📘 দাওয়াত সম্পর্কিত চল্লিশ হাদীস 📄 সৎকাজের আদেশ খুবই জরুরী

📄 সৎকাজের আদেশ খুবই জরুরী


عَنْ أَبُو الرُّقَادِ، قَالَ : خَرَجْتُ مَعَ مَوْلَايَ وَأَنَا غُلَامٌ ، فَدَفَعْتُ إِلَى حُذَيْفَةً وَهُوَ يَقُولُ : إِنْ كَانَ الرَّجُلُ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَصِيرُ بِهَا مُنَافِقًا ، وَإِنِّي لَأَسْمَعُهَا مِنْ أَحَدِكُمْ فِي الْمَقْعَدِ الْوَاحِدِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ ، لَتَأْمُرُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَلَتَحْضُنَّ عَلَى الْخَيْرِ ، أَوْ لَيُسْحِتُكُمُ اللَّهُ جَمِيعًا بِعَذَابٍ ، أَوْ لَيَأْمُرُنَ عَلَيْكُمْ شِرَارَكُمْ ، ثُمَّ يَدْعُو خِيَارُكُمْ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ .

অর্থ: হযরত আবু রুকাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ছোট অবস্থায় আমার মনিবের সাথে বের হলাম। আমাকে হুযায়ফা রা. এর কাছে সোপর্দ করে দেয়া হলো। তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতিশ্রুতির উপর কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলত, ফলে মুনাফিক হয়ে যেত। আর আমি তোমাদের একেকজন থেকে এসব কথা একই মজলিসে চার বার করে শুনি "তোমরা অবশ্যই অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং তোমরা একে অপরকে কল্যাণের উপর উৎসাহিত করবে। অন্যথায় অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের আযাব দ্বারা ধ্বংস করে দিবেন। আর তোমাদের মধ্যে যারা নিকৃষ্ট, তাদেরকে তোমাদের উপর কর্তৃত্ব দান করবেন। তখন তোমাদের উত্তম লোকেরা দু'আ করবে কিন্তু তোমাদের দুআ কবুল করা হবে না।

হাদিস থেকে শিক্ষা: এই হাদিস থেকে আমরা ৪টি জিনিস শিখতে পাই।
১. মানুষকে সৎকাজের আদেশ করতে হবে।
২. অসৎ কাজ থেকে বাধা দিতে হবে।
৩. মানুষকে ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। কিন্তু আজ আমাদের মধ্যে এমন এক রোগ ম্যালেরিয়ার মতো ছড়িয়ে পড়েছে, তাহলো কেউ যদি ভালো কোনো কাজ করে তাহলে তা আমরা দেখতে পারি না। উদ্বুদ্ধ করব তো দূরের কথা, এমন কথা বলি যা শুনে সে লোকটি নিরুৎসাহিত হয়। আমি যা করি সেটাই ভালো মনে হয়, অন্য কেউ কোনো ভালো কাজ করলে সেটাকে ভালোই মনে হয় না, এর মূল কারণ হলো, এখলাস না থাকা।

একবার সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. আমেরিকার সফরে গেলেন। স্থানীয় লোকেরা তাকে বললেন, হুজুর! আমাদের এখানে অনেকেই ভালো কাজ করে, দ্বীনের খেদমত করে। কিন্তু একজন অপরজনকে দেখতে পারে না। তখন হযরত বললেন, দেখুন! একটি জিনিস অপর একটি জিনিসের সাথে মিলানোর জন্য আটার প্রয়োজন হয়, ঠিক একটি অন্তর অপর একটি অন্তরের সাথে মিলোনোর জন্য এক প্রকারের গাম বা আটার প্রয়োজন, আর সে গামটার নাম হলো এখলাস। আসুন আমরা ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করি এবং মানুষকে ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করি। যে ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

৪. এই দাওয়াতী কাজ ও মানুষকে যদি ভালো কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ না করি তাহলে আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য তিনটি সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন।
১. আল্লাহ তাআলা আজাবের মাধ্যমে শাস্তি দ্বারা আমাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ লোকগুলোকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিবেন। তারা নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব করবে ও রাজত্ব পরিচালনা করবে। বর্তমানে তাই হচ্ছে। আমরা যদি দেখি আমাদের উপর রাজত্ব চালাচ্ছে কারা? তারা কি ভালো লোক না খারাপ লোক? এর বিচারের ভার পাঠক আপনাদের উপরই রাখলাম। ৩. আমরা দু'আ করবো আর তা কবুল করা হবে না। এখন তাইতো হচ্ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দাওয়াতী কাজ করার তৌফিক দান করুন, আমিন। আল্লাহর এই সতর্কবাণী থেকে হেফাজত করুন আমিন।

উক্ত হাদিস থেকে আমরা আরো তিনটি জিনিস শিখতে পাই।
মানুষকে সৎ কাজের জন্য আদেশ না করলে আমাদের সকলকে আল্লাহ তাআলা আযাব দ্বারা ধ্বংস করে দিবেন। একজন দুইজনকে ধ্বংস করবেন, এমনটি নয়, বরং সকলকে এই শান্তি ভোগ করতে হবে।
দ্বিতীয় বিষয় হলো সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ না করলে, আমাদের উপর নেতৃত্ব কর্তৃত্ব করবে আমাদের মধ্যে যারা নিকৃষ্ট। তাই তো হচ্ছে! আজ আমাদের উপর যারা কতৃত্ব করছে। তারা কি আমাদের সমাজের ভালো মানুষ? সমাজে যত নিকৃষ্ট কাজ আছে সবগুলোর মধ্যে তারা জড়িত। যারা আমাদের উপর নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং কর্তৃত্ব করছে, তারা সুদ, ঘুষ চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, মদ, জুয়া ইত্যাদি এমন কোনটি বাকি আছে যেগুলোর সাথে জড়িত নন? বর্তমান আমাদের অবস্থা হলো, আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশী খুন খারাবি করতে পারে, সে সবচেয়ে বড় নেতা হতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দাওয়াত দেয়ার তৌফিক দান করুন। তাদের নিকৃষ্ট নেতৃত্ব থেকে হেফাজত করুন।
তৃতীয় বিষয় হলো, আমাদের মধ্যে উত্তম মানুষরা দু'আ করবে; কিন্তু তাদের দু'আ কবুল করা হবে না। তাই তো হচ্ছে। যখন আফগানিস্তানে খ্রিস্টান-আমেরিকার হামলা হলো, বাবরী মাসজিদ শহীদ হলো, এমন কোন মসজিদ ছিল না যেখান থেকে দুআ করা হয়নি। এমনকি হারামে কা'বা, মদিনা শরীফেও দু'আ হয়েছে। বহু মানুষ তাহাজ্জুদের নামাযের দোয়ায় চোখের পানিতে বুক ভাসিয়েছে। এরপরও বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখতে পাই, আমাদের দু'আ ও চোখের পানি কবুল হয়নি।

টিকাঃ
৬. মুসানাদে আহমদ-২৩৩১২

ফন্ট সাইজ
15px
17px