📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 ঋণের চক্র, টাকার চক্র ও ডলারের পতন-ধ্বনি

📄 ঋণের চক্র, টাকার চক্র ও ডলারের পতন-ধ্বনি


এখন প্রশ্ন হলো, এই প্রক্রিয়া কতদিন চলতে থাকবে? ঋণের সীমা (Debt Ceiling) অতিক্রমের কারণে কি পরিস্থিতি ভেঙে পড়বে? আর কতদিন সরকার এই বেসরকারি ব্যাংক (ফেডারেল রিজার্ভ) থেকে ধার করতে থাকবে? যেখানে এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, সরকারের ঋণ এখন জাতীয় উৎপাদনের চেয়েও বেশি!

এমতাবস্থায় যদি সরকার ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে নোট ছাপানোও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মানুষও আর ঋণ নিতে পারবে না। কেননা প্রতিটি ডলার ধার নেওয়ার মাধ্যমে আরেকজন উপকৃত হয়। এটিকেই বলা হয় 'টাকার ঘূর্ণনচক্র' (Cycle of Money)।

কিন্তু যখন মানুষ ঋণ নেওয়া বন্ধ করবে, তখন ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে। এর পরিণামে তৈরি হবে মন্দা (Recession)। চাহিদা কমে যাবে আর সরবরাহ বেড়ে যাবে। এটি এক ভয়াবহ জটিল অবস্থা। কারণ যদি সরকার ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে মানুষ বাধ্য হবে সাশ্রয়ী হতে, নিজেদের হাতে যা আছে তাই আঁকড়ে ধরতে। পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ হয়ে যাবে। তারচেয়েও ভয়ংকর আশঙ্কা হলো, যদি সরকার দেউলিয়া ঘোষণা করে বসে!

ভাবুন তো, আপনি যদি ঋণ নেওয়া বন্ধ করে দেন, ব্যাংকগুলো কি চুপচাপ বসে থাকবে? নিশ্চয়ই না। তারা আপনার কাছে তাদের প্রাপ্য ঋণ ফেরত চাইবে। একইভাবে ফেডারেল রিজার্ভ ক্রমাগত ট্রেজারির কাছে ঋণ পরিশোধের দাবি জানাবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তাদের পাওনা আদায়ের চেষ্টা করবে। তখন মানুষের একমাত্র মনোযোগ থাকবে, যেভাবেই হোক ঋণ পরিশোধ করা। ফলে কী হবে? ধীরে ধীরে বাজার থেকে প্রকৃত অর্থ গায়েব হতে শুরু করবে। কিন্তু ঋণ থেকে যাবে পাহাড়সম! যা শোধ করা কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না। আর তখনই নেমে আসবে ভয়াবহ ধ্বস।

এভাবেই শুরু হবে ডলারের পতন। আর যদি ডলার ধ্বসে পড়ে, তাহলে পুরো বিশ্বের মুদ্রাব্যবস্থা এক নিমিষেই ভেঙে পড়বে! আমেরিকান সরকার ঋণ শোধ করছে না, ব্যাংকগুলোও ঋণ শোধ করছে না, আমার রাষ্ট্রও ঋণ শোধ করছে না, আপনার রাষ্ট্রও ঋণ শোধ করছে না। কেউই কিছু করছে না, করতে পারছে না। ফলে নিশ্চিতভাবেই সরকারগুলো ভেঙে পড়বে, কোম্পানিগুলো ধ্বসে পড়বে, চাকরির ক্ষেত্র ভেঙে পড়বে এবং কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

যদি এমন ঘটে, তবে ভয়াবহ পতন ঘটবে, আর এতে সবাই ডুবে যাবে কষ্টের সাগরে। সবাই ক্ষুধার্ত হবে, বস্ত্রহীন হবে, পৃথিবী ডুবে যাবে কালো অন্ধকার দিনের মধ্যে। অপরাধ বেড়ে যাবে, চেতনা কমে যাবে। কারণ ক্ষুধায় মরার ভয়ে মানুষ তখন সবকিছুকে তুচ্ছ মনে করবে। এখন পুরো ব্যাপারটাই আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনি ছাড়া রক্ষা করার কেউ নেই। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00