📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 দশম শিক্ষা : সংস্কারকগণের মৃত্যুতে ইসলামের ঝান্ডা অবনমিত হয় না!

📄 দশম শিক্ষা : সংস্কারকগণের মৃত্যুতে ইসলামের ঝান্ডা অবনমিত হয় না!


জাতি যখন একজন ক্ষণজন্মা মুজাদ্দিদকে হারায়, তখন তার বিয়োগ বেদনায় অনেক বেশি ব্যথিত হয়। অবশ্য এ ধরনের একজন মহান ব্যক্তির মৃত্যুতে ব্যথিত হওয়াই জাতির দায়িত্ব। কারণ, তার অস্তিত্ব পুরো জাতির জন্য জীবনীশক্তির ন্যায়। কিন্তু তার মৃত্যুতে ব্যথিত হলেও নিরাশ হওয়া জাতির জন্য সমীচীন নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা সর্বদাই মুসলিম উম্মাহর মাঝ থেকে এমন কারও আত্মপ্রকাশ ঘটান, যিনি ইসলামের ঝান্ডা বহন করেন। ফলে এ ঝান্ডার কখনো পতন ঘটে না। আল্লাহ তাআলা সর্বদাই জাতির নেতৃত্বদানের জন্য এমন কারও উদ্ভব ঘটান, যার কারণে জাতি পথহারা হয় না।
মওদুদ রহ.-এর মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়েছিলাম; হয়েছিলাম ব্যথায় কাতর। কারণ, তিনি জিহাদের যে ঝান্ডা বহন করেছিলেন, তা বহন করার জন্য তার সমকক্ষ কেউ বিদ্যমান ছিল না। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই আমরা আবিষ্কার করি যে, জিহাদের জগতে এক নবতারকা উদিত হয়েছে! তিনি দ্বীনের ঝান্ডা বহন করেছেন এবং জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি হলেন ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.। জাতি তার নেতৃত্বে বাস্তবেই একটি সৌভাগ্যপূর্ণ কাল অতিবাহিত করেছে। সে সময় নতুন করে বিজয়ের সুবাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এরপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে জাতি এডেসা পুনরুদ্ধার এবং ক্রুসেডারদের পরাভূত করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় মর্যাদা ও গৌরব প্রভাব বিস্তার করেছে।
এরপর নিহত হলেন ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.!
আমরা প্রচণ্ড ভারাক্রান্ত হলাম, উদ্বেগে আচ্ছন্ন হলাম, ব্যথায় কাতর হলাম। নিঃসন্দেহে এ ঘটনা ছিল জাতির জন্য এক বিরাট আঘাত। বরং এখন আমাদের জন্যও বিরাট আঘাত। অথচ আমরা এ ইতিহাস পাঠ করছি ঘটনাপ্রবাহের কয়েকশ বছর পর!
কিন্তু তার হত্যাকাণ্ডের পর কী ঘটেছে?!
তার হত্যাকাণ্ড ছিল আরেক নবতারকা আত্মপ্রকাশের পূর্বাভাস! তার নাম নুরুদ্দিন মাহমুদ। নুরুদ্দিন ছিলেন প্রয়াত মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকির মহান সন্তান। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তার পিতা মৃত্যুবরণ করেননি; বরং এমন সৎ ও যোগ্য বংশধর রেখে গেছেন, যিনি জাতির মর্যাদা ও সম্মানকে তার নাম ও জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছেন।
নুরুদ্দিন মাহমুদ রহ.!
ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র, অন্যতম পূর্ণাঙ্গ ও পরিব্যাপ্ত ব্যক্তি। প্রতিটি অঙ্গনে তিনি উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছিলেন—দ্বীনের ক্ষেত্রে, আখলাক ও চরিত্রগুণে, ইবাদত, জিহাদ, প্রশাসন পরিচালনা, শাসন, আচার-আচরণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সবকিছুতে।
তিনি এক মহান বীর! কীর্তির বিশালতায় সমৃদ্ধ জীবন তার!
আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, জিনকি রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি গ্রন্থ লিখব এবং তাতে তার পিতার জীবনেতিহাসের সঙ্গে তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কেও আলোকপাত করব। কিন্তু পরে উপলব্ধি করলাম, এতে তার হক ও অধিকারের প্রতি অসম্মান করা হবে এবং তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করা হবে না। আর তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি আমার সময় ও কর্মপ্রচেষ্টা তার জন্য অবসর করে তার জীবনের ক্ষণগুলোকে একত্র করার চেষ্টা করব, যেন তা আমাদেরকে এবং সমগ্র মানবজাতিকে সৌভাগ্যবান করে। কারণ, এ জাতীয় মহান ব্যক্তিদের কর্ম ও কীর্তির কল্যাণ কেবল আপন সমাজ নয়; বরং পুরো পৃথিবীতেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অব্যাহত থাকে।
আর তাই আমাদের পরবর্তী গ্রন্থ হবে এই মহান মনীষী সম্পর্কে। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে তার ন্যায়, তার পিতার ন্যায় এবং তার পিতামহের ন্যায় মহান ব্যক্তি দান করেন। তারা কতই না মহান পরিবার! কতই না উত্তম আদর্শ! মোটামুটি এই হলো এই অমর ইতিহাস হতে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা।
এই হলো পূর্ণ দশ!
নিঃসন্দেহে প্রকৃত শিক্ষা ও উপদেশ আরও অনেক অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য খুঁজে খুঁজে সবগুলো বের করে মোট সংখ্যা নির্ণয় করা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি চিন্তা-ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সকল মুসলমানকে দ্বীনের সঠিক ও সুন্দর উপলব্ধিজ্ঞান দান করেন এবং নিজেদের ইতিহাসের সঠিক মর্মজ্ঞান দান করেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা; তিনিই সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00