📄 দাওয়াতের স্তরসমূহ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ أَنَّ مُعَاذَا قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ « إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمُهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ হُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ ».
অর্থ. হযরত ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত হযরত মুআজ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এই উপদেশ দিয়ে (ইয়ামানের উদ্দেশ্যে) পাঠালেন, তখন বললেন: (হে মুআজ!) তুমি আহলে কিতাবীদের একটি গোত্রের নিকট যাচ্ছো। সুতরাং (প্রথমে) তুমি তাদেরকে দাওয়াত দাও তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো মা'বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যদি তারা এর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে শিক্ষা দাও যে, আল্লাহ তাদের উপর রাত ও দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যদি তারা এটা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবগত করো যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন। যা তাদের বিত্তশীলদের কাছ থেকে নেয়া হবে এবং তাদেরই দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এর প্রতি নতি স্বীকার করে, তাহলে অবশ্যই তুমি (তাদের সম্পদ থেকে যাকাত গ্রহণের ক্ষেত্রে) উত্তম ও পছন্দনীয় সম্পদ গ্রহণ করো এবং তা থেকে বিতরণ করো এবং নিপীড়িতদের আহাজারি থেকে বেঁচে থাকো কারণ তাঁর আর্তনাদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।
হাদিস থেকে শিক্ষা
কাউকে দাওয়াতের জন্য কোথাও পাঠালে, যেই স্থানে পাঠানো হচ্ছে বা যাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে, তাদের সম্পর্কে ধারণা দেয়া আবশ্যক। যেমনটি করেছেন রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি হযরত মুআজ রা.-কে ইয়ামানে পাঠালেন, সেখানে কারা বাস করে সেই সম্পর্কে ধারণাও দিয়ে দিলেন। দায়ীদেরকে যেখানে পাঠাবো সেখানে গিয়ে কী কাজ, দায়িত্ব কী কর্তব্য কী- সবকিছু ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। যেমন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআজ রা.-কে প্রথমে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার তালীম দিয়েছেন। এমনকি কাজের ধারাবাহিকতা ও বলে দিয়েছেন। মোটকথা, যে কোনো কাজে কাউকে পাঠালে পাঠানোর উদ্দেশ্য ও দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া। এখানে আমরা আরো একটি বিষয় শিখতে পাই, তা হলো, দাওয়াতের স্তরসমূহ। প্রথমে মাদউকে আল্লাহর হুকুমগুলো ভালো ভাবে বুঝিয়ে দেয়া। যদি তারা দাওয়াত গ্রহণ করে তাহলে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আমল করতে পরামর্শ দেওয়া। আমাদের দেশে দেখা যায়, কেউ মুসলমান হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে আল্লাহর ওলি বানিয়ে দিতে চায়। সে যেনো পাক্কা মুসলমান হয়ে যায়। অনেক সময় এর জন্য পিড়াপিড়িও করা হয়, ফলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। এমন অনেক ঘটনা আমার জানা আছে, নিজে দাড়ি রাখি না। কিন্তু সে নওমুসলিম, সে কেন দাঁড়ি রাখলোনা? কেন পাঞ্জাবী পড়ল না? এমন প্রশ্নও করা হয়। এর জন্য আমাদেরকে হাদিস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যেমনটি শিখতে পারলাম এই হাদিস থেকে। আল্লাহ আমাদেরকে এর উপর আমল করার তৌফিক দান করুন এবং রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি সুন্নতের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।
টিকাঃ
৭৮. মুসনাদে মুসতাখরাজ- ১১০ মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ, ৯৯২৪