📘 কারেন্সি ওয়ার > 📄 মূল্যহীন কাগজ যেভাবে ‘স্বর্ণ’ হয়ে ওঠে

📄 মূল্যহীন কাগজ যেভাবে ‘স্বর্ণ’ হয়ে ওঠে


এরপর স্বর্ণ পুরোপুরি মুক্ত হয়ে যায়। তার দাম-ভাগ্য নির্ধারণ করতে থাকে কেবল বাজারের চাহিদা ও জোগান। ডলারসহ পৃথিবীর সব মুদ্রা তখন একই অবস্থানে চলে আসে। সবই হয়ে যায় কাগুজে বাধ্যতামূলত মুদ্রা, প্রকৃতপক্ষে যার কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য নেই, কেবল সরকারগুলোর ঘোষণার ওপরই তা দাঁড়িয়ে থাকে। ১৯৭৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ডলারের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে প্রায় ৪০ গুণ, আর সোনার দাম বেড়েছে ভয়াবহ মাত্রায়!

এটি ছিল গোটা বিশ্বের জন্য এক চরম ধাক্কা, এক বড় প্রতারণা! বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশ যে মার্কিন ডলার জমিয়ে রেখেছিল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে, ভেবে রেখেছিল প্রয়োজনে তা সোনায় বদলে নেবে, সেই সুযোগ হঠাৎ করেই হারিয়ে গেল। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এত কিছু জানার পরও তারা ডলারের ওপর নির্ভরশীলই থেকে গেল। কারণ রিজার্ভে জমা থাকা বিপুল পরিমাণ ডলার এক ঝটকায় ফেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা করলে সবই পানিতে ভেসে যেত।

আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন : তাহলে এসব দেশ ডলারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে লেনদেন বন্ধ করে না কেন? এর উত্তর হলো, আমেরিকার নৌবাহিনী সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে শুধু বাতাস পাহারা দেওয়ার জন্য নয়! মূলত সামরিক শক্তিই অর্থনৈতিক শক্তিকে রক্ষা করে। এভাবেই ডলার হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, অন্য সকল দেশ যা ব্যবহার করতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, অন্যান্য মুদ্রার মানও নির্ধারণ হয় ডলারের ভিত্তিতে। ফলে বিশ্ব-অর্থনীতির ওপর আমেরিকার আধিপত্য আরও মজবুত হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00