📄 যে কারণে দুআ কবুল হয় না
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ ، وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ ، قَبْلَ أَنْ تَدْعُوا فَلَا يُسْتَجَابَ لَكُمْ .
অর্থ: হযরত আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা সৎকাজের আদেশ করো, অসৎ কাজ হতে নিষেধ করো, ঐসময়ের পূর্বে যখন তোমরা দুআ করবে আর তা কবুল করা হবে না।
হাদিস থেকে শিক্ষা: এই হাদিস থেকে আমরা শিখতে পেলাম, দাওয়াতী কাজ না করার কারণে আমাদের দুআ আল্লাহ কবুল করবেন না। তাইতো হচ্ছে, আমরা কতো দুআ করছি, কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখছি তা কবুল হচ্ছে না। আমরা আল্লাহর কছে চাই, তিনি আমাদের চাওয়ার বিনিময়ে কিছু দান করবেন না। তাই তো হচ্ছে আমাদের কত চাওয়াই অপূর্ণ রয়ে যাচ্ছে। কারণ হলো-আমরা দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দিয়েছি। অতএব আমাদের দুআকে কবুল করানোর জন্য বেশি বেশি করে দাওয়াতী কাজ করতে হবে। অমুসলিমদেকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে হবে। এবং মুসলমানদেরকে এসলাহ করতে হবে আমলের দাওয়াত দিতে হবে।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এখানে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'মুরু' শব্দ ব্যবহার করেছেন। 'মুরু' শব্দটি আদেশ সুচক, ফকীহগণের মতে কুরআন ও হাদিসে আদেশ সুচক শব্দ দ্বারা যেই হুকুম দেয়া হয়, তা ওয়াজিব অথবা ফরজ প্রমাণিত হয়। আর দাওয়াতি কাজ বিশেষ করে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়াও ফরজ। তবে ফরজে আইন নাকি ফরজে কেফায়া এ বিষয়ে একটু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ইনশা আল্লাহ আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করবো। এই হাদিস দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম, কেন আমাদের দুআ কবুল হচ্ছে না। আসুন আমরা মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেই, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করি। অমুসলিম ভাইদেরকে দাওয়াত দেই। আল্লাহ আমাদেরকে দাওয়াতের হক আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমাদের দুআ কবুল করুন।
টিকাঃ
৩৫. ইবনেমাজা-৪০০৪