📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 নির্যাতনের পরও দাওয়াত অব্যাহত রাখা

📄 নির্যাতনের পরও দাওয়াত অব্যাহত রাখা


عن طارق بن عبد الله المحاربي قال رأيتُ رسولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عليهِ و على آله وسلَّمَ مرَّ في سوق ذي المَجازِ وعليهِ حَلَّةٌ حمراء وَهُوَ يَقُولُ : يا أيُّها النَّاسُ قولوا لا إلَهَ إِلَّا اللهُ تُفلحوا ورجل يَتَّبِعُهُ يرميه بالحجارة قد أدمَى كَعَبَيهِ وعُرقوبيهِ وَهُوَ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ لا تطيعوهُ فَإِنَّهُ كَذَّابٌ فقُلتُ مَن هذا قالوا غُلامُ بني عبد المطلب فقُلتُ من هذا الذي يتبعه يرميه بالحجارة قالوا هذا عبد العُزَّى أبو لهব .

অর্থ. হযরত জামে ইবনে সাদ্দাদ তারেক আল মুহারেবী রা. বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জুল মাযাজ বাজারে এক জোড়া ডোরা কাটা লাল চাদর পরিহিত অবস্থায় দাওয়াত দিতে দেখেছি এ অবস্থায় যে, তিনি বলছেন- হে লোক সকল! তোমরা বলো لااله الا الله আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই, তাতে তোমরা কামিয়াব হবে”। আর এক ব্যক্তিকে দেখলাম, সে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছু পিছু চলছে এবং তাঁর উপর পাথর নিক্ষেপ করছে, এমনকি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উভয় টাখনু ও উভয় হাটুর পিছনের দিকে রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। আর সে বলছে, হে লোকেরা। তোমরা এর অনুসরণ করো না, সে একজন মিথ্যুক। আমি নবীজীর দিকে ইশারা করে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম- ইনি কে? লোকেরা উত্তর দিলো, আব্দুল মুত্তালিবের বংশীয় এক ছেলে। পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম: ঐ ব্যক্তি কে যে তার উপর পাথর নিক্ষেপ করছে? তারা বললো- সে হলো আব্দুল উজ্জা, আবু লাহাব।

হাদিস থেকে শিক্ষা:
উক্ত হাদিস থেকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় শিখতে পাই। ১. বাজারে ইসলাম প্রচার। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাজারে ঘুরে ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন। আমাদেরও উচিত আমরা যেন বাজারে বাজারে ঘুরে ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দেই। আমাদের জন্য তো এই সুন্নতের উপর আমল করা অনেক কঠিন হয়ে গেছে। কারণ আমরা যদি বাজারে গিয়ে কোনো অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেই, তাহলে একজন মুসলমান ভাই প্রথমে আমাদেরকে বাধা দেয়। বলবে- দেখুন, আপনি ফেতনা সৃষ্টি করতে এসেছেন। আমরা একসাথে ব্যবসা বাণিজ্য করি। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব আছে। তাকে দাওয়াত দিলে বন্ধুত্ব দূর হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে, কোনভাবে যদি কোনো অমুসলিমকে দাওয়াত দিয়ে দেয়া যায়, তাহলে সে উল্টো মুসলমানদের প্রতি অভিযোগ করে যে, আমিতো মুসলমানদের সাথে ব্যবসা করি। তারা তো কোনো দিন আমাদেরকে এসব কথা বলে নি। এমন সুন্দর সুন্দর কথা শুনায় নি। এ কথাগুলো আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি। আমি বহুবার এ ধরণের পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছি। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে বাজারে গিয়েও দাওয়াত দেয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের তৌফিক দান করুন।

২. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত দিচ্ছেন আর তাঁর উপর কাফেররা পাথর নিক্ষেপ করছে। তিনি এই পাথরের আঘাতও খেলেন? কাদেরকে দাওয়াত দিতে গিয়ে, অবশ্যই অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিতে। তিনি হলেন আমাদের আদর্শ। আমরা কি কখনো তাঁর আদর্শে আদর্শবান হয়ে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিয়েছি? দাওয়াত দিয়ে পাথরের আঘাতও তো দূরের কথা, একটি খারাপও কি কখনো খেতে হয়েছে? আসল কথাটা হলো নির্যাতিত হতে হবে এই ভয়ে কখনো অমুসলিমদেরকে দাওয়াতই দেই নি। বাস্তব অবস্থা হলো দাওয়াত দিলে বর্তমানে পাথরের আঘাতও খেতে হয় না, বরং উল্টো চা খাওয়ায়। আচ্ছা, দাওয়াত দিলে তো দেখি। যদি নির্যাতিত হই, তাহলে তো নবীর একটি সুন্নতের উপরে আমল হলো। আচ্ছা! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি পাথরের আঘাত খেয়ে প্রতিবাদ করেছেন? আমাদের গায়ে যদি কেউ হাতও দেয় তাহলে আমরা কি ক্ষেপে দিব? আমরা কি নবীর মতো ক্ষমা করে দিতে পারবো? সেই ক্ষমতা কি আমাদের হয়েছে? আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই সুন্নতের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন।

আরো একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো, রাগান্বিত হওয়া। দাওয়াতের জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। আমাদের অবস্থা হলো এমন- রক্তাক্ত হওয়া কেন? একটি ধমকও তো খাইনি। কারণ অমুসলিমদেরকে দাওয়াত-ই দেইনি। আবার ধমক খাব কোথা থেকে? আরেকটি বড় শিক্ষণীয় বিষয় হলো, গালি ও অপবাদ সহ্য করা। গালি সহ্য করা আমাদের পক্ষে তো কল্পনাই করা যায় না। আর এই নির্যাতন যদি অন্য কেহ করতো তাহলে মনকে বুঝ দেওয়া যেত। কিন্তু এই গালি দিচ্ছে। মিথ্যুক বলে অপবাদ দিচ্ছে। পাথর নিক্ষেপ করছে। যা করছে সে দূরের কেউ না, বরং তার আত্মীয়স্বজন। আল্লাহ আমাদেরকে অমুসলিম ভাইদের দাওয়াত দেওয়ার তাওফিক দান করুন। যদি অপবাদ ও নির্যাতন আসে তাহলে তা সহ্য করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
৬০. ইবনে খুজইমা-১৫৯, সুনানে দারে কুতনী-২৯৭৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px