📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 সপ্তম ক্রুসেড-পরবর্তী সময়

📄 সপ্তম ক্রুসেড-পরবর্তী সময়


যুদ্ধ শেষে তুরানশাহ 'আল-মালিকুল মুয়াযযাম' উপাধি ধারণ করে আইয়ুবি সাম্রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি চার লক্ষ দিনারের সমপরিমাণ অর্থ মুক্তিপণ ও দিমইয়াতের নিয়ন্ত্রণ ফেরত লাভের বিনিময়ে রাজা লুইকে তার পরিজন ও অন্যান্য বন্দি সৈন্যসহ মুক্তি দিয়ে দেন।
এরপর সুলতান তুরানশাহ শাজারাতুদ-দুরের কাছে তার পিতার সম্পদ দাবি করেন এবং মামলুকদের বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন। অবশেষে মামলুকরা তুরানশাহকে দায়িত্ব গ্রহণের সত্তর দিনের মাথায় হত্যা করে এবং ৬৪৮ হিজরি সনের সফর মাসে ‘উম্মে খলিল শাজারাতুদ-দুর’কে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। ইতিপূর্বে কোনো নারী মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করেনি। শাজারাতুদ-দুর অবশ্য কিছুদিন পরই নিজেকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেন।
এরপর মামলুকরা আইয়ুবি পরিবারের জনৈক রাজপুত্র আল-আশরাফ মুসা বিন ইউসুফ বিন মাসউদ বিন আল-কামিলকে সুলতান পদে অধিষ্ঠিত করে। মাত্র আট বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মুসার তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন করা হয় সুলতান আল-মালিকুস সালিহ আইয়ুবের ক্রীতদাস ইযযুদ্দিন আইবেক তুর্কমানিকে। ইযযুদ্দিন শাজারাতুদ-দুরকে বিয়ে করেন এবং কিছুদিন না যেতেই মুসাকে অপসারণ করে নিজেই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র ক্ষমতা অর্জন করেন। এর মাধ্যমে মিশরে আইয়ুবি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে এবং মামলুক সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। শামে অবশ্য এরপরও কিছুদিন আইয়ুবি সাম্রাজ্য টিকে ছিল। পরবর্তীকালে শামকেন্দ্রিক আইয়ুবি রাষ্ট্র সীমিত স্বাধীনতাসহ মামলুকদের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়।
৬৫৫ হিজরি সনে (১২৫৭ খ্রিষ্টাব্দে) ইযযুদ্দিন আইবেক নিহত হন। কিছুদিন পর শাজারাতুদ-দুরকেও হত্যা করা হয়। এরপর ইযযুদ্দিন আইবেকের আগের স্ত্রীর পুত্র নুরুদ্দিন আলি ‘আল-মালিকুল মানসুর’ উপাধি ধারণ করে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন। নুরুদ্দিনের বয়স তখন মাত্র এগারো! তাই সেনাপতি সাইফুদ্দিন কুতুজ তার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন। তার শাসনামলেই ৬৫৬ হিজরি সনে সমকালীন মুসলিম উম্মাহর জীবনে এক বিরাট বিপর্যয় সংঘটিত হয়—তাতারিদের হাতে বাগদাদের পতন ঘটে এবং খিলাফতব্যবস্থার সমাপ্তি ঘটে। পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুদ্দিন কুতুজ মিশরের আলিম-উলামা ও কাজিদেরকে সমবেত করেন। সকলে কিশোর সুলতানকে অপসারণ করে তাকে দায়িত্বগ্রহণের ফতোয়া প্রদান করে। অবশেষে ৬৫৭ হিজরি সনে সাইফুদ্দিন কুতুজ ‘আল-মালিকুল মুযাফফার’ উপাধি ধারণ করে মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন।
৬৫৮ হিজরিতে তাতারি নেতা হালাকু খান সাতদিন অবরোধের পর আলেপ্পোতে প্রবেশ করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান। আলেপ্পোতে বাগদাদের চেয়েও অধিক সংখ্যক মানুষ হালাকুবাহিনীর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। কেবল খ্রিষ্টান নাগরিকরাই গণহত্যা হতে রেহাই পায়। এ সময় তাতারিদের আগ্রাসনের সংবাদ পেয়ে পার্শ্ববর্তী হামা অঞ্চলের প্রশাসক ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং হালাকুবাহিনী সেদিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বেই নগরদ্বারের চাবি হালাকু খানের কাছে পাঠিয়ে দেন।
৬৫৮ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ দিকে (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে) হালাকুবাহিনী কোনোরূপ বাধা-বিপত্তি ছাড়াই দামেশকে প্রবেশ করে। দামেশকের দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত দুর্গ জয় করার জন্য তাতারিরা উপর্যুপরি গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। একসময় দুর্গের অধিবাসীরা নতি স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। হালাকু খান ইবিল সিয়ান নামক জনৈক তাতারিকে দামেশক নগরী ও দুর্গের শাসনভার প্রদান করেন।
তৎকালীন ইসলামি প্রাচ্যের তিন বৃহৎ নগরী বাগদাদ, আলেপ্পো ও দামেশকে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর পর তাতারিরা একে একে বালাবাক্কু, আজালুন (Ajloun), সাল্‌ত (Al-Salt), হাওরান (The Hauran), নাবলুস, গাজা, জেবরিন ও হেবরন (Hebron)-সহ পুরো শাম অঞ্চল দখল করে নেয় এবং প্রতিটি অঞ্চলে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। শামে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর তাতারিরা এবার দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মামলুক নিয়ন্ত্রিত মিশরের প্রতি।
মিশরের সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাতারিরা মিশরে আগমনের পূর্বে নিজেই অগ্রসর হয়ে তাদের উপর আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার বাহিনী প্রস্তুত করে শাম অভিমুখে রওনা হন। সংবাদ পেয়ে হালাকু খানের প্রধান সহকারী কিতবুগার নেতৃত্বে বিশাল তাতারি বাহিনী কুতুজের বাহিনীর দফারফা করতে অগ্রসর হয়।
৬৫৮ হিজরি সনের রমজান মাসে (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে) আইনে জালুতের প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে এক যুগান্তকারী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে তাতারি বাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, তাদের সেনাপতি কিতবুগা ও বহু সৈন্য নিহত হয়। সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ তার সেনাপতি রুকনুদ্দিন বাইবার্সকে পরাজিত তাতারি বাহিনীর পশ্চাদ্ধাবনের নির্দেশ দিলে তিনি সুদূর আলেপ্পো পর্যন্ত তাদের ধাওয়া করেন।
আইনে জালুতে তাতারি বাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ দামেশকে পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত তাতারিরাও পালিয়ে যায়। দামেশকের মুসলিম অধিবাসীগণ তাদের পিছু নিয়ে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের হাতে বন্দি মুসলমানদের মুক্ত করে।
সেনাপতি রুকনুদ্দিন বাইবার্স শামের অধিকাংশ এলাকা আইয়ুবি পরিবারের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মামলুক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হন। রুকনুদ্দিনের সাফল্যে খুশি হয়ে সুলতান কুতুজ তাকে আলেপ্পোর প্রশাসক নিযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সক্ষম হননি। মিশরে ফেরার পর বাইবার্স তাকে হত্যা করে মামলুক সাম্রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। (৫৮৭) রুকনুদ্দিন বাইবার্সের দায়িত্বগ্রহণের মধ্য দিয়েই মূলত বাহরি মামলুক সাম্রাজ্যের প্রকৃত শাসনব্যবস্থার সূচনা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পরই রুকনুদ্দিন বাইবার্স মামলুক সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা সুবিন্যস্তকরণ, সেনাবাহিনীর সংস্কার ও নৌবহর নির্মাণে কাজ শুরু করেন। এরপর তিনি শামের নিরাপত্তাব্যবস্থা দৃঢ়করণে মনোযোগ দেন এবং দামেশক ও কায়রোর মাঝে বার্তাবাহী কবুতরবিশিষ্ট দ্রুতগামী ডাকব্যবস্থার প্রচলন করেন। তিনি তাতারিদের আগ্রাসনের পর বাগদাদ থেকে পালিয়ে বেড়ানো জনৈক আব্বাসি রাজপুত্রকে মিশরে নিয়ে আসেন এবং তার হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করে ইসলামি খিলাফতব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন।
মামলুক সাম্রাজ্যকে তখন একই সঙ্গে তিন-তিনটি প্রবল শক্তিধর প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এক দিকে ছিল ধেয়ে আসা তাতারিদের হুমকি, আরেক দিকে ছিল ক্রুসেডারদের অব্যাহত রাজ্যবিস্তৃতির প্রচেষ্টা। আর তৃতীয় শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল শিয়া বাতিনি হাশাশিন গোষ্ঠী।
সুলতান বাইবার্স ৬৬১ হিজরি সনে (১২৬৩ খ্রিষ্টাব্দে) শামের ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াই শুরু করেন। প্রথমেই তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্যভুক্ত খ্রিষ্টানদের তীর্থভূমি নাজারেথ (Nazareth) অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করেন এবং নগরীটি জয় করে নেন। এরপর তিনি রাজ্যটির রাজধানী আক্কা অভিমুখে অগ্রসর হন। আক্কার উপকণ্ঠে সংঘটিত এক প্রচণ্ড যুদ্ধে বাইবার্স বাইতুল মুকাদ্দাসের রাজা ৩য় কনরাড (Conrad III)-কে পরাজিত করেন। পরাজিত কনরাড পালিয়ে আক্কার দুর্গে আশ্রয় নেন। সুলতান বাইবার্স কিছু সৈন্যকে আক্কা অবরোধে নিয়োজিত করে নিজে আরসুফ অভিমুখে রওনা হন। টানা চল্লিশ দিন অবরোধ করে রাখার পর আরসুফের ক্রুসেডার সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করে।
পরের বছর সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্যের আরেক দুর্ভেদ্য দুর্গ আতলিত (Athlith) অবরোধ করেন এবং যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করে নেন। আতলিত বিজয়ের পর সুলতান বাইবার্স হাইফা অভিমুখে রওনা হন। হাইফা অবরোধ করার পর সুলতানের নির্দেশে মুসলিম সৈন্যরা নগরপ্রাচীর লক্ষ্য করে বিরামহীন পাথর ও গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। একপর্যায়ে নগরপ্রাচীর ভেঙে পড়লে মুসলিম বাহিনী হাইফায় প্রবেশ করে নগরীটি দখল করে নেয়।
৬৬৩ হিজরি সনে (১২৬৫ খ্রিষ্টাব্দে) বাইবার্সের নেতৃত্বে মামলুক বাহিনী কায়সারিয়া অবরোধ করে। নাইট হসপিটালারদের সঙ্গে নিয়ে ক্রুসেডার বাহিনী চল্লিশ দিন পর্যন্ত অবিচল থাকলেও একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। কায়সারিয়া জয়ের পর বাইবার্স তার অন্যতম সেনাপতি কালাউন ও আল-মানসুর আলিকে পাঠান আর্মেনীয় জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত কিলিকিয়া অঞ্চল জয়ের জন্য আর নিজে রওনা হন সাফাদ (Safad) নগরী জয়ের লক্ষ্যে।
কালাউন ও আল-মানসুর আলির নেতৃত্বে মামলুক বাহিনীর একটি অংশ ৬৬৪ হিজরি সনের (১২৬৬ খ্রিষ্টাব্দের) মধ্যে আদানা ও তারসুসসহ পুরো কিলিকিয়া অঞ্চল জয় করতে সক্ষম হয়। এদিকে সুলতান বাইবার্স নিজে বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্যভুক্ত সাফাদ নগরী অবরোধ করেন। দুই হাজার নাইট টেম্পলারের উপস্থিতি সত্ত্বেও ভীত ক্রুসেডাররা আত্মসমর্পণ করে সাফাদ নগরীর নিয়ন্ত্রণ বাইবার্সের হাতে তুলে দেয়। এরপর বাইবার্স একে একে আসকালান ও জাফাও জয় করেন। এর ফলে শামের পুরো উপকূলীয় অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে চলে আসে আর বাইতুল মুকাদ্দাস ক্রুসেড রাজ্য সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে কেবল আক্কা নগরীতে।
বাইতুল মুকাদ্দাস ক্রুসেড রাজ্যের দফারফা করে সুলতান বাইবার্স এবার নজর দেন আরেক ক্রুসেড রাজ্য এন্টিয়কের প্রতি। ৬৬৬ হিজরি সনে (১২৬৮ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি এন্টিয়ক অবরোধ করেন। দীর্ঘ অবরোধের পর ৬৬৬ হিজরি সনের ৪ রমজান (১২৬৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ মে) এন্টিয়কের সাধারণ জনগণ আত্মসমর্পণ করলে এন্টিয়কের পতন ঘটে। নগরীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত দশ হাজার ক্রুসেডার সৈন্য আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে দুর্গে আশ্রয় নিলে মামলুক বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে ২০ মে তাদেরকেও পরাভূত করে। ১০৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জুন প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধের শুরুর দিকে পতন ঘটেছিল ঐতিহ্যবাহী এন্টিয়ক নগরীর। দীর্ঘ একশ সত্তর বছর পর অবশেষে পুনরায় সেখানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত এন্টিয়ক মুসলমানদের অধিকারে আছে।

টিকাঃ
৫৮৭. এর কারণ সম্পর্কে জানতে দেখুন মাকতাবাতুল হাসান থেকে প্রকাশিত ইসলামি ইতিহাস সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ, ৩য় খণ্ড।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 অষ্টম ক্রুসেড যুদ্ধ

📄 অষ্টম ক্রুসেড যুদ্ধ


[৬৬৮-৬৬৯ হিজরি/১২৬৯-১২৭০ খ্রিষ্টাব্দ]
এন্টিয়কের পতন যেন ছিল ইসলামি প্রাচ্যে ক্রুসেডারদের চূড়ান্ত পতনধ্বনি। এডেসা রাজ্যের তো আগেই পতন ঘটেছে, মামলুক ঝড়ে এন্টিয়ক ক্রুসেড রাজ্যও হারিয়ে গেছে বিশ্ব মানচিত্র থেকে। বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্য সীমিত হয়ে পড়েছে আক্কা নগরীতে। তুলনামূলক ক্ষুদ্র ত্রিপোলি ক্রুসেড রাজ্য লেবানন অঞ্চলের সামান্য অংশ নিয়ে কোনোমতে টিকে আছে। স্বভাবতই এতে ইউরোপ প্রবলভাবে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। তৎকালীন পোপ ৪র্থ ক্লেমন্ত (Pope Clement IV) তাই নতুন করে ক্রুসেড যুদ্ধের ডাক দেন।
পোপের আহ্বানে ইউরোপজুড়ে প্রস্তুতি শুরু হয়। অভিযানে অংশ নিতে সম্মতি জানান ইংল্যান্ডের যুবরাজ অ্যাডওয়ার্ড, সাইপ্রাসের রাজা ৩য় হিউ (Hugh III of Cyprus) এবং সপ্তম ক্রুসেডের সর্বাধিনায়ক ফ্রান্সের রাজা ৯ম লুই। তাদের সঙ্গে আরও যোগ দেন তাতারি রাজ্য ইলখানাতের শাসক ও হালাকু খানের পুত্র আবাগা খান। সিদ্ধান্ত হয়, রাজা ৯ম লুই মামলুক সাম্রাজ্যের পশ্চিম কোণ তিউনিসিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করে একে একে (লিবিয়ার) ত্রিপোলি ও কায়রো দখল করে নেবেন, এরপর সরাসরি আল-কুদস অভিমুখে অগ্রসর হবেন; অ্যাডওয়ার্ড ও হিউ নৌপথে আক্কায় পৌঁছে আল-কুদসে হামলা চালাবেন আর আবাগা খান মামলুক সাম্রাজ্যের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে একে একে আলেপ্পো ও দামেশক দখল করে নেবেন, এরপর ফ্রান্স-ইংল্যান্ড-সাইপ্রাস বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে আল-কুদস দখল করবেন।
এদিকে এন্টিয়ক রাজ্যের দফারফা করার পর রুকনুদ্দিন বাইবার্স কায়রোতে ফিরে যান। কিছুদিন পর তিনি আবারও শাম অঞ্চলে অভিযান চালান। এবার তিনি আক্রমণ করেন শামের নাসিরিয়া পার্বত্যাঞ্চলে অবস্থিত শিয়া বাতিনি রাজ্য মাসইয়াফে। ৬৫৪ হিজরি সনে (১২৫৬ খ্রিষ্টাব্দে) পারস্যের বাতিনি হাশাশিন রাজ্যের পতন ঘটলেও শামের বাতিনি রাজ্যটি তখনও টিকে ছিল। পূর্বে নাসিরিয়া পর্বতমালা হতে পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত এবং উত্তরে এন্টিয়ক রাজ্যসীমা হতে দক্ষিণে ত্রিপোলি রাজ্যসীমা পর্যন্ত ছিল বাতিনি হাশাশিন গোষ্ঠীর রাজ্যবিস্তৃতি। রাজ্যজুড়ে ছিল দুর্ভেদ্য উনিশটি দুর্গ। বাইবার্স তার বাহিনীকে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি দুর্গকে তিনদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। খোলা থাকে কেবল পশ্চিমে সাগরের দিক। সুকঠিন অবরোধ ও অনবরত গোলা নিক্ষেপের মাধ্যমে সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স এক বছরের মধ্যে একে একে সবগুলো দুর্গের পতন ঘটাতে সক্ষম হন। এর ফলে পৃথিবী শিয়া বাতিনি গোষ্ঠীর বর্বরতা থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি লাভ করে।
রাজা ৯ম লুই ফরাসি বাহিনীর সঙ্গে ইতালির নেপলস ও আন্দালুসের খ্রিষ্টরাজ্য নাফারের সহায়ক বাহিনী নিয়ে ৬৬৮ হিজরি সনের জিলকদ মাসে (১২৭০ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে) তিউনিসিয়ার কার্থেজ (Carthage) নগরীর উপকূলে পৌঁছান। তিউনিসিয়ার তৎকালীন শাসকপরিবার বনু হাফস মুসলমান হলেও ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের সঙ্গে মিত্রতা বজায় রেখে চলত। কিন্তু তিউনিসিয়ায় পৌঁছেই ক্রুসেডার বাহিনী মহামারির শিকার হয় এবং অনেক সৈন্য আমাশয়ে আক্রান্ত হয়ে ইহধাম ত্যাগ করে। খোদ রাজা লুই-ও ২৫ আগস্ট মারা যান। তখন বাকিরা সামনে অগ্রসর না হয়ে সেখান থেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে যায়। এ সংবাদ জানতে পেরে অ্যাডওয়ার্ড ও হিউয়ের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড ও সাইপ্রাসের বাহিনী এবং আবাগা খানের নেতৃত্বাধীন তাতারি বাহিনীও অভিযানের চিন্তা বাদ দেয়। এভাবে অষ্টম ক্রুসেডও পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
শাম অঞ্চলে বাতিনি রাজ্যের অবরোধে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় বাইবার্স ক্রুসেডারদের সংগঠিত হওয়ার সংবাদ জানতে পেরে দ্রুত কায়রোতে ফিরে এসেছিলেন। ক্রুসেডারদের প্রস্থানের পর তিনি পুনরায় শাম অঞ্চলে ফিরে যান। ১২৭১ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতে তিনি জয় করেন ত্রিপোলি রাজ্যের অধীনস্থ বুর্জ সাফিতা (Chastel Blanc)। এরপর তিনি অবরোধ করেন ত্রিপোলি নগরী।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 নবম ক্রুসেড যুদ্ধ

📄 নবম ক্রুসেড যুদ্ধ


[৬৭০ হিজরি/১২৭১-১২৭২ খ্রিষ্টাব্দ]
ত্রিপোলি অবরোধের সংবাদ জানতে পেরে ইউরোপের টনক নড়ে ওঠে। আল-কুদস, এডেসা, এন্টিয়ক সবই হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখন যদি ত্রিপোলি ও আক্কারও পতন ঘটে, তাহলে ইসলামি প্রাচ্য থেকে ক্রুসেডারদের পাততাড়ি গুটাতে হবে। তাতারিদের সহায়তায় এবার ঘোষিত হয় নবম ক্রুসেড।
অষ্টম ক্রুসেডের মতো এবারও অভিযানে যোগ দেয় ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সাইপ্রাস ও তাতারি রাজ্য ইলখানাত। আবাগা খান অবশ্য এবার নিজে না এসে তার বিশেষ সেনাপতি সামাগার (Samagar)-কে প্রেরণ করেন। পরিকল্পনা করা হয়, ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা রুকনুদ্দিন বাইবার্সকে যুদ্ধে ব্যস্ত রাখবে, এ ফাঁকে তাতারি বাহিনী শামের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নেবে।
৬৭০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে (১২৭১ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে) সামাগারের নেতৃত্বে ত্রিশ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী উত্তর দিক থেকে মামলুক সাম্রাজ্যে পা রাখে। প্রথমে তারা আলেপ্পোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, এরপর একে একে হামলা চালায় মা'আররাতুন-নোমান ও আফামিয়া নগরীতে। সংবাদ পেয়ে সুলতান বাইবার্স অল্প কিছু সৈন্যকে ত্রিপোলিতে রেখে বাকিদেরকে নিয়ে দ্রুত আফামিয়া অভিমুখে রওনা হন। বাইবার্সের রওনা হওয়ার সংবাদ পেয়েই তাতারি বাহিনী ঊর্ধ্বশ্বাসে পালাতে শুরু করে। বাইবার্স দ্রুত গতিতে তাদের ধাওয়া করে তার রাজ্যের সীমান্ত খাবুর নদী পর্যন্ত পৌঁছে যান। কিন্তু তার আগেই তারা পালিয়ে ইলখানাত রাজ্যে চলে যায়!
বাইবার্স যখন তাতারীদের তাড়া করে রাজ্যের উত্তর সীমান্তে পৌঁছে গেছেন, ওদিক থেকে ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা তখন ফিলিস্তিন অঞ্চলে হামলা চালায়। মামলুক বাহিনী অন্যদিকে ব্যস্ত থাকায় ইংল্যান্ডের যুবরাজ অ্যাডওয়ার্ডের নেতৃত্বে ক্রুসেডার বাহিনী অনেকটা বিনা যুদ্ধে একে একে মন্টফোর্ট দুর্গ (Montfort Castle), নাজারেথ নগরী ও কাকুন দুর্গ দখল করে নেয়।
সংবাদ পেয়ে কালবিলম্ব না করে সুলতান বাইবার্স আবার ছোটেন শামের দক্ষিণ প্রান্তে। মাত্র বিশ হাজার সৈন্য নিয়ে তিনি আক্কায় পৌঁছান বত্রিশ হাজার সৈন্যবিশিষ্ট ক্রুসেডার বাহিনীর মোকাবিলা করতে। বাইবার্সের আগমনে অ্যাডওয়ার্ডের যুদ্ধস্পৃহা মুহূর্তেই উবে যায়। তিনি বাইবার্সের কাছে দূত প্রেরণ করে সন্ধির আবেদন জানান! ৬৭০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে (১২৭২ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) উভয় পক্ষের মধ্যে সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ‘কায়সারিয়া চুক্তি’ নামে খ্যাত দশ বছর দশ মাস দশ দিন মেয়াদি চুক্তিটির ধারাগুলো হলো—
• মন্টফোর্ট, নাজারেথ ও কাকুন দুর্গের অধিকার মুসলমানরা ফেরত পাবে।
• এসব এলাকার যেসব মুসলিম নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে, তাদের পরিবারকে নিহত প্রত্যেক ব্যক্তির বিপরীতে প্রতিবছর তিনশ ষাট দিরহাম প্রদান করতে হবে। এই ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে বাইতুল মুকাদ্দাস ও ত্রিপোলি রাজ্য।
• খ্রিষ্টানরা তীর্থযাত্রার জন্য আল-কুদসে আগমন করলে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করতে হবে।
• তীর্থযাত্রীরা ইসলামি ভূখণ্ডে ধর্মপ্রচার করতে পারবে না, ভূমি ক্রয় করতে পারবে না, ইসলামি ভূখণ্ডের কোনো খ্রিষ্টান নাগরিকের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না এবং তীর্থযাত্রার আগে-পরে মিলিয়ে অতিরিক্ত দুদিনের বেশি অবস্থান করতে পারবে না।
এভাবে নবম ক্রুসেডও পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। যুদ্ধ না করে অবমাননাকর সন্ধিচুক্তি মেনে নিয়েই ক্রুসেডাররা ফিরে যায় নিজ নিজ দেশে।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 নবম ক্রুসেড-পরবর্তী সময়

📄 নবম ক্রুসেড-পরবর্তী সময়


৬৭৬ হিজরি সনের ২৭ মুহাররম (১২৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই) সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স ইন্তেকাল করেন। এরপর মামলুক সাম্রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত শুরু হয় এবং বাইবার্সের দুই পুত্র আস-সাইদ নাসিরুদ্দিন ও আল-আদিল বদরুদ্দিন একের পর এক শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের কারও শাসনামলই দীর্ঘায়িত হয়নি। অবশেষে ৬৭৮ হিজরি সনে (১২৭৯ খ্রিষ্টাব্দে) মামলুক সাম্রাজ্যের হাল ধরেন আল-মালিকুল মানসুর সাইফুদ্দিন কালাউন। তিনি ৬৮৮ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ত্রিপোলি অবরোধ করেন। মাসখানেক পর ৪ রবিউস সানি (১২৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ এপ্রিল) মামলুক বাহিনী চূড়ান্ত হামলা চালিয়ে ত্রিপোলিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ৫০৩ হিজরি সনের ১১ জিলহজ ক্রুসেডাররা ত্রিপোলি দখল করে নিয়েছিল। দীর্ঘ একশ পঁচাশি বছর পর পুনরায় তা মুসলমানদের হাতে আসে।
ত্রিপোলির পতনের পর ইসলামি প্রাচ্যে ক্রুসেডারদের দখলে অবশিষ্ট থাকে সুর, আক্কা ও বৈরুত নগরী। ৬৮৯ হিজরি সনে সুলতান কালাউন আক্কায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু অভিযানে রওনা হওয়ার পূর্বেই ৬৮৯ হিজরি সনের জিলকদ মাসে (১২৯০ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে) তিনি ইন্তেকাল করেন।
সুলতান কালাউনের ইন্তেকালের পর তার পুত্র আল-আশরাফ সালাহুদ্দিন খলিল তার স্থলাভিষিক্ত হন। দুঃসাহসী বীরযোদ্ধা সুলতান খলিল ৬৯০ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসে (১২৯১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে) প্রচণ্ড রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের পর আক্কা নগরী জয় করেন। আক্কার পতনের পর সুর, সিডন ও বৈরুতসহ একে একে শাম অঞ্চলের অবশিষ্ট খ্রিষ্টান নগরীগুলোরও পতন ঘটে এবং শামে ক্রুসেড রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটে। জীবিত ক্রুসেডাররা শাম থেকে পালিয়ে আর্মেনিয়া ও সাইপ্রাসে আশ্রয় নেয়।
আল-কুদস ও শামের বিভিন্ন অঞ্চল জয়ের পর ক্রুসেডাররা দামেশকসহ অবশিষ্ট শাম এবং তারপর মিশর জয়েরও স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু তাদের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ. এক অব্যাহত জিহাদের ধারা শুরু করেছিলেন। তার সুযোগ্য উত্তরসূরি নুরুদ্দিন জিনকি সে ধারাকে আরও বেগবান করেন আর সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহ. পবিত্র নগরী আল-কুদস পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যপানে এগিয়ে নেন। অবশেষে ক্রুসেডার বিতাড়নের এই মহান পদক্ষেপের পরিসমাপ্তি ঘটে মামলুক সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স, সাইফুদ্দিন কালাউন ও আল-আশরাফ খলিলের হাত ধরে।
নবম ক্রুসেডই ছিল সর্বশেষ ক্রুসেড। এরপর আর কখনো ইউরোপীয় ক্রুসেডাররা ঘোষণা দিয়ে আল-কুদস জয়ের চেষ্টা করেনি। অবশ্য (৯ম ক্রুসেড যুদ্ধের পরাজিত সেনাপতি) ইংল্যান্ডের রাজা ১ম অ্যাডওয়ার্ডের অনুরোধে ১২৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পোপ ১০ম গ্রেগরি (Pope Gregory X) দশম ক্রুসেডের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু মহান মুসলিম বীর রুকনুদ্দিন বাইবার্সের আতঙ্কে ভীত-সন্ত্রস্ত ইউরোপের রাজন্যবর্গ কেউ এই আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তার প্রচেষ্টা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ৪৮৮ হিজরি সনে (১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দে) 'ক্রুসেড যুদ্ধ' নামে ইউরোপীয় ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও শাসকগোষ্ঠীর যে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরু হয়, প্রায় দুই শতাব্দী পর ৬৭০ হিজরি সনে (১২৭২ খ্রিষ্টাব্দে) তার অবসান ঘটে।
কিন্তু ক্রুসেড ঘোষিত না হলেও ক্রুসেড আগ্রাসন কি শেষ হয়ে গেছে?! হিজরি দশম শতকে (খ্রিষ্টীয় ষষ্টদশ শতাব্দীতে) স্পেন ও পর্তুগালের উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে উপর্যুপরি আক্রমণ, পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ও ফরাসিদের দীর্ঘ সাম্রাজ্যবাদী অভিযান, নিকট অতীতে ১৪১২ হিজরি সনে (১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে) বসনিয়ায় সার্বদের নির্মম গণহত্যা, ১৪২১ হিজরি সনে (২০০১ খ্রিষ্টাব্দে) আফগানিস্তানে ও ১৪২২ হিজরি সনে (২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে) ইরাকে আমেরিকার আক্রমণ-এ সবই তো একেকটি অঘোষিত ক্রুসেডের উদাহরণ! আর সমরাঙ্গনের বাইরে বুদ্ধিবৃত্তিক বিভিন্ন অঙ্গনে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহকে পরাভূত করতে পশ্চিমাদের যে অব্যাহত প্রচেষ্টা, তাও কী যুগচাহিদার প্রেক্ষিতে ভিন্নধর্মী ক্রুসেডের উদাহরণ নয়?! ইরাকে হামলা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বুশ স্বেচ্ছায় বা মুখ ফসকে যা কিছু বলেছেন, তার চেয়ে পরিষ্কার করে আর কিছু কি বলা যায়!
প্রশ্ন হলো, সমকালীন মুসলিম উম্মাহ তার কথার মর্ম বুঝতে পেরেছে, নাকি দিবানিদ্রায় মগ্ন থেকে স্বপ্ন দেখছে আরেকজন ইমাদুদ্দিন, নুরুদ্দিন, সালাহুদ্দিন বা রুকনুদ্দিনের আগমনের?!
এ প্রশ্নের উত্তরও ইতিহাসের কাছেই তোলা থাক! ইতিহাসেই তো লুকিয়ে আছে আগামীর পদচিত্র।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00