📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে হুজ্জত কায়েম হওয়া

📄 দাওয়াতের ক্ষেত্রে হুজ্জত কায়েম হওয়া


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ « انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ ». فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى جِئْنَاهُمْ فَقَامَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَنَادَاهُمْ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ يَهُودَ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا » . فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم « ذَلِكَ أُرِيدُ أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا ». فَقَالُوا قَدْ بَلَّغْتَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ. فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم « ذَلِكَ أُرِيدُ ». فَقَالَ لَهُمُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ « اعْلَمُوا أَنَّمَا الْأَرْضُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَأَنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ فَمَنْ وَجَدَ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعُهُ وَإِلَّا فَاعْلَمُوا أَنَّ الأَرْضَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ

অর্থ. হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, একদা আমরা মসজিদে নববীতে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইয়াহুদিদের কাছে চলো, তখন আমরা নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বেরিয়ে পড়লাম। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং ইহুদীদেরকে ডেকে বললেন, হে ইহুদী সম্প্রদায়! ইসলাম ধর্ম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। তারা বললো হে আবুল কাসিম! ব্যাস, আপনি আপনার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন। তখন নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, এটাই (তোমাদের স্বীকারোক্তি) আমি চাই। ইসলাম গ্রহণ করো, নিরাপদে থাকবে। তারা বললো, হে আবুল কাসিম! আপনি তো আপনার দায়িত্ব আদায় করেছেন। পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, এটাই আমি চাই। অতঃপর তৃতীয়বার তাদেরকে বললেন, জেনে রাখো জমীন শুধু আল্লাহর এবং তাঁর রাসূলের, এবং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমাদেরকে এই এলাকা থেকে নির্বাসিত করবো। সুতরাং তোমাদের কারো বিক্রিযোগ্য কোনো সম্পদ থাকলে তা যেন বিক্রি করে দেয়, আর সর্ববস্থায় এটা জেনে রেখো জমীন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের।

হাদিস থেকে শিক্ষা
দাওয়াতের জন্য হুজ্জত পেশ করতে হবে। হুজ্জত বলা হয়, দাওয়াত এমনভাবে পৌঁছানো মাদঊ (যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে) যেন বুঝতে পারে ইসলামই সত্য। তার ব্যাক্তিগত কোনো কারনে হয়তো সে ইসলাম গ্রহণ করতে পারছে না, তা ভিন্ন ব্যাপার। যেমন রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন, প্রমান পেশ করেছেন। ইয়াহুদীরা বুঝতে পেরেছে তারা স্বীকারও করেছে। তারা বলেছে, আপনি আপনার দায়িত্ব পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। এরপর তাদেরকে তাদের সিদ্ধান্ত শুনিয়ে দিয়েছেন।

আমরা দুই একবার দাওয়াত দেওয়ার পর মনে করি পরিপূর্ণ দাওয়াত হয়ে গিয়েছে। হতাশ হয়ে যাই। হায়! লোকটি মনে হয় মুসলমান হবে না। একটি কথা দা'য়ীগণকে ভালোভাবে মনে রাখতে হবে, আমাদেরকে মুসলমান বানানোর দয়িত্ব দেয়া হয়নি। বরং ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেয়ার জিম্মাদারী দেয়া হয়েছে। হেদায়াতের মালিক তো আমরা না। হেদায়াতের মালিক হলেন শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ . আপনি যাকে চান তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না। আল্লাহ যাকে চান তাকেই হেদায়াত দিবেন। আসুন আমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেই। হুজ্জত পেশ করি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।

টিকাঃ
৪৪. বুখারী-৩১৬৭, মুসনাদে আহমদ- ৩১৬৭
৪৫. সুরা কাসাস-৫৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px