📄 ইসলাম গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَمِّهِ « قُلْ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ أَشْهَدُ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ». قَالَ لَوْلا أَنْ تُعَيِّرَنِي قُرَيْشٍ يَقُولُونَ إِنَّمَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ الْجَزَعُ لَأَقْرَرْتُ بِهَا عَيْنَكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ)
অর্থ. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচা (আবু তালেব) কে (তার মৃত্যুর সময়) বলেন, হে আমার চাচা! আপনি বলুন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। কেয়ামতের দিন আমি ইহার বদৌলতে আপনার জন্য সাক্ষী হবো। জবাবে আবু তালেব বললেন, যদি কোরাইশদের এই ভর্ৎসনার আশংকা না হতো যে, তারা বলবে আবু তালেব শুধু মৃত্যুর ভয়ে কালেমা পাঠ করেছে, তবে আমি কালেমা পড়ে তোমার চক্ষু শীতল করতাম। এই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ নাযিল করলেন- إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ . অর্থ: নিশ্চই আপনি যাকে চান তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে হেদায়াত দান করেন।
হাদিস থেকে শিক্ষা
উক্ত হাদিস থেকে কয়েকটি বিষয় আমরা জানতে পাই। ১. রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচার হেদায়াতের জন্য এতো অস্থির ছিলেন। সারা জীবনতো দাওয়াত দিয়েছেন মৃত্যু শয্যাতেও দাওয়াত দিচ্ছেন আর আকুতি পেশ করছেন। একটি বার কালেমা পড়ে নিন। আমি কেয়ামতের দিন সাক্ষীদিব, এটা ছিল নবীজীর অস্থিরতা। নবীজী সর্বদা পেরেশান থাকতেন এই অমুসলিমগুলো কেন ঈমান আনে না? আল্লাহ্ নবীজীকে সান্ত্বনা দিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন।
ফেল্লালাকা বাখিউন নাফসাকা আলা আছারিহিম ইল্লাম ইউমিনু বিহা যাল হাদীছি আসাফা। তারা ঈমান না আনার কারণে এই আফসোসে মনে হয় আপনার জীবন ধ্বংস করে ফেলবেন। নবীজীর অস্থিরতার কারণ ছিল লোকগুলো কেন ঈমান আনছেন না। নবীজীর যুগে কারা ঈমান আনছিল না? অবশ্যই অমুসলিমরা ঈমান আনছিলো না। অমুসলিমরা কেন ঈমান আনছে না- এটা ছিল নবীজীর অস্থিরতা। যেমনটি ঘটেছে নবীজীর চাচার সাথে। প্রিয় পাঠক! এবার বলুন, আমরা কয়জন নবীজীর অস্থিরতার সুন্নতের উপর আমল করেছি? কয়দিন আমাদের প্রতিবেশী অমুসলিমদের দাওয়াত দিয়েছি? কয়দিন তাদেরকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি? আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। আজ থেকে আমরা নবীজীর এই সুন্নাতের উপর আমল করবো। ২. ইসলাম গ্রহণে অন্যতম একটি বাধা হলো সমাজ। যেই বাধার কারণে নবীজীর চাচা ঈমানের মত মহাসম্পদ থেকে বঞ্চিত হলো। আমাদের দেশের অমুসলিম ভাই-বোনকে ইসলামের দাওয়াত দিলে অনেকেই বলে- হুজুর ! আপনি যা বলছেন সবই সত্য, কিন্তু মানতে পারছি না। কারণ, বাধা আমাদের সমাজ। সমাজের মানুষ কী বলবে? আমাদের উচিত, সে সব মানুষের জন্য দু'আ করা। আল্লাহ তা'আলা যেন তাদেরকে হেদায়াত দান করেন। ৩. এই হাদিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় হলো হেদায়াত আল্লাহর হাতে, যার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো নবীজীর চাচা আবু তালিব। তার হেদায়াতের জন্য নবীজীর চেষ্টার কোনো কমতিই ছিল না, কিন্তু হেদায়াত পায় নি। আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়াত দান করেন। নবীজীর উদ্দেশ্যে পরিষ্কার ভাবে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন- إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ . আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না। আল্লাহ যাকে চান তাকে হেদায়াত দেন।
আমাদের অনেক দা'য়ী দাওয়াত দিয়ে হতাশ হয়ে যান। মনে করেন আমি এতো দাওয়াত দিচ্ছি, কিন্তু মাদ'উ ইসলাম গ্রহণ করছে না। তাই দা'য়ীর সফলতা হলো দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার মধ্যে। দা'য়ী দাওয়াত পৌঁছে দিলো তো সফল হয়ে গেল। কারণ পৌঁছে দেয়াই তার দায়িত্ব।
টিকাঃ
৮৪. বুখারী-১৩৬০, তিরমিজী- ৩১৮৮,।
৮৫. সূরা কাসাস-৫৬
৮৬. সূরা কাহাফ-০৬
৮৭. সূরা কাসাস-৫৬