📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 চার জিনিসের দাওয়াত দেয়া

📄 চার জিনিসের দাওয়াত দেয়া


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُولُ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ قَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ وَلَسْنَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ فَمُرْنَا بِشَيْءٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا قَالَ أَمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعِ الإِيمَانِ بِاللَّهِ وَشَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَعَقَدَ بِيَدِهِ هَكَذَا ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْসَ مَا غَنِمْتُمْ وَأَنْهَاكُمْ ، عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ ، وَالنَّقِيرِ ، وَالْمُزَفَتِ .

অর্থ. ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, “আব্দে কায়েস”-এর প্রতিনিধি দল নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজির হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাবীয়া গোত্রের কুফফারে মুযার, তারা আমাদের ও আপনার সাক্ষাতের মাঝে প্রতিবন্ধক। ফলে আমরা শুধু হারাম মাসেই আপনার একান্ত সাক্ষাৎ লাভ করতে পারি। সুতরাং আমাদেরকে সারগর্ভ এমন কিছু বিষয়ের আদেশ করুন, যা আমরা আপনার থেকে গ্রহণ করবো এবং আমাদের অনুপস্থিত লোকদের কাছে তা পৌঁছে দেবো। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি চারটি বিষয়ের আদেশ করছি এবং চারটি জিনিসের থেকে নিষেধ করছি। ১. আমি আদেশ করছি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং সাক্ষ্য দিবে আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। আবু হুরায়রা রা. বললেন যে, নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে হাত বাঁধলেন। ২. এবং আদেশ করছি নামাজ কায়েম কর। ৩. এবং যাকাত আদায় কর। ৪. এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদের এক পঞ্চমাংশ আদায় কর। আর তোমাদেরকে নিষেধ করছি, (১) কদুর তৈরী পাত্র, (২) মাটির তৈরী পাত্র, যা সবুজ রং দ্বারা পালিশকৃত। (৩) খেজুর গাছের গোড়া দ্বারা তৈরীকৃত পাত্র। (৪) আলকাতরা দ্বারা পালিশকৃত পাত্র ব্যবহার থেকে (কারণ এগুলো মদ তৈরীর পাত্র)।

হাদিস থেকে শিক্ষা
ওয়াফদে আব্দিল কায়েস ছিলেন অমুসলিম। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলে প্রথমে তিনি ঈমানের দাওয়াত দিলেন। এরপর আমল করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তাদের এলাকায় যে নিষিদ্ধ জিনিস অধিক হারে প্রচলিত ছিল, সে গুলো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। এই হাদিস থেকে আমরা সবচেয়ে বেশী যে বিষয়টি শিখতে পাই, তা হলো প্রথমে ঈমানের দাওয়াত দিতে হবে। পরে আমলের দাওয়াত দিতে হবে। চার জিনিস থেকে নিষেধ করলেন কেন? কারণ, এগুলো দ্বারা মদ বানানো হতো। প্রথমেই মদের উৎসগুলো থেকেই বিরত থাকার নিদের্শ দিয়েছেন। এই জন্য রোগ দূর করার আগে রোগের উৎস বের করে উৎসই নষ্ট করে দেয়া। তাহলে রোগ এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। এই হাদিস থেকে আরো একটি বিষয় শিখতে পাই। তা হলো দাওয়াতের ফিকির। ওয়াফদে আব্দুল কায়েস হুজুর সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা অনুপস্থিতদেরকে বলতে পারবো। অজ্ঞাত যারা আসতে পারেনি তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিব। তারা স্বজাতির ফিকির করেছে। আমাদের উচিত আমরা কোনো জিনিস জানলে তা স্বজাতিকে জানিয়ে দিব। হক গোপন করবো না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন আমিন।

টিকাঃ
৪৬. বুখারী-১৩৯৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px