📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 অর্থযুদ্ধে মৃত্যুর মিছিল

📄 অর্থযুদ্ধে মৃত্যুর মিছিল


সং হংবিং বলেন, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছয় জন প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম হ্যারিসন (William Henry Harrison), যিনি ১৮৪১ সালে নির্বাচিত হন, তিনি ছিলেন এই যুদ্ধের প্রথম শিকার। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর কারণ ছিল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আর্থিক গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা করা।

প্রেসিডেন্ট জ্যাকারি টেইলারও (Zachary Taylor) রহস্যজনকভাবে মারা যান। তার মৃত্যুর ১৫০ বছর পর (১৯৯১ সালে) তার সমাধি থেকে নেওয়া চুলের নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়, তাতে প্রাণঘাতী আর্সেনিক বিষের উপস্থিতি ছিল!

এ ছাড়া এই যুদ্ধেই প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন (Abraham Lincoln) ১৮৬৫ সালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। প্রেসিডেন্ট জেমস গারফিল্ডও (James A. Garfield) গুলিবিদ্ধ হন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

টিকাঃ
৮. প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি (John F. Kennedy) হত্যার পেছনে কী কারণ ছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন কথা প্রচলিত আছে। তবে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী এটি ঘটেছিল 'Executive Order ১১১১০' পাসের কারণে। এই নির্বাহী আদেশের মূল কথা ছিল, মার্কিন ডলারের নোট শুধুমাত্র সরকারই ছাপতে পারবে। এই আইন প্রেসিডেন্টকে ব্যাংকের শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করা হয়। এজন্যই তাকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।

📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 আগুনের জ্বলে ওঠা ছাই

📄 আগুনের জ্বলে ওঠা ছাই


মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যিনি ব্যাংকারদের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়, তিনি হলেন অ্যান্ড্রু জ্যাকসন (Andrew Jackson)। তিনি দুইবার ভেটো ব্যবহার করে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা রুখে দেন। আমেরিকান জনগণের কাছে তার জনপ্রিয়তা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব তাকে এই লড়াইয়ে সহায়তা করেছিল।

মৃত্যুর আগে জ্যাকসন বলে গিয়েছিলেন, তার সমাধিতে যেন নিম্নোক্ত বাক্যটি লেখা হয়, 'আমি ব্যাংকার লর্ডদের হত্যা করতে পেরেছি, যদিও তারা আমাকে সরিয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।'

তবে এই সাময়িক সাফল্য রথসচাইল্ড পরিবার ও তাদের সহযোগীদের আর্থিক খাত (এর মধ্যে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও অন্তর্ভুক্ত) নিয়ন্ত্রণে নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

পরবর্তীকালে কিছু চীনা সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান পল ভলকারের (Paul Volcker) সাক্ষাৎকার নেয়। তিনি স্বীকার করেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোপুরি সরকারের মালিকানাধীন নয়। এর মূলধনে বড় বেসরকারি শেয়ারহোল্ডারও রয়েছে। তবে তিনি চীনাদের প্রতি আহ্বান জানান, এ বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে তারা যেন কোনো রায়ে না পৌঁছায়।

টিকাঃ
৯. ক্ষমতার সময়কাল: ১৮২৯-১৮৩৭

📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 কেন্দ্রীয় ব্যাংক না-কি ইহুদি ব্যাংক?

📄 কেন্দ্রীয় ব্যাংক না-কি ইহুদি ব্যাংক?


এ কথা সবারই জানা যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে 'সরকারি ও বেসরকারি খাতের এক অস্বাভাবিক মিশ্রণ' হিসেবে।

কিন্তু সং হংবিং-এর বক্তব্য আরও স্পষ্ট। তার মতে, এটি আসলে পাঁচটি বড় বেসরকারি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে, যেমন সিটি ব্যাংক। আর এই ব্যাংকগুলো ধনী ইহুদি পরিবারের মালিকানায় রয়েছে, যারা আড়াল থেকে মার্কিন ফেডারেল সরকারকে প্রভাবিত করে। ফলে তাদের হাতে শুধু আমেরিকার নয়, পুরো বিশ্বের অর্থনীতিরও নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে।

কিছু আমেরিকান মহল বইটিকে ইহুদি বিদ্বেষমূলক বলে অভিযুক্ত করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, যদি চীনের অর্থনীতি কখনো ধ্বংস হয়, তার জন্য দায়ী হবে চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং তাইওয়ানকে স্বায়ত্তশাসন থেকে বঞ্চিত করা; ইহুদিরা নয়।

তবে সং হংবিং এই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ইহুদিদের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, 'চীনা জনগণ মনে করে ইহুদিরা খুব বুদ্ধিমান, তাই আমাদের তাদের কাছ থেকে শেখা উচিত। আমি নিজেও মনে করি তারা সত্যিই বুদ্ধিমান, এমনকি হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান তারাই!'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00