📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 তাওরাত পড়া

📄 তাওরাত পড়া


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يَقْرَؤُونَ التَّوْرَاةَ بِالْعِبْرَانِيَّةِ وَيُفَسِّرُونَهَا بِالْعَرَبِيَّةِ لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : لا تُصَدِّقُوا أَهْلَ الْكِتَابِ ، وَلَا تُكَذِّبُوهُمْ ، وَأَقُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ الآيَةَ .

হযরত আবু হুরাইরা রা: বলেন, আহলে কিতাব ইহুদীরা ইবরানী ভাষায় তাওরাত পড়তো এবং মুসলমানদেরকে আরবী ভাষায় এর ব্যাখ্যা শুনাতো। তা দেখে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আহলে কিতাবদেরকে সত্যায়ন করো না এবং মিথ্যাবাদীও সাব্যস্ত করো না। তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি এবং যে কিতাব তাঁর পক্ষ থেকে অবর্তীর্ণ করা হয়েছে তার উপরও।

হাদিস থেকে শিক্ষা:
নবীজীর যুগে আহলে কিতাবীগণ ইঞ্জিলের ইবরানী ভাষা থেকে আরবীতে অনুবাদ করে মুসলমানদেরকে শোনাতো। এতে তারা বিকৃতি করতো। আল্লাহ তা'আলা বলেন- مِنَ الَّذِينَ هَادُوا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ তোমরা আহলে কিতাবদের ব্যাখ্যা ও তাদের কথাকে বিশ্বাস করো না। তাদের ব্যাখ্যায় আস্থাও রেখো না। চাই সেটা বাস্তবায়ন হোক বা না হোক। বরং তোমরা ঐ কথাটাই বিশ্বাস করো যেটা নবীজীর বাণীর সাথে মিলে। অথবা যে ব্যাখ্যা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে আসছেন। নবীজীর এই হাদিস থেকে আমরা শিখলাম- খ্রিস্টানদের কথা বা তাদের অনুবাদ ও ব্যাখ্যাকৃত বাইবেলের কথা বিশ্বাস করা যাবে না। তবে, কুরআন-হাদিসের সাথে যতটুকু মিলে সেটুকু বিশ্বাস করা যাবে। বাকী অংশ টুকু সত্য না মিথ্যা তা বলা যাবে না, মানাও যাবে না। খ্রিস্টানরা আমাদের সামনে যেই ইঞ্জিল পেশ করে সেটা ঐ ইঞ্জিল নয়, যা ঈসা আ.-এর উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, বরং এটা হলো বাইবেলের অংশ। ফলে এই বইগুলোকে বিশ্বাস করা যাবে না। বিশেষ করে ইসলামবিরোধী আকিদা-বিশ্বাস ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো। এই হাদিসে শুধু একটি আয়াতের আংশিক বলা হয়েছে। পুরো আয়াতটি হলো- قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ . তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীগণকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী।

লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মিনহুম ওয়া নাহনু লাহু মুসলিমুন -এর ব্যাখ্যা হলো ঈমান ও নবুয়াতের দিক থেকে এবং তাদের উপরে যা অবতীর্ণ হয়েছে। এই সবগুলোর মধ্যে আমরা কোনো পার্থক্য করি না। সারকথা হলো- বর্তমানে কথিত! তাওরাত-ইঞ্জিলের উপর বিশ্বাস করা যাবে না। সাধারণ লোকদের জন্য এই বাইবেল বা তথাকথিত তাওরাত ইঞ্জিল পড়া ঠিক না। তবে গবেষকদের জন্য পড়া যেতে পারে। খ্রিস্টানদের ভুল ব্যাখ্যাগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরে সত্যের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার জন্য। তাওরাত তো নবীজীর যুগের পূর্বেই বিকৃত হয়ে গেছে। হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর বক্তব্য থেকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৩১নং হাদিসে তার বক্তব্যটি পেশ করা হলো।

টিকাঃ
৬২. সুরা বাকারা-১৩৬
৬৩. বুখারী-৭৫৪২।
৬৪. সূরা বাকারা-১৩৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px