে মহিলা যা বললেন তার মূলকথা হলো বিয়ের আগে তিনিও পর্দা করতেন। বোরকা না পরলেও বড় ওড়না পরে স্কুল-কলেজে যেতেন। কিন্তু বিয়ের পরে তাকে সব ছাড়তে হয়েছে, কারণ তার স্বামী এসব পর্দা-টর্দা পছন্দ করেন না। এই ধরনের অনেক মহিলা আমাদের সমাজে আছেন, যাদের বাবা যখন পর্দা করে চলতে বলেছেন তখন তারা পর্দা করেছে আবার স্বামী যখন পর্দা ছাড়তে বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছেন। জানি না এরা নিজেদেরকে পুতুল মনে করেন কি-না। এদের কি নিজেদের কোনো পছন্দ-অপছন্দ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই? অথচ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, 'নারী যা অর্জন করেছে তা-ই সে পাবে-পুরুষ যা অর্জন করেছে তাই সে পাবে। কারো পাপের বোঝা কেউ বহন করবে না। মহিলারা যদি ভাবেন, আমার কি দোষ, আমার স্বামী আমাকে পর্দা করতে দেয় না, তাই করি না। এতে পাপ যদি কিছু হয় তা সব স্বামীর-ই হবে-আমার কি?
আসলে হিসেবটা এত সোজা নয়। পাপ. আপনারও হবে, আপনার স্বামীরও হবে। যেমন যে খুন করে তারও ফাঁসি হয়, আর যে হুকুম করে তারও ফাঁসি হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00