📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 আঙ্কেল স্যামের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা

📄 আঙ্কেল স্যামের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা


চলুন পূর্বোল্লিখিত 'ব্রেটন উডস' চুক্তির আলোচনার ধারায় ফিরে যাই আবার। এই চুক্তিতে মিত্রশক্তিরা মিলে সিদ্ধান্ত নেয়, সকল মুদ্রাকে ডলারের সঙ্গে আর ডলারকে স্বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। প্রতি ৩৫ ডলার সমান ধরা হবে ২১ ক্যারেটের এক আউন্স খাঁটি স্বর্ণ। পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে পুনর্গঠন করার জন্য তারা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) প্রতিষ্ঠা করে।

এখানে লক্ষণীয় যে, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয় একেবারে শেষের দিকে, যাতে যুদ্ধ থেকে সর্বোচ্চ লাভটুকু তুলতে পারে। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, আমেরিকার এই একই চরিত্রটা বারবার আমরা দেখতে পেয়েছি। সে বিশ্বজুড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধ সৃষ্টি করে। তারপর সেই দেশগুলো ধ্বংস হয়ে গেলে পুনর্গঠনের অজুহাত দিয়ে সেখানে প্রবেশ করে সে নিজ স্বার্থ হাসিল করে নেয়। যেমন ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ইত্যাদি দেশগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি।

পরে ব্রেটন উডস চুক্তির মিত্র-সমর্থকরা লক্ষ করল, যুক্তরাষ্ট্র অযথা অর্থ অপচয় করছে এবং সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধশিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করছে। এরপরেই তারা ভিয়েতনাম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের বিপুল অর্থ ধ্বংস করে ফেলে। ঠিক তখনই প্রশ্নটা উঠল, এত অর্থ তারা কোভ্থেকে পাচ্ছে? সত্যিই কি তাদের কাছে এসব ডলারের জন্য সমপরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আছে?

📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 আইন বানিয়ে টাকা চুরির গল্প

📄 আইন বানিয়ে টাকা চুরির গল্প


আমেরিকা তখন স্বর্ণের সমমূল্যের মজুদ ছাড়াই ডলারের নোট ছাপছিল। ফলে প্রতিটি নতুন ডলার আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছিল। এটিকেই বলা হয় মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)। যার সহজ সংজ্ঞা হলো, স্বর্ণের কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই কাগুজে মুদ্রা ছাপিয়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো।

এটি আসলে একধরনের 'আইনসম্মত চুরি', যা আইন প্রণয়ন করে বৈধ বানানো হয়েছিল। মিত্রশক্তির দেশগুলো, বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট শার্ল দ্য গোল এই খেলা বুঝে ফেলেন। তিনি প্রকাশ্যে ডলারের বিরোধিতা করেন এবং তাদের সকল মুদ্রা স্বর্ণে রূপান্তরের দাবি জানান (যেমনটি আগেও উল্লেখ করা হয়েছে)। এর ফলে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায় এবং শুরু হয় 'স্বর্ণের জ্বর'।

এই ঘটনার পর বিশ্বস্ত সূত্রে প্রমাণিত হয় যে, দ্য গোলকে হত্যার জন্য একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, যার পেছনে CIA জড়িত ছিল। কিন্তু পরিকল্পনাটি সফল হয়নি।

📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 CIA-এর চক্রান্ত ও লন্ডন গোল্ড পুল

📄 CIA-এর চক্রান্ত ও লন্ডন গোল্ড পুল


এরপর ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ও ব্যাপক গণবিক্ষোভ। ইতিহাসে এটি শিক্ষার্থীদের বিদ্রোহ এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লব নামে পরিচিত। মনে রাখবেন, যে বিষয়টিকে তারা 'বিপ্লব' বলে, সেটি আগেও ঘটেছে, ভবিষ্যতে যখন প্রয়োজন হবে, তখনো ঘটবে!

ফ্রান্সের সেই বিক্ষোভগুলোর পেছনেও CIA-এর নোংরা হাত ছিল। এর ফলেই দ্য গোল ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান, যদিও তিনিই ছিলেন নাৎসিদের হাত থেকে ফ্রান্সকে মুক্ত করার নায়ক! কিন্তু এ ঘটনা তার জন্য এবং অন্যদের জন্য এক স্পষ্ট বার্তা হয়ে গেল যে, মহাশক্তির প্রভুদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে যেয়ো না।

এরপর জনগণের ক্ষোভ ও আপত্তি প্রশমিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন একসঙ্গে তৈরি করল লন্ডন গোল্ড পুল (London Gold Pool), যেন মানুষ বিশ্বাস করে ডলার সত্যিই স্বর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই জনসাধারণ আসল সত্যটা ধরে ফেলল। উপায় না দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ঘোষণা দিলেন, ডলারের সঙ্গে স্বর্ণের সম্পর্ক 'সাময়িকভাবে' বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। কিন্তু এই 'সাময়িকভাবে' কথাটি ছিল নিছক প্রতারণা। কারণ সেই বিচ্ছিন্নতা আজ পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছে!

টিকাঃ
১১. লন্ডন গোল্ড পুল ছিল আটটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি জোট। যুক্তরাষ্ট্র ও সাতটি ইউরোপীয় দেশ মিলে এটি গঠন করেছিল। ১৯৬১ সালের ১ নভেম্বর তারা একটি চুক্তি করেছিল যার মূল উদ্দেশ্য ছিল : ➤ ব্রেটন উডস সিস্টেম বজায় রাখা (যেখানে মুদ্রার মান স্থির ও স্বর্ণে রূপান্তরযোগ্য ছিল)। ➤ স্বর্ণের দাম স্থির রাখা (প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ৩৫ ডলার হিসেবে)। এজন্য তারা লন্ডনের স্বর্ণ বাজারে প্রয়োজনমতো হস্তক্ষেপ করত— স্বর্ণ কিনে বা বিক্রি করে দাম নিয়ন্ত্রণ করত। এই ব্যবস্থা ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত চলেছিল, পরে এটি ভেঙে যায়।

📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 থিঙ্ক ট্যাঙ্কসের ভূমিকা

📄 থিঙ্ক ট্যাঙ্কসের ভূমিকা


আগেও উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ হলো রাষ্ট্র ও ব্যক্তির পরিস্থিতি, মানসিক অবস্থা এবং প্রতিটি ঘটনার পটভূমি নিয়ে গভীর গবেষণা করা। এই বিশ্লেষণ তাদের কাছে পৌঁছে দেয় বিশাল ও প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো, যেগুলোকে বলা হয় 'থিঙ্ক ট্যাঙ্কস' (Think Tanks)।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কবে শেষ হবে এই প্রহসন? কবে থামবে এই ধূর্ত খেলা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘাম, পরিশ্রম আর উপার্জিত সম্পদ দিনের পর দিন লুটে নেওয়া হচ্ছে? মানুষ বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করছে। তাদের বেতন ডলার দিয়ে দেওয়া হয়, অথচ সেই ডলারের মান প্রতিদিন কমে যাচ্ছে! মানুষের জীবিকা উন্নত হচ্ছে না। ক্রমশ জীবনযাত্রা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

এসব সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে নিচ্ছে এমন একদল নিষ্ঠুর ও নির্মম চোর, যাদের নিজেদের জনগণ বা জাতির প্রতিও কোনো দয়া নেই; অন্যান্য জাতির কথা বাদই দিলাম!

তাহলে কি কোনো বিকল্প পরিকল্পনা আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা আছে, প্রয়োজন এলেই তারা যা প্রয়োগ করবে? নিঃসন্দেহে আছে! ভেবে দেখুন : কৃত্রিম যুদ্ধ বানানো সংক্রামক রোগ বারবার উস্কে দেওয়া বিপ্লব এমনকি পারমাণবিক বোমার ব্যবহার! যেখানে সবাই ধ্বংস হয়ে গেলেও তাদের একটাই লক্ষ্য থাকবে, নিজেদের বাঁচিয়ে রাখা।

টিকাঃ
১২. থিঙ্ক ট্যাঙ্কস বলতে এমন গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেগুলো কেবল চিন্তাভাবনার পরিবেশ তৈরি করে না; বরং শূন্য থেকে নতুন ধারণা গড়ে তোলে। সাধারণত এই ধারণাগুলো জন্ম নেয় বিভিন্ন উপাদান ও ঘটনার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করার দ্বারা, যতক্ষণ না তা বাস্তবে কার্যকর করার মতো অবস্থায় পৌঁছায়। এজন্য তারা গবেষণাকেন্দ্র বা 'চিন্তার ব্যাংক' প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তাদের কাজের ধাপগুলো সাধারণত এমন হয়: ১. বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ। ২. সেগুলোর বিশ্লেষণ। ৩. মূল ধারণার বিপরীতে পাল্টা ধারণা তৈরি। ৪. তারপর আবার সেই পাল্টা ধারণারও বিপরীতে আরেকটি ধারণা তৈরি। এভাবেই প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য তাদের হাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকে। এ বিষয়ে একটি চমৎকার প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে 'মুআসসাসাতুল ফিকরিল আরাবি'। সেখানে লেবানিজ গবেষক নাসিব শামস (نسیব শমস) থিঙ্ক ট্যাঙ্কস-এর সংজ্ঞা, এর বিভিন্ন ভূমিকা ও দায়িত্ব এবং কীভাবে এগুলো ব্যক্তি, সমাজ ও নীতিনির্ধারকদের ওপর প্রভাব ফেলে, তা বিশদভাবে তুলে ধরেছেন। নাসিব শামস তার লেখাটি শুরু করেছেন এভাবে, অনেক দিন ধরেই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ছিল। যদিও 'থিঙ্ক ট্যাঙ্কস' শব্দগুচ্ছটি মূলত ব্যবহৃত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন। তখন এটি দ্বারা একটি নিরাপদ কক্ষ বা অনুকূল পরিবেশ বোঝানো হতো, যেখানে প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক পরিকল্পনাবিদরা একত্রিত হয়ে স্ট্রাটেজি ও ট্যাকটিক্স নিয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই পরিভাষাটি আরও বিস্তৃত অর্থে ব্যবহার হতে থাকে। এটি এখন বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেগুলো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং নীতি-বিশ্লেষণ ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করে। লেখক ইঙ্গিত করেছেন যে, থিঙ্ক ট্যাঙ্কস বা গবেষণাকেন্দ্রগুলোর সংজ্ঞা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর সংজ্ঞা এখনো বিতর্কিত, কারণ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই নিজেদের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক বলে স্বীকার করে না; বরং নিজেদেরকে বেসরকারি সংস্থা (NGO) বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করে। ফলে ধারণাটি বিস্তৃত ও নমনীয় হয়ে গেছে, যা নানা ব্যাখ্যার সুযোগ গ্রহণ করে। কারণ এর চারপাশে রয়েছে অসংখ্য বিস্তারিত দিক এবং বহুস্তরীয় প্রেক্ষাপট। থিঙ্ক ট্যাঙ্কস এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে হাওয়ার্ড জে. উইয়ার্ডা (Howard J Wiarda) বলেন, গবেষণা ও অধ্যয়নকেন্দ্রগুলো হলো এমন প্রতিষ্ঠান, যেগুলো গবেষণা ও শিক্ষার কাজ করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের মতো করে নয়। এগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক পাঠ্যক্রম প্রদান করে না; বরং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গবেষণা-ভিত্তিক পণ্য (মূলত গবেষণা প্রতিবেদন) তৈরি করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের পাবলিক পলিসি বা সাধারণ নীতিমালা নিয়ে গবেষণা করা এবং এসব নীতির আলোচনায় কার্যকর প্রভাব রাখা। তারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, জননীতি, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে গভীরভাবে মনোযোগ দিয়ে থাকে। তারা এসব বিষয়ে ভাসমান তথ্য উপস্থাপন করে না; বরং গভীর বিশ্লেষণ ও বিতর্ক তৈরি করে এবং জনগণের দৃষ্টি এসব বিষয়ের দিকে আকর্ষণ করে। থিঙ্ক ট্যাঙ্কস শব্দগুচ্ছকে আরবিতে বিভিন্নভাবে অনুবাদ করা হয়। কেউ কেউ এর অনুবাদ করেন 'مراكز التفكير' (চিন্তাকেন্দ্র)। তবে সাধারণত এর অনুবাদ 'مراكز الأبحاث والدراسات' (গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আমেরিকার আঞ্চলিক ভাষায় 'Brain boxes' শব্দটি ব্যবহার করা হতো সেসব কক্ষের জন্য, যেখানে কৌশলবিদরা সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতেন। মূলত গবেষণা ও অধ্যয়নকেন্দ্রের জন্ম ঠিক কখন হয়েছিল, লেখক এখানে সেসব বিষয়ে গবেষকদের মতভেদের কথা উল্লেখ করেছেন। কিছু গবেষক বলেন, এসব কেন্দ্রের প্রথম রূপের উৎপত্তি হয়েছিল ইউরোপের ইউনিভার্সিটিগুলোতে। বিশেষ করে দ্বাদশ শতকে, ইউরোপীয় ক্রুসেড যুদ্ধের প্রাক্কালে ইসলামি ইউনিভার্সিটিগুলোর অনুকরণে যেসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। পরবর্তীকালে অষ্টাদশ শতকে এগুলো ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে 'الكراسي العلمية' (বৈজ্ঞানিক চেয়ার বা ইলমি চেয়ার) নামে পরিচিত হয়। এর প্রথম সূচনা ঘটে বোলোনিয়া (Bologna) ও প্যারিসে 'করাসি الدراسات الشرقية' (প্রাচ্য অধ্যয়ন চেয়ার) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী ১৮৩১ সালে প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ব্রিটেনে। রয়‍্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (Royal United Services Institute) নামে। এরপর ১৮৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ফ্যাবিয়ান সোসাইটি (Fabian Society)। একই সঙ্গে ধর্মীয় অধ্যয়নকে উৎসাহিত করার জন্য ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম দাতব্য সংস্থা 'ডিমোরেন্ট ট্রাস্ট' গড়ে ওঠে। গবেষকদের মতে, এসব 'চেয়ার' ছিল গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পূর্বাভাস। অন্যদিকে অনেকে মনে করেন, গবেষণাকেন্দ্রগুলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে নতুন একটি ধারণা। এর সূচনা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে। তখন এগুলো ছিল মূলত জনসম্মুখে আলোচনার মঞ্চ বা সমাজ ও নীতি-নির্ধারকদের ব্যস্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর গবেষণার স্থান। আধুনিক রূপে সর্বপ্রথম গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রে : ➤ ১৯১০ সালে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস (Carnegie Endowment for International Peace) ➤ একই বছরে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন (Brookings Institution) ➤ ১৯১৮ সালে হুভার ইনস্টিটিউশন (Hoover Institution) ➤ এবং ১৯১৯ সালে সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশন (The Century Foundation) কোল্ড ওয়ার বা স্নাযযদ্ধের পরবর্তী সময়ে গবেষণা ও অধায়নকেন্দগুলো দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ১. গবেষণা ও বিশ্লেষণ: জননীতির জটিল সমস্যা ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর ওপর গভীর ও পদ্ধতিগত গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা। ২. নীতি-নির্ধারকদের সহায়তা: রাষ্ট্রনেতা ও নীতি-নির্ধারকদের জন্য বিকল্প উপস্থাপন, নীতি স্পষ্টকরণ এবং বিষয়গুলোকে নির্ভুল ও বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করা। এজন্য বিশ্বের বহু সরকার ও নির্বাহী সংস্থা এসব কেন্দ্রের গবেষণা, অধ্যয়ন ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। অনেক সময় এসব কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00