📄 দাওয়াতের গুরুত্ব (মুসলমানদের সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য)
عن ابن عباس قوله: كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ." يقول: تأمرونهم بالمعروف: أن يشهدوا أن لا إله إلا الله، والإقرار بما أنزل الله وتقاتلونهم عليه، و "لا إله إلا الله" ، هو أعظم المعروف = وتنهونهم عن المنক্র، والمنكر هو التكذيب، وهو أنكر المنكر।
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রা. কুরআনের এই আয়াতের {তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, মানব জাতির কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে, সৎকাজের উপদেশ দিবে।} ব্যাখ্যায় বলেন- তাদেরকে নির্দেশ দিবে, তারা যেন এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তারা এ কথা স্বীকার করবে এবং এ বিশ্বাসের উপর অটল থেকে আল্লাহর জন্য লড়াই করবে। لا إله إلا الله হলো সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। وتنهون عن المنكر (অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে) এই আয়াতের ব্যখ্যায় বলেছেন: এখানে মুনকার (অসৎ কাজ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। এটা হলো সবচেয়ে নিকৃষ্ট অসৎ কাজ।
كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنْ المُنكَرِ. মুফাস্সিরে কুরআন হযরত ইমাম সুদ্দী (র.) এই আয়াতের তাফসীরে হযরত ওমর রা.-এর বর্ণনা নকল করেছেন যে, যদি আল্লাহ তায়ালা চাইতেন তবে (أَنْتُمْ) বলতেন, এতে আমরা সকলেই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। অথচ আল্লাহ তায়ালা (کُنْتُمْ) বলেছেন, বিশেষভাবে সাহাবায়ে কেরামের সম্পর্কে। যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরামের অনুরূপ মেহনত করবেন, তিনিও শ্রেষ্ঠ উম্মত হবেন। তাদের সৃষ্টিই করা হয়েছে মানুষের কল্যাণ কামনার উদ্দেশ্যে এবং তারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে।
এই আয়াতের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা النَّاسُ 'মানুষ' শব্দ ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হলো, অমুসলিমরাও মানুষ। মুসলিম জাতিকে শুধু মুসলমানদের জন্য পাঠাননি বরং অমুসলিমদের জন্যও পাঠিয়েছেন। বিশ্বের মানুষকে আল্লাহ তা'আলা দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। ১. خَيْرَ أُمَّةٍ 'উত্তম জাতি' বলে সম্বোধন করেছেন। ২. الناس 'মানুষ'। অর্থাৎ মুসলমানদেরকে সৃষ্টি করেছেন, ৬শত কোটি অমুসলিম “মানুষ” এর জন্য। ২শত কোটি মুসলমান خَيْرَ أُمَّةٍ 'উত্তম জাতি' ৬শত কোটি অমুসলিম মানুষকে الْمَعْرُونِ সৎকাজের আদেশ করবে এবং الْمُنكَرِ অসৎ কাজের বাধা প্রদান করবে।
এই আয়াত থেকে একটি বিষয় বুঝা যায়। তা হল- উম্মতের দাওয়াতের দায়িত্বকে ঈমানের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব দুই প্রকার। ১. ব্যক্তিগত দায়িত্ব। ২. সমষ্টিগত দায়িত্ব।
ব্যক্তিগত দায়িত্বে আল্লাহ তা'আলা নিজের হককে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
মানুষ ও জ্বীন সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য। কিন্তু যেখানে সমষ্টিগত দায়িত্বের কথা আলোচনা করা হয়েছে, সেখানে বান্দার হককে প্রধান্য দিয়েছেন। উপরিউক্ত আয়াতে আমরা দেখতে পাচ্ছি- উম্মত যেন জাতীয় দায়িত্বের কথা চিন্তা করতে গিয়ে এ ধোঁকায় না পড়ে যে, এটাতো আমার কাজ নয়। আমার দায়িত্ব নয়। (এর দ্বারা জাতীয় দায়িত্বের অনুভব হয়।)
উল্লিখিত আয়াতের তাফসীরে মুফাস্সিরগণ লিখেছেন- خَيْرَ أُمَّةٍ উত্তম জাতি হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত। ১. الْأَمْرُ بِالْمَعْرُونِ সৎ কাজের আদেশ। ২. النَّهْيِ عَنْ المُنْكَرِ . অসৎকাজের নিষেধ। ৩. ایمان بالله আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।
একটু ভাবুন, আমরা কি এই তিনটি শর্তের ওপর আমল করছি? যদি উত্তর নেতিবাচক হয়, তাহলে আমরা কি উত্তম জাতি? যদি উত্তর 'না' হয়, তাহলে এই জাতিকে উত্তম জাতি বানানোর ফিকির করতে হবে কি-না? এই জন্য আমাদেরকে وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ এবং النَّهْيِ عَنْ المُنْكَرِ অর্থাৎ ধর্মের দাওয়াত ও তাবলিগ করতে হবে। যদি আমরা এই দায়িত্ব আদায় না করি, তাহলে আমাদের ওপর আল্লাহর কঠিন শাস্তি আসতে পারে।
মোটকথা, মুসলমানদের কাজ হলো, সকল মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দেয়া। তাদের সামনে কুরআন ও নবীজীর পরিচয় তুলে ধরবে। আর ইসলামের পরিচয় করিয়ে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে।
আল্লাহর দরবারে দু'আ করি, তিনি যেন উম্মতকে তার দায়িত্বের হক আদায় করার তৌফিক দান করেন। আমিন! অমুসলিমদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার দায়িত্ব শুধু শরয়ী না, মানবিক দায়িত্বও বটে।
আমর বিল মারুফ দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত ইমাম আবুল আলিয়া রহ. থেকে বর্ণিত, আমল বিল মারুফ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক থেকে মুক্ত করে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া।
عَنْ أَبِي العَالِيَةَ قَالَ: كُلُّ مَا ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي القُرْآنِ مِنَ الْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنْ المُنْكَرِ فَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ : دُعَاءُ مِنْ الشِّرْكِ إِلَى الْإِسْلَامِ ، وَالنَّهْيُ عَنْ الْمُنْكَرِ : النَّهْيُ عَنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَالشَّيَاطِينِ.
অর্থ: হযরত ইমাম আবুল আলিয়া রহ. বর্ণনা করেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কোরআনে কারীমের যে সমস্ত স্থানে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের আলোচনা করেছেন তার মধ্যে আমর বিল মারুফ- এর অর্থ: শিরক হতে মুক্ত করে ইসলামের দিকে দাওয়াত দেয়া। আর নেহি আনিল মুনকারের অর্থ: শয়তান ও প্রতিমা ইত্যাদির উপাসনা হতে বাচাঁনোর মেহনত করা। আরো জানতে পারলাম, সবচেয়ে উত্তম কাজ কী? আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ কী? উল্লিখিত হাদিস থেকে আমরা দুটি বিষয় জানতে পেরেছি। এখানে আল্লাহ তাআলা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়া মানবতার দাবি। মানব থেকে মানবতা। মানবতার দাবি হলো- একজন মানুষ অন্য মানুষের উপকার করবে, মানুষ যদি কোনো বিপদে পড়ে তাহলে তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে। আমরা মুসলমানগণ বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষ ঈমান না আনার কারণে প্রত্যেক অমুসলিম মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জাহান্নামে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا أُولَئِكَ هُمْ شَرُّ الْبَرِيَّةِ. অর্থ: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ী ভাবে থাকবে। তারা সৃষ্টির অধম।
প্রিয় পাঠক! আপনার প্রতিবেশী হিন্দু বা খ্রিস্টানদের বাড়িতে যদি আগুন লেগে যায়, তাহলে আপনি কি বসে থাকবেন? নাকি আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে যাবেন। আল্লাহ না করুন, যদি কোনো মুসলিম মহল্লায় আগুন লেগে যায়, তাহলে প্রতিবেশী অমুসলিম ভাইয়েরা কি বসে থাকবেন? নাকি আগুন নিভাতে যাবেন? অবশ্যই আগুন নিভাতে আসবে। দেখুন! আমরা দুনিয়াতে ক্ষণস্থায়ী আগুন থেকে উদ্ধার করার জন্য কত সুন্দর মানবতার পরিচয় দিয়ে থাকি। কিন্তু একটু কি চিন্তা করেছি যে, দুনিয়ার আগুনে জ্বলে যদি কারো ত্বক নষ্ট হয়ে যায়, বা ঘর-বাড়ি পুড়ে ছারখার হয়ে যায়, তাহলে ঔষধ দ্বারা পুনরায় ত্বক ফিরিয়ে আনা সম্ভব, পুড়ে যাওয়া বাড়ি থেকে উত্তম বাড়ি বানানো সম্ভব। কিন্তু যে ভাইটি ইসলাম গ্রহণ না করে, চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, যার থেকে ফেরানো বা বাঁচানোর কোনো পথ নেই, সেই ভাই বা বোনটিকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য কি কখনো ভেবেছি?
প্রিয় পাঠক! আমাদের অনেক অমুসলিম বন্ধু আছেন, যাদের সাথে একত্রে চলাফেরা করি, একই অফিসে চাকরি করি, তাদের দোকান থেকে কেনা-কাটা করি। তাদের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়াই। একথাও বিশ্বাস করি, ভাইটি মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী আগুনে জ্বলবে।
প্রিয় পাঠক! এ আমাদের কেমন মানবতা? আমার সামনে আমার এক ভাই বা বোন জাহান্নামের চিরস্থায়ী আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে, কিন্তু কোনো দিন এই ভাই বা বোনটিকে বলিনি যে, ভাই! তুমি যে পথে চলছো এটা জাহান্নামের পথ। কোনো দিন তাকে জান্নাতের পথ ইসলাম দেখাইনি। কেমন জানি তাকে আগুনে জ্বলতে দেখেও আমি চুপ হয়ে আছি। এটা আমাদের কেমন মানবতা? আর কতো দিন এভাবে দেখব? বলুন! এভাবে আর কতো দিন বসে বসে তাদেরকে আগুনে ঝাঁপ দিতে দেখব? চলুন, আর সময় নেই, আমার কাছে যদি সত্যিকার মানবতা থাকে, তাহলে আমার প্রতিবেশী অমুসলিমকে আগুনে জ্বলতে দেব না। আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে জান্নাতের পথ দেখিয়ে দেয়া। মানা না মানা তার ব্যাপার। দাওয়াত পাওয়া তাদের অধিকার, গ্রহণ করা-না করা তাদের এখতিয়ার। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাদের আমানত 'ইসলাম' তাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিয়ে তাদেরকে চিরস্থায়ী আগুন থেকে বাঁচানোর মাধ্যম বানিয়ে দিন এবং তিনি আমাদের ওপর খুশি হয়ে যান। আমীন।
কাদেরকে দাওয়াত দিবেন? উল্লিখিত আয়াতে 'আন-নাস' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যার অর্থ হয় মানুষ। চাই মানুষটি হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান বা অন্য কোন ধর্মের। যে কোনো ধর্মের হোক, যে কোনো বর্ণের, যে কোনো শ্রেণীর মানুষ হোক না কেন, সকল মানুষকেই দাওয়াত দেয়ার জন্য মুসলমানদেরকে আল্লাহ্ পাক সৃষ্টি করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি 'অমুসলিম' পরিচয়ের মানুষদেরকে দাওয়াত দিচ্ছি? তারা চিরস্থায়ী আগুনে জ্বলছে; অনন্তকালের জন্য জাহান্নামে ঝাপ দিচ্ছে। আমরা কি তাদেরকে এই আগুন থেকে বাঁচাতে ফিকির করেছি? কখনো কি বলেছি, "ভাই! আপনি আমার ভাই, আপনি যদি মুসলমান না হন, তাহলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে জ্বলবেন।” অমুসলিমদের সাথে আমরা চলাফেরা, উঠাবসা, ব্যবসা বাণিজ্য সব কিছু করি, কিন্তু দাওয়াত দেই না। কুরআনের এই আয়াতটি আমরা পড়ি, তেলাওয়াতের সময় মানুষ বলতে শুধু মুসলমানদের প্রতিচ্ছবিই আমাদের সামনে ভেসে উঠে।
কী কারণে এই শ্রেষ্ঠত্ব? মানুষদের অর্থাৎ মুসলিম-অমুসলিম সকলকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেয়ার জিম্মাদারী আদায় করার কারণে আমরা শ্রেষ্ঠ হই। যেমন, ইমাম সাহেব কাকে বলে? যে ব্যক্তি নামাজ পড়ান। ডাক্তার কাকে বলে? যিনি ডাক্তারি করেন। তেমনি ভাবে উত্তম জাতি সেই হবে যে উত্তম কাজ করে। আর সেই কাজটি হলো দাওয়াত। বিশেষ করে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত।
অমুসলিমদের দাওয়াত দেয়ার ইসলামের বিধান কী? এ পর্যায়ে আমরা আলোচনা করবো অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেয়ার শরয়ী বিধান কী? ফরজে আইন, ফরজে কেফায়া, নাকি সুন্নাহ? নিম্নের আলোচনা থেকে আশা করি বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ফরজে আইন: অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ ঐ সময় ফরজে আইন হবে যখন কুফর বিজয়ী থাকবে, সত্য পরাজিত থাকবে, দা'য়ীর সংখ্যা হবে নিতান্তই কম, মন্দকাজ হবে ব্যাপক। মুর্খতা ও অজ্ঞতা সর্বস্তরে বিরাজ করবে। এমতাবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যানুযায়ী অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াত ফরজে আইন।
সুন্নাত: অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজ ঐ সময় সুন্নাহ বলে বিবেচিত হবে, যখন দা'য়ীদের সংখ্যা থাকবে পর্যাপ্ত। সত্য বিজয়ী থাকবে। বাতিল থাকবে পরাজিত। রাষ্ট্র নিজেই দাওয়াতী কাজ আঞ্জাম দিবে। এই অবস্থায় সাধরণ মানুষের উপর দাওয়াতী কাজ করা সুন্নাহ।
ফরজে কেফায়া: ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত যে, অমুসলিম ভাই-বোনদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া ফরজে কেফায়া। অনেকে বলেছেন সাধ্যানুযায়ী ফরজে আইন। আমরা ফরজে কেফায়াই ধরে নিলাম। এবার, আমাদের জানতে হবে ফরজে কেফায়া কাকে বলে? ফরজে কেফায়া বলা হয় এমন হুকুম বা কাজ, যা সকল মুসলমানের উপর ফরজ। তবে সকলের পক্ষ থেকে যদি কিছু মানুষ ওই কাজ আদায় করে দেয়, তাহলে সকলের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে এবং আল্লাহ্র পক্ষ থেকে শান্তিপ্রাপ্ত হবে না। যদি আদায় না করা হয়, তাহলে সকলেই গুনাহগার হবে। সাধারণত ফরজে কেফায়া বলতে আমরা জানাজার নামাযকে বুঝি। কাফন দাফনসহ জানাজার নামায সম্পূর্ণ করতে হলে কমপক্ষে চারজন লোকের প্রয়োজন। একজন ইমাম হলে, বাকি তিনজন মুক্তাদি। দাফনের জন্য কবরের উপরে থাকবে দু'জন। আর লাশটি কবরে নামানোর জন্য কবরে থাকবে দু'জন। মোট কথা, কাফন-দাফন সম্পন্ন হতে হলে মোট চারজন লোকের প্রয়োজন। তাহলে ফরজে কেফায়া আদায় হবে। যদি ফরযে কেফায়া আদায় না হয়, তাহলে ওই মহল্লার সকলেই গুনাহগার হবে এবং সমাপ্ত করার দায়িত্ব পড়বে পার্শ্ববর্তী সকল মুসলমানের উপর। যদি তারাও আদায় না করে, তাহলে পর্যায়ক্রমে সকল মুসলমান গুনাহগার হবে। তদ্রূপ অমুসলিমদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো হলো ফরজে কেফায়া। প্রত্যেক অমুসলিমের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর জন্য এমন কিছু লোক থাকতে হবে। যাদের মাধ্যমে তাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছে যায়। যদি সকলের কাছে দাওয়াত না পৌঁছে, তাহলে সকল মুসলমান গুনাহগার হবে।
জানাজার নামাযের সাথে মিলালে বোঝা যায়, প্রত্যেক এলাকায় কমপক্ষে চার জন ব্যক্তি এমন থাকতে হবে, যারা সর্বদা অমুসলিমদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে। যদিও চারজন দ্বারা দাওয়াতের ফরজে কেফায়া আদায় হবে না। প্রিয় পাঠক! এবার আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, আপনি বলুন তো দেখি! আপনার এলাকায় (আপনি যে অঞ্চলেরই হোন না কেন।) এমন চারজন ব্যক্তি আছে, যারা সর্বদা অমুসলিমদের দাওয়াত দিচ্ছেন? যদি এলাকায় না থাকে তাহলে আপনার পুরো জেলায় এমন চারজন মানুষ আছে কি, যারা সর্বদা সকল মুসলমানদের পক্ষ থেকে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দিচ্ছেন? যদি উত্তর 'না' হয়, তাহলে বলুন, আমরা কি ফরজে কেফায়া আদায় করছি? যদি আদায় না করে থাকি তাহলে আমরা কি গুনাহগার হচ্ছি না? অবশ্যই হচ্ছি। আর কতদিন এই ফরজে কেফায়া ছেড়ে দেয়ার গুনাহ মাথায় নিয়ে ঘুরবো? যদি কোন ব্যক্তি এককভাবে দাওয়াত দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি নিজে গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু সমষ্টিগতভাবে সকলেই গুনাহগার হবে।
প্রিয় পাঠক! আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি আজ থেকে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেওয়ার চেষ্টা করি। ফরজে কেফায়া আদায় করি।
টিকাঃ
৩. আল-ইমরান-১১০
৪. সুরা জারিয়াত-৫৬
৫. সূরা-বাইয়্যিনাহ:৬