📄 সাধ্যানুযায়ী অসৎ কাজে বাধা দেয়া
عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ وَهَذَا حَدِيثُ أَبِي بَكْرٍ قَالَ أَوَّلُ مَنْ بَدَأَ بِالْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ قَبْلَ الصَّلاَةِ مَرْوَانُ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ الصَّلَاةُ قَبْلَ الْخُطْبَةِ. فَقَالَ قَدْ تُرِكَ مَا هُنَالِكَ. فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا হ্যালো هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ « مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرُهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ ».
অর্থ. হযরত তারেক ইবনে শিহাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি ঈদের দিন নামাজের পূর্বে খুতবা দিয়েছে, সে হলো মারওয়ান। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল। ঈদের নামাজ হবে খুতবার পূর্বে। তখন মারওয়ান বলল, ওটা পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তখন হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বললেন, এই ব্যক্তি তার দায়িত্ব আদায় করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অসৎকাজ দেখবে, সে যেন নিজ হাত দ্বারা প্রতিহত করে। যদি তা করতে সক্ষম না হয় তাহলে নিজ যবান দ্বারা (অসৎকাজের প্রতিবাদ জানাবে)। যদি তাও তার পক্ষে সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তরে তা ঘৃণা করবে। আর এটা ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর।
হাদিস থেকে শিক্ষা
একটি বিষয় পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এই হাদিসে অসৎ কাজের বাধা দিতে বলা হয়েছে এবং তার কয়েকটি পর্যায়ও বলা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় অসৎ কাজ কী? সবচেয়ে বড় মুনকার-অসৎ কাজ হলো শিরক। কিন্তু প্রতিদিন আমরা দেখছি কত মানুষ শিরক করছে, কিন্তু কোনো দিন তাদেরকে বাধা দেই না। এমনকি ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর ঘৃণাও করি না। পক্ষান্তরে, দেখা যায় দুর্গাপূজার সময় মন্ডপের কমিটি হয় মুসলমান। এমনকি অবস্থা দেখলে মনে হয় মুসলমানরা যদি দুর্গা পূজায় অংশ গ্রহণ না করে তাহলে হিন্দুদের দুর্গাপূজা উৎসব অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এদিকে দেখা যায় অনেক স্থানে মুসলমান নেতা শারদীয় দুর্গাপূজার জন্য শুভেচ্ছা জানান। প্রায় মুসলিম রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবির সাথে দূর্গার ছবি দেখা যায়। তিনি হিন্দুদেরকে দুর্গা উৎসবের জন্য শুভেচ্ছা জানায়। অনেক পোষ্টারে লেখা থাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। মুসলমান যদি দুর্গাপূজাকে অন্তর থেকে শুভেচ্ছা জানায় তাহলে তারা দাওয়াত দিবে কিভাবে? তার ঈমানের অবস্থায়ই বা কী হবে? একটু ভেবেছেন কি? আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত দান করুন। লক্ষণীয় বিষয় হলো মুসলামনরা হিন্দুদের উৎসবে যায় কিন্তু হিন্দুরা মুসলমানদের উৎসবে আসে না। এ থেকেই বুঝে নিন আমরা কেমন মুসলমান? আসুন সকল অসৎ কাজে মানুষকে বাধা দেই। বিশেষ করে মানুষকে দাওয়াত দেই তারা যেন শিরক না করে।
টিকাঃ
৪৭. ইবনে মাজা-৪০১৩, তিরমিজী-২১৭২