📄 কীভাবে মানুষকে এমন মূল্যহীন ডলার গ্রহণে বাধ্য করা হয়?
সেই সময় মার্কিন কংগ্রেস আইন করে ঘোষণা দেয়, যারা ডলার নিতে অস্বীকার করবে, তারা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী বলে গণ্য হবে। এভাবে মানুষকে জোর করে ডলার গ্রহণে বাধ্য করা হয়।
📄 তখনকার ডলারের মান
তখন ডলার ছিল শুধু একটি কাগজের টুকরা, যার পেছনে আসলে কোনো সোনা ছিল না। এর মান ধরে রাখা হতো কেবল সরকারের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের ভিত্তিতে। বাস্তব অর্থে তখন ডলারের নিজস্ব কোনো মূল্য ছিল না।
📄 মূল্যস্ফীতির সূচনা
১৮৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মূল্যস্ফীতি (Inflation) দেখা দেয়, আর মার্কিন ডলারের মূল্য অনেকটাই কমে যায়। এরপর সরকার ডলারের পেছনে আবার স্বর্ণের রিজার্ভ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। যাতে মানুষ চাইলে সবুজ রঙের ডলার দিয়ে স্বর্ণ নিয়ে যেতে পারে। এই ব্যবস্থা চালু হলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসে।
📄 ১৯২৯ সালের মহামন্দা (The Great Depression)
১৯২৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়, যা কয়েক বছর ধরে চলেছিল। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট ১৯৩৩ সালে ডলারের পেছনের স্বর্ণের রিজার্ভ সিস্টেম তুলে দেন। অর্থাৎ ডলারের স্বর্ণভিত্তিক মূল্য বাতিল করে দেন।
পরের বছর ১৯৩৪ সালে তিনি আবার ডলারের পেছনে স্বর্ণ যুক্ত করেন, তবে এবার আগের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন মূল্যে তিনি এ কাজটি করেন। যাতে করে অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশকে কিছুটা বের করে আনা যায়। এই ব্যবস্থা ততদিন চলতে থাকে, যতদিন না ১৯৪৪ সালে ‘ব্রেটন উডস চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যেটি আধুনিক ডলারের আন্তর্জাতিক ভূমিকার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।