📄 একটি বাক্য হলেও পৌঁছিয়ে দাও
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً وَحَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، وَلَا حَرَجَ ، وَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأُ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ .
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন একটি বাক্য হলেও আমার পক্ষ হতে পৌঁছিয়ে দাও। আর বনি ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করতে পারো কোনো অসুবিধা নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত আমার উপর মিথ্যা বলে তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম।
হাদিস থেকে শিক্ষা: আমাদের দায়িত্ব হলো রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী যদি আমাদের কাছে থাকে তাহলে আমরা যেন তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেই। আমরা অনেক কিছু জানি, কিন্তু মানুষের কাছে তা পৌঁছাই না। সেগুলো থেকে একটি বিষয়ের প্রতি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তা হলো- আমরা সকল মুসলমানরাই জানি, অমুসলিমরা চিরস্থায়ী ভাবে জাহান্নামে যাবে। চিরকাল তারা আগুনে জ্বলবে। কিন্তু আমরা কি কোনো দিন বলেছি? তাদেরকে কি কখনো ইসলাম গ্রহণ করতে বলেছি? কখনো কি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছি? ইসলামের শান্তির পয়গাম কি তাকে জানিয়েছি? না পৌঁছিয়ে থাকলে, আর দেরি নয়, চলুন আজই ঝাঁপিয়ে পড়ি। অমুসলিমদের কাছে এই শান্তির বাণী পৌঁছিয়ে দিই। চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচাই। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।
হাদিসের দ্বিতীয় অংশ থেকে আমরা জানতে পারি, ইসরাইলী রেওয়ায়েত আলোচনা করার দ্বারা কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অনেকে বাইবেলের বিভিন্ন লেখাকে বা কাহিনিকে ইসরায়েলী রেওয়ায়েত বলে চালিয়ে দেই, এটা আমার বোধগম্য হয় না। কারণ বাইবেলের লেখাগুলো অনেক পরের লেখা। কয়দিন পরপর এটা পরিবর্তন হয়। এর বহু প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। একশত বছর পূর্বে লেখা কোনো বিষয় ইসরায়েলী রেওয়ায়েত হয় কিভাবে? অধমের মত অনুযায়ী বাইবেলের কোনো ঘটনাকে ইসরায়েলী রেওয়ায়েত বলে চালিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য বাইবেলের ঘটনাগুলোর বিকৃতির একটি উদাহরণ পেশ করছি। বাইবেলের ২বংশাবলীর ২২/২-এ একটি ঘটনা লেখা হয়েছে। ঘটনাটি হলো 'অহসিয় রাজার'। তার পিতা ছিল জেহুরাম। বত্রিশ বছর বয়সে জেরুজালেমের রাজত্বভার গ্রহণ করে। আট বছর রাজত্ব করেন। এরপর মারা যান। তাহলে মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল চল্লিশ বছর, তার মৃত্যুর পর তারই স্থানে তার কনিষ্ঠ ছেলে অহসিয় রাজত্ব ভার গ্রহণ করে। তখন তার বয়স হয় বিয়াল্লিশ বছর, বাপ মারা গেল ৪০ বছর বয়সে, আর ঐ বছরই ছেলে হলো রাজা, তখন তার বয়স ছিল ৪২ বছর। তাহলে বুঝা গেল বাপের তুলনায় ছেলের বয়স দুই বছর বেশী। এটা একটি ভুল। বাইবেলের বর্তমান এডিশনে ৪২ এর স্থানে লিখে দিয়েছেন ২২ বছর। এই পরিবর্তিত বাইবেল আবার ইসরায়েলী রেওয়ায়েত হয় কিভাবে? আর একটি বিষয় এই হাদিস থেকে শিখতে পাই তাহলো, যে ব্যক্তি ইচ্ছামত কোনো কথাকে নবীজীর কথা বলে চালিয়ে দেয় তার ঠিকানা হলো জাহান্নামের আগুন। আর এই রোগটি আমাদের মধ্যে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ কোনো ধর্মীয় কথাকে বলে হাদিসে আছে। এমনও বলে হাদিসের কথা হলো এই। ইচ্ছাকৃত এমন বললে তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন এবং অন্য মানুষের কাছে এই দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেয়ার তৌফিক দান করুন, আমিন।
টিকাঃ
৪২. বুখারী- ৩৪৬১, তিরমিজী-২৬৬৯, নাজরাতুন নাঈম-৫/১৯৫৫