📄 অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার লাভ
عَنْ أَبِي حَازِمٍ قَالَ : أَخْبَرَنِي سَهْلٌ ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ خَيْبَرَ لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلاً يُفْتَحُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ فَبَاتَ النَّاسُ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَى فَغَدَوْا كُلُّهُمْ يَرْجُوهُ فَقَالَ أَيْنَ عَلِيٌّ فَقِيلَ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ فَبَصَقَ فِي عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ فَقَالَ أُقَاتِلُهُمْ حَتَّى يَكُونُوا مِثْلَنَا فَقَالَ انْفُذُ عَلَى رِسْلِكَ حَتَّى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ وَأَخْبِرُهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ فَوَاللَّهِ لأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلاً خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ .
অর্থ: সাহল বিন সাদ রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে এক দিন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আগামী কাল এমন একজন ব্যক্তির হাতে ঝান্ডা দেবো, যার হাতে বিজয় দান করা হবে। যিনি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলকে ভালোবাসেন। আবার আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন। সব মানুষ অস্থির হয়ে রাত পার করলেন। প্রত্যেকের আশা সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিটি যেন তিনিই হন। পরদিন সকালে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হযরত আলী কোথায়? তখন জানানো হলো, তিনি চোখের পীড়ায় ভুগছেন। তখন নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চোখে থুথু মেখে দিলেন এবং তাঁর জন্য দুআ করে দিলেন। সাথে সাথেই তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তাঁর কোনো ব্যাথাই ছিলো না। অতঃপর তাকে ঝান্ডা দিলেন। তখন হযরত আলী রা. বললেন, আমি তাদের সাথে লড়াই চালিয়ে যাবো। যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো (মুসলমান) হয়ে যায়। নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ধীরে ধীরে (তাদের এলাকায়) ঢুকে যাও। তাদের আঙ্গিনা পর্যন্ত চলে যাও। তারপর তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দাও। সাথে সাথে তাদের করণীয় বিষয়গুলো জানিয়ে দাও। আল্লাহর কসম আল্লাহ তোমার মাধ্যমে কাউকে হেদায়াত দিলে সেটি তোমার জন্য লাল উট লাভ করা থেকে উত্তম।
হাদিস থেকে শিক্ষা: দেখুন ঘটনাটি হলো একটি যুদ্ধক্ষেত্রের। আবার সাধারণ কোনো যুদ্ধ নয়, যেই যুদ্ধে স্বয়ং নবীজী নিজেই উপস্থিত। যুদ্ধটি আবার কোনো মনস্তাত্বিক যুদ্ধ নয়। যুদ্ধটি হলো সশস্ত্র যুদ্ধ। সরাসরি কাফেরদের সাথে। যখন শত্রুর সামনে হাজির হবে। স্বাভাবিক সময়টি হলো রক্ত গরমের, সামনে পেলেই হত্যা করার হুকুম, তারাও একা পেলে ছেড়ে দিবে না। এমন মুহুর্তে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ- প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দাও। যদি কেউ মুসলামান হয়ে যায়। তাহলে লাভ হলো লাল উট দানের ছাওয়াব। ঐ সময়ে আরবে সবচে দামী বস্তু ছিল লাল উট। যানবাহনের জন্য খুবই ভালো। বর্তমান যেমন টয়েটা, পাজেরো ইত্যাদি। আসুন আমরা অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিয়ে এই বিশাল সওয়াবের ভাগিদার হই।
এই হাদিস থেকে আরো একটি বিষয় খুব ভালো ভাবে জানতে পারলাম যে, কারো হাতে একজন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে লাল উঠ লাভ করা থেকে অর্থাৎ সবচাইতে দামী বস্তুটি অর্জন করা থেকে তা উত্তম। আমরা কি এই বিশাল পুরস্কারটির প্রতি লক্ষ্য করেছি? কত লাভের কথায় শুনি ও আমল করি। কিন্তু এই মহান লাভের জন্য কি কখনো ফিকির করেছি? কখনও কি আমল করেছি? এছাড়াও আরো একটি লাভ রয়েছে। কারো হাতে যদি একজন অমুসলিম মুসলমান হয়ে যায়, তাহলে সে যতদিন আমল করবে তার সওয়াব দা'য়ী পেতে থাকবে। শুধু তার ছাওয়াবই নয় বরং তার বংশধর কেয়ামত পর্যন্ত যত আমল করবে, তার সাওয়াবও ঐ দা'য়ী পেতে থাকবে। কারণ আল্লাহর নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ভালো কাজের আহ্বানকারী আমলকারীর মতোই সাওয়াব পাবে। সুবহানাল্লাহ এতো সূবর্ণ সুযোগ পাওয়ার পরও কি আমরা ইহা আদায় করা ছেড়ে দিব, আরো একটি লাভ হলো এতে আল্লাহ তাআলা খুশি হয়ে যান এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। প্রিয় পাঠক! আসুন আমরা এখন থেকেই নিয়ত করি যে, অমুসলিম ভাই বোনদেরকে দাওয়াত দিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়া তলে আশ্রয় নেয়ার সুযোগ করে দিই এবং এই মহান পুরষ্কারগুলো গ্রহণ করে দুনিয়া ও আখিরাত উজ্জ্বল করি। বসে থাকার আর সময় নেই। আসুন এক্ষুনি ঝাঁপিয়ে পড়ি অমুসলিমদের দাওয়াত দিতে। আল্লাহ তাআলা আমাদের তৌফিক দান করুন, আমিন।
টিকাঃ
৩৯. বুখারী- ৩০০৯। মুসলিম ২৪০৬। মুসনাদে আহমদ ২২৮২১