📘 দাজ্জাল > 📄 ঘটনার ধারাবাহিকতার তাখরীজ (অর্থাৎ আবূ উমামাহ্‌ বর্ণিত হাদীসের প্রত্যেকটি [৪৯টি] অংশের সমর্থনে বর্ণিত বিভিন্ন শাহিদ হাদীসসমূহ)

📄 ঘটনার ধারাবাহিকতার তাখরীজ (অর্থাৎ আবূ উমামাহ্‌ বর্ণিত হাদীসের প্রত্যেকটি [৪৯টি] অংশের সমর্থনে বর্ণিত বিভিন্ন শাহিদ হাদীসসমূহ)


ঘটনার ধারাবাহিকতার তাখরীজ (আবূ উমামাহ্ বর্ণিত হাদীসের সানাদ যদিও দুর্বল) কিন্তু হাদীসটি সহীহ্ পর্যায়ের। হাদীসের অংশগুলো পৃথক পৃথকভাবে বহু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য কিছু অংশ বাদে, যার শাহিদ বর্ণনা অথবা শক্তিশালী করার মতো কিছু আমি পাইনি, যেমন এর বর্ণনা অচিরেই আসছে। পাঠকদের সহজে বুঝার জন্য এর ব্যাখ্যা ও তাখরীজ আমি যথাস্থানে ধারাবাহিকভাবে ক্রমিক নম্বরসহ উল্লেখ করবো।১ সুতরাং আমি বলল:

অনুচ্ছেদ-(১): এ অংশের অনেকগুলো হাদীস রয়েছে: প্রথম: হিশাম ইবনু 'আমির হতে মারফুভাবে বর্ণিত এ শব্দে:
( ما بين خلق آدم إلى قيام الساعة خلق أكبر من الدجال ( وفي رواية : فتنة أكبر من فتنة الدجال )
"আদম সৃষ্টি হতে ক্বিয়ামাত কায়িম হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দাজ্জালের চেয়ে অধিক ভয়ানক সৃষ্টি আর নেই। (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: অধিক বড় ফিতনা আর নেই)।"
মুসলিম (৮/২০৭), হাকিম (৪/৫২৮), আহমাদ (৪/২০১২১)। এর অন্য বর্ণনার একটি হচ্ছে হাকিমের বর্ণনা, তাতে অতিরিক্ত রয়েছে: "আল্লাহ নিকট।” হাকিম বলেন: বুখারীর শর্তে সহীহ। তবে বুখারী এটি বর্ণনা করেননি। তিনি যেরূপ বলেছেন। সম্ভবত তার শব্দের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। অন্যথায় মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, যেমন আমি উল্লেখ করেছি। এছাড়া আদ-দানী (১৭৬/২, ১৭৭/১) এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন: (قد أكل الطعام ومشى في الأسواق )
"যে খাদ্য খাবে এবং বাজারে চলাফেরা করবে।"

দ্বিতীয়: 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
(ما أهبط الله تعالى إلى الأرض - منذ خلق آدم إلى أن تقوم الساعة - فتنة أعظم من فتنة الدجال وقد قلت فيه قولا لم يقله أحد قبلي : إنه آدم جعد ممسوح عين اليسار على عينه ظفرة غليظة وإنه يبرئ الأكمه والأبرص ويقول : أنا ربكم . فمن قال : ربي الله فلا فتنة عليه ومن قال : أنت ربي . فقد افتتن يلبث فيكم ما شاء الله ثم ينزل عيسى ابن مريم مصدقا بمحمد صلى الله عليه و سلم على ملته إماما مهديا وحكما عدلا فيقتل الدجال )
فكان الحسن يقول : ونرى ذلك عند الساعة
"মহান আল্লাহ আদমকে (আ) সৃষ্টি থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত দাজ্জালের চাইতে অধিক বড় ফিতনা অবতীর্ণ করেননি। আর আমি দাজ্জাল সম্পর্কে এমন কথা বলেছি যা আমার পূর্বে কেউ বলেননি। সে হবে কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট লোক। তার বাম চোখ এমনভাবে মিশানো হবে যে, এর উপর মোটা চামড়ায় ঢাকা হবে। সে অন্ধ ও কুষ্টরাগীকে আরোগ্য করবে। সে বলবে: আমি তোমাদের রব্ব। জবাবে যে ব্যক্তি বলবে, আমার রব্ব হচ্ছেন আল্লাহ, তার উপর কোন ফিতনা নেই। আর যে ব্যক্তি বলবে, তুমিই আমার রব্ব, সে তো ফিতনায় পতিত হলো। আল্লাহ যতদিন চাইবেন দাজ্জাল তোমাদের মাঝে অবস্থান করবে। অতঃপর ঈসা ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে সত্যায়নকারী হিসেবে তাঁরই মিল্লাতের একজন হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম ও ন্যায়পরায়ন শাসকরূপে। অতঃপর তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন।"
হাসান বলতেন: আমরা তা প্রত্যক্ষ করব ক্বিয়ামাতের সন্নিকটে।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী 'কাবীর' ও 'আওসাত' গ্রন্থে এবং এর রিজাল সিক্বাত। এর কতিপয়ের বৈপরিত্যে কোন সমস্যা নেই। যেমন বলেছেন "মাজমাউয যাওয়ায়িদ” গ্রন্থে (৭/৩৩৬)।
আর চোখের বাক্যটির শাহিদ বর্ণনা রয়েছে আনাস বর্ণিত হাদীসে এ শব্দেঃ
( إن الدجال أعور العين الشمال عليها ظفرة غليظة مكتوب بين عينيه : كافر )
"দাজ্জালের বাম চোখ হবে কানা। তার চোখের উপর মোটা চামড়ায় ঢাকা হবে। তার দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থানে লিখা থাকবে : কাফির।"
আহমাদ (৩/১১৫, ২০১) সহীহ সানাদে।

তৃতীয়: হুযাইফাহ হতে। তিনি বলেন:
ذكر الدجال عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال : ( لأنا لفتنة بعضكم أخوف عندي من فتنة الدجال ولن ينجو أحد مما قبلها إلا نجا منها وما صنعت فتنة منذ كانت الدنيا - صغيرة ولا كبيرة - إلا لفتنة الدجال )
"একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট দাজ্জালের উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: “অবশ্যই আমি তোমাদের পরষ্পরের ফিতনাকে দাজ্জালের ফিতনার চেয়েও অধিক ভয় করি। যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ফিতনাসমূহ থেকে নিরাপত্তা লাভ করবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকেও নিরাপত্তা পাবে। দুনিয়ার সূচনা হতে ছোট বড় যত ফিতনা হয়েছে তা দাজ্জালের ফিতনার জন্যই সংঘটিত হয়েছে।"
আহমাদ (৫/৩৮৯), ইবনু হিব্বান (১৮৯৭)। তার শব্দ হলো: ( إنها ليست من فتنة صغيرة ولا كبيرة إلا تتضع لفتنة الدجال ) وزاد : ( مكتوب بين عينيه : كافر)
"ছোট বড় কোন ফিতনাই দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে ভয়ঙ্কর নয়।" এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন: "তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে কাফির।"
মুসিলম (৮/১৯৫) এবং আহমাদ (৫/৩৮৬) বৃদ্ধি করেছেন: "শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রতিটি মু'মিন তা পড়তে পারবে।" এ অতিরিক্ত অংশটুকু রয়েছে হাম্বালে (৫১/১) তার থেকে ভিন্ন সানাদে, এবং বুখারী (১৩/৮০-৮১ ফাতহুল বারী) শব্দাবলী তার, এবং মুসলিম (৮/১৯৩) উভয় অতিরিক্ত অংশ তার, অনুরূপ তিরমিযী (২২৩৬), আবূ দাউদ (৪৭৫৭), ইবনু মানদাহ 'ঈমান' (৯৬/২) সালিম ইবনু 'আবদুল্লাহ হতে, এবং খতীব (তারীখ (৭/১৮৩-১৮৪)। অন্য বর্ণনায় আহমাদ (২/১৩৫) ও ইবনু মানদাহ (৯৭/১) গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনু যায়িদ আবূ 'উমার বিন মুহাম্মাদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: 'আবদুল্লাহ বলেছেন: অতঃপর অনুরূপ উল্লেখ করেন এ শব্দে:
( ما بعث الله من نبي إلا قد أنذره أمته لقد أنذره نوح صلى الله عليه و سلم أمته والنبيون عليهم الصلاة والسلام من بعده ألا ما خفي عليكم من شأنه فلا يخفين عليكم أن ربكم ليس بأعور ألا ما خفي عليكم من شأنه فلا يخفين عليكم أن ربكم ليس بأعور )
"আল্লাহ যত নাবী পাঠিয়েছেন প্রত্যেকেই স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জালের ভয় দেখিয়েছেন। নূহ (আ) তাঁর উম্মাতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং তার পরবর্তী নাবীগণ (আ)-ও। সাবধান! দাজ্জালের বিষয় তোমাদের কাছে গোপন নয়। আর তোমাদের কাছে গোপন নয় যে, তোমাদের রব্ব কানা নন। দাজ্জালের বিষয় তোমাদের কাছে গোপন নয়। আর তোমাদের কাছে গোপন নয় যে, তোমাদের রব্ব কানা নন।"
আমি বলি: এর সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান (১৮৯৬), ইবনু মানদাহ আত্-তাওহীদ' (৮২/২) তৃতীয় আরেকটি সানাদে তার সূত্রে অনুরূপ এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন; "তার দুই চোখের মাঝে লিখা থাকবে কাফির। যা প্রত্যেক শিক্ষিত ও অশিক্ষিত মু'মিন পড়তে পারবে।" এর সানাদ সহীহ। এবং বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন নাফি' হতে ইবনু 'উমার সূত্রে একটি দীর্ঘ হাদীসে। তাতে রয়েছে: আমি বলি: এর সানাদ সহীহ এবং রিজাল সিক্বাত, বুখারী ও মুসলিমের রিজাল। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৩৫): 'হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, বায্যার এবং এর রিজাল সহীহ।'

চতুর্থ: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত, তার হাদীস সামনে আসবে।

অনুচ্ছেদ-(২): এ অংশের সমর্থনে কয়েকটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন:
( إني لأنذركموه وما من نبي إلا وقد أنذره قومه [ لقد أنذره نوح قومه ] ولكني سأقول لكم فيه قولا لم يقله نبي لقومه : [ تعلموا ] أنه أعور وإن الله ليس بأعور )
"আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক করছি। এমন কোন নাবী নেই যিনি স্বীয় জাতিতে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক না করেছেন। [নূহ (আ)] তাঁর কওমকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু আমি শীঘ্রই তার ব্যাপারে এমন কথা বলবো যা অন্যান্য নাবী তার কওমকে বলেননি। তোমরা জেনে রাখ, সে হবে কানা। আর আল্লাহ কানা নন।"
'আবদুর রাযযাক 'মুসান্নাফ' (১১/৩৯০/২০৮২০), এবং তার থেকে আহমাদ (২/১৪৯)।
( إن المسيح الدجال أعور العين اليمني كأن عينه عنبة طافية )
"নিশ্চয়ই মাসীহ দাজ্জালের ডান চোখ কানা। যেন তার চোখ জ্যোতিহীন; ফুলে উঠা আঙ্গুর সদৃশ।" এটি বর্ণিত আছে সহীহাহ (হা/১৮৫৭)।

দ্বিতীয়: আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( ما من نبي إلا وقد أنذر أمته الأعور الكذاب ألا إنه أعور وإن ربكم ليس بأعور مكتوب بين عينيه : ك ف ر [ يقرؤه كل مسلم ] )
"এমন কোন নাবী নেই যিনি স্বীয় উম্মাতকে মিথ্যাবাদী কানা দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান না করেছেন। জেনে রাখ, সে হবে কানা, আর তোমাদের রব্ব কানা নন। তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে: কাফ, ফা, র। [যা প্রতিটি মুসলিম পড়তে পারবে]।"
বুখারী (১৩/৮৫), মুসলিম (৮/১৯৫), আবূ দাউদ (২/২১৩), তিরমিযী (২২৪৬) তিনি একে সহীহ বলেছেন, আহমাদ (৩/১০৩, ১৭৩, ২৭৬, ২৯০), হাম্বাল (ক্বাফ ৫১/২), ইবনু খুযাইমাহ্ 'আত্-তাওহীদ' (৩২ পৃঃ), ইবনু মানদাহ (৯৭/১), অতিরিক্ত অংশটুকু মুসলিম, আহমাদ ও অন্যান্য। অন্য অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ আল-খুদরী হতে 'মাজমাউয যাওয়ায়িদ' (৭/৩৩৬-৩৩৭) এবং আসমা বিনতু ইয়াযীদ আনসারিয়‍্যাহ হতে, যা সামনে আসবে। এছাড়া 'আয়িশাহ্ ও উম্মু সালামাহ্ হতে, যা সামনে আসছে।

অনুচ্ছেদ-(৩): এ অংশটি পৃথকভাবে দুই বা ততোধিক হাদীসে এসেছে:
প্রথম: আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( قلت : وذكر حديث فضل الصلاة في مسجده صلى الله عليه و سلم ) ( فإني آخر الأنبياء وإن مسجدي آخر المساجد )
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: (তিনি মাসজিদে নাব্ববীতে সলাত আদায়ের ফাযীলাতের কথা উল্লেখ করেন) "আমিই নাবীদের মধ্যে সর্বশেষ আর মাসজিদসমূহের মধ্যে আমার এ মাসজিদ হলো সর্বশেষ মাসজিদ।"
মুসলিম (৪/১৩৫), এর অসংখ্য শাহিদ বর্ণনা রয়েছে। যেমন, একটি প্রসিদ্ধ হাদীস 'আলী (রাযিঃ) সম্পর্কে: তুমি আমার কাছে মূসার নিকট হারূনের অবস্থানের মতো। তবে একথা ভিন্ন যে, আমার পরে কোন নাবী নেই।” এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, শাইখাইন ও অন্যান্যরা অনেকগুলো সূত্রে।

দ্বিতীয়: ইবনু 'আব্বাস হতে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেন:
( نحن آخر الأمم وأول من يحاسب يقال : أين الأمة الأمية ؟ فنحن الآخرون الأولون )
"উম্মাতসমূহের মধ্যে আমরাই সর্বশেষ উম্মাত। তবে আমাদের হিসাব হবে সবার আগে। বলা হবে : উম্মী উম্মাত কোথায়? আর্বিভাবে আমরাই সর্বশেষ। জান্নাতে প্রবেশে আমরাই সর্বাগ্রে।"
ইবনু মাজাহ (২/৫৭৫)।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ, যেমন আল্লামা বুসাইরী বলেছেন তার 'আয-যাওয়ায়িদ' গ্রন্থে (২৬৫/১)।

তৃতীয়: মু'আবিয়্যাহ্ ইবনু হাইদাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ
( إنكم وفيتم سبعين أمة أنتم آخرها وأكرمها على الله عز و جل )
"তোমরা সত্তরটি উম্মাত পূর্ণ করেছো। তোমরাই হলে সর্বশেষ এবং মহান আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত (উম্মাত)।"
দারিমী (২/৩১৩), আহমাদ (৫/৩, ৫)।
আমি বলি: এর সানাদ হাসান। এটি রয়েছে মিশকাত (৬২৯৪)।

অনুচ্ছেদ-(4): এ অংশের সমর্থনে হুবহু শব্দে আমি হাদীস পাইনি। তবে এর কাছাকাছি পেয়েছি আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীসে। তিনি বলেন: আমি সত্যবাদী ও সত্যায়িত আবুল ক্বাসিমকে বলতে শুনেছিঃ
( يخرج أعور الدجال مسيح الضلالة قبل المشرق في زمن اختلاف الناس وفرقة فيبلغ ما شاء الله أن يبلغ من الأرض في أربعين يوما - الله أعلم ما مقدارها - فيلقى المؤمنون شدة شديدة ثم ينزل عيسى ابن مريم صلى الله عليه و سلم من السماء فيؤم الناس ( ۱ ) فإذا رفع رأسه من ركعته قال : سمع الله لمن حمده قتل الله المسيح الدجال وظهر المسلمون )
“পথভ্রষ্টকারী কানা মাসীহ দাজ্জাল বের হবে পূর্বদেশ থেকে মানুষের মতভেদ ও দলাদলির যুগে। আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী যে চল্লিশ দিনে পৃথিবীর যেখানে পৌছার পৌছবে। এর পরিমাণ সম্পর্কে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। তখন মু'মিনরা খুবই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হবে। অতঃপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ) আকাশ থেকে অবতরণ করবেন এবং লোকদের ইমামতি করবেন (নেতৃত্ব দিবেন)২। তিনি যখন রুকূ' থেকে মাথা উঠাবেন তখন বলবেন: সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ। আল্লাহ মাসীহ দাজ্জালকে ধ্বংস করেছেন এবং মুসলিমদের বিজয়ী করেছেন।"
আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৪৯): 'হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বাযযার। এর রিজাল সহীহ রিজাল। তবে 'আলী ইবনুল মুনযিব সিক্বাহ রাবী।' আর হাফিয বলেন: (১৩/৮৫): 'এর সানাদ জাইয়্যিদ।' দেখুন মাওয়ারিদুয যামআন (১৮৯৮)।

দাজ্জাল বের হওয়া সংক্রান্ত স্পষ্ট হাদীসাবলীর সংখ্যা প্রচুর। যার কিছু শীঘ্রই আসছে ইনশাআল্লাহ তা'আলা। কিন্তু তাতে দৃঢ় অর্থবোধক শব্দ নেই, যেমন তার উক্তি : (لا محالة) অথবা (إنه لحق)। বরং দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসসমূহের প্রত্যেকটি তার বের হওয়ার বিষয়টি জোরদার করেছে, তাকিদ দিয়েছে। আর নাবী (সাঃ)-এর হাদীসের প্রত্যেকটিই সত্য, হাক্ব। তিনি সবই সত্য বলেছেন চাই তা সীগায়ে তাকিদ (জোরালো শব্দে) বর্ণিত হোক বা না হোক। “তিনি (মুহাম্মাদ) নিজের পক্ষ হতে খেয়াল মতো কথা বলেন না, তার নিকট যা কিছু ওয়াহী করা হয় তিনি শুধু তা-ই বলেন।” (সূরাহ্ আল-নাজম: ৩, ৪)
হ্যাঁ, আদ-দানী ‘আল-ফিতান’ গ্রন্থে (১৪১/১) হাসান হতে মুরসালভাবে ঈসা (আ) সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন:
( وإنه نازل لا محالة فإذا رأيتموه فاعرفوه ... ) “তিনি অবশ্যই অবতরণ করবেন : তোমরা তাকে দেখেই চিনতে পারবে...।”
হাদীসটি আরো বর্ণনা করেছেন ইবনু হিব্বান (১৯০৪) সালিহ ইবনু ‘উমার হতে, ‘আসিম ইবনু কুলাইব থেকে তার পিতার মাধ্যমে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে। তবে তাতে এ কথাটি নেই: “আমি শপথ করে বলছি, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন...।”
এর সানাদ সহীহ।
আর ক্রোধান্বিত হওয়ার বাক্যটি রয়েছে মুসলিম (৮/১৯৪), ইবনু হিব্বান (৬৭৫৫), আহমাদ (৫/২৮৪)।

অনুচ্ছেদ-(৫) : এ অংশের সমর্থনে প্রচুর হাদীস রয়েছে। তার মধ্য থেকে সহজ কিছু উল্লেখ করছি :
প্রথম : নাওয়াস ইবনু সাম‘আন আল-কিলাবী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন :
ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال ذات غداة فخفض فيه ورفع حتى ظنناه في طائفة النخل فقال : ( غير الدجال أخوفني عليكم إن يخرج وأنا فيكم فأنا حجيجه دونكم وإن يخرج ولست فيكم فامرؤ حجيج نفسه والله خليفتي على كل مسلم إنه شاب قطط عينه طافئة كأني أشبهه بعبد العزى بن قطن فمن أدركه منكم فليقرأ عليه فواتح سورة ( الكهف ) [ فإنها جواركم من فتنته ] إنه خارج خلة بين الشام والعراق فعاث يمينا وعاث شمالا يا عباد الله فاثبتوا ( قلنا : يا رسول الله وما لبثه في الأرض ؟ قال : ( أربعون يوما يوم كسنة ويوم كشهر ويوم كجمعة وسائر أيامه كأيامكم ) قلنا : يا رسول الله فذلك اليوم الذي كسنة أتكفينا فيه صلاة يوم ؟ قال : ( لا اقدروا له قدره ( قلنا : يا رسول الله وما إسراعه في الأرض ؟ قال : ( كالغيث استدبرته الريح فيأتي على القوم فيدعوهم فيؤمنون به ويستجيبون له فيأمر السماء فتمطر والأرض فتنبت فتروح عليهم سارحتهم أطول ما كانت ذرا وأسبغه ضروعا وأمده خواصر ثم يأتي القوم فيدعوهم فيردون عليه قوله فينصرف عنهم فيصبحون ممحلين ليس بأيدهم شيء من أموالهم ويمر بالخربة فيقول لها : أخرجي كنوزك . فتتبعه كنوزها كيعاسيب النحل ثم يدعو رجلا ممتلئا شبابا فيضربه بالسيف فيقطعه جزلتين رمية الغرض ثم يدعوه فيقبل ويتهلل وجهه يضحك فبينما هو كذلك إذ بعث الله المسيح ابن مريم فينزل عند المنارة البيضاء شرقي دمشق بين مهرودتين واضعا كفيه على أجنحة ملكين إذا طأطأ رأسه قطر وإذا رفعه تحدر منه جمان كاللؤلؤ فلا يحل لكافر يجد ريح نفسه إلا مات ونفسه ينتهي حيث ينتهي طرفه فيطلبه حتى يدركه بباب ( لد ) فيقتله ثم يأتي عيسى ابن مريم قوم قد عصمهم الله منه فيمسح عن وجوههم ويحدثهم بدرجاتهم في الجنة فبينما هو كذلك إذ أوحى الله إلى عيسى : إني قد أخرجت عبادا لي لا يدان لأحد بقتالهم فحرز عبادي إلى الطور . ويبعث الله يأجوج ومأجوج وهم من كل حدب ينسلون فيمر أوائلهم على بحيرة طبرية فيشربون ما فيها ويمر آخرهم فيقولون : لقد كان بهذه مرة ماء . ويحصر نبي الله عيسى وأصحابه حتى يكون رأس الثور لأحدهم خيرا من مائة دينار لأحدكم اليوم فيرغب نبي الله عيسى وأصحابه فيرسل الله عليهم النغف في رقابهم فيصبحون فرسی کموت نفس واحدة ثم يهبط نبي الله عيسى وأصحابه إلى الأرض موضع فلا يجدون في الأرض موضع شبر إلا ملأه زهمهم ونتنهم فيرغب نبي الله عيسى وأصحابه إلى الله فيرسل الله طيرا كأعناق البخت فتحملهم فتطرحهم حيث شاء الله ثم يرسل الله مطرا لا يكن منه بيت مدر ولا وبر فيغسل الأرض حتى يتركها كالزلفة ثم يقال للأرض : أنبتي ثمرتك وردي بركتك . فيومئذ تأكل العصابة من الرمانة ويستظلون بقحفها ويبارك في الرسل حتى أن من الإبل لتكفي الفئام من الناس واللقحة من البقر لكتفي القبيلة من الناس واللقحة من الغنم لتكفي الفخذ من الناس فبينما هم كذلك إذ بعث الله ريحا طيبة فتأخذهم تحت آباطهم فتقبض روح كل مؤمن وكل مسلم ويبقى شرار الناس يتهارجون فيها تهارج الحمر فعليهم تقوم الساعة )

একদা সকালবেলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি তার ভয়াবহতা ও নিকৃষ্টতার কথা তুলে ধরেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, সে হয়তো খেজুর বাগানের ওপাশেই অবস্থান করছে। আমরা বিকেলে আবার তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের ভীতি লক্ষ্য করে বলেন : তোমাদের কি হয়েছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর! সকালে আপনি আমাদের সামনে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তার ভয়াবহতার কথা এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে, আমরা মনে করলাম, সে হয়তো খেজুর বাগানের পাশেই উপস্থিত আছে। তিনি বলেন: আমার কাছে দাজ্জালই তোমাদের জন্য অধিক ভয়ঙ্কর বিপদ। সে যদি আমার জীবদ্দশায় তোমাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ করে তবে আমিই তোমাদের পক্ষে তার প্রতিপক্ষ হবো। আর আমার অবর্তমানে যদি সে আত্মপ্রকাশ করে তাহলে তোমরাই হবে তার প্রতিপক্ষ। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আল্লাহই আমার পরিবর্তে সহায় হবেন। সে হবে কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট, স্থির দৃষ্টিসম্পন্ন যুবক এবং 'আবদুল উয্যা ইবনু ক্বাতান সদৃশ। তোমাদের কেউ তাকে দেখলে সে যেন তার বিরুদ্ধে সূরাহ্ কাহফের প্রথমদিকের আয়াতগুলো পাঠ করে। সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী খাল্লা নামক স্থান থেকে আত্মপ্রকাশ করবে। অতঃপর সে ডানে-বামে বিপর্যয় ছড়াবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা দৃঢ়তার সাথে স্থির থাকবে।
আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে পৃথিবীতে কতদিন অবস্থান করবে? তিনি বলেন: চল্লিশ দিন। তবে এর এক দিন হবে এক বছরের সমান, এক দিন হবে এক মাসের সমান, একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান এবং অবশিষ্ট দিনগুলো হবে তোমাদের বর্তমান দিনগুলোর সমান। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে তাতে এক দিনের সলাত পড়লেই কি তা আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বলেন: তোমরা সে দিনের সঠিক অনুমান করে নিয়ে তদনুযায়ী সলাত আদায় করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, সে পৃথিবীতে কত দ্রুত গতিতে বিচরণ করবে? তিনি বলেন: বায়ু চালিত মেঘমালার গতিতে।
অতঃপর সে কোন এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে তাদেরকে নিজের দলে আহবান করবে। তারা তার ডাকে সাড়া দিয়ে তার উপর ঈমান আনবে। অতঃপর সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের আদেশ দিবে এবং তদনুযায়ী বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে তদনুযায়ী ফসল উৎপাদিত হবে। অতঃপর বিকেলে তাদের পশুগুলো পূর্বের চেয়ে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট, মাংসল নিতম্ববিশিষ্ট ও দুগ্ধপুষ্ট স্তনবিশিষ্ট হয়ে ফিরে আসবে। অতঃপর সে আরেক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদেরকে ডাকবে। কিন্তু তারা তার ডাকে সাড়া দিবে না। ফলে সে তাদের কাছ থেকে ফিরে যাবে। পরদিন সকালে তারা নিজেদেরকে নিঃস্ব অবস্থায় পাবে এবং তাদের হাতে কিছুই থাকবে না। অতঃপর সে এক নির্জন পতিত ভূমিতে গিয়ে বলবে, তোর ভেতরের ভাণ্ডার বের করে দে। অতঃপর সে যেখান থেকে প্রস্থান করবে এবং তথাকার ধনভাণ্ডার তার অনুসরণ করবে, যেভাবে মৌমাছিরা রানী মৌমাছির অনুসরণ করে থাকে।
অতঃপর সে যৌবনে পরিপূর্ণ এক যুবককে তার দিকে ডাকবে। তাকে সে তরবারির আঘাতে দ্বিখণ্ডিত করবে এবং তার দেহের প্রতিটি টুকরা দুই ধনুকের ব্যবধানে গিয়ে পড়বে। অতঃপর সে তাকে ডাকা মাত্রই (জীবিত হয়ে) হাস্যোজ্জল চেহারায় তার কাছে এসে দাঁড়াবে। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ 'ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ)-কে পাঠাবেন। তিনি হলুদ রং-এর দু'টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দুইজন ফিরিস্তার পাখায় ভর করে দামেস্কের পূর্ব প্রান্তের এক মাসজিদের সাদা মিনারে অবতরণ করবেন। তিনি তাঁর মাথা উত্তোলন করলে বা নোয়ালে ফোঁটায় ফোঁটায় মনিমুক্তার ন্যায় (ঘাম) পড়তে থাকবে। তার নিঃশ্বাস যে কাফিরকেই স্পর্শ করবে সে তৎক্ষনাৎ মারা যাবে। তাঁর নিঃশ্বাস বায়ু তাঁর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত পৌছবে। অতঃপর তিনি সামনে অগ্রসর হবেন, শেষে "লুদ্দ” নামক স্থানের প্রবেশ পথে দাজ্জালকে হত্যা করবেন।
অতঃপর আল্লাহর নাবী 'ঈসা (আ) এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবেন যাদেরকে মহান আল্লাহ (দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে) রক্ষা করেছেন। তিনি তাদের চেহারায় হাত বুলাবেন এবং জান্নাতে তাদের মর্যাদা জানিয়ে দিবেন। তাদের এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ তাঁর নিকট ওয়াহী পাঠাবেন, হে ঈসা! আমি আমার এমন বান্দাদের প্রেরণ করবো যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই। সুতরাং তুমি আমার বান্দাদের তুর পাহাড়ে সরিয়ে নাও।
অতঃপর মহান আল্লাহ ইয়াজুজ-মাজুজের দল পাঠাবেন। মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী তাদের অবস্থা হলোঃ "তারা প্রতিটি উচ্চভূমি থেকে ছুটে আসবে" (সূরাহ্ আল-'আম্বিয়াহ্: ৯৬)। এদের প্রথম দলটি (সিরিয়ার) তাবারিয়া হ্রদ অতিক্রমকালে এর সমস্ত পানি পান করে শেষ করে ফেলবে। অতঃপর তাদের পরবর্তী দল এখান দিয়ে অতিক্রমকালে বলবে, নিশ্চয় কোন এক সময় এখানে পানি ছিলো।
আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) তাঁর সঙ্গীগণসহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়বেন। তারা (খাদ্যাভাবে) এমন এক কঠিন অবস্থায় পতিত হবেন যে, তখন একটি গরুর মাথা তাদের একজনের জন্য তোমাদের আজকের দিনের একশো স্বর্ণ মুদ্রার চাইতেও মূল্যবান মনে হবে। তারপর আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) এবং তাঁর সাথীগণ আল্লাহর দিকে রুজু হয়ে দু'আ করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ বাহিনীর) ঘাড়ে মহামারীরূপে নাগাফ নামক কীটের সৃষ্টি করবেন। সকালে তারা এমনভাবে ধ্বংস হবে যেন একটি প্রাণের মৃত্যু হয়েছে।
তখন আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) এবং তাঁর সাথীগণ (পাহাড় থেকে) নেমে আসবেন। তারা সেখানে এমন এক বিঘত জায়গাও পাবেন না, যেখানে সেগুলোর পঁচা দুর্গন্ধময় রক্ত-মাংস ছড়িয়ে নেই। তারা মহান আল্লাহর নিকট দু'আ করবেন। তখন আল্লাহ তাদের নিকট উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি পাঠাবেন। সেই পাখিগুলো তাদের মৃতদেহগুলো তুলে নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছামত স্থানে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর এমন বৃষ্টি বর্ষণ করবেন যা সমস্ত ঘরবাড়ি, স্থলভাগ ও কঠিন মাটির স্তরে গিয়ে পৌঁছবে এবং সমস্ত পৃথিবী ধুয়েমুছে আয়নার মত ঝকঝকে হয়ে উঠবে।
অতঃপর যমীনকে বলা হবে, তোমার ফল উৎপন্ন করো এবং তোমার বরকত ফিরিয়ে দাও। তখন অবস্থা এমন হবে যে, একদল লোকের আহারের জন্য একটি ডালিম যথেষ্ট হবে এবং একদল লোক এর খোসার ছায়াতলে আশ্রয় দিতে পারবে। আল্লাহ তা'আলা দুধেও এতো বরকত দিবেন যে, একটি দুধেল উষ্ট্রীর দুধ একটি বৃহৎ দলের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি গাভীর দুধ একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি বকরীর দুধ একটি ক্ষুদ্র দলের জন্য যথেষ্ট হবে।
তাদের এরূপ অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর দিয়ে বিশুদ্ধ শীতল বায়ু প্রবাহিত করবেন। এই বায়ু তাদের বগলের নীচে স্পর্শ করে প্রত্যেক মুসলিমের জান কবয করবে। তখন অবশিষ্ট (পাপিষ্ট) নর-নারী গাধার ন্যায় প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপর ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে।"
মুসলিম (৮/১৯৭-১৯৮), আবূ দাউদ (২/২১৩) সংক্ষেপে কিছু অংশ, অতিরিক্ত অংশটুকু তার এবং এর সানাদ সহীহ। তিরমিযী (২২৪১), ইবনু মাজাহ্ (২/৫০৮-৫১২), আজরী 'আশ-শারীআহ' (পৃঃ ৩৭৬) আহমাদ (৪/১৮১-১৮২), হাম্বাল (৪৯/১-৫১/১), ইবনু মানদাহ 'ঈমান' (৯৪/১), এবং ইবনু আসাকির (১/৬০৬-৬০৯)।

দ্বিতীয়: জুবাইর ইবনু নুফাইর হতে তার পিতা সূত্রে মারফুভাবে অনুরূপ বর্ণিত। তবে এ কথাটি বাদে:
( قلنا : يا رسول الله وما إسراعه في الأرض .... ) "আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পৃথিবীতে তার চলার গতি কেমন হবে....।"
হাকিম (৪/৬৩০-৬৩১) এবং তিনি বলেন: সানাদ সহীহ। ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
আমি (আলবানী) বলি: বরং তা মুসলিমের শর্তে সহীহ। এর প্রত্যেক ব্যক্তি সিক্বাত এবং মুসলিমের রিজাল। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৫১) : 'হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী। এর সানাদে 'আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ রয়েছে। যাকে সিক্বাহ বলা হয়। তবে একদল তাকে যঈফ বলেছেন। এছাড়া অবশিষ্ট রিজাল সিক্বাত।' তিনি অন্যত্র উল্লেখ করেন : ( والله خليفتي على كل مسل ) - "আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষে সাহায্যকারী হবেন।"-পর্যন্ত (৭/৩৪৭-৩৪৮)। তিনি বলেন: এটি বর্ণনা করেছেন বাযযার। এর সানাদে 'আবদুল্লাহ ইবনু সালিহ রয়েছে, যিনি লাইসের লিখক। তাকে নির্ভরযোগ্য বলা হয় কিন্তু একদল হাদীস বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। এছাড়া অবশিষ্ট রিজাল সহীহ রিজাল।
আমি বলি: হাদীসটি হাকিমে বর্ণিত হয়েছে ইবনু সালিহ এর সানাদ ছাড়া ভিন্ন সানাদে। সুতরাং হাদীসটি সহীহ, আল-হামদুলিল্লাহ।

তৃতীয় : 'আয়িশাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন :
دخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال لي : ( ما يبكيك ؟ ) قلت : يا رسول الله ذكرت الدجال فبكيت . فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( إن يخرج الدجال وأنا حي كفيتكموه وإن يخرج الدجال بعدي فإن ربكم ليس بأعور إنه يخرج في يهودية أصبهان حتى يأتي المدينة فينزل ناحيتها ولها يومئذ سبعة أبواب على كل نقب منها ملكان فيخرج إليه أشرار أهلها حتى يأتي فلسطين باب لد فينزل عيسى عليه السلام فيقتله ثم يمكث عيسى عليه السلام في الأرض أربعين سنة إماما عدلا وحكما مقسطا )
"রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমি কাঁদছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জালের কথা স্মরণ হওয়ায় কাঁদছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আমার জীবদ্দশায় যদি দাজ্জাল বের হয় তাহলে আমি তোমাদের পক্ষে যথেষ্ট হব। আর যদি আমার পরে বের হয় তাহলে (জেনে রাখ) তোমাদের রব্ব কানা নন। সে বের হবে আসবাহানের ইয়াহুদীদের মধ্যে। এমনকি সে মাদীনাহতে আসবে এবং তার এক প্রান্তে নামবে। সে দিন মাদীনাহর সাতটি দরজা থাকবে। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে দুইজন করে ফিরিশ্তা মোতায়েন থাকবে। মাদীনাহর মন্দ অধিবাসীদের দাজ্জাল তার দলে বের করে আনবে এমনকি সে ফিলিস্তিনের কাছে (বাবে) লুদে আসবে। তখন 'ঈসা (আ) অবতরণ করবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আ) পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবেন ন্যায়পরায়ণ ইমাম ও ইনসাফকারী শাসক হিসেবে।"
ইবনু হিব্বান (১৯০৫), আহমাদ (৫/৭৫), এবং তার পুত্র 'আস-সুন্নাহ' (১৩৬ পৃঃ), ইবনু মানদাহ (৯৭/২), আদ-দানী (১৪২/২) ইয়াহইয়া ইবনু আবূ কাসীর হতে। হাদরামী ইবনু লাহিক্ব 'আয়িশাহ্ সূত্রে।
আমি বলি: এই সানাদ সহীহ। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৩৮): এর রিজাল সহীহ রিজাল, তবে হাদরামী ইবনু লাহিক ছাড়া। যে সিক্বাহ রাবী।

চতুর্থ: নাবী (সাঃ)-এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
এক রাতে মাসীহ দাজ্জালের কথা স্মরণ হওয়ায় ঘুম আসছিল না। অতঃপর সকাল হলে আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে প্রবেশ করে তাকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন:
( لا تفعلي فإنه إن يخرج وأنا حي يكفيكموه الله بي وإن يخرج بعد أن أموت يكفيكموه الله بالصالحين ) ثم قال : ( ما من نبي إلا وقد حذر أمته الدجال وإني أحذر كموه : إنه أعور وإن الله ليس بأعور إنه يمشي في الأرض وإن الأرض والسماء الله ألا إن المسيح عينه اليمنى كأنها عنبة طافية )
“এরূপ করো না। কেননা সে আমার জীবদ্দশায় বের হলে আল্লাহ আমাকে তোমাদের জন্য যথেষ্ট করবেন। আর সে যদি আমার মৃত্যুর পর বের হয় তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে সালেহীন (নেককার লোকদের) দ্বারা রক্ষা করবেন।” অতঃপর তিনি (সাঃ) বললেন: “প্রত্যেক নাবী তাঁর উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেছেন। আর আমি তোমাদেরকে সাবধান করছি। সে হবে কানা, আর তোমাদের রব্ব কানা নন। সে পৃথিবীতে চলাফেরা করবে। আকাশ ও যমীন তো আল্লাহরই। জেনে রাখ, তার ডান চোখ হবে ফুলে ওঠা আঙ্গুর সদৃশ।”
ইবনু খুযাইমাহ্ (৩২ পৃঃ)।
আমি বলি: এর সানাদ মুসলিমের শর্ত মোতাবেক। আল্লামা হায়সামী বলেন: ‘হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী এবং এর রিজাল সিক্বাত। তবে তাবারানীর শায়খ আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু নাফি’ ত্বাহানকে আমি চিনি না।’
আমি বলি: ইবনু খুযাইমাহ্ সানাদ তার থেকে নিরাপদ। সেজন্য হাফিয ইবনু কাসীর বলেছেন (১/১৩৮): ‘যাহাবী বলেন: এর সানাদ মজবুত।’

অনুচ্ছেদ-(৬): এ অংশটি প্রমাণিত হয়েছে নাওয়াস এবং জুবাইরের পুত্র নুফাইর বর্ণিত হাদীস দ্বারা। যা পূর্বের অনুচ্ছেদে গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(৭): এ অংশের সমর্থনে হাদীসসমূহ: প্রথম: আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( ألا أحدثكم حديثا عن الدجال ما حدث به نبي قومه ؟ إنه أعور وإنه يجيء معه بمثال الجنة والنار فالتي يقول : إنها الجنة . هي النار وإني أنذركم كما أنذر به نوح قومه )
“আমি কি তোমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে এমন হাদীস বর্ণনা করব যা (অন্যান্য) নাবী স্বীয় কওমের কাছে বর্ণনা করেননি? সে হবে কানা। সে নিজের সঙ্গে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ্য (বস্তু) নিয়ে আসবে। যেটাকে জান্নাত বলবে আসলে সেটা জাহান্নাম। আর আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি যেরূপ নূহ (আ) তার কওমকে সতর্ক করেছেন।"
বুখারী (৬/২৮৬), মুসলিম (৮/১৯৬), আদ-দানী 'আল-ফিতান' (ক্বাফ ১/১২৭) ও হাম্বাল (৪৯/১)। এবং ভিন্ন সানাদে তায়ালিসী (২/২১৮/২৭৭৯)।

দ্বিতীয়: 'আয়িশাহ্ হতে মারফুভাবে বর্ণিত। এ শব্দেঃ
( أما فتنة الدجال فإنه لم يكن نبي إلا قد حذر أمته وسأحذركموه تحذيرا لم يحذره نبي أمته : إنه أعور والله عز وجل ليس بأعور مكتوب بين عينيه : كافر يقرؤه كل مؤمن )
"এমন কোন নাবী নেই যিনি স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে সাবধান না করেছেন। আমি শীঘ্রই তোমাদেরকে তার ব্যাপারে এমন সতর্ক করব যেরূপ কোন নাবী তার উম্মাতকে সতর্ক করেননি। সে হবে কানা। আর মহান আল্লাহ তো কানা নন। তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে: কাফির। যা শিক্ষিত ও অশিক্ষিত প্রতিটি মু'মিন পাঠ করবে।"
আহমাদ (৬/১৩৯-১৪০), ইবনু মানদাহ (৯৭/২, ১৮০/১)।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ।

তৃতীয়: ইবনু 'উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( إنه لم يكن نبي قبلي إلا وصفه لأمته ولأصفنه صفة لم يصفها من كان قبلي : إنه أعور والله تبارك وتعالى ليس بأعور عينه اليمني كأنها عنبة طافية )
"আমার পূর্বের সকল নাবীগণই স্বীয় উম্মাতের কাছে দাজ্জালের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। আর আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে তার এমন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করব যা আমার পূর্বে কোন নাবী বর্ণনা করেননি। সে হবে কানা। আর বরকতময় আল্লাহ কানা নন। তার ডান চোখ জ্যোতিহীন, যেন আঙ্গুর সদৃশ, যা উপরের দিকে উঠানো।"
আহমাদ (২/২৭), এবং তার পুত্র 'আস-সুন্নাহ' (১৪০), ইবনু ইসহাক্ব হতে নাফি'র মাধ্যমে তার সূত্রে। তার মুতাবা'আত করেছেন জুওয়াইরিয়াহ, নাফি' হতে অনুরূপ এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন, এবং শাইখাইন ও অন্যরা তার থেকে ভিন্ন সানাদে। যা ইতোপূর্বে গত হয়েছে।

চতুর্থ: সাঈদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( لأصفن الدجال صفة لم يصفها من كان قبلي : إنه أعور والله عز و جل ليس بأعور )
"আমি অবশ্যই দাজ্জালের এমন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করব যা আমার পূর্বে কেউ বর্ণনা করেননি। সে হবে কানা। আর মহীয়ান আল্লাহ তো কানা নন।"
আহমাদ (১/১৭৬, ১৮২), তার পুত্র 'আস-সুন্নাহ' (১৩৭), আদ-দানী (১৩০/২) মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব হতে দাউদ ইবনু 'আমির ইবনু সা'দ ইবনু মালিক তার পিতা থেকে দাদার মাধ্যমে। এর রিজাল সিক্বাত, যদি না মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব মুদাল্লিস হতেন। তার সানাদে বর্ণনা করেছেন আবূ ইয়ালা, অনুরূপ বাযযার, যেমন রয়েছে মাজমাউয যাওয়ায়িদ (৭/৩৩৭)।

পঞ্চম: আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি নাবী (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেন:
( ألا كل نبي قد أنذر أمته الدجال وإنه يومه هذا قد أكل الطعام وإني عاهد عهدا لم يعهده نبي لأمته قبلي : ألا إن عينه اليمنى ممسوحة الحدقة جاحظة فلا تخفى كأنها نخاعة في جنب حائط وعينه اليسرى كأنها كوكب دري معه مثل الجنة ومثل النار فالنار روضة خضراء والجنة غبراء ذات دخان ... )
"জেনে রাখ, প্রত্যেক নাবী স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সাবধান করেছেন। সে আজকের এই দিনে খাবার খেয়েছে। আমি এমন এক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে প্রতিজ্ঞা আমার পূর্বের কোন নাবী তার উম্মাতকে দেননি। সাবধান! তার ডান চোখ হবে মিশানো, যা ফুলে উঠে থাকবে। বিষয়টি কারো কাছে গোপন থাকবে না। তা যেন দেয়ালের পার্শ্বে নিক্ষিপ্ত শ্লেষ্মা। তার বাম চোখ হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ বস্তু থাকবে। তার জাহান্নাম হবে প্রকৃত পক্ষে সবুজ বাগান। আর জান্নাত হবে ধুম্রময় নিকৃষ্ট স্থান।"
আমি বলি: কিন্তু তার মুতাবা'আত করেছেন মুজালিদ, আবুল ওয়াদাক হতে। তিনি বলেন, আমাকে আবূ সাঈদ বললেন: খারিজীরা কি দাজ্জাল বের হওয়াকে স্বীকৃতি দেয়? আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
: ( إني خاتم ألف نبي وأكثر ما بعث نبي يتبع إلا قد حذر أمته الدجال وإني قد بين لي من أمره ما لم يبين لأحد وإنه أعور وإن ربكم ليس بأعور وعينه اليمنى عوراء جاحظة ... ) الحديث إلى قوله : ( ذات دخان )
"আমি এক হাজার বা তার চেয়েও অধিক নাবীর মধ্যকার সর্বশেষ। অনুসরণের জন্য আল্লাহ যত নাবী পাঠিয়েছেন তারা স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আর আমাকে দাজ্জালের কার্যকলাপ সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা করা হয়েছে যা অন্য কাউকে করা হয়নি। সে হবে কানা। আর তোমাদের রব্ব কানা নন। তার ডান চোখ হবে কানা ও ফোলা। অতঃপর তার উক্তি: "ধুম্রময়” পর্যন্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।"
আহমাদ (৩/৭৯)।
আমি বলি: মুজালিদ শক্তিশালী নন। আর আবুল ওয়াদাক তার চেয়ে ভাল। সুতরাং দুই সূত্রের সার্বিক বিবেচনায় হাদীসটি হাসান। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
হাদীসটি আবুল ওয়াদাক হতে মুজালিদ ছাড়া অন্য বর্ণনাকারী ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন। যা সামনে আসছে।

ষষ্ঠ: জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ
( ما من نبي إلا قد حذر أمته الدجال ولأخبرنكم منه بشيء ما أخبر به أحد كان قبلي ) ثم وضع يده على عينيه فقال : ( أشهد أن الله عز و جل ليس بأعور )
"প্রত্যেক নাবীই স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতিপ্রদর্শন করেছেন। আমি অবশ্যই তার ব্যাপারে এমন কিছু সংবাদ দিব যে সংবাদ আমার পূর্বে যাঁরা ছিলেন তাঁরা দেননি।” অতঃপর তিনি তাঁর হাত চোখের উপর রেখে বলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ কানা নন।"
হাকিম (১/২৪), ইবনু মানদাহ 'আত-তাওহীদ (৮২/২), এবং তিনি বলেন: এ সানাদের বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ।
আমি বলি: এর সানাদ জাইয়্যিদ এবং রিজাল সিক্বাত। ইবনু মানদাহ এর সাথে ইবনু 'উমারের হাদীসকে যুক্ত করেছেন। যার বর্ণনাটি অনুরূপ এবং তাতে রয়েছে: ) وأشار بيده إلى عينيه ( - "তিনি স্বীয় হাত দ্বারা চোখের দিকে ইশারা করেছেন।"৩
এবং তার সূত্রে ভিন্ন সানাদে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( إنّي خاتم ألف نبي ... ) الحديث مثل الذي قبله دون قوله : ( وعينه اليمنى . ..) إلخ
"আমি হাজার নাবীর মধ্যে সর্বশেষ নাবী...।"-পূর্বেরটির অনুরূপ। তবে "তার ডান চোখ...।" অংশটুকু বাদে।
দেখুন মাওয়ারিদুয যামআন- (১৮৯৯)।
আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৪৫): 'এটি বর্ণনা করেছেন বাযযার। এতে মুজালিদ ইবনু সাঈদ রয়েছে। যাকে জমহুর যঈফ বলেছেন। তার তাওসীকও রয়েছে। হাফিয ইবনু কাসীর 'আন-নিহায়া' (১/১২৮) গ্রন্থে বলেন: এর সানাদ হাসান এবং শব্দাবলী খুবই বিরল।

অনুচ্ছেদ-(৮): এ অনুচ্ছেদের গ্রহণযোগ্য কোন সাক্ষ্য হাদীস আমি পাইনি। তবে সুলাইমান ইবনু শিহাব বর্ণনা করেছেন:
نزل علي عبد الله بن مغنم - وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه و سلم - فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال : ( الدجال ليس به خفاء إنه يجيء من قبل المشرق فيدعو لي فيتبع وينصب للناس فيقاتلهم ويظهر عليهم فلا يزال على ذلك حتى يقدم الكوفة فيظهر دين الله ويعمل به فيتبع ويجب على ذلك ثم يقول بعد ذلك : إني نبي . فيفزع من ذلك كل ذي لب ويفارقه فيمكث بعد ذلك حتى يقول : أنا الله . فتغشى عينه وتقطع أذنه ويكتب بين عينه : كافر ... ) الحديث
আমার কাছে 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগনিম আসলেন- তিনি ছিলেন নাবী (সাঃ)-এর অন্যতম সাহাবী। অতঃপর তিনি আমার কাছে নাবী (সাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃ) বলেছেন: "দাজ্জালের বিষয়টি গোপনীয় নয়। সে পূর্ব দিক থেকে আগমন করে নিজের দিকে আহবান জানাতে থাকবে। ফলে তার অনুসরণ করা হবে। সে মানুষের সাথে লড়াই করার জন্য দাঁড়িয়ে যাবে। তাদের সাথে লড়াই করে বিজয়ী হবে। এভাবেই তার যাত্রা অব্যাহত থাকবে। অবশেষে সে কৃফাতে আসবে এবং আল্লাহর দীনের উপর বিজয় লাভ করবে। এভাবেই তার অনুসরণ চলতে থাকবে এবং তার হুকুম কার্যকর থাকবে। অবশেষে সে নিজেকে নাবী দাবী করবে। তখন প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তি এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়বে এবং তাকে পরিত্যাগ করবে। এভাবেই চলতে থাকবে। অবশেষে সে বলবে আমিই আল্লাহ। তখন তার চোখ ঢেকে দেয়া হবে, কান কেটে ফেলা হবে এবং তার দুই চোখের মাঝে 'কাফির' লিখে দেয়া হবে...।"
আল্লামা হায়সামী বলেন: “হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী। এর সানাদে সাঈদ ইবনু মুহাম্মাদ ওয়ারাক্ব মাতরূক।"
আমি বলি: কিন্তু হাফিয 'আত-তাক্বরীব' গ্রন্থে বলেন: যঈফ। এজন্যই তিনি 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বলেছেন: 'এর সানাদ দুর্বল।' তিনি একে যঈফ বলে বাড়তি কিছু করেননি। প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এবং তার সূত্রে ইবনু আসাকির (১/২১৯-২১৮)।
অতঃপর এর একটি শক্তিশালী শাহিদ বর্ণনা পাওয়া গেছে আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত মারফু হাদীসে এ শব্দে: ( بين يدي الساعة قريب من ثلاثين دجالين كذابين كلهم يقول : أنا نبي أنا نبي ) "ক্বিয়ামাত পর্যন্ত প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আগমন ঘটবে, তাদের প্রত্যেকেই বলবে: আমি নাবী, আমি নাবী।"
আহমাদ (২/৪২৯) উক্ত শব্দে এবং শাইখাইন ও অন্যরা অনুরূপ। আহমাদের সানাদ সহীহ। এ অনুচ্ছেদের জন্য হাদীসটিকে প্রমাণ ও সাক্ষ্য বানানোর একটি দিক হলো, এর বাহ্যিকতা বলে দিচ্ছে মাসীহ দাজ্জাল তাদেরই (ঐ ত্রিশজনের) একজন, বরং তাদের মধ্যে সর্ব নিকৃষ্ট। এ দিকটি জোরদার করছে সামুরাহ বর্ণিত মারফু' হাদীস: ( والله لا تقوم الساعة حتى يخرج ثلاثون كذابا آخرهم الأعور الدجال .. ) "আল্লাহর শপথ! ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ত্রিশজন মিথ্যাবাদী বের হয়। তাদের সর্বশেষ জন হলো কানা দাজ্জাল...।" এর সানাদে কিছু দুর্বলতা আছে।

অনুচ্ছেদ- (৯): এ অনুচ্ছেদ কয়েকটি হাদীসে বর্ণিত আছে। তবে দাবী করার কথাটি বাদে।
প্রথম: 'উমার ইবনু সাবিত আল-আনসারী হতে বর্ণিত। তাকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কতিপয় সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) লোকদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করে বলেন:
(إنه مكتوب بين عينيه : كافر يقرؤه من كره عمله أو يقرؤه كل مؤمن ) وقال :
( تعلموا أنه لن يرى أحد منكم ربه عز و جل حتى يموت )
"তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে: কাফির। যারা তার কার্যকলাপ অপছন্দ করবে তারা তা পড়তে পারবে অথবা প্রত্যেক মু'মিন তা পাঠ করবে।” এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা জেনে রাখ, তোমাদের কেউই স্বীয় মহিয়ান রব্বকে মৃত্যুর পূর্বে দেখতে পাবে না।"
মুসলিম (৮/১৯৩), মুসান্নাফ 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮২০), তার থেকে তিরমিযী (২২৩৬) তিনি একে সহীহ বলেছেন, অনুরূপ আহমাদ (৫/৪৩৩), আদ-দানী (১২৯/১-২) এ কথাটি বাদে: "অথবা প্রত্যেক মু'মিন পাঠ করবে।"

দ্বিতীয়: 'উবাদাহ ইবনুস সামিত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
) إني قد حدثتكم عن الدجال حتى خشيت ألا تعقلوا : إن مسيح الدجال رجل قصير أفحج دعج مطموس العين ليست بناتئة ولا حجراء فإن التبس عليكم فاعلموا أن ربكم عز و جل ليس بأعور وأنكم لن تروا ربكم حتى تموتوا )
"আমি তোমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছি। এতদসত্ত্বেও আমার ভয় হয়, তোমরা তাকে চিনতে পারবে না। জেনে রাখ, মাসীহ দাজ্জাল হবে বেঁটে (খাটো), তার পদক্ষেপ হবে দীর্ঘ, মাথার চুল হকে কুঞ্চিত, আর সে হবে কানা। তার চোখ হবে সমতল, যা উপরে উঠে থাকবে এবং নীচে থাকবে না। এরপরও যদি তোমরা সন্দীহান হও, তবে জেনে রাখ, তোমাদের রব্ব কানা নন। আর তোমরা তোমাদের রব্বকে মৃত্যুর আগে দেখতে পাবে না।"
আবূ দাউদ (২/২১৩), আজরী আশ-শারী'আহ (৩৭৫ পৃঃ), আবূ নু'আইম 'হিলয়্যা' ৫/১৫৭, ২২১) ও ইবনু মানদাহ 'আত-তাওহীদ (১/৮৩)।
আমি বলি: এর সানাদ জাইয়্যিদ এবং রিজাল সিক্বাত। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৪৭): হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বাযযার, এবং এর সানাদে বাক্বিয়্যাহ মুদাল্লিস।
আমি বলি: তার হাদীস শ্রবণের বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে আবূ নু'আইমের নিকট তৃতীয় আরেকটি বর্ণনায়, যে দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এবং ইবনু মানদাহ, অনুরূপ আবূ দাউদ। তবে তাতে "তোমরা তোমাদের রব্বকে মৃত্যুর আগে দেখতে পাবে না।"- এ অংশটুকু নেই।

অনুচ্ছেদ-(১০): নাবী (সাঃ) থেকে এ অংশের মুতাওয়াতির বর্ণনা আছে। একদল সাহাবী সূত্রে আমি তা বর্ণনা করেছি। ইতোপূর্বে এর অধিকাংশ হাদীসের তাখরীজ গত হয়েছে। আমি সে দিকে ইশারা করাই যথেষ্ট মনে করছিঃ
প্রথম: 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর বর্ণিত হাদীস
দ্বিতীয়: আনাস ইবনু মালিক
তৃতীয়: 'আয়িশাহ
চতুর্থ: উম্মু সালামাহ
পঞ্চম: সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস
ষষ্ঠ: আবূ সাঈদ আল-খুদরী
সপ্তম: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ
অষ্টম: 'উবাদাহ ইবনুস সামিত
নবম: আসমা বিনতু ইয়াযীদ আল-আনসারিয়‍্যাহ, তার হাদীস আসবে।
দশম: নাবী (সাঃ) এর জনৈক সাহাবীর বর্ণনা, যা সামনে আসবে।
একাদশ: ইবনু 'আব্বাস (রা) হতে নাবী (সাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেন:
( الدجال : هو أعور هجان أشبه الناس بعبد العزى بن قطن فإما هلك الهلك فإن ربكم ليس بأعور )
"দাজ্জাল হবে কানা, খুঁতযুক্ত। দেখতে 'আবদুল উয্যা ইবনু কাতানের সদৃশ। অতঃপর যে ধবংস হওয়ার সে ধবংস হবে। জেনে রাখ, তোমাদের রব্ব কানা নন।"
ইবনু খুযাইমাহ 'আত-তাওহীদ' (৩১ পৃঃ), ইবনু হিব্বান (১৯০০), আহমাদ (১/২৪০, ২১৩), এবং তার পুত্র 'সুন্নাহ' (১৩৭ পৃঃ), ত্বাবারানী কাবীর (১১৭১১), হাম্বাল 'ফিতান' (৪৫/১), এবং ইবনু মানদাহ 'আত-তাওহী' (৮৩/১)।
আমি বলি: এর সানাদ মুসলিমের শর্তে সহীহ।

অনুচ্ছেদ-(১১): এ অংশটি একদল সাহাবী হতে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম: আনাস ইবনু মালিক
দ্বিতীয়: 'আয়িশাহ, তার হাদীস গত হয়েছে।
তৃতীয়: নাবী (সাঃ) এর কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণিত হাদীস
চতুর্থ: 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর বর্ণিত হাদীস
পঞ্চম: হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
ষষ্ঠ: জুবাইর পুত্র নুফাইর বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
সপ্তম: আবূ বাকরাহ আস-সাক্বাফী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( الدجال أعور عين الشمال بين عينيه مكتوب : كافر يقرؤه الأمي والكاتب )
"দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। উভয় চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে: কাফির। মূর্খ শিক্ষিত সবাই তা পাঠ করবে।"
আহমাদ (৫/৩৭)।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৩৭): এর রিজাল সিক্বাত।
অষ্টম: সাফীনাহ বর্ণিত হাদীস, যা সামনে আসবে।
নবম: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বর্ণিত হাদীস, যা সামনে আসবে।
দশম: আসমা বিনতু ইয়াযীদ আল-আনসারিয়‍্যাহ বর্ণিত হাদীস, যা সামনে আসবে।

অনুচ্ছেদ-(১২): এ অংশটিও নাবী (সাঃ) সূত্রে মুতাওয়াতিরভাবে এসেছে। এর হাদীসসমূহ বর্ণনাকারীর অধিকাংশই সাহাবী, তাদের হাদীসের দিকে এইমাত্র ইঙ্গিত করেছি।

অনুচ্ছেদ-(১৩): এ অংশটি একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম: হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
(الدجال أعور العين اليسرى جفال الشعر معه جنة ونار فناره جنة وجنته نار)
. زاد في رواية : ( فمن دخل نهره حط أجره ووجب وزره ومن دخل ناره وجب أجره وحط وزره )
"দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। ঘন কোকড়ানো চুল বিশিষ্ট হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম (সদৃশ বস্তু) থাকবে। তার জাহান্নাম হলো জান্নাত এবং জান্নাত হলো জাহান্নাম।" এবং তিনি তার বর্ণনায় বৃদ্ধি করেছেন: “যে ব্যক্তি তার নহরে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে তার সওয়াব বিনষ্ট হবে এবং পাপ সাব্যস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তার জাহান্নামে প্রবেশ করবে তার জন্য সওয়াব সাব্যস্ত হবে এবং পাপ মোচন হবে।"
মুসলিম (৮/১৯৫), ইবনু মাজাহ (২/৫০৬), আহমাদ (৫/৩৯৭)। এবং তার আরেক বর্ণনা (৫৪00) এর সানাদ হাসান। হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন। হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাউদ (৪২৪৪), এটি রয়েছে মিশকাত (হা/৫৩৯৬)।

দ্বিতীয়: নাবী (সাঃ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ
( أنذرتكم فتنة الدجال فليس من نبي إلا أنذره قومه أو أمته : وإنه آدم جعد أعور عينه اليسرى وإنه يمطر ولا ينبت الشجرة وإنه يسلط على نفس فيقتلها ثم يحييها ولا يسلط على غيرها وإنه معه جنة ونار ونهر وماء وجبل خبز وإن جنته نار وناره جنة وإنه يلبث فيكم أربعين صباحا يرد فيها كل منهل إلا أربع مساجد : مسجد الحرام ومسجد المدينة والطور ومسجد الأقصى وإن شكل عليكم أو شبه فإن الله عز و جل ليس بأعور )
"আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করছি। এমন কোন নাবী নেই যিনি স্বীয় কওম বা উম্মাতকে দাজ্জালের ভয় না দেখিয়েছেন। সে হবে কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। তার বাম চোখ হবে কানা। সে বৃষ্টি বর্ষাবে কিন্তু গাছ উৎপন্ন করতে পারবে না। সে এক ব্যক্তির উপর ক্ষমা প্রয়োগ করে হত্যা করার পর তাকে পুনরায় জীবিত করবে। কিন্তু এ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো উপর সে কতৃত্ব করতে পারবে না। তার সাথে থাকবে জান্নাত, জাহান্নাম, নহর, পানি এবং রুটির পাহাড়। তার জান্নাত হবে জাহান্নাম আর জাহান্নাম হবে জান্নাত। সে তোমাদের মাঝে চল্লিশ সকাল অবস্থান করবে। এ সময়ের মধ্যে সে প্রত্যেক ঘাটে পৌঁছবে। কিন্তু চারটি মাসজিদ ব্যতীত : মাসজিদুল হারাম, মাদীনাহ্ মাসজিদ, তুর এবং মাসজিদুল আক্বসা। যদি তাকে চিনতে তোমাদের অসুবিধা হয় বা তোমরা সন্দিহান হও (তবে জেনে রাখ) মহিয়ান আল্লাহ কানা নন।"
আহমাদ (৫/৪৩৪, ৪৩৫), এবং হাম্বাল (৫৪/২-৫৫/২)।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ। ইবনু মানদাহ এর প্রথমাংশ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন:
. ( فاعلموا أن الله عز و جل ليس بأعور ليس الله بأعور ليس الله بأعور )
"জেনে রাখ, নিশ্চয়ই মহিয়ান আল্লাহ কানা নন, আল্লাহ কানা নন, আল্লাহ কানা নন।"
এবং তিনি বলেন, এর সানাদ মাক্ববূল।

তৃতীয়: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( يخرج الدجال في خفة من الدين وإدبار من العلم فله أربعون ليلة يسيحها في الأرض اليوم منها كالسنة واليوم منها كالشهر واليوم منها كالجمعة ثم سائر أيامه كأيامكم هذه وله حمار يركبه عرض ما بين أذنيه أربعون ذراعا فيقول للناس : أنا ربكم . وهو أعور وإن ربكم ليس بأعور مكتوب بين عينيه : كافر – ك ف ر مهجاة يقرؤه كل مؤمن كاتب أو غير كاتب يرد كل ماء ومنهل إلا المدينة ومكة حرمهما الله عليه وقامت الملائكة بأبوابها ومعه جبال من خبز والناس في جهد إلا من تبعه ومعه نهران - أنا أعلم بهما منه - نهر يقول : الجنة ونهر يقول : النار فمن أدخل الذي يسميه الجنة فهو النار ومن أدخل الذي يسميه النار فهو الجنة ( قال ) : ويبعث الله معه شياطين تكلم الناس ومعه فتنة عظيمة يأمر السماء فتمطر فيما يرى الناس ويقتل نفسا ثم يحييها فيما يرى الناس لا يسلط على غيرها من الناس ويقول : أيها الناس هل يفعل مثل هذا إلا الرب عز و جل ؟ قال : فيفر المسلمون إلى جبل الدخان بالشام فيأتيهم فيحاصرهم فيشتد حصارهم ويجهدهم جهدا شديدا ثم ينزل عيسى ابن مريم فينادي من السحر فيقول : يا أيها الناس ما يمنعكم أن تخرجوا إلى الكذاب الخبيث ؟ فيقولون : هذا رجل جني . فينطلقون فإذا هم بعيسى ابن مريم صلى الله عليه وسلم فتقام الصلاة فيقال له : تقدم يا روح الله فيقول : ليتقدم إمامكم فليصل بكم . فإذا صلى صلاة الصبح خرجوا إليه قال : فحين يرى الكذاب ينماث كما يناث الملح في الماء فيمشي إليه فيقتله حتى إن الشجرة والحجر ينادي : يا روح الله هذا يهودي . فلا يترك من كان يتبعه أحدا إلا قتله )
"দাজ্জাল এমন সময়ে বের হবে যখন মানুষ ধর্মকে কিছুই মনে করবে না, ইল্ম থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। সে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াবে চল্লিশ রাত। তার একটি দিন হবে এক বছরের সমান, আরেক দিন হবে এক মাসের সমান, এবং আরেক দিন হবে এক জুমু'আহ্ সমান। অতঃপর অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের এই দিনের মতই হবে। তার একটি গাধা থাকবে, সে তার উপর আরোহণ করবে, সেটির দুই কানের মধ্যকার প্রশস্ত হবে চল্লিশ গজ। সে লোকদেরকে বলবে: আমি তোমাদের রব্ব। সে হবে কানা আর তোমাদের রব্ব কানা নন। তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে: কাফির। তিনি (সাঃ) এক একটি অক্ষর উচ্চারণ করে বলেন: কাফ-ফা-রা। তা অক্ষর নিরক্ষর প্রতিটি মু'মিন পড়তে পারবে। সে জলাধারে এবং ঘাটে যাবে কিন্তু মাদীনাহ্ ও মাক্কাহতে প্রবেশ করতে পারবে না। উভয়ের প্রবেশদ্বারে ফিরিশতাগণ নিযুক্ত থাকবেন। দাজ্জালের সাথে থাকবে রুটির পাহাড়। তখন লোকেরা খুবই কষ্টে থাকবে। তবে তারা ব্যতীত যারা তার অনুসরণ করবে। তার সাথে থাকবে দুটি নদী। আমি সেই নদীদ্বয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। সে একটি নদীকে বলবে জান্নাত আর অপরটিকে বলবে জাহান্নাম। যাকে সে তার জান্নাত নামক স্থানে প্রবেশ করাবে আসলে তা জাহান্নাম আর যাকে সে তার জাহান্নাম নামক স্থানে প্রবেশ করাবে আসলে তা জান্নাত। তার সাথে আল্লাহ শয়তানদের পাঠাবেন। যারা মানুষের সাথে কথা বলবে। তার একটি বড় ফিতনা এই যে, সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণের হুকুম করবে ফলে আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং লোকেরা তা প্রত্যক্ষ করবে। সে একজনকে হত্যা করার পর জীবিত করবে, যা লোকেরা প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তু ঐ লোকটি ছাড়া অন্য কাউকে অনুরূপ করার ক্ষমতা (আল্লাহ) তাকে দিবেন না। সে বলবে: হে লোক সকল! মহিয়ান রব্ব ব্যতীত কেউ কি এরূপ করতে পারে? (তিনি বলেন), অতঃপর লোকেরা শামের জাবালে দুখানের দিকে পালাবে। সে সেখানে এসে তাদেরকে খুব কঠোরভাবে ঘিরে রাখবে তাদেরকে খুবই কঠিন কষ্টে ফেলবে। অতঃপর ভোর বেলায় ঈসা (আ) অবতরণ করে এই বলে আহবান করবেন: হে লোক সকল! তোমাদেরকে কিসে বাধা দিলো মিথ্যাবাদী খবীসের দিকে বের হতে? তারা বলবে: এই লোকটি তো জীন। অতঃপর তারা চলে যাবে। তারা ঈসা (আ) এর সাথে থাকাবস্থায় সলাতের ইক্বামাত দেয়া হবে। তখন বলা হবে: অগ্রসর হোন হে রুহুল্লাহ! তিনি বলবেন: তোমাদের ইমামকে এগিয়ে দাও যেন তিনি তোমাদেরকে নিয়ে সলাত আদায় করেন। অতঃপর ফাজ়ের সলাত আদায় শেষে তারা দাজ্জালের দিকে রওয়ানা হবেন। তিনি বলেন: দাজ্জাল তাঁকে দেখামাত্র বিগলিত হয়ে যাবে যেমন লবন পানিতে বিগলিত হয়। অতঃপর তিনি তার দিকে অগ্রসর হয়ে তাকে হত্যা করবেন। এমনকি গাছ ও পাথর এই বলে আহবান করবে: হে রুহুল্লাহ! এইতো ইয়াহুদী। তিনি দাজ্জালের কোন অনুসারীকেই হত্যা না করে ছাড়বেন না।"
আহমাদ (৩/৩৬৭-৩৬৮) হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব: ইবরাহীম ইবনু ত্বাহমান, আবুয যুবাইর হতে জাবির সূত্রে। এবং ইবনু খুযাইমাহ 'আতা-তাওহীদ' (পৃঃ ৩১-৩২), হাকিম (৪/৫৩০) দুটি ভিন্ন সানাদে ইবরাহীম হতে সংক্ষেপে।
আমি বলি: এই সানাদের রিজাল সিক্বাত। সহীহ রিজাল। তবে আবুয যুবাইর মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এ সত্ত্বেও হাকিম বলেছেন: সানাদ সহীহ এবং যাহাবী একমত পোষণ করেছেন!

চতুর্থ: রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম সাফীনাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দিলেন এবং বললেনঃ
( إلا إنه لم يكن نبي قبلي إلا قد حذر الدجال أمته : هو أعور عينه اليسرى بعينه اليمنى ظفرة غليظة مكتوب بين عينيه : كافر يخرج معه واديان : أحدهما جنة والآخر نار فناره جنة وجنته نار ... ثم يسير حتى يأتي الشام فيهلكه الله عز و جل عند عقبة أفيق )
"আমার পূর্বে এমন কোন নাবী বাদ যাননি যিনি স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সর্তক না করেছেন। তার বাম চোখ হবে কানা। আর ডান চোখ (এমনভাবে মিশানো থাকবে যে, তার উপর) মোটা চামড়ায় ঢাকা হবে। তার দুই চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে: কাফির। তার সাথে দুটি উপত্যকা (বা নদী) থাকবে একটি জান্নাত এবং অপরটি জাহান্নাম। তার জাহান্নাম হবে জান্নাত আর জান্নাত হবে জাহান্নাম, ...অতঃপর সে ভ্রমণ করবে এমনকি সিরিয়ায় এসে উপস্থিত হবে। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে ধবংস করবেন 'আক্বাবায়ে আফীক্বের নিকটে।”
আহমাদ (৫/২২১-২২২), হাম্বাল 'ফিতান' (৪৯/১), ইবনু আসাকির ((১/৬১৭)।
আমি বলি: এর সানাদ হাসান, শাওয়াহিদ দ্বারা। ইবনু কাসীর বলেন : এর সানাদে কোন সমস্যা নেই- (নিহায়া ১/১২৪)।

পঞ্চম: আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস, এর শব্দাবলী পূর্বে গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(১৪): এ অংশটি দুটি হাদীসে এসেছে ইস্তিগাসা বাদে।
প্রথম: নাওয়াস ইবনু সাম'আন বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
দ্বিতীয়: জুবাইর পুত্র নুফাইর বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(১৫): এ অংশের সাক্ষ্য হাদীস আমি পাইনি। তা প্রমাণিত হলে তাতে এটা স্পষ্ট হতো যে, দাজ্জালের জাহান্নাম বা আগুন প্রকৃত আগুন, এটা তার কোন ধোঁকা নয়। তার উপর আল্লাহর লা'নাত।
হ্যাঁ, আদ-দানী 'ফিতান' গ্রন্থে (১৩৪/২) আসবাগ ইবনু নাবাতাহ হতে 'আলীর মাওকুফ হাদীস বর্ণনা করেছেন :
( فمن ابتلي بناره فليقرأ آخر سورة ( الكهف ) تصير عليه النار بردا وسلاما . . وأشياعه يومئذ أصحاب الربا - العشرة باثني عشرة - وأولاد الزنا )
"যে ব্যক্তি তার আগুনের দ্বারা পরিক্ষিত হবে সে যেন সূরাহ কাহাফের শেষের দিক পাঠ করে। এতে তার উপর আগুন ঠাণ্ডা ও শান্তিদায়ক হয়ে যাবে।... সেদিন তার সহযোগী হবে সুদখোর ও জারজ সন্তানেরা।"
কিন্তু এখানে আসবাগ মাতরূক। তার দুর্বলতা কঠিন। সুতরাং তার দ্বারা সাক্ষ্য গ্রহণ সঠিক হবে না।

অনুচ্ছেদ-(১৬): আসমা বিনতু ইয়াযীদ আনসারিয়‍্যাহ বর্ণিত হাদীস। যা তার সূত্রে শাহর ইবনু হাওশাব বর্ণনা করেছেন। তিনি (আসমা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার কাছে আসলেন। তার একদল সাহাবীদের মাঝে দাজ্জালের কথা আলোচনা হলে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন:
( إن قبل خروجه ثلاث سنين تمسك السماء السنة الأولى ثلث قطرها والأرض ثلث نباتها والسنة الثانية تمسك السماء ثلثي قطرها والأرض ثلثي نباتها والسنة الثالثة تمسك السماء ما فيها والأرض ما فيها حتى يهلك كل ذي ضرس وظلف وإن من أشد فتنة أن يقول للأعرابي : أرأيت إن أحييت لك إبلك عظيمة ضروعها طويلة أسنمتها تجتر تعلم أني ربك ؟ قال : فيقول : نعم . قال : فيتمثل له الشياطين [ على صورة إبله فيتبعه ] قال : ويقول للرجل : أرأيت إن أحييت لك أباك وأخاك وأمك أتعلم أني ربك ؟ قال : فيقول : نعم . قال : فيتمثل له الشياطين [ على صورهم فيتبعه ] قال : ثم خرج رسول الله صلى الله عليه و سلم لحاجته فوضعت له وضوءا فانتحب القوم حتى ارتفعت أصواتهم فأخذ رسول الله صلى الله عليه و سلم بلحمتي ( وفي رواية : عضادتي ( الباب فقال : ( مهيم ؟ ) . [ وكانت كلمة من رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا سأل عن أمر يقول : ( مهيم ) قالت أسماء : ] فقلت : يا رسول الله خلعت قلوبهم بالدجال . فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( [ ليس عليكم بأس ] إن يخرج وأنا فيكم فأنا حجيجه وإن مت فالله خليفتي على كل مؤمن ) [ قالت : قلت : أمعنا يومئذ قلوبنا هذه يا رسول الله ؟ قال : ( نعم أو خير إنه توفى إليه ثمرات الأرضين وأطعمتها ( قالت : والله إن أهلي ليختمرون خميرتهم فما يدرك حتى أخشى أن أفتن من الجوع ] وما يجزي المؤمنين يومئذ ؟ قال : ( يجزيهم ما يجزي أهل السماء ) [ قالت : يا نبي الله ولقد علمنا أن لا تأكل الملائكة ولا تشرب قال : ( ولكنهم يسبحون ويقدسون وهو طعام المؤمنين يومئذ وشرابهم التسبيح والتقديس [ فمن حضر مجلسي وسمع قولي فليبلغ الشاهد الغائب واعلموا أن الله صحيح ليس بأعور وأن الدجال أعور ممسوح العين بين عينيه مكتوب : كافر فيقرؤه كل مؤمن كاتب أو غير كاتب ] )
“দাজ্জাল বের হওয়ার তিন বছর পূর্বে আকাশ (বৃষ্টি) আটকে রাখবে। প্রথম বছরে এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বন্ধ রাখবে এবং যমীন এক তৃতীংশ ফসল উৎপন্ন বন্ধ রাখবে। দ্বিতীয় বছর আকাশ দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ রাখবে এবং যমীন দুই তৃতীংশ ফসল উৎপন্ন বন্ধ রাখবে। তৃতীয় বছরে আকাশ সম্পূর্ণ বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ রাখবে এবং যমীন কোন ফসল উৎপন্ন করবে না। এমনকি প্রত্যেক দাঁত ও খুর বিশিষ্ট প্রাণী ধবংস হয়ে যাবে। তার বড় ফিতনার একটি হলো, সে এক বেদুইনকে বলবে: তোমার কি অভিমত, আমি যদি তোমার (মৃত) উটকে বড় স্তন ও লম্বা কুঁজ বিশিষ্ট করে যা দুলতে থাকবে তোমার জন্য জীবিত করে দেই তাহলে কি তুমি আমাকে রব্ব বলে জানবে? তখন লোকটি বলবেঃ হ্যা। অতঃপর শয়তান তার জন্য ঐ উটের আকৃতি ধারণ করবে, ফলে সে তার অনুসারী হবে। তিনি বলেন: এবং দাজ্জাল অপর ব্যক্তিকে বলবে: তোমার কি ধারণা, আমি যদি তোমার জন্য তোমার (মৃত) পিতা, ভাই ও মাতাকে জীবিত করে দেই তাহলে তুমি কি আমাকে রব্ব বলে জানবে? লোকটি বলবে, হ্যাঁ। তিনি বলেন: অতঃপর শয়তান তার জন্য তাদের রূপ ধারণ করবে, ফলে লোকটি তার অনুসারী হবে। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার প্রয়োজনে বের হলেন। তাঁর জন্য উযুর পানি রাখা হলো। এমন সময় কওমের লোকেরা কাঁদতে লাগলো এমনকি তাদের কান্নার আওয়াজ উঁচু হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দরজার চৌকাঠ ধরে বললেন: 'মাহইয়াম' (কি ব্যাপার)? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোন বিষয় জানতে চাইলে তখন এই 'মাহইয়াম' শব্দটি বলতেন। আসমা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! দাজ্জালের চিন্তায় তাদের অন্তর বিভোর। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। আমি তোমাদের মাঝে বর্তমান থাকাবস্থায় যদি সে বের হয় তাহলে আমি তাকে দোষারোপ করবো। আর যদি আমি মৃত্যু বরণ করি তাহলে আল্লাহ প্রত্যেক মু'মিনের উপর আমার খলীফাহ স্বরূপ হবেন (অর্থাৎ তিনি তাদেরকে দাজ্জাল থেকে রক্ষা করবেন)। আসমা বলেন: আমি বললাম, আমাদের মনের অবস্থায় সেদিন কি এরূপ থাকবে হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: হ্যাঁ, অথবা ভাল থাকবে। তার নিকট পৃথিবীর সকল ধরনের ফল ও খাদ্য প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাবে। আসমা বলেন, আল্লাহর শপথ! আমার পরিবারবর্গ তাদের খামীর বানাতে থাকবে কিন্তু উপযুক্ত হবার আগেই আমরা ক্ষুধার ফিতনায় পড়ার আশংকা করছি। সেদিন মু'মিনরা কি (খাদ্য) দ্বারা প্রয়োজনমুক্ত করবে? তিনি বললেন: তারা প্রয়োজনমুক্ত করবে (ক্ষুধা নিবারণ করবে) যেভাবে আকাশের বাসিন্দারা নিবারণ করে থাকেন। আসমা বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জানি যে, ফিরিশতারা খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করেন না। তিনি বললেন: বরং তারা তাসবীহ ও তাক্বদীস পাঠ করতে থাকেন। আর এটাই (তাসবীহ ও তাক্বসীদ) হবে সেদিন মু'মিনদের খাদ্য-পানীয়। সুতরাং যারা আমার মাজলিসে উপস্থিত হয়েছে এবং আমার কথা শুনেছে, প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে (কথাগুলো) পৌঁছে দেয়। জেনে রাখ, আল্লাহ দোষমুক্ত, তিনি কানা নন। আর দাজ্জাল হবে কানা। তার চোখ থাকবে মিশানো। দুই চোখের মাঝে লেখা থাকবে: কাফির। প্রত্যেক অক্ষর ও নিরক্ষর মু'মিন তা পাঠ করবে।"
'আবদুর রাযযাক্ব স্বীয় 'মুসান্নাফ' (১১/৩৯১/২০৮২১), তায়ালিসি (২/২১৭/২৭৭৫), আহমাদ (৬/৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৫), হাম্বাল ইবনু ইসহাক্ব আশ-শাইবানী 'ফিতান' (ক্বাফ ৪৫/১-২, ৪৬/১), ইবনু আসাকির 'তারীখ' (১/৬১৬-৬১৭), 'আবদুল্লাহ 'সুন্নাহ (১৪১), অনুরূপ আবূ 'আমর আদ-দানী 'ফিতান' (১২৬/১) শেষের অংশটুকু একাধিক সানাদে শাহ্ সূত্রে।
ইবনু কাসীর বলেন (১-১৩৫): এই সানাদে কোন সমস্যা নেই।
এছাড়া আহমাদ (৬/৪৫৪), হাম্বাল (৫৪/১-২), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮২২) ইবনু খুসাইম হতে শাহ্ থেকে মারফুভাবে এই শব্দেঃ
( يمكث الدجال في الأرض أربعين سنة السنة كالشهر والشهر كالجمعة والجمعة كاليوم واليوم كاضطرام السعفة في النار )
"দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবে। যার এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস হবে এক সপ্তাহের সমান এবং এক সপ্তাহ হবে এক দিনের সমান, আর একদিনের পরিমাণ হবে আগুনের তাপে ফোসকা পড়ার মত সময়।"
আল্লামা হায়সামী (৭/৩৪৭) বলেন: এটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবারানী। এর সানাদে হাওশাব রয়েছে। সহীহ হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে তার বৈপরিত্য গ্রহণযোগ্য নয়। সহীহ হাদীসে রয়েছে: দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ দিন অবস্থান করবে। অথচ এই হাদীসে রয়েছে চল্লিশ বছর। এছাড়া অবশিষ্ট রিজাল সিক্বাত।

দ্বিতীয়: জাবির বর্ণিত হাদীস, যা পূর্বে গত হয়েছে। তাতে রয়েছে:
( ويبعث الله معه شياطين تكلم الناس )
"আল্লাহ তার সাথে শয়তানদের পাঠাবেন যারা মানুষের সাথে কথা বলবে।"

অনুচ্ছেদ-(১৭): এ অংশের সমর্থনে কয়েকটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি আমাদেরকে যা কিছু বর্ণনা করে শুনিয়েছেন, তন্মধ্যে ছিল: তিনি বলেছেন:
( يأتي الدجال وهو محرم عليه أن يدخل نقاب المدينة فيخرج إليه رجل [ يمتلئ شبابا ] يومئذ [ من المؤمنين ] هو خير الناس أو من خيرهم فيقول : أشهد أنك الدجال الذي حدثنا رسول الله صلى الله عليه و سلم حديثه . فيقول الدجال : أرأيتم إن قتلت هذا ثم أحييته أتشكون في الأمر ؟ فيقولون : لا . فيقتله ثم يحييه فيقول حين يحيى : والله ما كنت قط أشد بصيرة فيك مني الآن قال : فيريد قتله الثانية فلا يسلط عليه )
"দাজ্জাল মাদীনার দিকে অগ্রসর হবে। অথচ মাদীনার গলিতে প্রবেশ করা তার উপর হারাম ও নিষিদ্ধ। অতঃপর মাদীনাহর নিকটবর্তী কোন এক রাস্তায় পৌঁছলে এ দিনই মাদীনাহ্ থেকে (যৌবনে পরিপূর্ণ) এক মহান ব্যক্তি যিনি শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অথবা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্যতম তার দিকে এগিয়ে আসবেন। এসে তাকে বলবেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তুমি দাজ্জাল, যার বিবরণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে বর্ণনা করে শুনিয়েছেন। তখন দাজ্জাল (উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে) বলবে: আচ্ছা! তোমরা বল, আমি যদি এ ব্যক্তিকে হত্যা করে জীবিত করতে পারি, তবে কি তোমরা আমার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করবে? উপস্থিত সাধারণ লোকেরা বলবে, না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে ঐ যুবককে হত্যা করে জীবিত করবে। তাকে জীবিত করার পর ঐ মহান ব্যক্তি বলবেন: আল্লাহর শপথ! আমি ইতোপূর্বে তোমার সম্পর্কে এমন সম্যক ধারণা লাভ করতে পারিনি যা আজ এ মূহুর্তে লাভ করলাম (অর্থাৎ তুমি যে সত্যিই দাজ্জাল তা এখন পরিষ্কার বুঝতে পারলাম)। তখন দাজ্জাল তাকে দ্বিতীয়বার হত্যা করতে মনস্থ করবে কিন্তু সে কিছুতেই তার উপর জয়ী হতে পারবে না।"
'আবদুর রাযযাক্ব বর্ণনা করেছেন (২০৮২৪): আমাদেরকে মা'মার সংবাদ দিয়েছেন যুহরী হতে, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন 'উবাইদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উত্বাহ, আবু সাঈদ আল-খুদরী বলেছেন: অতঃপর হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং তিনি বৃদ্ধি করেন:
( قال معمر : وبلغني أنه يجعل على حلقه صفيحة من نحاس . وبلغني أنه الخضر الذي يقتله الدجال ثم يحييه )
"মা'মার বলেন, আমার নিকট পৌঁছেছে যে, দাজ্জাল তাঁর গলায় তামার পাত জড়ানোর চেষ্টা করবে। এবং আমার নিকট পৌঁছেছে যে, দাজ্জাল যাকে হত্যা করার পর পুনরায় জীবিত করবে তিনি হলেন খিযির।"
আহমাদ (৩/৩৬) 'আবদুর রাযযাক্ব হতে মা'মার এর উল্লিখিত কথাটি বাদে।
এবং বুখারী (১৩/৮৬-৮৮), মুসলিম (৮/১৯৯), ইবনু মানদাহ (১/৯৫) ভিন্ন সানাদে যুহরী হতে। মুসলিম বৃদ্ধি করেছেন:
( قال أبو إسحاق : يقال : إن هذا الرجل هو الخضر عليه السلام )
"আবূ ইসহাক্ব বলেন: বলা হয়, এই লোকটি হলো খিযির (আ)।”
আমি বলি: এই আবূ ইসহাক্ব হলেন, ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুফিয়ান আয-যাহিদ। ইনি সহীহ মুসলিমের রাবী। যেমন বিষয়টি দৃঢ় করেছেন হাফিয (১৩/৮৮-৮৯) 'আয়ায, নাববী ও অন্যদেরকে অনুসরণ করে।
আমি বলি: ইতোপূর্বে উল্লেখ হয়েছে যে, মা'মারের নিকট এ বিষয়ে সংবাদ পৌঁছেছে। কিন্তু এ সংবাদ পৌঁছানোর কোন দলীল নেই। কেননা তাকে কে সংবাদ দিয়েছে তা জানা যায়নি। যদি জানাও যায়, তবুও বর্ণনাটি হবে মাক্বতু'। আর খিযির তো নাবী (সাঃ) এর আগেই মারা গেছেন। তিনি নাবী (সাঃ)-কে পাননি। মুহাক্বিক্বগণের নিকট এটাই প্রাধাণ্যযোগ্য কথা। এজন্যই ইবনুল 'আরাবী বলেছন: "আমি শুনলাম যে, কেউ নাকি বলেছে: দাজ্জালকে যিনি হত্যা করবেন তিনি হলেন খিযির। এই দাবীর কোন দলীল প্রমাণ নেই।"

দ্বিতীয়: নাবী (সাঃ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত, যা গত হয়েছে। তাতে রয়েছে: (وإنه يسلط على نفس فيقتلها ثم يحييها ولا يسلط على غيرها) "দাজ্জাল এক ব্যক্তির উপর ক্ষমা প্রয়োগ করে হত্যা করার পর তাকে পুনরায় জীবিত করবে। দাজ্জাল এ লোকটি ছাড়া অন্য কারো উপর কর্তৃত্ব খাটাতে পারবে না।"

তৃতীয়: নাওয়াস ইবনু সামআন বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে। তাতে রয়েছে: (ثم يدعو رجلا ممتلئا شبابا فيضربه بالسيف فيقطعه جزلتين رمية الغرض ثم يدعوه فيقبل ويتهلل وجهه يضحك ) "অতঃপর দাজ্জাল যৌবনে পরিপূর্ণ এক যুবককে ডাক দিবে এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে জোরে আঘাত করবে এবং তাকে দুই টুকরো করে ফেলবে। প্রত্যেকটি টুকরো দুই ধনুকের ব্যবধানে চলে যাবে। অতঃপর তাকে ডাকবে। ডাকা মাত্র সে জীবিত হয়ে তার কাছে আসবে। তখন তার চেহারা হবে উজ্জ্বল, চমকপ্রদ ও হাস্যময়।

চতুর্থ : 'আবদুল্লাহ ইবনু মুগনিম বর্ণিত হাদীস, এর প্রথমাংশ গত হয়েছে। পুরো হাদীসটি হলো :
( ثم يدعو برجل - فيما يرون - فيؤمر به فيقتل ثم يقطع أعضاءه كل عضو على حدة فيفرق بينها حتى يراه الناس ثم يجمع بينها ثم يضرب بعصاه فإذا هو قائم فيقول : أنا الله أحبي وأميت . وذلك كله سحر يسحر به أعين الناس ليس يعمل من ذلك شيئا )
"অতঃপর (দাজ্জাল) এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে হত্যা করবে। অতঃপর তার প্রতিটি অঙ্গ আলাদা আলাদাভাবে টুকরো করে তা পৃথক করে রাখা হবে। এমনকি লোকজন তা দেখবে। অতঃপর টুকরোগুলো একত্র করে তাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা মাত্র তা দাঁড়িয়ে যাবে। তখন দাজ্জাল বলবে, আমিই আল্লাহ, আমি জীবিত করতে পারি, মৃত্যু দিতে পারি। আসলে এ সবই যাদু, যা দ্বারা সে লোকদের চোখকে যাদুগ্রস্থ করবে। সে এসবের কিছুই করবে না।"
আমি বলি: এর সানাদ দুর্বল, এবং এ শব্দে বর্ণনাটি মুনকার। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।

পঞ্চম : 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর হতে বর্ণিত। যা পরবর্তী অনুচ্ছেদে আসবে।

অনুচ্ছেদ-(১৮) : এর দুটি হাদীস রয়েছে :
প্রথম : আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন :
( يخرج الدجال فيتوجه قبله رجل من المؤمنين فتلقاه المسالح - مسالح الدجال - فيقولون له : أين تعمد ؟ فيقول : أعمد إلى هذا الذي خرج . قال : فيقولون له : أو ما تؤمن بربنا ؟ فيقول : ما بربنا خفاء . فيقولون : اقتلوه . فيقول بعضهم لبعض : أليس قد نهاكم ربكم أن تقتلوا أحدا دونه ؟ قال : فينطلقون به إلى الدجال فإذا رآه المؤمن قال : يا أيها الناس هذا الدجال الذي ذكر رسول الله صلى الله عليه و سلم .
قال : فيأمر الذجال به فيشبح فيقول : خذوه وشبحوه . فيوسع ظهره وبطنه ضربا قال : فيقول : أو ما تؤمن بي ؟ قال : فيقول : أنت المسيح الكذاب . قال : فيؤمر به فيؤشر بالمنشار من مفرقه حتى يفرق بين رجليه قال : ثم يمشي الدجال بين القطعتين ثم يقول له : قم . فيستوي قائما قال : ثم يقول له : أتؤمن بي ؟ فيقول : ما ازددت فيك إلا بصيرة . قال : ثم يقول : يا أيها الناس إنه لا يفعل بعدي بأحد من الناس . قال : فيأخذه الدجال ليذبحه فيجعل ما بين رقبته إلى ترقوته نحاسا فلا يستطيع إليه سبيلا قال : فيأخذ بيديه ورجليه فيقذف به فيحسب الناس أنها قذفه إلى النار وإنما ألقي في الجنة ) . فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( هذا أعظم الناس شهادة عند رب العالمين )
"দাজ্জাল বের হলে একজন (বিশিষ্ট) ঈমানদার ব্যক্তি তার দিকে রওয়ানা হবে। সংবাদ পেয়ে দাজ্জালের পক্ষ থেকে তার অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হবে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছো? তিনি বলবেন, ঐ ব্যক্তির কাছে যে আবির্ভূত হয়েছে। তখন তারা বলবে, তুমি কি প্রভূর প্রতি ঈমান আনবে না? তিনি বলবেন, আমাদের প্রভূর ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এরপর তারা পরস্পরে বলবে, একে হত্যা কর। তারপর একে অপরকে বলবে, তোমাদের প্রভূ নিষেধ করেছেন যে, তোমরা তাকে না দেখিয়ে কাউকে হত্যা করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা তাঁকে দাজ্জালের নিকট নিয়ে যাবে। যখন ঈমানদার ব্যক্তি দাজ্জালকে দেখতে পাবেন তখন বলবেন, হে জনগণ! এই তো সেই দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আলোচনা করেছেন। এরপর দাজ্জালের নির্দেশে তাঁর চেহারা ক্ষতবিক্ষত করা হবে। বলা হবে, একে ধরে চেহারা ক্ষতবিক্ষত করে দাও। অতঃপর তাঁর পেট ও পিঠকে পিটিয়ে বিছিয়ে ফেলা হবে। তারপর দাজ্জাল জিজ্ঞেস করবে, আমার প্রতি ঈমান আনবে না? তিনি বলবেন, তুমি তো মিথ্যাবাদী মাসীহ দাজ্জাল। এ কথা শুনে তাকে কুড়াল দিয়ে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলার জন্য আদেশ করা হবে। তার আদেশে প্রথমে তাকে দুই পা আলগা করে খণ্ড করা হবে। অতঃপর দাজ্জাল খণ্ডিত টুকরাদ্বয়ের মাঝখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে বলবে, উঠো! তখনই তিনি উঠে দাঁড়াবেন। তারপর আবার দাজ্জাল তাকে জিজ্ঞেস করবে, এবার আমার প্রতি ঈমান আনবে কি? তখন তিনি বলবেন, আমি তো তোমার সম্পর্কে আরো অধিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। অতঃপর তিনি উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে লোক সকল! মনে রেখ, দাজ্জাল আমার পরে আর কোন মানুষের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দাজ্জাল তাঁকে জবাই করার জন্য ধরবে এবং গলা ও ঘারে তামা জড়িয়ে দিতে চেষ্টা করবে। কিন্তু এ পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হবে না। অতঃপর তাঁর হাত পা ধরে তাঁকে নিক্ষেপ করবে। মানুষ ধারণা করবে বুঝি আগুনে ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "আল্লাহ রব্বুল 'আলামীনের নিকট এই ব্যক্তি বড় শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবেন।"
মুসলিম (৮/২০০), ইবনু মানদাহ (৯৫/১) ক্বাইস ইবনু ওয়াহাব হতে, তিনি আবুল ওয়াদাক হতে তার সূত্রে। এবং হাকিম ও অন্যরা 'আত্মিয়‍্যাহ হতে তার সূত্রে অনুরূপ। যা গত হয়েছে।

দ্বিতীয়: 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর হতে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (সাঃ) দাজ্জাল সম্পর্কে বলেন:
( ما شبه عليكم منه فإن الله ليس بأعور يخرج فيكون في الأرض أربعين صباحا يرد منها كل منهل إلا الكعبة وبيت المقدس والمدينة الشهر كالجمعة والجمعة كاليوم ومعه جنة ونار فناره جنة وجنته نار معه جبل من خبز ونهر من ماء يدعو رجلا فلا يسلطه الله إلا عليه فيقول : ما تقول في ؟ فيقول : أنت عدو الله وأنت الدجال الكذاب . فيدعو بمنشار فيضعه حذو رأسه فيشقه حتى يقع على الأرض ثم يحييه فيقول : ما تقول ؟ فيقول : والله ما كنت أشد بصيرة مني فيك الآن أنت عدو الله الدجال الذي أخبرنا عنك رسول الله صلى الله عليه وسلم . قال : فيهوي إليه بسيفه فلا يستطيعه فيقول : أخروه عني )
"দাজ্জাল সম্পর্কে তোমরা সন্দিহান হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কানা নন। দাজ্জাল বের হয়ে পৃথিবীতে চল্লিশ সকাল অবস্থান করবে। সে পৃথিবীর প্রত্যেক জলাধারে পৌঁছবে কিন্তু কা'বা, বাইতুল মাকদিস ও মাদীনাহয় ঢুকতে পারবে না। তখনকার এক মাস হবে এক সপ্তাহের সমান, এক সপ্তাহ হবে এক দিনের সমান। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম হবে জান্নাত আর জান্নাত হবে জাহান্নাম। তার সাথে রুটির পাহাড় ও পানির নহর থাকবে। সে এক ব্যক্তিকে ডাকবে- আল্লাহ তাকে এ ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারোর উপর কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষমতা দিবেন না। সে বলবে: আমার সম্পর্কে তোমার বক্তব্য কি? লোকটি বলবে: তুই আল্লাহর দুশমন, তুই মিথ্যাবাদী দাজ্জাল। অতঃপর সে করাত আনিয়ে তা তার মাথার সামনে রেখে মাথা কেটে ফেলবে এমনকি তা যমীনের উপর পড়ে যাবে। অতঃপর সে লোকটিকে জীবিত করবে এবং বলবে: এখন আমার সম্পর্কে তুমি কি বলো? লোকটি বলবে: আল্লাহর শপথ! আমি ইতোপূর্বে তোমার সম্পর্কে এমন সম্যক ধারণা লাভ করতে পারিনি যা আজ এই মুহুর্তে লাভ করলাম (অর্থাৎ তুই দাজ্জাল, তা এখন আমি আগের চেয়েও অধিক নিশ্চিত হলাম)। তুই আল্লাহর দুশমন দাজ্জাল। তোর সম্পর্কে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সংবাদ দিয়েছেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে তার তরবারি নিয়ে তার দিকে অগ্রসর হবে কিন্তু তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। ফলে সে বলবে: তাকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নাও।"
আল্লামা হায়সামী (৭/৩৫০) বলেন: 'হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবারানী, এর সানাদে এমন ব্যক্তি রয়েছে যাকে আমি চিনি না।' এজন্যই যাহাবী একে গরীব বলেছেন। যেমন তার থেকে নকুল করেছেন হাফিয ইবনু কাসীর 'নিহায়া (১/১৩৪)।
মনোযোগ আকর্ষণ: এই দুই হাদীসের বক্তব্য হলো, মু'মিন ব্যক্তিটিকে দাজ্জাল করাত দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করবে। আর পূর্বোক্ত নাওয়াস বর্ণিত হাদীসের বক্তব্য হলো, দাজ্জাল তাকে তরবারির আঘাতে দ্বিখণ্ডিত করবে। হাফিয ইবনু হাজার (১৩/৮৭) বলেন: ইবনুল 'আরাবী বলেছেন, দুই হাদীসের সামঞ্জস্য এভাবে হবে যে, মু'মিন ব্যক্তি একজন নন। তারা দুই ব্যক্তি। দাজ্জাল তাদের দুইজনকে পৃথক পৃথক নিয়মে হত্যা করবে (একজনকে করাত দিয়ে এবং একজনকে তরবারি দিয়ে)। হাফিয ইবনু হাজার বলেন: তিনি এমনটিই বলেছেন। কিন্তু প্রকৃত বিষয় তা নয়। বরং করাতের বর্ণনাটির ব্যাখ্যা হলো তরবারির আঘাতের বর্ণনা। হয়তো বা তরবারিটির ধারালো অংশের অনেক জায়গায় ভাংগা ছিল যা দেখতে প্রায় করাতের মত। নিহত ব্যক্তিকে অধিক শাস্তি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এখানে তাই বুঝানো হয়েছে।
অত্রএব তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করেছে এ বর্ণনাটি তাকে দ্বিখণ্ডিত করেছে এর ব্যাখ্যা। তাকে দুই টুকরা করে ফেলবে বাক্য দ্বারা তার কর্মের শেষ পরিণতি বুঝানো হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(১৯): এ অংশের দুটি সাক্ষ্য হাদীস রয়েছে:
প্রথম: নাওয়াস ইবনু সাম'আন বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
দ্বিতীয়: আসমা বিনতু ইয়াযীদ আল-আনসারিয়‍্যাহ বর্ণিত হাদীস, এটিও গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(২০) : এরও দুটি সাক্ষ্য হাদীস রয়েছে। যা এইমাত্র (উপরে) ইঙ্গিত করা হলো।

অনুচ্ছেদ-(২১): এ অংশেরও দুটি সাক্ষ্য হাদীস রয়েছে। যা ইঙ্গিত করা হলো।

অনুচ্ছেদ-(২২): এর বর্ণনা একদল সাহাবী সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে এসেছে:
প্রথম: আনাস ইবনু মালিক বর্ণিত হাদীস। যা সামনে (৩৪ নং অনুচ্ছেদে) আসবে।

দ্বিতীয়: ফাত্বিমাহ বিনতু ক্বাইস হতে গোয়েন্দা ও দাজ্জাল সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস তামীম আদ-দারীর রিওয়ায়াত হতে তাতে রয়েছে : দাজ্জাল বলবেঃ
( وإني مخبركم عني : إني أنا المسيح وإني أوشك أن يؤذن لي في الخروج فأخرج فأسير في الأرض فلا أدع قرية إلا هبطتها في أربعين ليلة غير مكة وطيبة فهما محرمتان علي كلتاهما كلما أردت أن أدخل واحدة - أو : واحدا - منهما استقبلني ملك بيده السيف صلتا يصدني عنها وإن على كل نقب منها ملائكة يحرسونها قالت : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم - وطعن بمخصرته في المنبر - : هذه طيبة هذه طيبة هذه طيبة ( يعني : المدينة ( ألا هل كنت حدثتكم ذلك ؟ ) . فقال الناس : نعم قال : ) فإنه أعجبني حديث تميم أنه وافق الذي كنت أحدثكم عنه وعن المدينة ومكة )
জেনে রাখুন, এই কিস্সাটি সহীহ, বরং মুতাওয়াতির। এটি বর্ণনায় তামীম আদ-দারী একা হয়ে যাননি যেমনটি অজ্ঞতা বশতঃ কতিপয় তা'লীকুকারী ধারণা করেছেন ইবনু কাসীসের 'নিহায়া' গ্রন্থের উপর (পৃঃ ৯৬)। বরং তামীম দারীর মুতাবা'আত করেছেন আবূ হুরাইরাহ, 'আয়িশাহ, জাবির (রাঃ)। যা সামনে আসছে।
“আমি তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছি- আমিই মাসীহ দাজ্জাল! অচিরেই আমাকে বেরিয়ে আসার অনুমতি প্রদান করা হবে। তখন আমি বেরিয়ে আসব, এবং বিশ্ব ভ্রমণ করব। বিশ্বের কোন দেশই আমি ভ্রমণ না করে ছাড়ব না। একমাত্র মাক্কাহ্ ও মাদীনাহ ছাড়া সমগ্র বিশ্ব মাত্র চল্লিশ রাতে আমি ঘুরে আসব। এ দুটি শহরর প্রবেশ আমার জন্য নিষিদ্ধ। এই দুই শহরের কোন একটিতে আমি প্রবেশের ইচ্ছা করলে একজন ফিরিশতা ধারালো তরবারি হাতে সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে আসবে এবং এ থেকে আমাকে বিরত রাখবে। (মাক্কাহ ও মাদীনাহ্র) রাস্তায় রাস্তায় ফিরিশতা মোতায়েন থাকবে যারা পাহারা দিবে।” ফাত্বিমাহ বিনতু ক্বায়িস বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ কথা বলেছেন এবং লাঠি দিয়ে মিম্বারে আঘাত করে বলেছেন: এই ভূমি পবিত্র, এই ভূমি পবিত্র, এই ভূমি পবিত্র। (অর্থাৎ মাদীনাহ)। আচ্ছা! আমি কি তোমাদের কাছে এ ঘটনা বর্ণনা করে শুনাইনি? তখন উপস্থিত জনতা বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেন: অবশ্যই তামীম দারীর বর্ণনা আমাকে বিস্মিত করেছে। যেহেতু আমি যা কিছু ইতোপূর্বে তোমাদেরকে বর্ণনা করে শুনিয়েছিলাম তার সাথে তার বর্ণনা হুবহু মিলে গেছে। দাজ্জাল সম্পর্কে এবং মাক্কাহ্ ও মাদীনাহ্ সম্পর্কে সবই মিলে গেছে।"
মুসলিম (৮/২০৫), আহমাদ (৬/৪১৩, ৪১৮), অনুরূপ তায়ালিসি (২/২১৮-২১৯), সংক্ষেপে, এবং আবূ দাউদ (২/২১৪-২১৫), হাম্বাল (৪৪/২-৪৫/১), ইবনু মানদাহ ৯৮/২-১), আজরী (পৃঃ ৩৭৬-৩৭৯) সংক্ষেপে, কিন্তু তারা মাক্কাহ্ শব্দ উল্লেখ করেননি। এটি এসেছে আহমাদের বর্ণনায় (৬/৩৭৩-৩৭৪) ও ইবনু মানদাহ (৯৭/২)।

তৃতীয়: 'আয়িশাহ বর্ণিত হাদীস। এইমাত্র উল্লেখিত আহমাদের শেষ বর্ণনাটির ব্যাপারে শা'বী বলেন: আমি মুহাত্রার ইবনু আবূ হুরাইরাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে ফাত্বিমাহ বিনতু ক্বাইসের হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনি বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেমন হাদীস ফাত্বিমাহ তোমাকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ :) (إنه نحو المشرق) “পূর্ব দিকে”।
তিনি বলেন, অতঃপর আমি ক্বাসিম ইবনু মুহাম্মাদের সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে ফাত্বিমার হাদীসটি অবহিত করি। তখন তিনি বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, 'আয়িশাহ আমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যেমন আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন ফাত্বিমাহ। তবে তিনি বলেছেন:
( الحرمان عليه حرام : مكة والمدينة ) "হারামাইন তার উপর হারাম: মাক্কাহ্ ও মাদীনাহ।"
আহমাদ (৬/৩৭৩-৩৭৪, ৪১৭-৪১৮) মুজালিদ হতে 'আমির সূত্রে। মুজালিদ হলো সাঈদের পুত্র। তিনি শক্তিশালী নন। তিনি ফাত্বিমার হাদীসে মাক্কাহ্ শব্দটি হিফাযাত করেননি। সেজন্য তার হাদীস ও 'আয়িশাহর হাদীসের মধ্যে ব্যতিক্রম হয়েছে। আসলে দুটি হাদীস একই রকম। কেননা মাক্কাহ শব্দের উল্লেখ ফাত্বিমার হাদীসে প্রমাণিত। যা মুসলিম ও অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে। যেমন পূর্বে গত হয়েছে 'আমির সূত্রে। এছাড়া আহমাদের একটি বর্ণনা (৬/২৪১) দাউদ হতে- যিনি ইবনু আবূ হিন্দ- 'আমির থেকে 'আয়িশাহ সূত্রে মারফু'ভাবে সংক্ষেপে এ শব্দে:
( لا يدخل الدجال مكة ولا المدينة ) "দাজ্জাল মাক্কাহ্ ও মাদীনাহতে প্রবেশ করবে না।"
আমি বলি: এর সানাদ মুসলিমের শর্তে সহীহ। অনুরূপ বর্ণনা করেছেন ইবনু মানদাহ।

চতুর্থ: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( على أنقاب المدينة ملائكة لا يدخلها الطاعون ولا الدجال ) "মাদীনাহ্ প্রবেশদ্বারে ফিরিশতাগণ মোতায়েন থাকবেন। সেখানে মহামারি (প্লেগ) ও দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না।"
বুখারী (৪/৭৬), মুসলিম (৪/১২০), আহমাদ (২/২৩৭, ৩৩১), আদ- 'দানী ১২৮/২)। এছাড়া ভিন্ন সানাদে আহমাদ (২/৪৮৩) এ শব্দে: "মাদীনাহ্ এবং মাক্কাহ্ প্রত্যেক প্রবেশ পথ ফিরিশতাদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকবে..।" এছাড়া মুসলিমের অপর বর্ণনায় ও আবূ ইয়ালা (২৯২/২) রয়েছে:
( يأتي المسيح من قبل المشرق همته المدينة حتى ينزل دبر أحد ثم تصرف الملائكة وجهه قبل الشام وهنالك يهلك )
"মাসীহ দাজ্জাল মাদীনাহ্ আক্রমণের উদ্দেশে পূর্ব দিক থেকে এসে উহুদ পাহাড়ের পিছনে উপস্থিত হবে। অতঃপর ফিরিশতাগণ তার মুখ সিরিয়ার দিকে ফিরিয়ে দিবেন এবং সে ওখানেই ধবংস হবে।"

পঞ্চম: আবূ বাব্বাহ আস-সাক্বাফী বলেন: লোকেরা মুসাইলামার ব্যাপারে বেশি বেশি আলোচনা করছিল তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কোন কিছু বলার পূর্বে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) খুত্ববাহয় দাঁড়িয়ে বললেন:
( أما بعد ففي شأن هذا الرجل الذي قد أكثرتم فيه وإنه كذاب من ثلاثين كذابا يخرجون بين يدي الساعة وإنه ليس من بلدة إلا يبلغها رعب المسيح إلا المدينة على كل نقب من نقابها ملكان يذبان عنها رعب المسيح )
"এবার এই ব্যক্তির প্রসঙ্গ যার ব্যাপারে তোমরা খুব আলোচনা করছিলে। সে তো ঐ ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর একজন যারা ক্বিয়ামাতের আগে বের হবে। এমন কোন শহর বাদ থাকবে না যেখানে মাসীহ (দাজ্জালের) আতঙ্ক না ছড়াবে। তবে মাদীনাহ্ ব্যতীত। এর প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে দুইজন করে ফিরিশতা নিযুক্ত থাকবেন যারা দাজ্জালের ভয় থেকে একে নিরাপদ রাখবেন।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮২৩), আহমাদ (৫/৪১,৪৭) তার সূত্রে, এবং অন্য সানাদে মা'মার যুহরী হতে তিনি জ্বালহা ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আওফ হতে তার সূত্রে।
আমি বলি: বাহ্যিকভাবে এই সানাদটি সহীহ। কেননা এর রিজাল সিক্বাত, বুখারীর রিজাল। কিন্তু দুইজন সিক্বাহ মা'মার এর বিপরীত করেছেন। তারা হলেন: 'আক্বীল ইবনু খালিদ এবং ইবনু শিহাবের ভাই মুহাম্মাদ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম। তারা বলেছেন: ইবনু শিহাব হতে যুহরীর সূত্রে: নিশ্চয় 'আয়ায ইবনু মুসাফিহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন আবূ বাব্বাহ হতে।
আহমাদ (৫/৪৬)।
আমি বলি: এটাই অধিক সহীহ। এই 'আয়ায মাজহুল (অজ্ঞাত)। তবে হাদীসের শেষ অংশ তার মুতাবাআত করা হয়েছে। তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনু সা'দ তার পিতা হতে তার দাদার মাধ্যমে আবূ বাক্রাহ (রা) থেকে নাবী (সাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (সাঃ) বলেছেন:
( لا يدخل المدينة رعب المسيح الدجال لها يومئذ سبعة أبواب على كل باب ملكان )
"মাদীনাহয় মাসীহ দাজ্জালের ভীতি প্রবেশ করবে না। সেদিন এর সাতটি দরজা থাকবে। আর প্রত্যেক দরজায় দুইজন করে ফিরিশতা থাকবেন।"
* অতঃপর আমি দেখেছি হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন (৪/৫৪১) 'আবদুর রাযযাক ও অন্যদের থেকে মা'মার সূত্রে। এবং তিনি বলেছেন: "এই সানাদে মা'মার ও শু'আইব ইবনু আবূ হামযাহ যুহরী সূত্রে হাদীসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে এই হাদীসটি মু'দাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেননা জ্বালহা ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আওফ হাদীসটি আবূ বাকরাহ থেকে শুনেননি। বরং তিনি শুনেছেন 'আয়ায ইবনু মুসাফিহ হতে আবূ বাকরাহ থেকে। এভাবেই বর্ণনা করেছেন ইউনূস ইবনু ইয়াযীদ এবং 'আক্বীল ইবনু খালিদ যুহরীর হতে।' অতঃপর তিনি তাদের দিকে সানাদটি সম্পর্কিত করেন।
বুখারী (৪/৭৬), আহমাদ (৫/৪১, ৪৭), মুস্তাদরাক হাকিম (৪/৫৪২)। এর শাহিদ বর্ণনা রয়েছে আবু হুরায়রাহ থেকে বুখারীর নিকটে (২/৫৭০১) মালিক সূত্রে। যা বর্ণিত আছে মুয়াত্তা (৩/bb)।

ষষ্ঠ : নাবী (সাঃ) এর জনৈক সুহাবী হতে বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে। ভিন্ন সানাদে শীঘ্ৰই তা আসছে।
সপ্তম : জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ হতে, যা গত হয়েছে।
অষ্টম : আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে, এটিও গত হয়েছে।
নবম : 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর হতে, এটি গত হয়েছে।
দশম : আনাসের হাদীস যা আবু হুরায়রাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ শাইখাইনের নিকট।
হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী (৭১৩৪) তিরমিযী (২২৪০), ইবনু হিব্বান (৬৭৬৬)।

অনুচ্ছেদ-(২৩) এর কয়েকটি হাদীস রয়েছে :
প্রথম : ফাতিমাহ বিনতু ক্বাইস বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
দ্বিতীয় : জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নাবী (সাঃ) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন :
(يا أيها الناس إني لم أقم فيكم لخبر جاءني من السماء ( فذكر حديث الجساسة مختصرا وفيه ): قال: هو المسيح تطوى له الأرض في أربعين يوما إلا ما كان من طيبة ) قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( وطيبة المدينة ما باب من أبوابها إلا عليه ملك مصلت سيفه يمنعه وبمكة مثل ذلك )
“আমি তোমাদের সামনে এজন্য দাঁড়িয়েছি যে, আমার কাছে আকাশ থেকে সংবাদ এসেছে (অতঃপর তিনি সংক্ষেপে জাস্‌সাসার হাদীস উল্লেখ করেন এবং তাতে রয়েছে) তিনি বলেন : “সে হলো মাসীহ (দাজ্জাল), চল্লিশ দিনে তার জন্য যমীনকে ভাঁজ করা হবে। তবে তাইয়্যিবার কিছু” স্থান বাদে।” রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “মাদীনাহ্ ত্বাইয়িবার এমন কোন দরজা অবশিষ্ট থাকবে না যেখানে দাজ্জালকে বাধা দেয়ার জন্য চকচকে তরবারি নিয়ে ফিরিশতা মোতায়েন না থাকবে। মাক্কাহতেও অনুরূপ অবস্থা হবে।”
আবূ ইয়ালা 'মুসনাদ' গ্রন্থে দুটি সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ফুযাইল হতে: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ালীদ ইবনু জুমাই' আবূ সালামাহ ইবনু 'আবদুর রহমান হতে তার সূত্রে।
আমি বলি: এই সানাদটি হাসান, এবং মুসলিমের শর্তে। আল্লামা হায়সামী বলেন (৭/৩৪৬): হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ ইয়ালা দুটি সানাদে, যার একটির রিজাল সহীহ রিজাল।

তৃতীয়: মিহজান ইবনুল আদরা' বলেন: রাসলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে কোন এক কাজে প্রেরণ করলেন। এরপর মাদীনার কোন এক রাস্তায় তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। অতঃপর তিনি উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন। আমিও তাঁর সাথে আরোহণ করলাম। অতঃপর মাদীনার দিকে মুখ করে এর উদ্দেশে তিনি কিছু কথা বললেন। অতঃপর বললেন:
( ويل أمك - أو : ويح أمها - قرية يدعها أهلها أينع ما يكون يأكلها عافية الطير والسباع يأكل ثمرها ولا يدخلها الدجال إن شاء الله كلما أراد دخولها تلقاه بكل نقب من نقابها ملك مصلت يمنعه عنها )
“তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক অথবা বলেছেন: তার মায়ের জন্য করুণা হয়। এ জনপদকে এর অধিবাসীরা সর্বোত্তম অবস্থায় ছেড়ে চলে যাবে। জীবন প্রত্যাশী পাখি ও পশুগুলো এর ফলমূল খাবে। আল্লাহ চাহেন তো এতে দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবে না। যখনই সে এতে প্রবেশ করতে চাইবে তখনই এর প্রবেশ পথে খোলা তরবারি হাতে ফিরিশতা তাকে বাঁধা প্রদান করবে।”
হাকিম (৪/৪২৭) এবং তিনি বলেছেন: সানাদ সহীহ। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
আমি বলি: এর সানাদে ইনকিতা' হয়েছে (বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে)। সামনে এর আলোচনা আসবে।

অনুচ্ছেদ-(২৪): এ বিষয়ে কয়েকটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: ইবনু 'উমার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( ينزل الدجال في هذه السبخة بمر قناة فيكون أكثر من يخرج إليه النساء حتى أن الرجل ليرجع إلى حميمه وإلى أمه وابنته وأخته وعمته فيوثقها رباطا مخافة أن تخرج إليه ثم يسلط الله المسلمين عليه فيقتلونه ويقتلون شيعته حتى أن اليهودي ليختبئ تحت الشجرة أو الحجر فيقول الحجر أو الشجرة للمسلم : هذا يهودي تحتي فاقتله )
"দাজ্জাল এই অনুর্বর বালুময় ভূমির নালার পার্শ্বে অবতরণ করবে। তার কাছে যারা আগমন করবে তাদের অধিকাংশই থাকবে মহিলা। এমনকি পুরুষেরা তার বন্ধু, তার মা, তার মেয়ে, তার বোন এবং তার ফুফুর কাছে ফিরে গিয়ে তার (দাজ্জালের) কাছে যাওয়ার আশংকায় তাদেরকে বেঁধে রাখবে। তারপর আল্লাহ তা'আলা মুসলিমদেরকে তার উপর কর্তৃত্ব দিবেন। মুসলিমরা তাকে ও তার অনুসারীদেরকে হত্যা করবে। এমনকি ইয়াহুদীরা গাছ অথবা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে, তখন পাথর অথবা গাছ মুসলিম ব্যক্তিকে বলবে: এইতো আমার পিছনে ইয়াহুদী, সুতরাং তাকে হত্যা করো।"
আহমাদ (২/৬৭), হাম্বাল 'ফিতান' (৫১/২-৫২-১)।
আমি বলি: এর সানাদ হাসান। যদি না মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করতেন।

দ্বিতীয়: আবূ সাঈদ আল-খুদরী হতে মারফুভাবে বর্ণিত:
( يأتي الدجال - وهو محرم عليه أن يدخل نقاب المدينة - فينزل بعض السباخ التي تلي المدينة فيخرج إليه يومئذ رجل ... ) الحديث
"দাজ্জাল আসবে। তার জন্য মাদীনার অলিগলিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। অতঃপর সে মাদীনার পার্শ্ববর্তী তৃণলতা শূণ্য (অনুর্বর) ভূমিতে অবতরণ করবে। অতঃপর সেদিন তার দিকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে আসবে...।"
শাইখাইন ও অন্যরা। এটি 'আবদুর রাযযাকের শব্দে গত হয়েছে।

তৃতীয়: মিহজান ইবনু আল-আদরা' হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) লোকদের উদ্দেশে খুত্ববাহ দিলেন। তিনি বললেন:
) يوم الخلاص وما يوم الخلاص ؟ يوم الخلاص وما يوم الخلاص ؟ يوم خلاص وما يوم الخلاص ؟ ) ( ثلاثا ) فقيل له : وما يوم الخلاص ؟ قال : ( يجيء الدجال فيصعد أحدا فينظر المدينة فيقول لأصحابه : أترون هذا القصر الأبيض ؟ هذا مسجد أحمد . ثم يأتي المدينة فيجد بكل نقب منها ملكا مصلتا فيأتي سبخة الجرف فيضرب رواقه ثم ترجف المدينة ثلاث رجفات فلا يبقى منافق ولا منافقة ولا فاسق ولا فاسقة إلا خرج إليه فذلك يوم الخلاص )
"নাজাত দিবস, নাজাত দিবস কি? নাজাত দিবস, নাজাত দিবস কি? নাজাত দিবস, নাজাত দিবস কি? (তিনবার) তখন তাঁকে বলা হবে: নাজাত দিবস আবার কি? তিনি বলেন: "দাজ্জাল আসবে। সে উহুদ পাহাড়ে উঠে তার সাথীদেরকে বলবে: তোমরা কি এই সাদা প্রাসাদটি দেখতে পাচ্ছো? এটা মাসজিদে আহমাদ। অতঃপর সে মাদীনাহয় আসবে। সেখানে এসে এর প্রত্যেক প্রবেশ দ্বারে দুই জন করে ফিরিশতা খোলা তরবারি হাতে মোতায়েন পাবে। এরপর সে সাইহানাতুল জুরুফ নামক স্থানে এসে তার আসন গাঢ়বে। অতঃপর মাদীনাহয় তিনবার কম্পন সৃষ্টি হবে। ফলে কোন মুনাফিক পুরুষ ও নারী, ফাসিক পুরুষ ও নারী মাদীনাহয় অবশিষ্ট থাকবে না। তারা মাদীনাহ্ থেকে বেরিয়ে তার কাছে চলে আসবে। আর এটাই হলে নাজাত দিবস।"
আহমাদ (৪/৩৩৮), হাম্বাল (৪৬/২-৪৭-১), হাকিম (৪/২২৭, ৫৪৩) এবং তিনি বলেছেন: মুসলিমের শর্তে সহীহ। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।
• তারা যেমন বলেছেন তাই, যদি সানাদটি 'আবদুল্লাহ ইবনু শাক্বীকু এবং মিহজান এর মধ্যকার ইনকিতা' থেকে নিরাপদ হয়। কেননা আহমমাদের আরেক বর্ণনায় এই দুই জনের মাঝে রয়েছেন রাজা ইবনু আবূ রাজা আল-বাহিলী। এছাড়া হাম্বাল (৪৬/১)। এর সানাদটি তার প্রথম বর্ণনার সানাদের চেয়ে অধিক সহীহ। কিন্তু এটি সর্বাবস্থায় সমস্যা মুক্ত এর শাওয়াহিদ দ্বারা।

চতুর্থ: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) হাব্রার কোন এক প্রান্তরে আরোহণ করলেন। তখন আমরা তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি বলেন:
( نعمت الأرض المدينة إذا خرج الدجال على كل نقب من أنقابها ملك لا يدخلها فإذا كان كذلك رجفت المدينة بأهلها ثلاث رجفات لا يبقى منافق ولا منافقة إلا خرج إليه وأكثر - يعني - من يخرج إليه النساء وذلك يوم الخلاص وذلك يوم تنفي المدينة الخبث كما ينفي الكير خبث الحديد يكون معه سبعون ألفا من اليهود على كل رجل منهم ساج وسيف محلى فتضرب رقبته بهذا الضرب الذي عند مجتمع السيول ) ثم قال رسول الله عليه و سلم : ( ما كانت فتنة - ولا تكون حتى تقوم الساعة - أكبر من فتنة الدجال ولا من نبي إلا وقد حذر أمته ولأخبرنكم بشيء ما أخبره نبي أمته قبلي ) ثم وضع يده على عينه ثم قال : ( أشهد أن الله عز و جل ليس بأعور )
"মাদীনাহ্ কতই না উত্তম ভূমি। দাজ্জাল যখন বের হবে তখন মাদীনার প্রত্যেক রাস্তায় ফিরিশতা নিযুক্ত থাকবেন, ফলে দাজ্জাল সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না। এরূপ অবস্থায় মাদীনাহ্ তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার প্রকম্পিত হবে। তখন প্রতিটি মুনাফিক পুরুষ ও নারী (মাদীনাহ্ থেকে) বেরিয়ে দাজ্জালের কাছে চলে যাবে। যারা বেরিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে তাদের অধিকাংশ হবে মহিলা। আর এটাই হলো ইয়াওমুল খালাস (নাজাত দিবস)। এই দিনে মাদীনাহ্ তার মধ্যকার ময়লা দূরীভূত করবে যেমন হাফর লোহার ময়লা দূর করে থাকে। দাজ্জালের সাথে সত্তর হাজার ইয়াহুদী থাকবে। তাদের প্রত্যেকের সাথে থাকবে চাঁদরে আবৃত কারুকার্য খচিত তলোয়ার। অতঃপর পানি প্রবাহের সংগম স্থলে তার ঘাড়ে এ তরবারি দ্বারা আঘাত করা হবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: "দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় ফিতনা (অতীতে) ছিল না এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত হবেও না। এমন কোন নাবী নেই যিনি স্বীয় উম্মাতকে দাজ্জাল সম্পকে সাবধান না করেছেন। আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে তার সম্পর্কে এমন সংবাদ দিব যা আমার পূর্বে কোন নাবী স্বীয় উম্মাতকে তা দেননি।" অতঃপর তিনি তাঁর চোখের উপর হাত রেখে বলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ কানা নন।"
আহমাদ (৩/২৯২), এবং তার ছেলে 'সুন্নাহ' (১৩৮)।
আমি বলি: এর রিজাল সিক্বাত, শাইখাইনের রিজাল। তবে যুহাইর ব্যতীত। তিনি হলেন ইবনু মুহাম্মাদ আল-খুরাসানী। তার মাঝে দুর্বলতা আছে। ইবনু কাসীর বলেন (১/১২৭): 'এর সানাদ জাইয়্যিদ এবং হাকিম একে সহীহ বলেছেন।' এর আরেকটি সূত্র রয়েছে সংক্ষেপে 'আল-ইহসান' গ্রন্থে (৬৬১৬)।

পঞ্চম: আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( يجيء الدجال فيطأ الأرض إلا مكة والمدينة فيأتي المدينة ، فيجد بكل نقب من نقابها صفوفا من الملائكة فيأتي سبخة الجرف فيضرب رواقه فترجف المدينة ثلاث رجفات فيخرج إليه كل منافق ومنافقة )
"দাজ্জাল আসবে। তার জন্য যমীনকে ভাঁজ করে দেয়া হবে। তবে মাক্কাহ্ ও মাদীনাহ্ ব্যতীত। সে মাদীনাহয় আসবে এবং সেখানকার প্রতিটি প্রবেশ পথে সারিবদ্ধ অবস্থায় ফিরিশতাদের পাবে। অতঃপর সে সাইনাহাতুল জুরুফ নামক স্থানে এসে তার আসন গাঢ়বে। তখন মাদীনায় তিনবার কম্পন সৃষ্টি হবে। এতে প্রত্যেক মুনাফিক পুরুষ ও নারী তার কাছে চলে আসবে।"
বুখারী (১/৪৬৬), মুসলিম (৮/২০৬-২০৭), আহমাদ (৩/১৯১, ২০৬, ২৩৮, ২৯২), হাম্বাল (৪৭/১-৪৮/২), আদ-দানী 'ফিতান' (১২৭/২- ১২৮/১)।

অনুচ্ছেদ-(২৫): এর তিনটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: আনাস হতে
দ্বিতীয়: জাবির হতে
তৃতীয়: মিহজান হতে। এর তৃতীয়টি ইতোপূর্বে গত হয়েছে।
এছাড়া চতুর্থ আরেকটি হাদীস রয়েছে জনৈক আনসারী ব্যক্তি হতে মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কতিপয় সাহাবীর সূত্রে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাজ্জাল সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন:
( يأتي سباخ المدينة وهو محرم عليه أن يدخل نقابها فتنتفض المدينة بأهلها نفضة أو نفضتين - وهي الزلزلة - فيخرج إليه منها كل منافق ومنافقة ثم يولي الدجال قبل الشام حتى يأتي بعض جبال الشام فيحاصرهم وبقية المسلمين يومئذ معتصمون بذروة جبل من جبال الشام فيحاصرهم الدجال نازلا بأصله حتى إذا طال عليهم البلاء قال رجل من المسلمين : يا معشر المسلمين حتى متى أنتم هكذا وعدو الله نازل بأرضكم هكذا ؟ هل أنتم إلا بين إحدى الحسنيين بين أن يستشهدكم الله أو يظهركم ؟ فيبايعون على الموت بيعة يعلم الله أنها الصدق من أنفسهم ثم تأخذهم ظلمة لا يبصر امرؤ فيها كفه قال : فينزل ابن مريم فيحسر عن أبصارهم وبين أظهرهم رجل عليه لأمته فيقولون : من أنت يا عبد الله ؟ فيقول : أنا عبد الله ورسوله وروحه وكلمته عيسى ابن مريم اختاروا بين إحدى ثلاث : بين أن يبعث الله على الدجال وجنوده عذابا من السماء أو يخسف بهم الأرض أو يسلط عليهم سلاحكم ويكف سلاحهم عنكم . فيقولون : هذه يا رسول الله أشفى لصدورنا ولأنفسنا . فيومئذ ترى اليهودي العظيم الطويل الأكول الشروب لا تقل يده سيفه من الرعدة فيقومون إليهم فيسلطون عليهم ويذوب الدجال حين يرى ابن مريم كما يذوب الرصاص حتى يأتيه أو يدركه عيسى فيقتله )
“সে মাদীনাহ্র অনুর্বর এলাকায় আসবে। তার জন্য মাদীনাহ্ কোন এলাকায় প্রবেশ করা নিষিদ্ধ। অতঃপর মাদীনাহ্ তার অধিবাসী সহ একবার অথবা দু'বার কেঁপে উঠবে। ফলে মাদীনাহ্ সকল মুনাফিক নর- নারী দাজ্জালের কাছে গিয়ে একত্র হবে। দাজ্জাল সিরিয়ার দিকে এক পাহাড়ের কাছে গিয়ে সেখানকার জনগণকে ঘেরাও করবে। আর অবশিষ্ট মুসলিমগণ সিরিয়ার কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিবে। অতঃপর দাজ্জাল এর পাদদেশে গিয়ে তাদেরকে ঘেরাও করবে। যখন বিপদ দীর্ঘতর হবে তখন এক মুসলিম বলবে, হে মুসলিম জনগণ! তোমরা এভাবে কতদিন আল্লাহর দুশমন দ্বারা বেষ্টিত থাকবে? তোমরা শাহাদাত অথবা বির্জয় অর্জনের কোন একটিকে বেছে নিবে না? এমনকি তারা মৃত্যুর জন্য এমন এক শপথ গ্রহণ করবে, যে বিষয়ে আল্লাহ অবগত আছেন যে, তারা তাদের অন্তর দিয়েই সত্য শপথ করেছে। এরপর তাদেরকে অন্ধকার ঘিরে নিবে যার ফলে কোন ব্যক্তি নিজের হাতও দেখতে পাবে না। অতঃপর ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন। ফলে তাদের চোখের সামনে থেকে অন্ধকার দূর হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় তাদের মাঝে বর্ম পরিহিত এক লোক দেখতে পাবে। অতঃপর তারা বলবে, হে আল্লাহর বান্দা! আপনি কে? জবাবে তিনি বলবেন, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁরই রাসূল, তাঁর সৃষ্টি রূহ এবং কালিম ঈসা ইবনু মারইয়াম। অতঃপর তিনি বলবেন : তোমরা এই তিনটির কোন একটি বেছে নাও। আল্লাহ দাজ্জাল ও তার বাহিনীর উপর আকাশ থেকে শাস্তি নাযিল করবেন, অথবা আল্লাহ তাদেরকে যমীনে ধসিয়ে দিবেন, অথবা আল্লাহ তাদের উপর তোমাদের তরবারি চাপিয়ে দিবেন এবং তাদের তরবারি তোমাদের উপর থেকে ফিরিয়ে রাখবেন। তারা বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! এই শেষটিই আমাদের অন্তর নিরাময়ের জন্য অধিক উপযোগী। সেদিন তুমি দেখতে পাবে যে, একজন দীর্ঘদেহী মোটাসোটা অধিক পানাহারকারী ইয়াহুদীও ভয়ের কারণে স্বীয় তরবারি হাতে বহন করতে পারবে না। অতঃপর মুসলিমরা তাদের দিকে অগ্রসর হলে মুসলিমদেরকে তাদের উপর বিজয় দান করা হবে। আর ঈসা ইবনু মারইয়ামকে দেখামাত্র সে সীসা গলে যাওয়ার মত গলে যাবে অথবা ঈসা (আ) তাকে ধরে হত্যা করে ফেলবেন।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৪) 'আমর ইবনু সুফিয়ান আস-সাক্বাফী হতে তার সূত্রে।
আমি বলি : এর সানাদ সিক্বাত, শাইখাইনের রিজাল। তবে জনৈক আনসারী ব্যতীত। কেননা তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। হয়তো তিনি কোন সাহাবী হবেন। কেননা সানাদের এই সাক্বাফী একজন তাবিঈ, যিনি আবূ মূসা আল-আশ'আরী ও অন্যান্য সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে সানাদটি সহীহ। কেননা সাহাবীর জাহালাতে কোন অসুবিধা নেই।

অনুচ্ছেদ-(২৬) : এ অংশের সমর্থনে দুটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম : জাবির বর্ণিত হাদীস। যা গত হয়েছে, এবং তাতে রয়েছে :
) ওযালিকা ইয়াওমুল খালাসি ওযালিকা ইয়াওমুন তানফিল মাদীনাতুল খুবছা কামা ইয়ানফিল কীরু খুবছাল হাদীদ )
"সেটাই নাজাত দিবস। সেদিন মাদীনাহ্ তার মধ্যকার মন্দকে বিদূরীত করবে যেমন হাফর লোহার ময়লা দূর করে।"
দ্বিতীয়: আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( আলা ইন্নাল মাদীনাতা কালকীরি তুখরিল খুবীছা লা তাকুমুস সাআতু হাত্তা তানফিল মাদীনাতু শারারাহা কামা ইয়ানফিল কীরু খুবছাল হাদীদ )
"জেনে রাখ, মাদীনাহ্ হলো হাফরের ন্যায়। সে তার মধ্যকার মন্দ (পাপীদেরকে) বের করে দেয়। ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না মাদীনাহ্ তার মধ্যকার খারাপ (লোকদের) বের করে দিবে যেমন হাফর লোহার ময়লা দূর করে থাকে।" মুসলিম (৪/১২০)

অনুচ্ছেদ-(২৭): এ বিষয়ে দুটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: মিহজান ইবনু আল-আদরা' বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
দ্বিতীয়: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(২৮): এরও দুটি হাদীস রয়েছেঃ
প্রথম: উম্মু শুরাইক বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি:
( লাইয়াফিররান্নান্নাসু মিনাদ দাজ্জালি ফিল জিবালি ) কালত : উম্মু শুরাইক : ইয়া রাসূলাল্লাহি ফা আইনাল আরবু ইয়াওমা ইজিন্ ? কালা : ( হুম কলীল )
“মানুষ দাজ্জাল থেকে পালিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিবে। উম্মু শুরাইক বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আরবগণ (মাক্কাহ্ ও মাদীনাবাসী) কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: তাদের সংখ্যা খুব কম হবে।”
মুসলিম (৮/২০৭), তিরমিযী (৩৯২৬), আহমাদ (৬/৪৬২)।

দ্বিতীয় : ‘আয়িশাহ হতে বর্ণিত :
(أن رسول الله صلى الله عليه و سلم ذكر جهدا شديدا يكون بين يدي الدجال ) فقلت : يا رسول الله فأين العرب يومئذ ؟ قال : ( يا عائشة العرب يومئذ قليل ) . فقلت : ما يجزي المؤمنين يومئذ من الطعام ؟ قال : ( ما يجزي الملائكة التسبيح والتكبير والتحميد والتهليل ) . قلت : فأي المال يومئذ خير ؟ قال : ( غلام شديد يسقي أهله من الماء وأما الطعام فلا طعام )
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাজ্জাল আগমনের প্রাক্কালে খুবই কঠিন অবস্থার কথা উল্লেখ করলেন। ফলে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আরবগণ কোথায় থাকবে? তিনি বলেন: হে ‘আয়িশাহ! তখন আরবরা সংখ্যায় কম হবে।” আমি বললাম, সে সময় মানুষের খাদ্য হিসেবে কি যথেষ্ট হবে? তিনি বলেন: “যা ফিরিশতাদের জন্য যথেষ্ট- তাসবীহ, তাকবীর, তাহমীদ ও তাহলীল।" আমি বললাম, তখন কোন সম্পদ উত্তম হবে? তিনি বলেন: “এমন পরিশ্রমী গোলাম যে তার মালিককে পানি পান করাবে। আর খাদ্য, সেদিন তো খাদ্য থাকবে না।"
আহমাদ ((৬/১২৫), হাম্বাল (৪৭/২), আবূ ইয়ালা (৩/১১৩৩) হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে ‘আলী ইবনু যায়িদ থেকে হাসানের মাধ্যমে ‘আয়িশাহ সূত্রে।
আমি বলি : এই সানাদটি যঈফ। সানাদে হাসান বাসরী একজন মুদাল্লিস, আর ‘আলী ইবনু যায়িদ হলো ইবনু জাদ’আন। তিনি যঈফ। অথচ আল্লামা হায়সামী বলেছেন: 'এটি আহমাদ ও আবূ ইয়ালা বর্ণনা করেছেন। এর রিজাল সহীহ রিজাল।'

অনুচ্ছেদ-(২৯): আমি এর সমর্থনে কোন (শাহিদ) হাদীস পাইনি।

অনুচ্ছেদ-(৩০): এর সমর্থনে রয়েছে 'আলী (রা)-এর হাদীস। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( المهدي منا آل البيت يصلحه الله في ليلة )
"মাহ্দী আমাদের আহলে বাইতের অর্ন্তভুক্ত। আল্লাহ তাকে এক রাতের মধ্যেই (খিলাফাতের) যোগ্য করে দিবেন।"
এটি একটি প্রমাণিত হাদীস। যা বর্ণিত আছে সিলসিলাহ সহীহাহ (হা/২৩৭১)।

অনুচ্ছেদ-(৩১): কয়েকটি হাদীস এ অংশের সমর্থন দেয়:
প্রথম: 'উসমান ইবনু আবুল 'আস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( يكون للمسلمين ثلاثة أمصار : مصر بملتقى البحرين ومصر بالحيرة )
"তখন তিনটি শহর মুসলিমদের দখলে থাকবে। তার একটি থাকবে বাহরাইনের নিকটবর্তী এবং আরেকটি থাকবে হীরাতে।"
আমি বলি: এর রিজাল সিক্বাত, মুসলিমের রিজাল, তবে 'আলী ইবনু যায়িদ ইবনু জাদআন ব্যতীত। তিনি যঈফ।

দ্বিতীয়: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ হতে বর্ণিত হাদীস, যা পূর্বে গত হয়েছে।
এর শাহিদ বর্ণনা করেছেন মুসলিম (১/৯৫) ভিন্ন সানাদে আবূয যুবাইর হতে, তিনি জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহকে মারফুভাবে বলতে শুনেছেন।
(لا تزال طائفة من أتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة . قال : فينزل عیسی ابن مریم صلى الله عليه وسلم فيقول أميرهم : تعال صل لنا . فيقول : لا إن بعضكم على بعض أمراء تكرمة الله هذه الأمة )
"আমার উম্মাতের একদল লোক সত্যের উপর অবিচল থেকে অনবরত জিহাদে লিপ্ত থাকবে। তারা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে। তিনি বলেন: অতঃপর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন। তখন তাদের আমীর বললেন, জনাব, এগিয়ে এসে আমাদেরকে সলাত পড়ান! তিনি বলবেন, না। আপনারা একে অন্যের আমীর। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা উম্মাতের মর্যাদা।"
এটি বর্ণিত আছে সিলসিলাহ সহীহাহ (হা/১৯৬০), হাদীসটি আদ- দানী বর্ণনা করেছেন (১৪২/২)।

তৃতীয়: আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস। যা গত হয়েছে এ শব্দে:
( ثم ينزل عيسى ابن مريم صلى الله عليه و سلم من السماء فيؤم الناس فإذا رفع رأسه من ركعته قال : سمع الله لمن حمده قتل الله المسيح الدجال وظهر المسلمون )
"অতঃপর ঈসা ইবনু মারইয়াম আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি লোকদের ইমামতি করবেন। তিনি যখন রুকু' থেকে মাথা উঠাবেন তখন বলবেন: সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, আল্লাহ মাসীহ দাজ্জালকে ধবংস করেছেন এবং মুসলিমদের বিজয়ী করেছেন।"

চতুর্থ: নাওয়াস ইবুন সাম'আন বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
পঞ্চম: 'আয়িশাহ বর্ণিত হাদীস, এটিও গত হয়েছে।
ষষ্ঠ: নাবী (সাঃ) এর কতিপয় সাহাবী সূত্রে বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।

সপ্তম: সামুরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলতেন:
( إن الدجال خارج وهو أعور عين الشمال عليها ظفرة غليظة وإنه يبرئ الأكمه والأبرص ويحيي الموتى ويقول للناس : أنا ربكم . فمن قال : أنت ربي : فقد فتن ومن قال : ربي الله . حتى يموت فقد عصم من فتنته ولا فتنة بعده ولا عذاب عليه فيلبث ما شاء الله ثم يجيء عيسى ابن مريم عليهما السلام من قبل المغرب مصدقا بمحمد صلى الله عليه وسلم وعلى ملته فيقتل الدجال ثم إنما هو قيام الساعة )
“দাজ্জাল বের হবে, তার বাম চোখ হবে কানা। চোখের উপর মোটা চামড়ায় ঢাকা হবে। সে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করবে। সে মৃতকে জীবিত করে লোকদের উদ্দেশ্যে বলবে: আমি তোমাদের রব্ব। যে ব্যক্তি বলবে, তুমি আমাদের রব্ব, সে ফিতনায় পতিত হল। আর যে ব্যক্তি বলবে, আমার রব্ব আল্লাহ। এমনকি সে মারা যাবে। সেতো তার ফিতনা থেকে নিরাপদ, এরপর আর কোন ফিতনা হবে না এবং তার উপর কোন শাস্তিও হবে না। অতঃপর আল্লাহ যতদিন চান (দাজ্জাল) অবস্থান করবে। অতঃপর পশ্চিমা অঞ্চল দিয়ে ঈসা ইবনু মারইয়াম আসবেন। মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে সত্যায়ন করে এবং তার উম্মাতের একজন হয়ে। অতঃপর ঈসা (আঃ) দাজ্জালকে হত্যা করবেন। অতঃপর এর পরেই ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে।”
আহমাদ (৫/১৩)।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ, যদি হাসান বাসরী আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা না করতেন। হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারী গ্রন্থে (৬/৪৭৮) এর সানাদ হাসান হওয়ার বিষয়টি জোড়ালো করেছেন।

অষ্টম: আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস। নাবী (সাঃ) বলেছেন:
( كيف أنتم إذا نزل ابن مريم [ من السماء ] فيكم وإمامكم ( وفي رواية : وأمكم ) منكم ؟ ) . قال : ابن أبي ذئب - أحد رواته - : تدري ما ( أمكم منكم ) ؟ أمكم بكتاب ربكم تبارك وتعالى وسنة نبيكم صلى الله عليه و سلم
"কতই না আনন্দের কথা! যখন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আকাশ থেকে) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন, আর ইমাম হবেন তোমাদের থেকে।" (আরেক বর্ণনায় রয়েছে: তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে)। ইবনু আবূ যি'ব (এক বর্ণনায়) বলেন: "তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে।"- এর অর্থ সম্পর্কে তুমি জানো কি? (তা হলো) তোমাদের মহান পরাক্রমশালী বরকতময় আল্লাহর কিতাব ও তোমাদের নাবী (সাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসারী হয়েই তিনি তোমাদের ইমাম হবেন।
বুখারী (৬/৩৮৪), মুসলিম (১/৯৪), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৪১), আহমাদ (২/২৭২, ৩৩৬), ইবনু মানদাহ (৪১/২), বায়হাক্বী 'আল-আসমা' (৪২৪ পৃঃ) অতিরিক্ত অংশ তার।

দ্বিতীয় সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে এ শব্দে:
( والذي نفسي بيده ليوشكن أن ينزل فيكم ابن مريم حكما عدلا فيكسر الصليب ويقتل الخنزير ويضع الحرب ويفيض المال حتى لا يقبله )
"ঐ সত্ত্বার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অতি শীঘ্রই ঈসা ইবনু মারইয়াম একজন ন্যায় পরায়ণ শাসক হিসেবে তোমাদের মাঝে (আকাশ থেকে) অবতরণ করবেন। তিনি (খৃষ্টান ধর্মের প্রতীক) 'ক্রশ' ভেংগে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন এবং জিযিয়া তুলে দিবেন, অজস্র ধন-সম্পদ দান করবেন। কিন্তু তা গ্রহণ করার মত (গরীব মানুষ) পাওয়া যাবে না।"
আমি বলি: এর সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ।

আরেকটি সূত্র: ইবনু সীরীন হতে এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন:
( ينزل ابن مريم عليه لأمته وممصرتان بين الأذان والإقامة فيقولون له : تقدم . فيقول : بل يصلي بكم إمامكم أنتم أمراء بعضكم على بعض )
"ইবনু মারইয়াম (আঃ) অবতরণ করবেন আযান ও ইক্বামাতের মধ্যবর্তী সময়ে হালকা হলুদ রং বিশিষ্ট দু' খানি চাঁদর ও বর্ম পরিহিত অবস্থায়। লোকেরা তাঁকে বলবে : আপনি অগ্রসর হোন। তখন তিনি বলবেন : বরং তোমাদের ইমাম তোমাদেরকে সলাত পড়াবেন। তোমরা একে অপরের ইমাম।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৮)। এর সানাদ সহীহ মাক্বত্ব'। এটি মুরসালভাবে মারফুর হুকুমে রয়েছে।

আরেকটি সূত্র : মা'মার হতে। তিনি বলেন :
( أنه المهدي الذي يصلي وراءه عيسى )
"ঈসা (আঃ) যাঁর পিছনে সলাত পড়বেন তিনি হলেন মাহদী।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৯)।

পঞ্চম সূত্র : আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে এ শব্দে :
( ينزل عيسى ابن مريم فيقتل الخنزير ويمحو الصليب وتجمع له الصلاة ويعطي المال حتى لا يقبل ويضع الخراج وينزل الروحاء فيحج منها أو يعتمر أو يجمعهما ) قال : وتلا أبو هريرة : وإن من أهل الكتاب إلا ليؤمنن به قبل موته ويوم القيامة يكون عليهم شهيدا [ النساء : ١٥٩ ] . فزعم حنظلة أن أبا هريرة قال : ( يؤمن به قبل موته ) : عيسى فلا أدري هذا كله حديث النبي صلى الله عليه و سلم أو شيء قاله أبو هريرة ?
"ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন। তিনি শুকর হত্যা করবেন, 'ক্রশ' বিলুপ্ত করবেন, তার জন্য সলাত একত্র করা হবে, তিনি ধন-সম্পদ দান করবেন, এমনকি তা গ্রহণ করার মত লোক পাওয়া যাবে না। তিনি খারাজ তুলে দিবেন। তিনি রাওহাতে অবতরণ করবেন এবং সেখান থেকে হাজ্জ বা 'উমরাহ করবেন অথবা দুটোই একত্রে করবেন।" তিনি বলেন, আবূ হুরাইরাহ তিলাওয়াত করলেন: "কিতাবধারীদের মধ্যে সবাই তার মৃত্যুর আগে ঈসার উপর ঈমান আনবেই। আর ক্বিয়ামাতের দিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবেন।" (সূরাহ নিসা; ১৫৯)। ফলে হানযালাহ ধারণা করলেন, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন: "তারা ঈসার মৃত্যুর পূর্বে ঈমান আনবে।" আমি জানি না, এর পুরোটাই কি নাবী (সাঃ) এর হাদীস নাকি এতে আবূ হুরাইরাহ্র নিজস্ব কিছু কথা আছে?
আহমাদ (২/২৯০-২৯১)।
আমি বলি: এর সানাদ মুসলিমের শর্তে সহীহ। তিনি এর 'রাওহাতে' অবতরণ থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ আল-ইহলাল (৪/৬০), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৪২), আদ-দানী (১৪৪/১) এবং ইবনু মানদাহ (২/৪১)।

ষষ্ঠ সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে এ শব্দে:
( ليس بيني وبينه نبي ( يعني : عيسى ( وإنه نازل فإذا رأيتموه فاعرفوه : رجل مربوع إلى الحمرة والبياض بين ممصرتين كأن رأسه يقطر وإن لم يصبه بلل فيقاتل الناس على الإسلام فيدق الصليب ويقتل الخنزير ويضع الجزية ويهلك الله في زمانه الملل كلها إلا الإسلام ويهلك [ الله في زمانه ] المسيح [ الكذاب ] الدجال [ وتقع الأمنة على الأرض حتى ترتع الأسود مع الإبل والنمار مع البقر والذئاب مع الغنم ويلعب الصبيان بالحيات لا تضرهم ] فيمكث في الأرض أربعين سنة ثم يتوفى فيصلي عليه المسلمون [ ويدفنونه ] )
"আমার এবং ঈসার মাঝে কোন নাবী আসবে না। অবশ্য তিনি (আকাশ থেকে) অবতরণ করবেন। তোমরা যখন তাঁকে দেখবে, তখন তাঁকে এভাবে চিনবে যে, 'তিনি হবেন মধ্যম আকৃতির, তার দেহের রং হবে লাল-সাদা মিশ্রিত, তার পরিধানের কাপড় হবে হালকা হলুদ রং বিশিষ্ট দু' খানি চাঁদর এবং তার মাথার চুল ভিজে না থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে ফোটায় ফোটায় পানি ঝরতে থাকবে। তিনি ইসলামের জন্য লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন, ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া কর রহিত করবেন। মহান আল্লাহ তাঁর সময়ে ইসলাম ছাড়া অন্য সব মতবাদকে ধবংস করে দিবেন। তিনি [মিথ্যাবাদী] দাজ্জালকে হত্যা করবেন। [পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এমনকি সিংহ উটের সাথে ঘাস খাবে, চিতাবাঘ গরুর সাথে এবং নেকড়ে বকরীর সাথে। আর শিশুরা সাপ নিয়ে খেলা করবে অথবা এসব তাদের কোন ক্ষতি করবে না]। এরপর তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর জীবিত থাকার পর ইন্তিকাল করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযার সলাত আদায় করবেন [এবং তাকে দাফন করবেন]।
আবূ দাউদ (২/২১৪) হাদীসের শব্দাবলী তার, ইবনু হিব্বান (১৯০২, ১৯০৩), আহমাদ (২/৪০৬, ৪৩৭), ইবনু জারীর 'আত-তাফসীর' (৭১৪৫ নং), আজরী ((৩৮০ পৃঃ), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৪৫) এবং তিনি বৃদ্ধি করেছেন:
) وتكون الدعوة واحدة لرب العالمين ) "তখন একটি মাত্র দা'ওয়াত হবে রব্বুল আলামীনের।"
এর শাহিদ বর্ণনা রয়েছে পরবর্তী সূত্রে।
আমি বলি: এর সানাদ সহীহ। হাফিয একে সহীহ বলেছেন। হাদীসটি বর্ণিত আছে সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ (হা/২১৮২)।

সপ্তম সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে এ শব্দে:
) يوشك المسيح عيسى ابن مريم أن ينزل حكما قسطا وإماما عدلا فيقتل الخنزير ويكسر الصليب وتكون الدعوة واحدة )
“অচিরেই মাসীহ ঈসা ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন ন্যায় পরায়ণ শাসক ও ইনসাফকারী ইমাম হিসেবে। তিনি শুকর হত্যা করবেন, ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন। তখন দা’ওয়াত হবে শুধুমাত্র একটি।”
আহমাদ (২/৩৯৪) আমি বলি: এর সানাদ হাসান।

অষ্টম সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে অনুরূপ। তবে শেষের বাক্যটি বাদে। তাতে অতিরিক্ত রয়েছে:
(ويرجع السلم وتتخذ السيوف مناجل وتذهب حمة كل ذات حمة وتنزل السماء رزقها وتخرج الأرض بركتها حتى يلعب الصبي بالثعبان فلا يضره ويراعي الغنم الذئب فلا يضرها ويراعي الأسد البقر فلا يضرها)
“শান্তি ফিরে আসবে, তরবারি পরিত্যাক্ত হবে, সকল প্রকার বিষধর প্রাণীর বিষ দূর হয়ে যাবে, আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে, যমীন তার বরকত উদগীরন করবে, এমনকি শিশুরা সাপ নিয়ে খেলা করবে তা সত্ত্বেও সাপ তার কোন ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বকরীর পাল পাহারা দিবে, সে তার কোন ক্ষতি করবে না। বাঘ গরুর পাল পাহারা দিবে, সে তাদের কোন ক্ষতি করবে না।”
আহমাদ (২/৪৮২-৪৮৩), ফুলাইহ্ হতে, তিনি হারিস ইবনু ফুযাইল আনসারী হতে, তিনি যিয়াদ ইবনু সা’দ হতে আবূ হরাইরাহ সূত্রে।
আমি বলি: এর সানাদ সম্পর্কে ইবনু কাসীর বলেন: “জাইয়্যিদ, মজবুত, সালিহ।” কিন্তু এ ব্যাপারে আমার আপত্তি আছে দু’ দিক থেকে:
এক: এই যিয়াদ ইবনু সা’দ হলো মাদানী আনসারী। ইবনু আবূ হাতিম তাকে উল্লেখ করেছেন (১/২/৫৩২) তার পুত্র সা’দ ইবনু যিয়াদের বর্ণনাতে তারই সূত্রে। কিন্তু সেখানে তার কোন দোষ-গুণ উল্লেখ করেননি। আর ইবনু হিব্বান তাকে ‘আস-সিক্বাত’ গ্রন্থে (১/৭৩) উল্লেখ করেছেন।
দুই: সানাদের এই ফুলাইহ্ হলো ইবনু সুলাইমান আর-খাযাঈ। যদি সে শাইখাইনের রিজালভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে তার ভুল প্রচুর। যেমন বলেছেন হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে।
আমি বলি: তাই উচিত হবে এ কথা বলা যে, এটি এর পূর্বের হাদীস দ্বারা মজবুত।

নবম সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে এ শব্দে :
( لا تقوم الساعة حتى ينزل الروم بالأعماق أو بدابق فيخرج إليهم جيش من المدينة من خيار أهل الأرض يومئذ فإذا تصافوا قالت الروم : خلوا بيننا وبين الذين سبوا منا نقاتلهم فيقول المسلمون : لا والله لا نخلي بينكم وبين إخواننا . فيقاتلونهم فينهزم ثلث لا يتوب الله عليهم أبدا ويقتل ثلثهم - أفضل الشهداء عند الله - ويفتتح الثلث لا يفتنون أبدا فيفتتحون قسطنطينية ( وفي رواية : فيبلغون قسطنطينية فيغنمون ) و ( في طريق أخرى عنه : سمعتم بمدينة جانب منها في البر وجانب منها في البحر ؟ ( قالوا : نعم يا رسول الله قال : ( لا تقوم الساعة حتى يغزوها سبعون ألفا من بني إسحاق فإذا جاؤوها نزلوا فلم يقاتلوا بسلاح ولم يرموا بسهم قالوا : لا إله إلا الله والله أكبر . فيسقط أحد جانبيها الذي في البحر ثم يقولوا الثانية : لا إله إلا الله والله أكبر . فيسقط جانبها الآخر ثم يقولوا الثالثة : لا إله إلا الله والله أكبر . فيفرج لهم فيدخلوها فيغنموا ) فبينما هم يقتسمون الغنائم قد علقوا سيوفهم بالزيتون إذ صاح فيهم الشيطان : إن المسيح [ الدجال ] قد خلفكم في أهليكم .
فيخرجون وذلك باطل [ فيتركون كل شيء ويرجعون ] فإذا جاؤوا الشام خرج فبينما هم يعدون للقتال يسوون الصفوف إذ أقيمت الصلاة [ صلاة الصبح ] فينزل عيسى ابن مريم صلى الله عليه وسلم فأمهم فإذا رآه عدو الله ذاب كما يذوب الملح في الماء فلو تركه لانذاب حتى يهلك ولكن يقتله الله بيده فيريه دمه في حربته )
"ক্বিয়ামাত ততক্ষণ ক্বায়িম হবে না যতক্ষণ তার পূর্বে এ নিদর্শন প্রকাশ না পাবে। রোমকরা (সিরিয়ার) আ'মাকু ও দায়িত্ব নামক নহরের কাছে অবতীর্ণ হবে। অতঃপর মাদীনাহ্ থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী তাদের মোকাবিলার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। সেখানে পৌঁছে যখন তাঁরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, তখন রোমকরা বলবে : আমাদেরকে এবং আমাদের মধ্যকার যারা বন্দী হয়েছে অথবা যারা আমাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে বন্দী করে রেখেছে উভয়কে মিলিত হওয়ার সুযোগ দাও, আমরা তাদের সাথে মিলে অথবা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমরা বলবে : মনে রেখ, আল্লাহর শপথ! আমরা তোমাদের বন্দীদেরকে ছাড়ব না অথবা যারা তাদেরকে বন্দী করেছে তাদের সাথে তোমাদেরকে মিলিত হতে দিব না। অতঃপর মুসলিমদের সাথে তাদের তুমুল লড়াই হবে। যুদ্ধে মুজাহিদদের এক তৃতীয়াংশ পরাজয় বরণ করবে, যাদের তাওবাহ আল্লাহ কবুল করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ শাহাদাত বরণ করবে, যারা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম শহীদ গণ্য হবে। আর এক তৃতীয়াংশ জয়ী হবে যারা কখনো পর্যুদস্ত হবে না। অবশেষে এরাই কুসতুনতুনিয়া জয় করবে। বিজয় লাভের পর তারা তাদের তরবারিসমূহ যাইতুন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে গণীমাত বণ্টন করতে থাকবে। এমন সময় হঠাৎ তাদের মধ্যে শয়তান চিৎকার দিয়ে বলে উঠবে : “শুনো, মাসীহ (দাজ্জাল) তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।” এ সংবাদ শুনামাত্র সবাই কুসতুনতুনিয়া থেকে বেরিয়ে আসবে। এসে দেখবে, কিছুই হয়নি, একটা গুজব মাত্র। অতঃপর তারা সিরিয়ায় পৌঁছলে শয়তান (দাজ্জাল) আত্মপ্রকাশ করবে। তখন মুসলিমরা তার মুকাবিলা করার উদ্দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে এবং সমানভাবে সারিবদ্ধ হবে। এমন সময় সলাতের আযান হবে এবং ঈসা (আ) যমীনে অবতরণ করবেন এবং তাদের ইমাম হবেন। যখন আল্লাহর দুশমন (দাজ্জাল) তাঁকে দেখবে, তখন সে এরূপ বিগলিত হয়ে যাবে যেমন পানিতে লবণ গলে যায়। তাকে যদি ছেড়েও দেয়া হয় তবুও সে বিগলিত হয়ে ধবংস হয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহর নাবী (ঈসা) তাকে নিজ হাতে হত্যা করবেন, এবং তিনি ঈমানদার সাথীদেরকে তাঁর বল্লমে ওর রক্ত দেখিয়ে দিবেন।"
মুসলিম (৮/১৭৫-১৭৬) হাদীসের শব্দাবলী তার, অনুরূপভাবে তার আরেকটি সূত্র (৮/১৮৭-১৮৮) অতিরিক্ত অংশ তার, এবং আদ-দানী (১১৩/১-২, ১২১/২) দুটি সানাদে, হাকিম (৪/৪৮২) এবং আরেকটি রিওয়ায়াত, আর অতিরিক্ত অংশ তার, এবং তিনি বলেছেন: 'মুসলিমের শর্তে সহীহ, তবে শাইখাইন তা বর্ণনা করেননি।' মুসলিমের শর্ত করাটা তার ধারণাপ্রসূত।
আমি বলি: এর কিছু অংশের সমর্থন (শাহিদ) রয়েছে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদের হাদীসে। যা ইউসাইর ইবনু জাবির বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
هاجت ريح حمراء بالكوفة فجاء رجل ليس له هجيري إلا : يا عبد الله ابن مسعود جاءت الساعة . قال : فقعد - وكان متكئا - فقال : إن الساعة لا تقوم حتى لا يقسم ميراث ولا يفرح بغنيمة . ثم قال بيده هكذا ونحاها نحو الشام فقال : عدو يجمعون لأهل الإسلام ويجمع لهم أهل الإسلام . قلت : الروم تعني ؟ قال : نعم وتكون عند ذاكم القتال ردة شديدة فيشترط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حتى يحجز بينهم الليل فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يشترط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حتى يحجز بينهم الليل فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة ثم يشترط المسلمون شرطة للموت لا ترجع إلا غالبة فيقتتلون حتى يمسوا فيفيء هؤلاء وهؤلاء كل غير غالب وتفنى الشرطة فإذا كان اليوم الرابع نهد إليهم بقية أهل الإسلام فيجعل الله الدبرة عليهم فيقتتلون مقتلة - إما قال : لا يرى مثلها وإما قال : لم ير مثلها - حتى إن الطائر ليمر بجنباتهم فما يخلفهم حتى يخر ميتا فيتعاد بنو الأب كانوا مائة فلا يجدونه بقي منهم إلا الرجل الواحد فبأي غنيمة يفرح ؟ أو أي ميراث يقاسم ؟ فبينما هم كذلك إذ سمعوا ببأس هو أكبر من ذلك فجاءهم الصريخ إن الدجال قد خلفهم في ذراريهم . فيرفضون ما في أيديهم ويقبلون فيبعثون عشرة فوارس طليعة . قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : ( إني لأعرف أسماءهم وأسماء آبائهم وألوان خيولهم هم خير فوارس على ظهر الأرض يومئذ )
"একদা কূফা নগরীতে লোহিত বর্ণের একটা দগ্ধা হাওয়া প্রবাহিত হলো। তখন এক ব্যক্তি এসে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে বললো: সাবধান হে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ! ক্বিয়ামাত এসে গেছে। অবশ্য এটা তার অভ্যাসগত নয়। বর্ণনাকারী বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ হেলান অবস্থায় ছিলেন, এ কথা শুনে তিনি বসে গেলেন। তিনি বসে বললেন: ক্বিয়ামাত ঐ পর্যন্ত ক্বায়িম হবে না যে পর্যন্ত এ অবস্থার সৃষ্টি না হবে যে, মীরাস বণ্টন করা হবে না এবং গণীমাত পেয়ে কোন আনন্দ প্রকাশ করা হবে না। অতঃপর তিনি হাত দিয়ে এভাবে ইশারা করলেন এবং হাত সিরিয়ার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তারপর বললেন, একদল দুশমন সিরিয়াবাসীর উদ্দেশে একত্রিত হবে এবং একদল ইসলামপন্থীও তাদের উদ্দেশে একত্রিত হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি রোমীদের কথা বলছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর বললেন: ঐ যুদ্ধে (উভয় পক্ষের) প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই প্রবল হবে। মুসলিম বাহিনী একদল মুজাহিদকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত রাখবে, যারা বিজয়ী না হওয়া পূর্বে কিছুতেই ফিরবে না। অতঃপর তারা সারাদিন যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে যে পর্যন্ত রাত তাদের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি না করে। রাত হলে এই দল ঐ দল সকলেই এভাবে ফিরে আসবে যে, কেউই বিজয়ী হতে পারেনি। এদিকে মৃত্যুর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটি শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর মুসলিমরা মৃত্যুর জন্য আরেকটি দল প্রস্তুত করবে যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এরাও রাত এসে অন্তরায় সৃষ্টি না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। অবশেষে রাত এসে গেলে এই দল ঐ দল সবাই অবিজয়ী হয়ে ফিরে আসবে। আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটিও শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর মুসলিমরা আরেকটি দলকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করবে যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরে আসবে না। এরাও রাত এসে অন্তরায় সৃষ্টি না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। অবশেষে রাত এসে গেলে এই দল ঐ দল সবাই অবিজয়ী হয়ে ফিরে আসবে। আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটিও শেষ হয়ে যাবে। যখন চতুর্থ দিন আসবে তখন অবশিষ্ট মুসলিম বাহিনী শত্রুবাহিনীর দিকে অগ্রসর হবে। এদেরকেও আল্লাহ পরাজয়ের সম্মুখিন করবেন অথবা চরম অবস্থায় সম্মুখিন করবেন অথবা ধ্বংসের মুখোমুখি পৌঁছাবেন। যাতে এরাও এমন প্রাণপণে যুদ্ধ করবে যার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না বা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি পাখি যখন তাদের আশেপাশে উড়ে যাবে, তখন তাদেরকে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না। অতিক্রম করতে গেলে মরে মাটিতে পড়ে যাবে।
যুদ্ধশেষে কোন পিতার সন্তানদেরকে যাদের সংখ্যা একশো গণনা করা হবে কিন্তু মাত্র একজন ব্যতীত তাদের আর কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে না। তাহলে কিসের গণীমাতে আনন্দ হবে? বা কোন মীরাস বণ্টন করা হবে? কাদের মাঝে বণ্টন করা হবে? যারা বেঁচে থাকবে তারা এ শোক অবস্থায় থাকতেই হঠাৎ এর চাইতেও বড় বিপদের কথা শুনবে। তাদের কাছে বিপদের সংবাদদাতা এসে শুনাবে যে, দাজ্জাল তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের সন্তান-সন্তুতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তখন তারা হয়রান পেরেশান হয়ে তাদের হাতে যা কিছু আছে, সব পরিত্যাগ করে নিজ নিজ গৃহের দিকে রওয়ানা হবে। তাদের আগে আগে দশ জন অশ্বারোহী পাঠিয়ে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: ঐসব অশ্বারোহীর নাম ও তাদের পিতার নাম, এমনকি তাদের ঘোড়ার রং পর্যন্ত আমার জানা আছে। তারা তৎকালীন পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে উত্তম অশ্বারোহী বা সেরা অশ্বারোহীদের অন্যতম হবে।"
আহমাদ (১/৪৩৫), মুসলিম (৮/১৭৭-১৭৮)

দশম সূত্র: আবূ হুরাইরাহ হতে মারফুভাবে:
(ينزل عيسى ابن مريم فيدق الصليب ويقتل الخنزير ويضع الجزية ويهلك الله عز و جل في زمانه الدجال وتقوم الكلمة الله رب العالمين )
"ঈসা ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া রহিত করবেন। আল্লাহ তাঁর যুগেই দাজ্জালকে ধবংস করবেন। আর তখন কালেমা শুধুমাত্র হবে আল্লাহ রব্বুল 'আলামীনের জন্য।"
আদ-দানী (১৪৩/২), ইবনু মানদাহ (৪১/২) এবং এর সানাদ জাইয়্যিদ।
এই হলো শুধুমাত্র আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত হাদীসের দশটি সানাদ সূত্র। এটা তার সূত্রে মুতাওয়াতির বর্ণনা।

নবম: হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান হতে বর্ণিত। যা এইমাত্র গত হওয়া আবূ হুরাইরার হাদীসের অনুরূপ, যা এর চেয়ে পরিপূর্ণ এবং এতে রয়েছে: তিনি আক্বাবায়ে আফীক্বের উল্লেখ করেন। তাতে আছে:
(فلما قاموا يصلون نزل عيسى ابن مريم صلوات الله عليه إمامهم فصلى بهم ) ۱ ) فلما انصرف قال : هكذا : أفرجوا بيني وبين عدو الله . ( قال أبو حازم : قال أبو هريرة : فيذوب كما تذوب الإهالة في الشمس وقال عبد الله بن عمرو : كما يذوب الملح في الماء ) وسلط الله عليهم المسلمين فيكسرون الصليب ويقتلون الخنزير ويضعون الجزية )
"যখন লোকেরা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করতে থাকবে তখন ঈসা ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন এবং তাদের সাথে সলাত আদায় করবেন।"৪
অতঃপর সলাত শেষে তিনি বললেন: এভাবে : তোমরা আমার মাঝে এবং আল্লাহর দুশমনের মাঝে জায়গা খালি করে দাও। আবূ হাযিম বলেন, আবূ হুরাইরাহ বলেছেন: সে এমনভাবে বিগলিত হবে যেমন সূর্যের (তাপে) চর্বি গলে যায়। আর 'আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন: যেমনভাবে লবন পানিতে বিগলিত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাদের উপর মুসলিমদেরকে কর্তৃত্ব দিবেন। ফলে তারা ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া কর রহিত করবেন।"
এটি বর্ণনা করেছেন ইবনু মানদাহ (৯৫/২), হাকিম (৪/৪৯০-৪৯১) এবং তিনি বলেছেন: মুসলিমের শর্তে সহীহ। যাহাবী তার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আমি বলবো: এর সানাদে খালফ ইবনু খালীফাহ আশজাঈ রয়েছে। যদিও তিনি সত্যবাদী, মুসলিমের রিজাল কিন্তু তিনি শেষ বয়সে সংমিশ্রণ করতেন। কাজেই শাওয়াহিদে তার হাদীসটি জাইয়্যিদ। আর হাফিয (৬/৪৭৮) ইবনু মানদাহর সূত্রটি উল্লেখের পর বলেন: 'এর সানাদ সহীহ।' এটা ভুল অথবা শিথীলতা।

দশম: হুযাইফাহ ইবনু উসাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
(... ولكن الدجال يخرج في بغض من الناس وخفة من الدين وسوء ذات بين فيرد كل منهل فتطوى له الأرض طي فروة الكبش حتى يأتي المدينة فيغلب على خارجها ويمنع داخلها ثم جبل إيلياء فيحاصر عصابة من المسلمين فيقول لهم الذين عليهم : ما تنتظرون بهذا الطاغية أن تقاتلوه حتى تلحقوا بالله أو يفتح لكم ؟ فيأتمرون أن يقاتلوه إذا أصبحوا فيصبحون ومعهم عيسى ابن مريم فيقتل الدجال ويهزم أصحابه حتى أن الشجر والحجر والمدر يقول : يا مؤمن هذا يهودي عندي فاقتله )
"...কিন্তু দাজ্জাল এমন সময় আগমন করবে যখন মানুষ পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, ধর্মকে কিছুই মনে করবে না, এবং আপোষে খারাপ আচরণ করবে। অতঃপর (দাজ্জাল) সকল নদীর ঘাটে আগমন করবে। যমীন তার জন্য এমনভাবে সংকোচন করে দেয়া হবে তা যেন মেষের একটি চামড়া। অবশেষে সে মাদীনাতে আসবে। মাদীনাহ্ বহিরাংশে সে বিজয় লাভ করবে কিন্তু অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা প্রাপ্ত হবে। অতঃপর সে ইলিয়া পাহাড়ে গিয়ে একদল লোককে ঘেরাও করবে।"
হাকিম (৪/৫২৯-৫৩০), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮২৭) সংক্ষেপে। হাকিম বলেন: সানাদ সহীহ। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। তারা যেমন বলেছেন হাদীসটি তা-ই।
একাদশ: মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণিত, যা পূর্বে গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(৩২): এ অংশের সমর্থন (শাহিদ) দেয় হুযাইফাহ, ইবনুল ইয়ামান বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে। এবং তাতে রয়েছে:
(فلما انصرف (يعني : عيسى من الصلاة ( قال هكذا : أفرجوا بيني وبين عدو الله)
"যখন ঈসা (আঃ) সলাত থেকে অবসর হবেন তখন বলবেন: এভাবে : তোমরা আমার মাঝে ও আল্লাহর দুশমনের মাঝে জায়গা খালি করে দাও।"

অনুচ্ছেদ-(৩৩): এর কয়েকটি শাহিদ হাদীস রয়েছে:
প্রথম: আনাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন:
(يتبع الدجال من يهود أصبهان سبعون ألفا عليهم الطيالسة)
"আসবাহানের সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুসরণ করবে। যাদের গায়ে থাকবে তোয়ালে।"
মুসলিম (৮/২০৮), ইবনু হিব্বান (৬৭৬০), আহমাদ (৩/২২৪)। দেখুন, সিলসিলাহ সহীহাহ (হা/৩০৮০)।

দ্বিতীয় : জাবির হতে বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে। তাতে রয়েছে :
(يكون معه سبعون ألفا من اليهود على كل رجل منهم ساج وسيف محلى )
“তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইয়াহুদী। তাদের প্রত্যেকের সাথে চাঁদরে আবৃত কারুকার্য খচিত তলোয়ার থাকবে।”

তৃতীয় : 'উসমান ইবনু আবুল 'আস হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। তলোয়ার উল্লেখ বাদে। যা গত হয়েছে।
চতুর্থ : আবূ সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণিত হাদীস। অনুরূপ তলোয়ার শব্দ উল্লেখ বাদে। যা বর্ণনা করেছেন 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮২৫) আবূ হারূন হতে আবূ সাঈদ সূত্রে। কিন্তু আবূ হারুন মাতরূক।

পঞ্চম : আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত মারফু হাদীস এ শব্দে :
( لينزلن الدجال ( خوز ) و ( كرمان ) في سبعين ألفا وجوههم كالمجان المطرقة
"অবশ্যই দাজ্জাল এমন সত্তর হাজার লোক সহ 'খাওয' ও কিরমানে' অবতরণ করবে যাদের চেহারা হবে চেপ্টা ঢালের মত (ভাঁজযুক্ত)।"
আহমাদ (২/৩৩৭)। এর রিজাল সিক্বাত, যদি না ইবনু ইসহাক্ব আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করতেন।

অনুচ্ছেদ-(৩৪) : একদল সাহাবী সূত্রে এ অংশের সাক্ষ্য হাদীসসমূহ গত হয়েছে। যেমন :
প্রথম : জাবির বর্ণিত হাদীস
দ্বিতীয় : মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর কতিপয় সাহাবী বর্ণিত হাদীস
তৃতীয় : 'উসমান ইবনু আবুল 'আস বর্ণিত হাদীস
চতুর্থ : আবু হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস
পঞ্চম: হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান বর্ণিত হাদীস

অনুচ্ছেদ-(৩৫): এ অংশের সমর্থনে কোন (শাহিদ) হাদীস পেলাম না।

অনুচ্ছেদ-(৩৬): এর কয়েকটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: মাজমা' ইবনু জারিয়‍্যাহ আল-আনসারী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি:
(يقتل ابن مريم الدجال بباب لد)
"ইবনু মারইয়াম দাজ্জালকে বাবে লুদে হত্যা করবেন।"
তিরমিযী (২২৪৫), ইবনু হিব্বান (১৯০১), তায়ালিসি (২/২১৯), 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৫), আহমাদ (৩/৪২০), আদ-দানী (১৪৩/১, ২)। ইমাম তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।
আমি বলি: হয়তো এর পরবর্তীতে আগত শাওয়াহিদ দ্বারা। অন্যথায় এর সানাদে 'উবাইদুল্লাহ ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু সা'লাবাহ আল-আনসারী রয়েছেন। তিনি মাজহুল (অজ্ঞাত), তাকে চেনা যায়নি। এছাড়া তার নাম নিয়ে মতভেদ আছে।

দ্বিতীয়: নাওয়াস ইবনু সাম'আন হতে বর্ণিত অনুরূপ মারফু হাদীস, যা গত হয়েছে।

তৃতীয়: 'আয়িশাহ হতে অনুরূপ মারফুভাবে বর্ণিত, যা গত হয়েছে। এছাড়া 'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৬) সহীহ সানাদে বর্ণনা করেছেন:
(أن عمر سأل رجلا من اليهود عن شيء ؟ فحدثه فصدقه عمر فقال له عمر : قد بلوت صدقك فأخبرني عن الدجال . قال : وإله اليهود ليقتلنه ابن مريم بفناء ) لد)
"একদা 'উমার (রাঃ) এক ইয়াহুদীকে কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে তাঁর উত্তর দিলো। 'উমার (রাঃ) তার কথা বিশ্বাস করলেন এবং তাকে বললেন: তোমার সততা আমি পরীক্ষা করেছি। এবার তুমি আমাকে দাজ্জাল সম্পর্কে কিছু বলো। জবাবে সে বললো, সে ইয়াহুদীদের ইলাহ্। লুদ্দ নামক স্থানের আঙ্গিনায় ইবনু মারইয়াম অবশ্যই তাকে হত্যা করবেন।"

অনুচ্ছেদ-(৩৭): এর সমর্থনে কয়েকটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: 'উসমান ইবনু আবুল 'আস বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
দ্বিতীয়: জাবির বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
তৃতীয়: হুযাইফাহ ইবনু উসাইদ বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।

চতুর্থ: ইবনু 'উমার বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে। কিন্তু এর আরেকটি সানাদ রয়েছে যা পূর্বেরটির চেয়ে অধিক সহীহ। এ শব্দে:
( تقاتلكم اليهود فتسلطون عليهم حتى يقول الحجر : يا مسلم هذا يهودي ورائي فاقتله )
"তোমাদের সাথে ইয়াহুদীদের যুদ্ধ হবে। তোমরা তাদের উপর কর্তৃত্ব করবে, এমনকি পাথর বলবে: হে মুসলিম! এই তো আমার পিছনে ইয়াহুদী, তাকে হত্যা করো।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৩৭), তার থেকে আহমাদ (২/১৪৯), তিরমিযী (২২৩৭) এবং তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ। অতঃপর আহমাদ (২/১২২, ১৩১), বুখারী (৬/৭৮, ৪৭৮), মুসলিম (৮/১৮৮) 'আবদুর রাযযাক্ব এর চেয়ে ভিন্ন সানাদে, এবং আদ-দানী (৬৫/১)।

পঞ্চম: আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ
( لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون اليهود فيقتلهم المسلمون حتى يختبئ اليهودي من رواء الحجر والشجر فيقول الحجر أو الشجر : يا مسلم يا عبد الله هذا يهودي خلفي فتعال فاقتله . إلا الغرقد فإنه من شجر اليهود )
"কিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না মুসলিমরা ইয়াহুদীদের সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর মুসলিমরা তাদেরকে হত্যা করবে, এমনকি ইয়াহুদীরা পাথর ও গাছের পিছনে লুকিয়ে থাকবে। ফলে পাথর অথবা গাছ বলবে: হে মুসলিম! হে আল্লাহর বান্দা! এইতো আমার পিছনে ইয়াহুদী। তুমি এসো এবং তাকে হত্যা করো। তবে গারক্বাদ গাছ ব্যতীত, তা ইয়াহুদীদের গাছ।
বুখারী, মুসলিম, আহমাদ (২/৩৯৮, ৪১৭, ৫৩০), খতীব (৭/২০৭), আদ-দানী (৬৪/২-৬৫/৩)।

অনুচ্ছেদ-(৩৮): এ বিষয়ের উপর সমস্ত হাদীসাবলীর ঐক্যমত্য এসেছে যে, দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ দিন ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু এ দিনগুলোকে নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে। তা কি চল্লিশ বছর- যেমন এ বর্ণনায় রয়েছে, নাকি চল্লিশ দিন ও রাত- যা অন্য বর্ণনায় রয়েছে?
সহীহ ও বিশুদ্ধ কথা হলো, চল্লিশ দিন ও রাত। কেননা এটাই অধিক সহীহ, এবং এর পক্ষে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যাও অধিক। যেমন সামনে এর বর্ণনা আসছে। আর চল্লিশ বছরের বর্ণনাটি সানাদ যঈফ হওয়ার পাশাপাশি আমি এর পক্ষে গ্রহণযোগ্য কোন শাহিদ বর্ণনাও পেলাম না যদ্বারা একে মজবুত করা সম্ভব। তবে শাহ্ ইবনু হাওশাব বর্ণিত হাদীস ছাড়া, যা আসমা বিনতু ইয়াযীদ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এ শব্দে:
) يمكث الدجال في الأرض أربعين سنة السنة كالشهر والشهر كالجمعة والجمعة كاليوم واليوم كاضطرام السعفة في النار )
"দাজ্জাল পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবে। তখন এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস হবে এক সপ্তাহের সমান এবং এক সপ্তাহ হবে এক দিনের সমান, আর এক দিনের পরিমাণ হবে আগুনের তাপে ফোস্কা পড়ার মত সময়।"
কিন্তু হাদীসটি মুনকার। সানাদে শাহ্ ইবনু হাওশাব দুর্বল এবং তিনি এটি একা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি শাহিদ হওয়ার যোগ্য নয়।
বর্ণনাটিকে মজবুত করবে না যা বর্ণনা করেছেন সুহাইল ইবনু আবূ সালিহ তার পিতা হতে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে মারফুভাবে:
( لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان فتكون السنة كالشهر ويكون الشهر كالجمعة وتكون الجمعة كاليوم ويكون اليوم كالساعة وتكون الساعة كاحتراق السعفة أو الخوصة )
"ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না সময় (অতি) কাছাকাছি হয়ে যায়। তখন এক বছর হবে এক মাসের সমান, এক মাস হবে এক সপ্তাহের সমান, এক সপ্তাহ হবে এক দিনের সমান এবং এক দিন হবে এক ঘন্টার সমান, এবং এক ঘন্টা হবে খেজুর পাতা পোড়ানো বা ফোসকা পড়ার সময়ের পরিমাণ।"
আহমাদ (২/৫৩৭-৫৩৮), আবূ ইয়ালা (৩০২/১), ইবনু হিব্বান (১৮৮৮)।
আমি বলি: এর সানাদ মুসলিমের শর্তে সহীহ। যেমন ইবনু কাসীর বলেছেন।
এর শাহিদ বর্ণনা রয়েছে আনাস ইবনু মালিক হতে মারফুভাবে। যা বর্ণনা করেছেন তিরমিযী (২৩৩৩) এবং তিনি একে গরীব বলেছেন। এবং আরেকটি মুরসালভাবে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে। যা বর্ণনা করেছেন আদ-দানী (১৪/১)।
আমি বলি: এটা শাহ্ বর্ণিত হাদীসকে শক্তিশালী করবে না। কেননা এতে দাজ্জালের কথা উল্লেখ নেই। যা সুস্পষ্ট। আর এটি ব্যাপক অর্থবোধক (মুতলাকু) হাদীস। যাকে নিৰ্দ্দিষ্ট (মুক্বায়্যিদ) করা জায়িয হবে না। অর্থাৎ শাহ্র বর্ণিত হাদীসকে- বিশেষত যঈফ হওয়ার কারণে। আর একে নিদ্দিষ্ট করার পর যা অর্জন হবে তা হলো, এটি অন্যান্য (সহীহ) হাদীসসমূহের বিরোধীতা করবে। আর এরূপ তো জায়িয নয়, যেমন তা গোপন নয়।
আর ইঙ্গিতকৃত ঐ সমস্ত সুষ্পষ্ট বর্ণনাবলী, যাতে দাজ্জালের চল্লিশ বলতে চল্লিশ দিন বলা হয়েছে, চল্লিশ বছর নয়, তা সাহাবীগণের এক জামা'আত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এর সবগুলো ইতোপূর্বে গত হয়ে গেছে।
কাজেই আমি এখানে তাদের বর্ণনাসমূহের প্রতি ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট মনে করছি:
প্রথম: নাওয়াস ইবনু সাম'আন বর্ণিত হাদীস
দ্বিতীয়: জুবাইর পুত্র নুফাইর বর্ণিত হাদীস
তৃতীয়: নাবী (সাঃ)-এর জনৈক সাহাবী বর্ণিত হাদীস
চতুর্থ: জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ বর্ণিত হাদীস
পঞ্চম: আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস
আমি বলি: এই সমস্ত সহীহ হাদীসমূহ 'আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর বর্ণিত হাদীসের বিরোধীতা করছে না। তা হলো, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
( يخرج الدجال في أمتي فيلبث فيهم أربعين يوما أو أربعين ليلة أو أربعين شهرا فيبعث الله عز و جل عیسی ابن مریم - كأنه عروة بن مسعود الثقفي – فيظهر فيهلكه ثم يلبث الناس بعده سنين سبعا ليس بين اثنين عداوة ثم يرسل الله ريحا باردة من قبل الشام فلا يبقى أحد في قلبه مثقال ذرة من إيمان إلا قبضته .. )
"দাজ্জাল আমার উম্মাতের মধ্যে বের হবে। সে তাদের মধ্যে অবস্থান করবে চল্লিশ দিন অথবা চল্লিশ রাত অথবা চল্লিশ মাস (আমি ভাল করে অবহিত নই যে, নাবী [সাঃ] কোনটি বলেছেন)। তখন মহান আল্লাহ ঈসা ইবনু মারইয়ামকে প্রেরণ করবেন, তিনি যেন 'উরওয়াহ ইবনু মাসউদ আস-সাক্বাফীর আকৃতি বিশিষ্ট। (তিনি যমীনে অবতরণ করে দাজ্জালকে অনুসন্ধান করবেন), অতঃপর তিনি বিজয়ী হবেন এবং দাজ্জালকে ধবংস করবেন। এর পরে মানুষ দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ এমন শান্তিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করবে যে, দুই ব্যক্তির মধ্যে কোন দুশমনি থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ সিরিয়ার দিক থেকে একটা শীতল বাতাস ছেড়ে দিবেন। শীতল বাতাসের স্পর্শ লেগে যমীনের বুকে এমন একটি লোকও জীবিত থাকবে না যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান আছে, বরং সবাই প্রাণ ত্যাগ করবে।"
আহমাদ (২/১৬৬), মুসলিম (৮/২০১), মুস্তাদরাক হাকিম (৪/৫৪৩- ৫৪৪, ৫৫০, ৫৫১) তিনি এতে সংশয়ে পড়েছেন, ইবনু হিব্বান (৭৩০৯), এবং ইবনু মানদাহ (৯৮/২)।
আমি বলবো: এ হাদীস পূর্বের হাদীসসমূহের বিরোধীতা করছে না হাদীসটিতে দ্বিধা-সংশয় থাকলেও। বর্ণনাকারীর না জানা থাকার কারণেই বর্ণনাটিতে দ্বিধা-সংশয় হয়েছে (চল্লিশ দিন, নাকি রাত, নাকি মাস?)। আর ঐ সমস্ত বর্ণনাকারীগণ চল্লিশ দিনকেই দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করেছেন। যিনি দলীল জানেন তিনি দলীল না জানা ব্যক্তির উপর প্রাধাণ্যযোগ্য।
আবার এটাও সম্ভাবনা রাখে যে, উক্ত সংশয় স্বয়ং নাবী (সাঃ) থেকে প্রকাশ পেয়েছে। আর এমনটি হয়েছে তাঁর নিকট উক্ত চল্লিশ দিনের পরিমাণ নির্ধারণ বিষয়ে ওয়াহী নাযিল হওয়ার পূর্বে। অতঃপর পরবর্তীতে তাঁর নিকট (চল্লিশ দিন নিৰ্দ্দিষ্ট করে) ওয়াহী নাযিল হয়। এ দিকটি দৃঢ় করছে আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস: (في أربعين يوما الله أعلم ما مقدارها ) زاد ابن حبان : ( الله أعلم ما مقدارها ) (مرتين)
"চল্লিশ দিন, আল্লাহই এর পরিমাণ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।" আর ইবনু হিব্বান বৃদ্ধি করেছেন: "আল্লাহই এর পরিমাণ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত (দুইবার)।"

অনুচ্ছেদ-(৩৯) : এই অংশটি যঈফ ও গরীব। পাশাপাশি সহীহ হাদীসসমূহের পরিপন্থি। যেগুলোর প্রতি ইতোপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাহফুয হলো: (أربعون يوما يوم كسنة ويوم كشهر ويوم كجمعة وسائر أيامه كأيامكم هذه )
"চল্লিশ দিন। যার এক দিন হবে এক বছরের সমান, আরেক দিন এক মাসের সমান, আরেক দিন এক সপ্তাহের সমান এবং বাকী দিনগুলো তোমাদের এই দিনগুলোর সমান হবে।"

অনুচ্ছেদ-(৪০): উক্ত সহীহ হাদীসগুলোতে এ অংশের উল্লেখ নেই। বরং এটি প্রমাণিত আছে আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসে এ শব্দে:
(لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان .. وتكون الساعة كاحتراق السعفة)
"ক্বিয়ামাত কায়িম হবে না যতক্ষণ না সময় কাছাকাছি হয়ে যায়.., তখন এক ঘন্টা হবে খেজুর পাতা পোড়ানোর মত।” কিন্তু এতে দাজ্জালের কথা উল্লেখ নেই। যেমনটি গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(৪১): এর সমর্থনে কোন (শাহিদ) হাদীস পেলাম না।

অনুচ্ছেদ-(৪২): এ শব্দে এর কোন মৌলিকত্ব পেলাম না। এতে ‘ছোট দিনের’ কথা উল্লেখ আছে। মাহফুয হলো যা পূর্বে গত হওয়া নাওয়াস এবং জুবাইর পুত্র নুফাইর বর্ণিত হাদীসে রয়েছে:
(قلنا : يا رسول الله فذلك اليوم الذي كسنة أتكفينا فيه صلاة يوم ؟ قال : لا اقدروا له قدره)
"আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যে দিনটি এক বছরের সমান হবে তখন কি আমাদের জন্য এক দিনের সলাতই যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: না, বরং অনুমানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করে সলাত আদায় করবে।"

অনুচ্ছেদ-(৪৩): এই অংশ পূর্বোক্ত আবূ হুরাইরাহ্ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে একাধিক সানাদে।

অনুচ্ছেদ-(৪৪): এর সমর্থন দেয় ত্বাউস বর্ণিত হাদীস। তাতে রয়েছে, তিনি বলেন:
( ينزل عيسى ابن مريم إماما هاديا ومقسطا عادلا فإذا نزل كسر الصليب وقتل الخنزير ووضع الجزية وتكون الملة واحدة ويوضع الأمن في الأرض حتى أن الأسد ليكون مع البقر تحسبه ثورها ويكون الذئب مع الغنم تحسبه كلبها وترفع حمة كل ذات حمة حتى يضع الرجل يده على رأس الحنش فلا يضره وحتى تفر الجارية الأسد كما يفر ولد الكلب الصغير ويقوم الفرس العربي بعشرين درهما ويقوم الثور بكذا وكذا وتعود الأرض كهيئتها على عهد آدم ويكون القطف - يعني : العنقاد - يأكل منه النفر ذو العدد وتكون الرمانة يأكل منها النفر ذو العدد )
"ঈসা ইবনু মারইয়াম অবতরণ করবেন ইমাম, পথপ্রদর্শক ও ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে। তিনি আগমন করে ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর হত্যা করবেন, জিযিয়া কর রহিত করবেন। তখন একটি মাত্র দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। যমীনে পূর্ণ নিরাপত্তা বিরাজ করবে। এমনকি বাঘ গাভীর সাথে থাকবে আর গাভী একে বলদ মনে করবে। নেকড়ে বকরী পালের সাথে থাকবে, অথচ বকরী তাকে পাহারাদার কুকুর মনে করবে। সকল বিষধর প্রাণীর বিষ বিলোপ করা হবে। এমনকি কোন লোক সাপের মাথায় হাত রাখলেও সে তার কোন ক্ষতি করবে না। এমনকি বালিকা বাঘ তাড়া করবে যেমন নাকি কুকুর শাবক ছোটদেরকে তাড়া করে। আরবের ঘোড়ার মূল্য নির্ধারণ করা হবে বিশ দিরহাম। বলদ বা ষাঁড়ের এমন এমন দাম নির্ধারণ করা হবে। পৃথিবী আদম (আ)-এর যুগের অবস্থায় ফিরে আসবে। একগুচ্ছ আঙ্গুর অনেক লোকে খাবে এবং একটি ডালিমও অনেক লোকে খাবে।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৪৩)।
আমি বলি: এর সানাদ মুরসাল সহীহ। রিজাল সিক্বাত, শাইখাইনের রিজাল।

অনুচ্ছেদ-(৪৫): এ অংশের শাহিদ বর্ণনা গত হয়েছে ত্বাউস বর্ণিত হাদীসে এবং আবূ হুরাইরাহ হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হাদীসসমূহে। তবে তার সূত্রগুলোর মধ্যকার একটি সূত্র অবশিষ্ট রয়েছে। তা হলো, যায়িদ ইবনু আসলাম জনৈক ব্যক্তি হতে আবূ হুরাইরাহ সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
( لا تقوم الساعة حتى ينزل عيسى ابن مريم إماما مقسطا و [ تسلب ] قريش الإمارة ويقتل الخنزير ويكسر الصليب وتوضع الجزية وتكون السجدة واحدة لرب العالمين وتضع الحرب أوزارها وتملأ الأرض من الإسلام كما تملأ الآبار من الماء وتكون الأرض كما ثور الورق ( يعني : المائدة ) وترفع الشحناء والعداوة ويكون الذئب في الغنم كأنه كلبها ويكون الأسد في الإبل كأنه فحلها )
"যতক্ষণ পর্যন্ত ঈসা ইবনু মারইয়াম ন্যায়পরায়ণ শাসক হয়ে আগমন না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে না। কুরাইশদের নেতৃত্ব উঠিয়ে নেয়া হবে। তিনি শুকর হত্যা করবেন, ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, জিযিয়া বিলোপ করবেন। তখন একমাত্র বিশ্বজগতের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সাজদাহ্ করা হবে। যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে। পৃথিবী ইসলামে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন কূপ পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবী একটি দস্তরখানের মত হবে। হিংসা বিদ্বেষ উঠে যাবে। নেকড়ে বকরী পালের পাহারাদার কুকুরের মত হবে, আর বাঘ উটের পালের ষাঁড়ে পরিণত হবে।"
'আবদুর রাযযাক্ব (২০৮৪৪) মা'মার হতে তার সূত্রে।
আমি বলি : এর সানাদের সকলেই সিক্বাহ, শুধু নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি ব্যতীত। তিনি সাহাবী না হলেও বড় তাবিঈনদের একজন হবেন। কেননা সানাদের এই যায়িদ একজন তাবিঈ। তিনি সাহাবীদের এক জামা'আত থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং আবূ হুরাইরাহ, ইবনু 'উমার ও অন্যরা। যদিও বর্ণনাটি মাওকূফ কিন্তু তা মারফুর হুকুমে রয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(৪৬) ও (৪৭): এ দুটোর কোন মৌলিক সমর্থন (শাহিদ) পেলাম না।

অনুচ্ছেদ-(৪৮): এর সমর্থন পাওয়া যায় আসমা বিনতু ইয়াযীদ আল-আনসারিয়‍্যাহ বর্ণিত হাদীসে, যা গত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ-(৪৯): এর সমর্থনে চারটি হাদীস রয়েছে:
প্রথম: আসমা বর্ণিত হাদীস, যা এইমাত্র ইঙ্গিত করা হলো।
দ্বিতীয়: 'আয়িশাহ বর্ণিত হাদীস, যা গত হয়েছে।
তৃতীয়: ইবনু 'উমার বর্ণিত হাদীস:
( أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن طعام المؤمنين في زمن الدجال ؟ قال : ( طعام الملائكة ) . قالوا : وما طعام الملائكة ؟ قال : ( طعامهم منطقهم بالتسبيح والتقديس فمن كان منطقه يومئذ التسبيح والتقديس أذهب الله عنه الجوع فلم يخش جوعا )
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে দাজ্জালের সময়ে মু'মিনদের খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো? তিনি বললেন: "ফিরিশতাদের খাদ্য (তাদের খাদ্য হবে)। তারা বলেন, ফিরিশতাদের খাদ্য কি? তিনি বললেন: “তাদের খাদ্য হলো তাদের উক্তি তাসবীহ ও তাক্বদীস। তখন যাদের উক্তি হবে তাসবীহ ও তাক্বদীস পাঠ আল্লাহ এর দ্বারা তাদের ক্ষুধা দূর করে দিবেন। ফলে তাদের ক্ষুধার ভয় থাকবে না।"
হাকিম (৪/৫১১) এবং তিনি বলেন: 'সানাদ মুসলিমের শর্তে সহীহ।' যাহাবী তার বিরোধীতা করে বলেন: 'আমি বলি: কখনোই নয়। সানাদে সাঈদ সন্দেহভাজন। সুতরাং ভাবুন।'
আমি বলি: অর্থাৎ সাঈদ ইবনু সিনান আল-হিমসী。

চতুর্থ: আসমা বিনতু উমাইস হতে বর্ণিত:
أن النبي صلى الله عليه و سلم دخل عليها لبعض حاجته ثم خرج فشكت إليه الحاجة فقال : ( كيف بكم إذا ابتليتم بعبد قد سخرت له أنهار الأرض وثمارها فمن اتبعه أطعمه وأكفره ومن عصاه حرمه ومنعه ؟ ) . قلت : يا رسول الله إن الجارية لتجلس عند التنور ساعة الخبزها فأكاد أفتتن في صلاتي فكيف بنا إذا كان ذلك ؟ قال : ( إن الله يعصم المؤمنين يومئذ بما عصم به الملائكة من التسبيح إن بين عينيه : كافر يقرؤه كل مؤمن كاتب وغير كاتب )
"নাবী (সাঃ) কোন এক প্রয়োজনে তার নিকট গেলেন। তারপর তার কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন। তখন আসমা তাঁর নিকট কোন প্রয়োজনের কথা জানালে তিনি বললেন: তখন তোমাদের অবস্থা কেমন হবে যখন তোমরা এমন বান্দা দ্বারা পরীক্ষায় পড়বে পৃথিবীর নদী ও ফলসমূহ তার অনুগত হবে, যে তার অনুসরণ করবে তাকে প্রচুর খাবার দিবে আর যে তার অবাধ্য হবে তাকে বঞ্চিত করবে? অতঃপর তিনি বললেন: আল্লাহ তা'আলা সেদিন মু'মিনদেরকে এমন জিনিস দ্বারা রক্ষা করবেন যে তাসবীহ দ্বারা তিনি ফিরিশতাদের রক্ষা করে থাকেন। তার (দাজ্জালের) দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) কাফির শব্দ লিখা থাকবে। প্রত্যেক মু'মিন তা পড়তে পারবে চাই সে শিক্ষিত হোক বা নিরক্ষর।"
আল্লামা হায়সামী বলেন: হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ত্বাবারানী এবং তাতে নাম উল্লেখহীন জনৈক বর্ণনাকারী আছেন। এছাড়া অবশিষ্ট রিজাল সহীহ রিজাল।
পরিশেষে বলতে হয়, আবূ উমামাহ্র এই হাদীসটির সানাদ যদিও যঈফ কিন্তু এই তাখরীজ ও তাহক্বীক্বের মাধ্যমে সুষ্পষ্ট প্রতীয়মান হলো যে, হাদীসটি সহীহ; এর অধিকাংশ অংশ বা অনুচ্ছেদের পক্ষে বিশুদ্ধ শাওয়াহিদ দ্বারা হাদীসটি সহীহ পর্যায়ে উন্নীত। ইতোপূর্বে হাদীসটির প্রত্যেক অংশ বা অনুচ্ছেদে তা উল্লেখ হয়েছে। এখন আমার প্রবল ইচ্ছা হলো, মাসীহ দাজ্জালের কিস্সা, ঈসা (আ)-এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করা সম্পর্কে আবু উমামাহ্ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসকে ঘিরে এই প্রবন্ধে যা কিছু সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তার সবগুলো আমি একত্রিত করবো। তবে যে অংশের শাহিদ (হাদীস) পাইনি তা বাদে। আর প্রত্যেক অংশের সমর্থনে বর্ণিত অন্যান্য হাদীসসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যও যথাযথ স্থানে উল্লেখ করবো।

টিকাঃ
১. অনুবাদক।
২. অর্থাৎ বাইতুল মাকদিসে। আর দামিস্কে তাঁর প্রথম অবতরণ হবে। সেখানে তিনি মাহদীর ইকতিদা করবেন। বর্ণনাকারী শপথ করে বলেন, নিশ্চয় সত্যবাদী ও সত্যায়িত ( إنه لحق وإما إنه قريب فكل ما هو آت قريب ) : আবূল ক্বাসিম বলেছেন "এটা অবশ্যই ঘটবে, হয়তো তা শীঘ্রই ঘটবে, আর প্রত্যেক আগত জিনিসই নিকটবর্তী (অচিরেই সংঘটিত হবে)।"
৩. একে মিলিত (মুত্তাসিল) করেছেন বুখারী (১৩/৩৩২)। এই অতিরিক্ত অংশের শাহিদ হাদীস হচ্ছে সামনে আগত জাবিরের হাদীস, এবং আবূ হুরাইরাহ বর্ণিত হাদীস।
৪. অর্থাৎ বাইতুল মাকদিসে। আর দামিস্কে তিনি ইমাম মাহদীর পিছনে মুক্তাদী হয়ে সলাত আদায় করবেন। যা পূর্বের সমস্ত হাদীস প্রমাণ করে।

📘 দাজ্জাল > 📄 মাসীহ দাজ্জালের কিসসা, ঈসা (আ)-এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করা সম্পর্কে আবূ উমামাহ্‌ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসকে ঘিরে এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযিঃ) সূত্রে যা কিছু সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে

📄 মাসীহ দাজ্জালের কিসসা, ঈসা (আ)-এর অবতরণ এবং দাজ্জালকে হত্যা করা সম্পর্কে আবূ উমামাহ্‌ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসকে ঘিরে এ সম্পর্কে অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযিঃ) সূত্রে যা কিছু সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে


১। হে লোক সকল! আল্লাহ যেদিন থেকে আদম সন্তানাদি সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে যমীনের উপর দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে ভয়ঙ্কর ফিতনা আর নেই [এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত হবেও না]। যে ব্যক্তি পূর্ববর্তী ফিতনাসমূহ থেকে নাজাত পাবে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকেও নাজাত পাবে। [আর সে মুসলিমদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।।
২। নিশ্চয়ই আল্লাহ যত নাবী পাঠিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই স্বীয় উম্মাতকে [কানা] দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আমিও তোমাদেরকে তার ব্যাপারে সাবধান করছি।
৩। আমি নাবীদের মধ্যে সর্বশেষ নাবী এবং তোমরা উম্মাতসমূহের মধ্যে সর্বশেষ উম্মাত।
৪। সে (দাজ্জাল) অবশ্যই তোমাদের মাঝে প্রকাশ পাবে। এটা অবশ্যই সত্য, এবং তা অতি নিকটেই, আর যা কিছুই ঘটবে তা অতি নিকটে]। [দাজ্জাল সর্বপ্রথম ক্রোধের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করবে]। [সে বের হবে না যতক্ষণ না অবস্থা এরূপ হয় যে, মীরাস বণ্টন করা হবে না এবং গণীমাত পেয়ে কোন আনন্দ প্রকাশ করা হবে না।।
৫। আমি তোমাদের মাঝে বর্তমান থাকাবস্থায় যদি সে বের হয়, তাহলে আমি প্রত্যেক মুসলিমের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করবো (তাকে দোষারোপ করব)। আর যদি সে আমার পরে বের হয়, তাহলে প্রত্যেককে নিজের পক্ষে দলীল পেশ করতে হবে। তখন মহান আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার খলীফাহ স্বরূপ হবেন (অর্থাৎ তিনি মুসলিমদের দাজ্জাল থেকে রক্ষা করবেন)। (উম্মু সালামাহ্ হাদীসে রয়েছে: সে যদি আমার মৃত্যুর পরে বের হয় তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে নেককার লোকদের দ্বারা রক্ষা করবেন)।
৬। নিশ্চয়ই দাজ্জাল বের হবে [পূর্ব দেশ থেকে] যাকে 'খুরাসান' বলা হয়। [আসবাহানের ইয়াহুদীদের মাঝে]। তাদের চেহারা হবে ভাঁজযুক্ত। (দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে) সিরিয়া ও ইরাকের 'খাল্লা' নামক স্থান হতে। আর সে তার ডান ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে (তিনবার)।
৭। কেননা, আমি তোমাদের কাছে তার এমন অবস্থা বর্ণনা করব, যা আমার পূর্বে কোন নাবী স্বীয় উম্মাতের কাছে বর্ণনা করেননি। ('উবাদাহ্ হাদীসের রয়েছে: আমি তোমাদের কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছি। এতদসত্ত্বেও আমার ভয় হয়, তোমরা তাকে চিনতে পারবে না)।
৮। প্রথমে সে বলবে, আমি নাবী এবং আমার পরে কোন নাবী নেই।
৯। অতঃপর সে দাবী করে বলবে, আমি তোমাদের রব্ব! অথচ তোমরা তোমাদের রব্বকে মৃত্যুর পূর্বে দেখবে না।
১০। আর সে হবে কানা। [তার বাম চোখ হবে মিশানো] [যার উপর মোটা চামড়ায় ঢাকা হবে]। [তা যেন উজ্জ্বল নক্ষত্র] [তার ডান চোখ যেন জ্যোতিহীন, আঙ্গুর সদৃশ গোল]। যা উপরে উঠে থাকবে না এবং নীচে থাকবে না।] [সেঁকোকড়ানো চুল বিশিষ্ট হবে]। [সাবধান! দাজ্জালের বিষয় তোমাদের কাছে গোপন নয়। আর তোমাদের কাছে গোপন নয় যে, তোমাদের রব্ব কানা নন। দাজ্জালের বিষয় তোমাদের কাছে গোপন নয়। আর তোমাদের কাছে গোপন নয় যে, তোমাদের রব্ব কানা নন।] [তিনবার]। [তোমরা মৃত্যুর আগে তোমাদের রব্বকে দেখবে না]।
১১। সে পৃথিবীতে বিচরণ করবে। আর আকাশ ও যমীন তো আল্লাহ্ই।
১২। সে হবে বেঁটে, তার পদক্ষেপ হবে দীর্ঘ, মাথার চুল হবে কুঞ্চিত] [সে হবে খুঁতযুক্ত]।
১৩। সে হবে কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট লোক। [কুঞ্চিত চুল]।
১৪। তার দুই চোখের মাঝে (কপালে) লেখা থাকবে 'কাফির'। এই লেখা পড়তে পারবে [যারা তার কার্যকলাপ অপছন্দ করবে] অথবা প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তিই পড়তে পারবে, চাই সে অক্ষর হোক বা নিরক্ষর।
১৫। তার অন্যতম ফিতনা হলো, তার সাথে থাকবে- জান্নাত ও জাহান্নাম [নদী ও পানি] [এবং রুটির পাহাড়]। [সে আত্মপ্রকাশ করবে সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম সদৃশ বস্তু নিয়ে]। 'তার জাহান্নাম হলো জান্নাত আর জান্নাত হলো জাহান্নাম।' [মুগীরাহ ইবনু শু'বাহকে দাজ্জাল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি বললাম, লোকেরা বলাবলি করছে যে, তার সাথে নাকি রুটি ও গোশতের পাহাড় এবং পানির নহর থাকবে? তিনি বলেন: আল্লাহর পক্ষে তো তা এর চাইতে অধিক সহজ] (আরেক হাদীসে এসেছে: [দাজ্জালের সাথে থাকবে দুটি প্রবাহিত নহর। তার একটি বাহ্যিক চোখে দেখা যাবে সাদা পানি আর দ্বিতীয়টি বাহ্যিক চোখে দেখা যাবে জ্বলন্ত আগুন]। [তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ঐ যুগ পাবে, তার উচিত হবে সে যেন সেটা থেকেই পান করে যেটাকে আগুন মনে করবে]। এবং চক্ষু বন্ধ করবে অতঃপর মাথা নত করে পান করবে। কেননা তা হবে প্রকৃতপক্ষে পানি [শীতল মিঠা পানি] [উত্তম পানি] [কাজেই সাবধান! তোমরা (ধোঁকায় পড়ে) নিজেদের ধবংস করো না] (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: যে ব্যক্তি তার নহরে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে তার সওয়াব বিনষ্ট হবে এবং পাপ সাব্যস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি তার জাহান্নামে প্রবেশ করবে তার জন্য সওয়াব সাব্যস্ত হবে এবং পাপ মোচন হবে)।
১৬। যে ব্যক্তি তার আগুনের দ্বারা পরিক্ষিত হবে, সে যেন আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং সূরাহ কাহ্ফ-এর প্রথমাংশ তিলাওয়াত করে। [কেননা তা পাঠ করলে তোমরা তার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে]।
১৭। দাজ্জালের অন্যতম ফিতনা হচ্ছে এই, সে জনৈক বেদুইনকে বলবে: আমি তোমার জন্য তোমার পিতা-মাতাকে জীবিত করে দিতে পারলে তুমি কি সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব্ব! তখন সে বলবে: হ্যাঁ, তখন তার জন্য দু'টি শয়তান তার পিতা ও মাতার আকৃতি ধারণ করবে। তারা বলবে: হে বৎস! তার আনুগত্য কর। নিশ্চয় সে তোমার প্রতিপালক।
১৮। দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হল, সে এক ব্যক্তিকে পরাভূত করে তাকে হত্যা করবে। এমনকি তাকে করাত দিয়ে দুই টুকরা করে নিক্ষেপ করবে।
১৯। দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হলো, সে একটি গোত্রের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তাদেরকে সে আহবান করবে। কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। [সে তাদের থেকে সরে যাবে]। ফলে তাদের গৃহপালিত পশু ধবংস হয়ে যাবে।
২০। দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হলো, সে অন্য আরেকটি গোত্রের পাশ দিয়ে যাবে। [সে তাদেরকে আহবান করবে]। তখন তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে [তার ডাকে সাড়া দিবে]। ফলে সে আকাশকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিবে এবং আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে। অতঃপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিলে যমীন শস্য উৎপাদন করবে। যমীন ফসলাদি এমনভাবে উৎপন্ন করবে যে, তাদের পশুগুলো সেদিন সন্ধ্যায় খুব মোটাতাজা এবং পেট ভর্তি করে স্তন ফুলিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে।
২১। দাজ্জাল একটি বিরান (পুরাতন) স্থানে গিয়ে তাকে আদেশ করবে, তোমার গুপ্ত ধনরাশি বের করে দাও। তখন এর ধনরাশি এভাবে তার কাছে এসে পুঞ্জীভূত হবে যেরূপ মৌমাছির ঝাঁক দলে দলে এসে এক জায়গায় একত্রিত হয়।
২২। সে বের হবে [মানুষের মতভেদ ও দলে দলে বিভক্ত হওয়ার যুগে]। [তখন মানুষ পরষ্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, ধর্মকে কিছুই মনে করবে না, এবং আপোষে খারাপ আচরণ করবে। অতঃপর (দাজ্জাল) সকল নদীর ঘাটে আগমন করবে। যমীন তার জন্য এমনভাবে সংকোচন করে দেয়া হবে তা যেন মেষের একটি চামড়া]।
২৩। সে বের হবে না যতক্ষণ এ নিদর্শন প্রকাশ না পাবে যে, রোমকরা (সিরিয়ার) আ'মাক্ব ও দায়িত্ব নামক নহরের কাছে অবতীর্ণ হবে। [একদল দুশমন ইসলামপন্থীদের উদ্দেশে একত্রিত হবে এবং একদল ইসলামপন্থীও তাদের উদ্দেশে একত্রিত হবে]। অতঃপর মাদীনাহ্ থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী তাদের মোকাবিলার উদ্দেশে রওয়ানা হবে। সেখানে পৌঁছে যখন তাঁরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে, তখন রোমকরা বলবে: আমাদেরকে এবং আমাদের মধ্যকার যারা বন্দী হয়েছে উভয়কে মিলিত হওয়ার সুযোগ দাও, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তখন মুসলিমরা বলবে: মনে রেখ, আল্লাহর শপথ! আমরা তোমাদের বন্দীদেরকে ছাড়ব না বা যারা তাদেরকে বন্দী করেছে তাদের সাথে তোমাদেরকে মিলিত হতে দিব না। অতঃপর মুসলিমদের সাথে তাদের তুমুল লড়াই হবে। [ঐ যুদ্ধে (উভয় পক্ষের) প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই প্রবল হবে]। মুসলিম বাহিনী একদল মুজাহিদকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত রাখবে, যারা বিজয়ী না হওয়ার পূর্বে কিছুতেই ফিরবে না। অতঃপর তারা সারাদিন যুদ্ধে লিপ্ত থাকবে যে পর্যন্ত রাত তাদের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি না করে। রাত হলে এই দল ঐ দল সকলেই এভাবে ফিরে আসবে যে, কেউই বিজয়ী হতে পারেনি। এদিকে মৃত্যুর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটি শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর মুসলিমরা মৃত্যুর জন্য আরেকটি দল প্রস্তুত করবে যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। এরাও রাত এসে অন্তরায় সৃষ্টি না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। অবশেষে রাত এসে গেলে এই দল ঐ দল সবাই অবিজয়ী হয়ে ফিরে আসবে। আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটিও শেষ হয়ে যাবে। অতঃপর মুসলিমরা আরেকটি দলকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করবে যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরে আসবে না। এরাও রাত এসে অন্তরায় সৃষ্টি না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। অবশেষে রাত এসে গেলে এই দল ঐ দল সবাই অবিজয়ী হয়ে ফিরে আসবে। আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দলটিও শেষ হয়ে যাবে। যখন চতুর্থ দিন আসবে তখন অবশিষ্ট মুসলিম বাহিনী শত্রুবাহিনীর দিকে অগ্রসর হবে]। যুদ্ধে মুজাহিদদের এক তৃতীয়াংশ পরাজয় বরণ করবে, যাদের তাওবাহ আল্লাহ কবুল করবেন না। আর এক তৃতীয়াংশ শাহাদাত বরণ করবে, [এরা] আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম শহীদ গণ্য হবে। আর এক তৃতীয়াংশ জয়ী হবে যারা কখনো পর্যুদস্ত হবে না। [অতঃপর এদেরকেও আল্লাহ পরাজয়ের সম্মুখিন করবেন অথবা চরম অবস্থায় সম্মুখিন করবেন অথবা ধ্বংসের মুখোমুখি পৌঁছাবেন। যাতে এরাও এমন প্রাণপণে যুদ্ধ করবে যার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না বা খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি পাখি যখন তাদের আশেপাশে উড়ে যাবে, তখন তাদেরকে অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না। অতিক্রম করতে গেলে মরে মাটিতে পড়ে যাবে। যুদ্ধশেষে কোন পিতার সন্তানদেরকে যাদের সংখ্যা একশো গণনা করা হবে কিন্তু মাত্র একজন ব্যতীত তাদের আর কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে না। তাহলে কিসের গণীমাতে আনন্দ হবে? বা কোন মীরাস বণ্টন করা হবে? কাদের মাঝে বণ্টন করা হবে? যারা বেঁচে থাকবে তারা এ শোক অবস্থায় থাকতেই হঠাৎ এর চাইতেও বড় বিপদের কথা শুনবে। তাদের কাছে বিপদের সংবাদদাতা এসে শুনাবে যে, দাজ্জাল তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের সন্তান-সন্তুতির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। তখন তারা হয়রান পেরেশান হয়ে তাদের হাতে যা কিছু আছে, সব পরিত্যাগ করে] কুসতুনতুনিয়া থেকে বেরিয়ে আসবে। এসে দেখবে, কিছুই হয়নি, একটা গুজব মাত্র। [তাদের আগে আগে দশ জন অশ্বারোহী পাঠিয়ে দেয়া হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: ঐসব অশ্বারোহীর নাম ও তাদের পিতার নাম, এমনকি তাদের ঘোড়ার রং পর্যন্ত আমার জানা আছে। তারা তৎকালীন পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে উত্তম অশ্বারোহী বা সেরা অশ্বারোহীদের অন্যতম হবে]। [অতঃপর তারা সিরিয়ায় পৌঁছলে শয়তান (দাজ্জার) আত্মপ্রকাশ করবে]।
২৪। সমগ্র পৃথিবীর তার জন্য সংকোচন করে দেয়া হবে এবং সে তার উপর বিজয়ী হবে। তবে [চারটি মাসজিদ ব্যতীত মাসজিদুল হারাম, মাদীনাহ্ মাসজিদ, তূর এবং মাসজিদে আক্বসা]।
২৫। দাজ্জালের সময়কাল হবে চল্লিশ দিন। তবে প্রথম দিন হবে এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান, তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান এবং বাকী দিনগুলো তোমাদের এই দিনগুলোর সমান হবে। সাহাবীগণ বললেন, যে দিনটি এক বছরের সমান হবে তাতে কি বর্তমান এক দিনের সলাত আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন: না, তোমরা অনুমান করে সময় নির্ধারণ করবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, যমীনে তার গতি কেমন হবে? তিনি বললেন: মেঘের গতি যাকে প্রবল বাতাস পিছন থেকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।
২৬। দাজ্জালের আর্বিভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। তখন মানুষ চরমভাবে ক্ষুধায় কষ্ট পাবে। প্রথম বছর মহান আল্লাহ আকাশকে তিন ভাগের একভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নির্দেশ দিবেন। আর যমীনকে নির্দেশ দিবেন, ফলে সে তিন ভাগের একভাগ ফসল উৎপন্ন করবে। অতঃপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নিদের্শ দিবেন। তখন তা দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বন্ধ রাখবে এবং যমীনকে নির্দেশ দিবেন, ফলে যমীন দুই তৃতীয়াংশ ফসল কম উৎপন্ন করবে। অতঃপর মহান আল্লাহ তৃতীয় বছর একই নির্দেশ দিবেন, তখন সে সম্পূর্ণরূপে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে যমীনে কোন ঘাস জন্মাবে না, কোন সবজি অবশিষ্ট থাকবে না। বরং তা ধবংস হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যা চাইবেন।
২৭। সে মাক্কাহ্ ও মাদীনাহয় আসা মাত্রই এর প্রত্যেক প্রবেশ পথে খোলা তরবারি হাতে ফিরিশতাদের দেখতে পাবে।
২৮। এমন কোন শহর বাদ থাকবে না যেখানে মাসীহ (দাজ্জালের) আতঙ্ক না ছড়াবে। তবে মাদীনাহ্ ব্যতীত। [সেদিন মাদীনাহর সাতটি দরজা থাকবে। এর প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে দুইজন করে ফিরিশতা নিযুক্ত থাকবেন যারা মাসীহ দাজ্জালের ভয় থেকে একে নিরাপদ রাখবে।"
২৯। এমনকি সে তৃণলতা শূণ্য জায়গা [সাইহানাতুল জুরুফ] নামক স্থানে এসে পৌঁছবে। [যা উহুদ পাহাড়ের পিছনে অবস্থিত]। [সে সেখানে তার আসন গাঢ়বে]।
৩০। এরূপ অবস্থায় মাদীনাহ্ তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার প্রকম্পিত হবে। তখন প্রতিটি মুনাফিক পুরুষ ও নারী (মাদীনাহ্ থেকে) বেরিয়ে দাজ্জালের কাছে চলে যাবে। অতঃপর মাদীনাহ্ থেকে মন্দ (পাপী (লোকেরা) দূরীভূত হবে যেমন হাফর লোহার ময়লা দূর করে থাকে। আর এটাই হলে নাজাত দিবস। [যারা বেরিয়ে দাজ্জালের কাছে যাবে তাদের অধিকাংশ হবে মহিলা]।
৩১। দাজ্জাল বের হলে একজন (বিশিষ্ট) ঈমানদার ব্যক্তি তার দিকে রওয়ানা হবে। সংবাদ পেয়ে দাজ্জালের পক্ষ থেকে তার অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা গিয়ে তাঁর সাথে মিলিত হবে। তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করেছো? তিনি বলবেন, ঐ ব্যক্তির কাছে যে আবির্ভূত হয়েছে। তখন তারা বলবে, তুমি কি প্রভূর প্রতি ঈমান আনবে না? তিনি বলবেন, আমাদের প্রভূর ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এরপর তারা পরস্পরে বলবে, একে হত্যা কর। তারপর একে অপরকে বলবে, তোমাদের প্রভূ নিষেধ করেছেন যে, তোমরা তাকে না দেখিয়ে কাউকে হত্যা করবে না। অতঃপর তারা তাঁকে দাজ্জালের নিকট নিয়ে যাবে। যখন ঈমানদার ব্যক্তি দাজ্জালকে দেখতে পাবেন তখন বলবেন, হে জনগণ! [আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি] এই তো সেই দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) উল্লেখ করেছেন (অন্য বর্ণনায় রয়েছে: আলোচনা করেছেন)। এরপর দাজ্জালের নির্দেশে তাঁর চেহারা ক্ষতবিক্ষত করা হবে। বলা হবে, একে ধরে চেহারা ক্ষতবিক্ষত করে দাও। অতঃপর তাঁর পেট ও পিঠকে পিটিয়ে বিছিয়ে ফেলা হবে। তারপর দাজ্জাল জিজ্ঞেস করবে, আমার প্রতি ঈমান আনবে না? তিনি বলবেন, তুই তো মিথ্যাবাদী মাসীহ [দাজ্জাল বলবে, তোমাদের কি ধারণা, আমি যদি একে হত্যা করার পর জীবিত করি তাহলে কি তোমরা আমার কাজের ব্যাপারে সন্দিহান হবে? তখন তারা বলবে, না]। তখন তাঁকে কুড়াল দিয়ে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলার জন্য আদেশ করা হবে। তার আদেশে প্রথমে তাকে দুই পা আলগা করে খণ্ড করা হবে [তাকে হত্যা করা হবে]। (নাওয়াস বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: তাকে তলোয়ার দিয়ে জোরে আঘাত করবে এবং তাকে দুই টুকরো করে ফেলবে। প্রত্যেকটি টুকরো দুই ধনুকের ব্যবধানে চলে যাবে)। তিনি বলেন, অতঃপর দাজ্জাল খণ্ডিত টুকরাদ্বয়ের মাঝখানে এসে তাকে লক্ষ্য করে বলবে, উঠো! তৎক্ষনাৎ তিনি উঠে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন: [অতঃপর তাকে ডাকবে। ডাকা মাত্র সে জীবিত হয়ে তার কাছে আসবে। তখন তার চেহারা হবে উজ্জ্বল, চমকপ্রদ ও হাস্যময়] অতঃপর দাজ্জাল তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, এবার আমার প্রতি ঈমান আনবে কি? তখন তিনি বলবেন, [আল্লাহর শপথ!] আমি তো তোমার সম্পর্কে আরো অধিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। অতঃপর তিনি উপস্থিত জনতাকে লক্ষ্য করে বলবেন, হে লোক সকল! মনে রেখ, দাজ্জাল আমার পরে আর কোন মানুষের উপর কর্তৃত্ব চালাতে পারবে না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দাজ্জাল তাঁকে জবাই করার জন্য ধরবে এবং গলা ও ঘারে তামা জড়িয়ে দিতে চেষ্টা করবে। কিন্তু এ পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হবে না। অতঃপর তাঁর হাত পা ধরে তাঁকে নিক্ষেপ করবে। মানুষ ধারণা করবে বুঝি আগুনে ফেলে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তাঁকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: "আল্লাহ রব্বুল 'আলামীনের নিকট এই ব্যক্তি বড় শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবেন।"
৩২। অতঃপর ফিরিশতারা দাজ্জালের মূখকে সিরিয়ার দিকে ঘুরিয়ে দিবেন। [অতঃপর সে 'ইলিয়া' পাহাড়ে আসবে। সেখানে এসে সে একদল মুসলিমকে অবরোধ করে রাখবে]। [মুসলিমরা তখন কঠিন অবস্থার সম্মুখিন হবে]। [মানুষ দাজ্জাল থেকে পলায়ন করে পাহাড়ে আশ্রয় নিবে। উম্মু শুরাইক বিনতু আবুল 'আকর বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন আরবগণ (মাক্কাহ্ ও মাদীনাবাসী) কোথায় থাকবে? তিনি বললেন: তাদের সংখ্যা খুবই কম হবে]।
৩৩। তাদের ইমাম হবেন একজন সৎ ব্যক্তি। [রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: মাহদী আমাদের আহলে বাইতের মধ্য থেকে হবেন [ফাত্বিমাত্র বংশধর থেকে]। আল্লাহ তাঁকে এক রাতে খিলাফাতের যোগ্য করে দিবেন]। [তার নাম হবে আমার নামের মত এবং তার পিতার নাম হবে আমার পিতার নামের মত] [তার ললাট প্রশস্ত ও নাক উঁচু হবে]। [তিনি পৃথিবীকে ন্যায়-ইনসাফ দ্বারা এরূপ পরিপূর্ণ করবেন, যেরূপ তা যুলুম ও পাপাচারে পরিপূর্ণ ছিল] [তিনি সাত বছর রাজত্ব করবেন]। নাবী (সাঃ) বলেছেন: (আমার উম্মাতের দুটি দলকে আল্লাহ জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিবেন: একদল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদে অংশ গ্রহণ করবে এবং অপর দলটি হলো যারা ঈসা ইবনু মারইয়ামের সঙ্গী হয়ে দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়বে) এবং তিনি (সাঃ) বলেন: তোমাদের কেউ এদের দেখা পেলে তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে)।
৩৪। তাদের ইমাম যখন এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতে থাকবেন এমন সময় ঈসা ইবনু মারইয়াম (আকাশ থেকে) ভোর বেলায় অবতরণ করবেন। তিনি দামিস্কের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত সানা মিনারায় অবতরণ করবেন। এ সময় তিনি ওয়াস ও জা'ফরান রংয়ের দুটি বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় থাকবেন। দু'জন ফিরিশতার পাখায় দু'হাত রেখে অবতরণ করবেন। যখন তিনি মাথা নীচু করবেন হালকা বৃষ্টি হবে আর যখন মাথা উঁচু করবেন, তখন দেহ থেকে মুক্তার বিন্দুর ন্যায় ফোটা গড়িয়ে পড়বে। তাঁর নিশ্বাসের বাতাস পেলে একটি কাফিরও বাঁচতে পারবে না, সব মরে যাবে। এবং তাঁর শ্বাস তাঁর শেষ দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।
৩৫। [আমার এবং তার (ঈসার) মাঝে কোন নাবী আসবে না। অবশ্য তিনি (আকাশ থেকে) অবতরণ করবেন। তোমরা যখন তাঁকে দেখবে, তখন তাঁকে এভাবে চিনবে যে, 'তিনি হবেন মধ্যম আকৃতির, তার দেহের রং হবে লাল-সাদা মিশ্রিত, তার পরিধানের কাপড় হবে হালকা হলুদ রং বিশিষ্ট দু' খানি চাঁদর এবং তার মাথার চুল ভিজে না থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে ফোটায় ফোটায় পানি ঝরতে থাকবে। তিনি ইসলামের জন্য লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন, ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন এবং জিযিয়া কর রহিত করবেন। মহান আল্লাহ তাঁর সময়ে ইসলাম ছাড়া অন্য সব মতবাদকে ধবংস করে দিবেন)। এবং তিনি বলেন: (তখন কেমন হবে যখন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আকাশ থেকে) তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন, আর ইমাম হবেন তোমাদের থেকে। (আরেক বর্ণনায় রয়েছে : তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে?)। ইবনু আবূ যি'ব (এক বর্ণনায়) বলেন: "তোমাদের থেকেই তোমাদের ইমাম হবে।"- এর অর্থ সম্পর্কে তুমি জানো কি? আমি বললাম : আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন: তোমাদের মহান পরাক্রমশালী বরকতময় আল্লাহর কিতাব ও তোমাদের নাবী (সাঃ)-এর সুন্নাতের অনুসারী হয়েই তিনি তোমাদের ইমাম হবেন]।
৩৬। ঈসা (আ)-কে দেখে উক্ত ইমাম পিছনে সরে যাবেন যেন ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) সামনে গিয়ে লোকদের সলাতে ইমামতি করতে পারেন। [ইমাম বলবেন, আপনি এগিয়ে এসে আমাদের সলাতে ইমামতি করুন] তখন ঈসা (আ) তাঁর হাত উক্ত ইমামের দুই কাঁধের উপর রেখে বলবেন: [না, আপনারা একে অন্যের আমীর। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা উম্মাতের মর্যাদা। আপনি সামনে যান এবং সলাতের ইমামতি করুন। ফলে তাদের ইমাম তাদের নিয়ে সলাত আদায় করবেন।
৩৭। [অতঃপর দাজ্জাল (ইলিয়া) পাহাড়ে আসবে এবং মুসলিমদের একটি দলকে ঘেরাও করবে]। তখন এক ব্যক্তি অবরুদ্ধ মুসলিমদের বলবে, তোমরা এই তাগুতের অপেক্ষায় না থেকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহর সাথে মিলিত হও (শাহাদাত বরণ করো) অথবা আল্লাহ তোমাদেরকে বিজয়ী করেন? অতঃপর তারা তার আদেশ মোতাবেক সকালবেলায় দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।
৩৮। [যখন মুসলিমরা তার মুকাবিলার উদ্দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিবে এবং সমানভাবে সারিবদ্ধ হবে। এমন সময় সলাতের আযান হবে] [ফাজর সলাতের] [তারা সকাল করবেন এমন অবস্থায় যে, তখন ঈসা (আ) তাদের সাথেই আছেন]। [অতঃপর তিনি লোকদের ইমামতি করবেন। তিনি যখন রুকু' থেকে মাথা উঠাবেন তখন বলবেন: সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, আল্লাহ মাসীহ দাজ্জালকে ধবংস করেছেন এবং মুসলিমদের বিজয়ী করেছেন]। অতঃপর সলাত শেষে ঈসা ইবনু মারইয়াম বলবেন: দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে। আর দরজার পিছনে থাকবে দাজ্জাল। তার সঙ্গে থাকবে সত্তর হাজার ইয়াহুদী। তাদের প্রত্যেকের সাথে চাঁদরে আবৃত কারুকার্য খচিত তলোয়ার থাকবে। [ঈসা (আ) যমীনে অবতরণ করে দাজ্জালকে অনুসন্ধান করবেন]।
৩৯। [অতঃপর ঈসা (আঃ) তাঁর অস্ত্র নিয়ে দাজ্জালের দিকে রওয়ানা হবেন]। যখন দাজ্জাল তাঁকে দেখবে, তখন সে এরূপ বিগলিত হয়ে যাবে যেমন পানিতে লবণ গলে যায়। [যদি তাকে এমনি ছেড়ে দেয় তবুও সে বিগলিত হয়ে হালকা হয়ে যাবে বরং আল্লাহর নাবী (ঈসা) তাকে নিজ হাতে হত্যা করবেন, এবং তিনি ঈমানদার সাথীদেরকে তাঁর বল্লমে ওর রক্ত দেখিয়ে দিবেন]। তিনি তাকে পূর্ব দিকের বাবে লুদ্দে পাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। [অতঃপর আল্লাহ তাকে 'আক্বাবায়ে আফীক্বের নিকটে ধবংস করবেন]।
৪০। আল্লাহ ইয়াহুদীদের পরাজিত করবেন। [এবং মুসলিমদেরকে তাদের উপর কর্তৃত্ব দান করবেন]। [এবং মুসলিমরা তাদেরকে হত্যা করবে]। তখন ইয়াহুদীরা আল্লাহর সৃষ্ট যেকোন বস্তুর আড়ালে লুকিয়ে থাকুক না কেন, সে বস্তুকে আল্লাহ বাকশক্তি দান করবেন, চাই তা পাথর, গাছপালা, দেয়াল অথবা কোন জন্তু হোক না। তবে একটি গাছ হবে ব্যতিক্রম, যার নাম গারক্বাদাহ। একে ইয়াহুদীদের গাছ বলা হয়। সে কথা বলবে না। তবে সে বলবে : হে আল্লাহর মুসলিম বান্দা! এই তো ইয়াহুদী [আমার পিছনেই আছে]। তুমি এসো এবং তাকে হত্যা করো।
৪১। এর পরে মানুষ দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ এমন শান্তিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করবে যে, দুই ব্যক্তির মধ্যে কোন দুশমনি থাকবে না।
৪২। ঈসা ইবনু মারইয়াম (আ) আমার উম্মাতের একজন হবেন। [মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে সত্যায়ন করে এবং তার উম্মাতের একজন হয়ে আসবেন] তিনি হবেন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইন্‌সাফকারী [হিদায়াতপ্রাপ্ত] ইমাম। [তিনি ইসলামের জন্য লোকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবেন] ক্রশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন, [তাঁর জন্য সলাতকে একত্র করা হবে], তিনি জিযিয়া কর রহিত করবেন এবং সদাক্বাহ উসূল বন্দ করবেন। বকরী ও উটের উপর যাকাত ধার্য বন্ধ হবে এবং লোকদের মাঝে পারষ্পরিক হিংসা বিদ্বেষ ও ক্রোধের অবসান ঘটবে। [তখন মাল-সম্পদ গ্রহণ করার মত লোক পাওয়া যাবে না]। [এমনকি তখন একটিমাত্র সাজদাহ্ দুনিয়া ও এর মধ্যকার সমগ্র বস্তু থেকে উত্তম হবে]। [তখন দা'ওয়াত হবে একমাত্র রাব্বুল 'আলামীনের জন্য (অর্থাৎ সবাই একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করবে)]। [ঐ সত্ত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! ইবনু মারইয়াম অবশ্যই রাওহার গিরিপথে তালবিয়া পাঠ করবেন এবং সেখান থেকে হাজ্জ বা 'উমরাহ করবেন অথবা দুটোই একত্রে করবেন]।
৪৩। অতঃপর এক সম্প্রদায় লোক ঈসা (আ)-এর সমীপে আসবে যাদেরকে মহান আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। ঈসা (আ) তাদের চেহারায় হাত বুরিয়ে দিবেন এবং জান্নাতে তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান সম্পর্কে তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। তিনি এ আলোচনারত অবস্থায় থাকতেই মহান আল্লাহ তাঁর কাছে ওয়াহী নাযিল করবেন: "আমি আমার একদল বান্দাকে বের করে দিয়েছি যাদের সাথে যুদ্ধ করার কারোর ক্ষমতা নেই। সুতরাং আপনি আমার ঈমানদার বান্দাদেরকে তূর পাহাড়ের দিকে নিয়ে একত্র করুন।" এদিকে আল্লাহ তা'আলা ইয়াজুজ মাজুজকে ছেড়ে দিবেন। তারা ছাড়া পেয়ে পৃথিবীর সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। তাদের প্রথম দলগুলো বুহাইরায়ে তাবারিয়া (ভূমধ্যসাগর) উপকূলে এসে পৌঁছবে এবং তাতে যত পানি আছে সব খেয়ে নিঃশেষ করবে। এরপর শেষ দল এসে বলবে, (পানি কোথায়?) এখানে তো কোন সময় পানি ছিল। [অতঃপর তারা (ইয়াজুজ মাজুজ) ঘুরতে ঘুরতে 'জাবালে খামার' পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। সেটা বাইতুল মুক্বাদ্দাসে অবস্থিত একটি পাহাড়। সেখানে পৌঁছে তারা বলবে, আমরা তো যমীনের বাসিন্দাদের মেরে ফেলেছি, এবার চলো আসমানের বাসিন্দকে হত্যা করবো। এই বলে তারা আকাশের দিকে তীর ছুঁড়তে থাকবে। অবশেষে মহান আল্লাহ তাদের তীরকে রক্তাপুত অবস্থায় তাদের কাছে ফিরিয়ে দিবেন]। এদিকে আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীগণ অবরুদ্ধ অবস্থায় অতি কষ্টে কাল যাপন করবেন। এমনকি একটা গরুর মাথাও তাদের কাছে বর্তমানের একশো স্বর্ণমুদ্রার চেয়ে অধিক শ্রেয় মনে হবে। এরপর আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীরা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাদের (ইয়াজুজ মাজুজের) গর্দানে এক প্রকার বিষাক্ত কীট সৃষ্টি করবেন, যার ফলে তারা এক নিমিষে সব মরে যাবে। তারপর আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীরা যমীনের বুকে নেমে আসবেন। এসে দেখবেন যমীনে এক বিঘত জায়গাও খালি নেই বরং ইয়াজুজ মাজুজের লাশের পঁচাগলা ও তীব্র দুর্গন্ধে যমীন ভরে গেছে। তখন আল্লাহর নাবী ঈসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীরা আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলে আল্লাহ একদল পাখি পাঠিয়ে দিবেন, যাদের গর্দান হবে উটের গর্দানের ন্যায়। তারা এগুলো বহন করে আল্লাহর যেখানে ইচ্ছা সেখানে ফেলে দিয়ে আসবে। অতঃপর মহান আল্লাহ প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যা পৃথিবীর আনাচে কানাচে কোন ঘর দুয়ারে না পৌঁছে থাকবে না। তা সমগ্র যমীনকে বিধৌত করে আয়নার মত পরিষ্কার করে দিবে। অতঃপর যমীনকে আদেশ করা হবে-“তোমার ফলমূল শস্যাদি উৎপন্ন করো এবং বরকত ফিরিয়ে দাও।” ঐ সময় বিরাট জনগোষ্ঠি একটিমাত্র আনার ফল খেয়ে পরিতৃপ্ত হবে এবং একটি আনারসের ছালের নীচে ছায়া গ্রহণ করবে। পশুর দুধে যথেষ্ট বরকত হবে। এমনকি একটি দুগ্ধবতী উষ্ট্রী এক বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য যথেষ্ট হবে, একটি দুগ্ধবতী গাভী একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি দুগ্ধবতী বকরী একটি ছোট গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে]। তখন বদল গরু হবে এই এই মুল্যের এবং ঘোড়া স্বল্প মূল্যে বিক্রি হবে। [তিনি (সাঃ) বলেন : (মাসীহ্ এর পরে যারা বেঁচে থাকবে তাদের জন্য সুসংবাদ, মাসীহ্ এর পরে যারা বেঁচে থাকবে তাদের জন্য সুসংবাদ। তখন আকাশকে আদেশ দেয়া হবে বৃষ্টি বর্ষণ করতে এবং যমীনকে আদেশ দেয়া হবে ফসলাদী উৎপন্ন করতে। তখন যদি তুমি সাফা (পাহাড়ের) উপরও তোমার বীজ বপন করো তাতে ফসল উৎপন্ন হবে। তখন পরস্পরের মাঝে কোন কৃপণতা, হিংসা ও ক্রোধ থাকবে না]।
৪৪। প্রতিটি বিষাক্ত জন্তুর বিষ দূরিভূত হবে। [পৃথিবীতে শান্তি-নিরাপত্তা আসবে, তখন সিংহ উটের সাথে চড়ে, চিতাবাঘ গরুর সাথে এবং বাঘ বকরীর সাথে চড়ে বেড়াবে, শিশুরা সাপ নিয়ে খেলা করবে কিন্তু এসব তাদের কোন ক্ষতি করবে না। এমনকি দুধের শিশু তার হাত সাপের মুখে ঢুকিয়ে দিবে কিন্তু সে তার কোন ক্ষতি করবে না। একজন ক্ষুদ্র মানব শিশু সিংহকে তাড়া করবে। সেও তার কোন ক্ষতি করবে না। নেকড়ে বকরীর পালে এমনভাবে থাকবে যে, যেন সে তার (রক্ষক) কুকুর। পৃথিবী শান্তিপূর্ণ হয়ে যাবে। যেমন পানিতে পাত্র পরিপূর্ণ হয়। তখন সকলের কালেমা এক হবে। আল্লাহ ছাড়া কারোর ইবাদাত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরাইশদের রাজত্বের অবসান হবে। যমীন রূপার তৈরি তশতরীর মত হয়ে যাবে। সে এমন ফসল উৎপন্ন করবে যেমন আদম (আঃ) এর যুগে উৎপন্ন হতো।
৪৫। এরপর ঈসা (আ) পৃথিবীতে চল্লিশ বছর জীবিত থাকার পর ইন্তিকাল করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযার সলাত আদায় করবেন।
৪৬। তারা যখন এ অবস্থায় থাকবে তখন আল্লাহ [সিরিয়ার দিক থেকে একটা শীতল] বাতাস ছেড়ে দিবেন। এ বাতাস তাদের বগলের নীচে প্রভাব ফেলবে (বুক স্পর্শ করবে) এবং তা প্রতিটি মু'মিন ও প্রতিটি মুসলিমের রুহ কবয করবে। (আর ইবনু 'উমারের হাদীসে আছে: শীতল বাতাসের স্পর্শ লেগে যমীনের বুকে এমন একটি লোকও জীবিত থাকবে না যার অন্তরে অণু পরিমাণও ঈমান আছে, বরং সবাই প্রাণ ত্যাগ করবে। এমনকি কেউ কোন পাহাড়ের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকলেও সেখানে বাতাস প্রবেশ করে তার জান কবয করবে) এরপর পৃথিবীতে কেবল মন্দ পাপী লোকেরাই জীবিত থাকবে [যাদের ফিতনা পাখির ন্যায় তড়িৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়বে এবং যাদের স্বভাব পশুর স্বভাব তুল্য হবে। যারা কোন ভাল কাজ চিনবে না এবং মন্দ কাজকে মন্দ বলে জানবে না। অতঃপর শয়তান তাদের কাছে ছবি ধরে এসে বলবে, তোমরা কি আমার কথা শুনবে না? তখন তারা বলবে, আমাদেরকে কি আদেশ করবেন করুন। এরপর সে মানুষকে মূর্তিপূজার আদেশ করবে। এ সময় তাদের কাছে প্রচুর খাদ্য সম্ভার মজুদ থাকবে, তাদের জীবন সুখ সাচ্ছন্দে কাটবে]। [নারী-পুরুষ গাধার মত প্রকাশে সংগমে লিপ্ত হবে। আর তাদেরই উপরই ক্বিয়ামাত ক্বায়িম হবে]।
৪৭। তারপর এক সময় সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। এর বিকট শব্দ যে শুনবে সে একবার ঘাড় নোয়াবে একবার উপরে উঠাবে। সর্বপ্রথম ঐ শব্দ এমন ব্যক্তি শুনবে, যে তার উটকে পুকুরে গোসল করাতে পানি ঘোলাটে করছে। সিঙ্গার আওয়ায শুনে সে বেহুঁশ হয়ে যাবে। এরপর সব মানুষ বেহুঁশ হয়ে যাবে। এরপর মহান আল্লাহ বৃষ্টি ছেড়ে দিবেন অথবা বলেছেন বারিধারা বর্ষণ করবেন যেন তা কুয়াশা বা ছায়া- এ দুইয়ের মধ্যে বর্ণনাকারী সন্দিহান। এ বৃষ্টির ফলে যমীন থেকে মানুষের দেহসমূহ উত্থিত হতে থাকবে। "অতঃপর দ্বিতীয়বার সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে। এ ফুঁকের পর সকল মানুষ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে থাকবে"- (সূরাহ আয-যুমার : ৬৮)।
অতঃপর বলা হবে, হে সমবেত মানবগোষ্ঠী! আস তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে। আর ফিরিশতাদের বলা হবে, “এদেরকে দাঁড় করাও এদের হিসাব নেয়া হবে”- (সূরাহ আস-সাফফাত: ২৪) আবার বলা হবে, জাহান্নামের দলকে বের কর। জিজ্ঞেস করা হবে, কত সংখ্যা থেকে কত? বলা হবে, প্রতি হাজার থেকে নয়শো নিরানব্বই। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: “এটাই সেই দিন যে দিন তরুণ বালকদের বুড়ো করে দিবে।” (সূরাহ আল-মুয্যাম্মিল: ১৭) “এটাই সেই দিন, যে দিন পায়ের নালাকে অনাবৃত করে ফেলবে।" (সূরাহ আল-কুলাম: ৪২)
সমাপ্ত আল-হামদুলিল্লাহ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00