📄 খ্রিস্টানদেরকে দাওয়াত দেয়ার পদ্ধতি
عَنْ خَالِدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسًا فِي الْمَجْلِسِ فَشَخَصَ بَصَرُهُ إِلَى رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ يَمْشِي . فَقَالَ : أَبَا فُلَانٍ قَالَ : لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . وَلَا يُمَارِعُهُ الْكَلَامَ إِلَّا فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ لَهُ : أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ قَالَ : لَا . قَالَ : أَتَقْرَأُ التَّوْرَاةَ ؟ قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : وَالْإِنْجِيلَ ؟ قَالَ : نَعَمْ . قَالَ : وَالْقُرْآنَ ؟ قَالَ : وَالَّذِي بِيَدِهِ نَفْسِي بِبَيْدِهِ لَوْ نَشَاءُ لَقَرَأْتُهُ . ثُمَّ نَاشَدَهُ هَلْ تَجِدُنِي فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلَ ؟ قَالَ : تَجِدُ مَثَلَكَ وَمَثَلَ هَيْأَتِكَ وَمِثْلَ مَخْرَجِكَ . فَكُنَّا نَرْجُو أَنْ يَكُونَ فِيْنَا فَلَمَّا خَرَجْتَ خَوَّفْنَا أَنْ تَكُونَ أَنْتَ هُوَ فَنَظَرْنَا فَإِذَا لَسْتَ أَنْتَ هُوَ . قَالَ : وَلِمَ ذَاكَ ؟ قَالَ : عَلَيْهِمْ مِنْ أُمَّتِهِ سَبْعُونَ أَلْفًا لَيْسَ عَلَيْهِمْ حِسَابٌ وَلَا عَذَابٌ . وَإِنَّمَا مَعَكَ نَفَرٌ يَسِيرٌ فَقَالَ : وَالَّذِي بِيَدِهِ نَفْسِي بِبَيْدِهِ لَأَنَا هُوَ وَإِنَّهُمْ لَأُمَّتِي . وَإِنَّهُمْ لَأَكْثَرُ مِنْ سَبْعِيْنَ أَلْفًا وَسَبْعِيْنَ أَلْفًا . وَهَذَا الْحَدِيْثُ لَا تَعْلَمْ أَحَدًا يَرْوِيْهِ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا مَنْ هَذَا الْوَجْه بِهَذَا الْإِسْنَادِ .
অর্থ. একদা হযরত নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসা ছিলেন। তখন এক লোককে মসজিদে হাঁটতে দেখে বললেন, এই অমুকের বাপ! সে বললো, উপস্থিত আছি হে আল্লাহর রাসূল! লোকটি কোনো তর্কে না জড়িয়ে শুধু বলল, “ইয়া রাসূলুল্লাহ!” নবীজী তাকে বললেন, আমি হলাম আল্লাহর রাসূল তুমি কি এর সাক্ষ্য দাও? লোকটি বললো, না। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি তাওরাত পড়ো? লোকটি বললো: হ্যাঁ। নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি ইঞ্জিল পড়ো? সে বললো হ্যাঁ। তিনি বললেন, কোরআন পড়ো? সে বললো, আমার প্রাণের মালিকের শপথ করে বলছি, আমি চাইলে তা পড়তে পারবো। এরপর নবীজী তাকে বললেন, তুমি কি তাওরাত, ইঞ্জিলে আমার আলোচনা পেয়েছ? সে বললো, আমরা তো আপনার মতো ও আপনার গঠনের মতো ব্যক্তিত্ব ও গঠন সম্পন্ন ব্যক্তির এবং আপনার আগমনের স্থানের মতো স্থান সম্পর্কিত আলোচনা তাওরাত-ইঞ্জিলে পাই। আমরা তো আশায় ছিলাম যে, শেষ নবী আমাদের মধ্য থেকে হবেন। কিন্তু আপনি যখন আসলেন, তখন আমাদের এ আশা হলো যে, আপনিই সেই কাঙ্খিত ব্যক্তি কি না?
আমরা ভেবে দেখলাম আপনি সে ব্যক্তি নন। বললেন কেন? তখন সে বলল, সেখানে আমরা দেখেছি ঐ নবীর উম্মত হবে ৭০ হাজারেরও কিংবা তার চেয়ে বেশি। যাদের কিয়ামত দিবসে কোনো হিসাব হবে না এবং তাদের কোনো ধরনের আযাবও হবে না। আর আপনার কাছে তো অল্প সংখ্যক লোকই দেখছি। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম আমিই সেই নবী। তারা হলো আমার উম্মত যারা সত্তর হাজারেরও অনেক বেশি হবে।
হাদিস থেকে শিক্ষা:
আমাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্দরভাবে এই খ্রিস্টানকে দাওয়াত দিলেন। তাওরাত ইঞ্জিলে তার পরিচয়ের কথা বললেন। প্রিয় পাঠক! খ্রিস্টানরা এই তাওরাত ইঞ্জিলকে এতো বিকৃত করার পরও তাতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী বিদ্যমান। আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি বর্ণনা করছি। বাইবেলে মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী: বাইবেলে নতুন নিয়মের যোহন সুসমাচারের ১৬ অধ্যায়ের ৭- ৮নং অধ্যায়ে যীশু বলেন, “আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি আমার যাওয়া তোমাদের জন্য ভালো, কারণ আমি না গেলে সেই সাহায্যকারী তোমাদের নিকট আসবেন না। কিন্তু আমি যদি যাই তবে তোমাদের নিকট তাহাকে পাঠাইয়া দেব। আর তিনি আসিয়া পাপ সম্বন্ধে, ধার্মিকতা সম্বন্ধে ও বিচারের (কিয়ামত) সম্বন্ধে জগৎকে আজ্ঞা দিবেন।" আরো আছে যিরমিয় ২৮ অধ্যায়ের ৯ নং পদে। সেখানে বলা হয়েছে, “যে নবী শান্তির (ইসলামের) ভবিষ্যদ্বাণী বলে সেই নবীর বাক্য সফল হইলে জানা যায় যে সদাপ্রভু সত্যই সেই নবীকে প্রেরণ করিয়াছেন।”
খ্রিস্টানদের দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করা যেতে পারে। ১. তাদেরকে তাওহিদের দাওয়াত দেয়া। তারা বাইবেলের কোথাও একথা প্রমাণ করতে পারবে না যে, হযরত ঈসা আ. বলেছেন- আমি আল্লাহর পুত্র বা তোমরা আমার উপাসনা কর। একত্ববাদের ব্যাপারে বাইবেলে অনেক আলোচনা আছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অধমের লেখা 'খ্রিস্টান ভাইদের দাওয়াত দেয়ার পথ ও পদ্ধতি' বইটি অধ্যায়ন করা যেতে পারে। ২. খ্রিস্টানদেরকে বলতে হবে- তোমরা তোমাদের মূল কিতাব দেখাও যা ঈসা আ.-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল, তারা কখনো দেখাতে পারবে না। সাজু নামে এক মুর্তাদ খ্রিস্টানের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম, আপনি হিব্রু ভাষায় ইঞ্জিল যা হযরত ঈসা আ. এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল তা আমাকে দেখাতে পারবেন না। কিছুদিন পর একদিন আমার কাছে তার ফোন এলো, খুব আনন্দের সাথে বলল, যুবায়ের ভাই! আপনার জন্য একটি জিনিস সংগ্রহ করেছি। আমি বললাম কী সংগ্রহ করলেন? বলল, আপনি বলেছিলেন হিব্রু ভাষায় ইঞ্জিল দেখাতে পারবো না। আমি তো হিব্রু ভাষার ইঞ্জিল সংগ্রহ করেছি। আমি বললাম সেটা যে হিব্রু ভাষার ইঞ্জিল তার প্রমাণ কী? আপনি কি তা পড়ে শুনাতে পারবেন? বলল, না। এমন কাউকে নিয়ে আসুন যে আপনার হিব্রু ইঞ্জিল পরে অনুবাদ করবেন আর আমরা বর্তমান বাংলা ভাষার ইঞ্জিল দেখব মিল আছে কিনা? এতেও সে রাজি হলো না। বললাম তাহলে একটি ডিকশনারী নিয়ে আসুন 'বাংলা টু হিব্রু' তাহলে সেখান থেকে শব্দার্থ বের করে নিয়ে মিলিয়ে দেখব। এতেও সে রাজি না। পড়ে তাকে পরামর্শ দিলাম আপনি হিব্রু ভাষাটি শিখুন। সে বললো- এখন কি তা সম্ভব! শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজয় বরণ করতে হলো। প্রিয় পাঠক, এই হলো খ্রিস্টানদের অবস্থা। ৩. কুরআন ও বাইবেলের আলোকে রিসালাত ও আখিরাতের দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর তৌফিক দান করুন আমিন।
টিকাঃ
৬১. মুসনদে বাযযার- ৩৭০৩ ।