📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 উপস্থিতগণ অনুপস্থিতদের মাঝে দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিবে

📄 উপস্থিতগণ অনুপস্থিতদের মাঝে দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিবে


عَنْ أَبِي بَكْرَةً أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ أَلا تَدْرُونَ أَيُّ يَوْمٍ هَذَا قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ সَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ بِيَوْمِ النَّحْرِ قُلْنَا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ أَيُّ بَلَدٍ هَذَا أَلَيْسَتْ بِالْبَلْدَةِ قُلْنَا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ وَأَبْشَارَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ اللهُمَّ اشْهَدُ فَلْيُبَلِّغُ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ، فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلِّغ يُبَلِّغُهُ مَنْ هُوَ أَوْعَى لَهُ فَكَانَ كَذَلِكَ قَالَ : لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ فَلَمَّا كَانَ يَوْمَ حُرِّقَ ابْنُ الْحَضْرَمِي حِينَ حَرَّقَهُ جَارِيَةُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ أَشْرِفُوا عَلَى أَبِي بَكْرَةً فَقَالُوا هَذَا أَبُو বَكْرَةَ يَرَاكَ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَحَدَّثَتْنِي أُمِّي ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّهُ قَالَ لَوْ دَخَلُوا عَلَيَّ مَا بَهَشْتُ بِقَصَبَةٍ .

অর্থ: হযরত আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকজনের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি বললেন, তোমরা কি জানো না এটা কোন দিন? সকলে বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালো জানেন। আমরা ভেবেছি এই দিনের পরিচিত নাম ছাড়া অন্য কোন নাম বলবেন, তারপর আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এটি কি কুরবানীর দিন নয়? আমরা জবাব দিলাম, হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল! এটা কুরবানীর দিন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোন শহর? এটা কি (পবিত্র) নগরী নয়? আমরা জবাব দিলাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তারপর তিনি বললেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমাদের জান-মাল, দেহ-ইজ্জত এইসব তোমাদের (একে অপরের) জন্য হারাম। যেমন, তোমাদের কাছে এই দিন এই মাস এই নগরী হারাম। শুনে রেখো আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? আমরা বললাম, জি হ্যাঁ, তিনি বললেন আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন আর উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে পৌঁছে দেয়। কেননা অনেক দা'য়ী এমন আছে যে উহা পৌঁছে দিবে এমন ব্যক্তির নিকট যে ব্যক্তি সংরক্ষণ করবে। তোমরা আমার পরে পরষ্পর পরস্পরের গর্দান উড়িয়ে কুফরীতে ফিরে যাবে না।

হাদিস থেকে শিক্ষা: উক্ত হাদিস থেকে আমরা অনেকগুলো বিষয় শিখতে পাই, প্রথমত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক গুরুত্ব বোঝানোর জন্য কোন মাস, কোন দিন এসব উল্লেখ করে বললেন, আমি কি তোমাদের নিকট আমার উপর যেই দায়িত্ব ছিল তা কি পৌঁছিয়ে দেই নি? অর্থাৎ একমালে হুজ্জত করেছি। সাহাবা রা. বললেন, জি হ্যাঁ। আপনি আপনার দায়িত্ব পরিপূর্ণরূপে আদায় করেছেন।

আরো একটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব আদায় করা এবং দায়িত্ব পূর্ণতার ব্যাপারে স্বীকৃতি নেয়া। আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহকে সাক্ষী রাখলেন যে, হে আল্লাহ! আমি যে আমার দায়িত্ব পালন করেছি এ ব্যাপারে আপনি সাক্ষী থাকুন। এবার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দায়িত্ব অন্যের কাছে অর্পণ করলেন। বললেন, তোমরা যারা উপস্থিত আছো, তারা যেন অনুপস্থিতদের মাঝে পৌঁছিয়ে দেয়। কথাগুলো ছিল বিদায় হজ্জের সময়ের। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের উপর আমল করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়েছেন। যার ঘোড়া যে দিকে ছিল তারা সেদিকেই ছুটলেন, তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে কী করেছেন? অবশ্যই তারা দাওয়াতী কাজ করেছেন। ইসলাম প্রচার করেছেন। কাদের কাছে রাসুলের বাণী পৌঁছিয়েছেন। অবশ্যই অমুসলিমদের কাছে পৌঁছিয়েছেন। তারা একেক দেশে এসে অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করেছেন। তাদেরকে দাওয়াত দিয়ে মুসলমান বানিয়েছেন। আমরা কী করেছি? আমরা জানি সত্য ধর্ম ইসলাম, অমুসলিমরা চিরকাল জাহান্নামে জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে, নবীজীর নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কি এই অমুসলিম ভাইদের দাওয়াত দিচ্ছি? তাদেরকে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর ফিকির করছি? আসুন আমরা আমাদের প্রিয় নবীজীর ইরশাদ অনুযায়ী উপস্থিতগণ অনুপস্থিতদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদেরকে কবুল করুন। আমিন।

টিকাঃ
৪৩. বুখারী- ৭০৭৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px