📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 অষ্টম শিক্ষা : সুপরিণতি কেবল ঈমানদার-মুত্তাকিদের ভাগ্যে জোটে!

📄 অষ্টম শিক্ষা : সুপরিণতি কেবল ঈমানদার-মুত্তাকিদের ভাগ্যে জোটে!


এডেসা নগরী এবং তার আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ক্রুসেডারদের অধিকৃত ছিল। সেখানে এমন একটি খ্রিষ্টান প্রজন্ম বেড়ে উঠেছিল, যারা বিশ্বাস করত যে, এই ভূমি কেবল তাদেরই। অনেক মুসলমান মনে করেছিল, এ ইস্যুর পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং এ ভূখণ্ড চিরদিনের জন্য মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এডেসা ভূমি আর কোনো দিন ইসলামি শাসনে ফিরে আসবে না; এসব নগরী ও দুর্গের প্রাচীরে আর কোনো দিন ইসলামি পতাকা উড্ডীন হবে না। মুসলমানদের অনেকেই এডেসা পুনরুদ্ধার অসম্ভব মনে করেছিল এবং হতাশা ও নিরাশার পাতালকুঠুরিতে ঢুকে পড়েছিল।
কিন্তু যে বাস্তবতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা হলো-প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ক্রুসেড রাজ্য এডেসার পতন ঘটেছে, অন্ধকারের বুক চিরে আলো উদিত হয়েছে, উষার দুয়ারে আঘাত হেনে দ্বীনের সৈনিকগণ রাঙা প্রভাতের বার্তা নিশ্চিত করেছে। পূর্বের ন্যায় এসব দুর্গ ও নগরী ইসলামি দুর্গ ও নগরে পরিণত হয়েছে, নগরপ্রাচীরের শীর্ষদেশে পতপত করে উড়েছে ইসলামের পতাকা।
পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ মুমিনদেরকে নুসরত ও বিজয়দানের খোদায়ি প্রতিশ্রুতি এমন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তা কোনো মুমিনের কাছে অবোধগম্য নয়। এ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহ এত অধিক যে, সুনির্দিষ্ট সংখ্যার আয়ত্তে নিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّا لَتَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ
নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, আমি আমার রাসুলগণকে এবং মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনেও সাহায্য করি এবং সেই দিনও করব, যেদিন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে। [সুরা মু'মিন: ৫১]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
«إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الْأَرْضَ، فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا، وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا رُوِيَ لِي مِنْهَا»
আল্লাহ তাআলা আমার জন্য পৃথিবী সংকুচিত করে দিয়েছিলেন। তখন আমি পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত জমিনের সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছিল, আমার উম্মতের সাম্রাজ্য অচিরেই ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে। (৫৮২)
প্রকৃত মুমিন তো সে ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সত্যায়ন করে। আর যে আল্লাহর নুসরত ও সাহায্যের বিষয়ে সংশয়-সন্দেহ পোষণ করে, তার পক্ষে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা অসম্ভব। আশাহীন জাতি তো প্রাণহীন দেহের ন্যায়। আর তাই উম্মাহর দ্বীনপ্রচারক ও সমাজসংস্কারকদের কর্তব্য হলো, তারা মুসলমানদের হৃদয়ে আশা পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং তাদের অন্তর্জগৎকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করবেন যে, জুলুম ও অন্যায় এবং সীমালঙ্ঘন ও স্বেচ্ছাচারিতা যতই প্রবল ও প্রচণ্ড হোক না কেন, হক ও ন্যায় অবশ্যই বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ তো আপন কর্মে পরাক্রমশালী; যদিও অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।

টিকাঃ
৫৮২. ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৮৯, ইমাম আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৫২, ইমাম তিরমিজি, সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২১৭৬ ও ইমাম ইবনে মাজা, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৩৯৫২।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 নবম শিক্ষা : সংস্কারকদের জীবনযাত্রা সাধারণ দায়িত্বশীলদের তুলনায় অনেক ব্যতিক্রম

📄 নবম শিক্ষা : সংস্কারকদের জীবনযাত্রা সাধারণ দায়িত্বশীলদের তুলনায় অনেক ব্যতিক্রম


এ কারণেই মুজাদ্দিদ ও সমাজের দ্বীনি সংস্কারক হওয়া সহজ কোনো দায়িত্ব নয়। সহজ নয় মুসলিহ ও সংশোধনকারী হওয়া। সাধারণ মুমিনগণ ভালোকে মন্দের সঙ্গে এবং সঠিক বিষয়কে ভুল বিষয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। সাধারণ মুসলমানগণ সময়কে কখনো ব্যয় করে উম্মাহর কল্যাণ-চিন্তায়, আবার কখনো ব্যয় করে নিজের জন্য, নিজের স্বার্থ ও কল্যাণের জন্য। কিন্তু মুজাদ্দিদ ও সমাজসংস্কারক যারা, মুসলিহ ও সংশোধনকারী যারা, তাদের জীবন হয় সম্পূর্ণই ভিন্ন!
ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.-এর জীবনী পুনঃনিরীক্ষণ করে দেখুন!
নিঃসন্দেহে মুজাদ্দিদ এমন ব্যক্তি হন, যিনি তার পুরো জীবন একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য ওয়াকফ করে দেন। তিনি তার সময় বিক্ষিপ্ত ধূলিকণার ন্যায় অর্থহীন কোনো কাজে নষ্ট করেন না। তদ্রূপ তিনি একবার এই কাজে, আরেকবার ওই কাজে; বা কখনো এক লক্ষ্যের পেছনে, আবার কখনো আরেক লক্ষ্যের পেছনে বিক্ষিপ্ত ছুটোছুটি করেন না। একজন মুজাদ্দিদ হন সুস্পষ্ট কর্মলক্ষ্যের অধিকারী, স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণকারী এবং সঠিক ও সুনির্ধারিত পথে গমনকারী।
তার জীবনে কোনো কর্মহীন-বেকার সময়ের অস্তিত্ব থাকে না।
তার জীবনে সময়ের চেয়ে কাজের পরিমাণ অনেক অনেক গুণ বেশি হয়।
আর তাই তার জীবনীতে পাওয়া যায় যে, তিনি একেবারেই সামান্য সময়ের জন্য নিদ্রাগমন করতেন, অতি স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম করতেন।
একজন দ্বীনি সংস্কারক সর্বদা থাকেন চিন্তামগ্ন, নীরব-নিমগ্ন, গভীর চিন্তা ও ধ্যানের অধিকারী ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টির অধিকারী।
ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.-কে আমরা ছুটে বেড়াতে দেখেছি মসুল ও আলেপ্পোর মাঝে, হিমস ও দামেশকের মাঝে, এরপর এন্টিয়ক ও এডেসার মাঝে। তিনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রত্যাবর্তন করতেন কোনো প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান করতে, আবার রাজনৈতিক পরিকল্পনা থেকে ছুটে যেতেন কোনো কৌশলগত মিত্রতা সম্পাদন করতে।
একান্ত বাধ্য ও নিরুপায় না হলে তিনি ঘুমাতেন না; পথের পূর্ণতার উদ্দেশ্য ছাড়া বিশ্রাম করতেন না!
এমনকি এডেসা বিজয়ের মতো সুকঠিন অভিযানের পরও সরাসরি তিনি ছুটে গেছেন সারুজ নগরীর দিকে; এরপর সেখান থেকে ফুরাতের পূর্ব তীরের প্রতিটি নগরী ও দুর্গ অভিমুখে; তারপর আলবেরার উদ্দেশে। এরপর আবার মসুলে ফিরে এসেছেন নাসিরুদ্দিন জাকারের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এরপর আবার এডেসায় ছুটে গেছেন ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করতে। তারপর দামেশক অভিমুখে রওনা হয়েছেন এবং পথে জাবার দুর্গের পতন ঘটানোর জন্য কয়েক মাস অবরোধ করে রেখেছেন!
এভাবেই অবিরাম কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি এমন সব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করেছেন, যা তার পূর্ববর্তীরা করতে সক্ষম হয়নি। তিনি একটি ক্রুসেড রাজ্যের পতন ঘটিয়েছেন এবং অনেক বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের পর সেখানে আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করেছেন।
তিনি কৃত্রিম ব্যস্ততা দেখাননি, মিথ্যা কর্মের ভান করেননি। তিনি ছিলেন বাস্তবেই ব্যস্ত; তার কর্ম ও কর্মব্যস্ততা ছিল অনেক।
আর এটিই হলো মুজাদ্দিদ ও সংস্কারকদের জীবন!
এমনকি সামান্য অবসরের সময়টুকুও তিনি শিকার ও অশ্বচালনার অনুশীলনে ব্যয় করতেন কিংবা দজলার তীরে একাকী বিচরণ করতেন আর আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাবনায় নিমগ্ন হতেন।
নিঃসন্দেহে এটি বড় কঠিন জীবন—তবে উপভোগ্য জীবন; ক্লান্তিকর জীবন—তবে হিতকর জীবন। এ জীবনের কল্যাণ ও অবদান ব্যক্তিবিশেষ বা কয়েকজনে সীমাবদ্ধ নয়: এর ব্যাপ্তি পুরো জাতির জীবনজুড়ে। এর প্রভাব এক-দুই বছরে সীমিত নয়; বরং কখনো কখনো দশকের পর দশক, এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দীজুড়ে।
এ কারণেই মুজাদ্দিদ ও সমাজসংস্কারকের সংখ্যা হাতেগোনা, অতি অল্প। কত সৌভাগ্যবান সেই প্রজন্ম, যাদের মাঝে আত্মপ্রকাশ ঘটে একজন মুজাদ্দিদের।
আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি—তিনি যেন মুসলিম উম্মাহকে এমন ক্ষণজন্মা মুজাদ্দিদ মনীষী অনেক অনেক দান করেন। কারণ, তাদের একজনই একটি জাতির সমান।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 দশম শিক্ষা : সংস্কারকগণের মৃত্যুতে ইসলামের ঝান্ডা অবনমিত হয় না!

📄 দশম শিক্ষা : সংস্কারকগণের মৃত্যুতে ইসলামের ঝান্ডা অবনমিত হয় না!


জাতি যখন একজন ক্ষণজন্মা মুজাদ্দিদকে হারায়, তখন তার বিয়োগ বেদনায় অনেক বেশি ব্যথিত হয়। অবশ্য এ ধরনের একজন মহান ব্যক্তির মৃত্যুতে ব্যথিত হওয়াই জাতির দায়িত্ব। কারণ, তার অস্তিত্ব পুরো জাতির জন্য জীবনীশক্তির ন্যায়। কিন্তু তার মৃত্যুতে ব্যথিত হলেও নিরাশ হওয়া জাতির জন্য সমীচীন নয়। কারণ, আল্লাহ তাআলা সর্বদাই মুসলিম উম্মাহর মাঝ থেকে এমন কারও আত্মপ্রকাশ ঘটান, যিনি ইসলামের ঝান্ডা বহন করেন। ফলে এ ঝান্ডার কখনো পতন ঘটে না। আল্লাহ তাআলা সর্বদাই জাতির নেতৃত্বদানের জন্য এমন কারও উদ্ভব ঘটান, যার কারণে জাতি পথহারা হয় না।
মওদুদ রহ.-এর মৃত্যুতে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়েছিলাম; হয়েছিলাম ব্যথায় কাতর। কারণ, তিনি জিহাদের যে ঝান্ডা বহন করেছিলেন, তা বহন করার জন্য তার সমকক্ষ কেউ বিদ্যমান ছিল না। কিন্তু এরপর হঠাৎ করেই আমরা আবিষ্কার করি যে, জিহাদের জগতে এক নবতারকা উদিত হয়েছে! তিনি দ্বীনের ঝান্ডা বহন করেছেন এবং জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি হলেন ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.। জাতি তার নেতৃত্বে বাস্তবেই একটি সৌভাগ্যপূর্ণ কাল অতিবাহিত করেছে। সে সময় নতুন করে বিজয়ের সুবাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এরপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে জাতি এডেসা পুনরুদ্ধার এবং ক্রুসেডারদের পরাভূত করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় মর্যাদা ও গৌরব প্রভাব বিস্তার করেছে।
এরপর নিহত হলেন ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ.!
আমরা প্রচণ্ড ভারাক্রান্ত হলাম, উদ্বেগে আচ্ছন্ন হলাম, ব্যথায় কাতর হলাম। নিঃসন্দেহে এ ঘটনা ছিল জাতির জন্য এক বিরাট আঘাত। বরং এখন আমাদের জন্যও বিরাট আঘাত। অথচ আমরা এ ইতিহাস পাঠ করছি ঘটনাপ্রবাহের কয়েকশ বছর পর!
কিন্তু তার হত্যাকাণ্ডের পর কী ঘটেছে?!
তার হত্যাকাণ্ড ছিল আরেক নবতারকা আত্মপ্রকাশের পূর্বাভাস! তার নাম নুরুদ্দিন মাহমুদ। নুরুদ্দিন ছিলেন প্রয়াত মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকির মহান সন্তান। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তার পিতা মৃত্যুবরণ করেননি; বরং এমন সৎ ও যোগ্য বংশধর রেখে গেছেন, যিনি জাতির মর্যাদা ও সম্মানকে তার নাম ও জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছেন।
নুরুদ্দিন মাহমুদ রহ.!
ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্র, অন্যতম পূর্ণাঙ্গ ও পরিব্যাপ্ত ব্যক্তি। প্রতিটি অঙ্গনে তিনি উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছিলেন—দ্বীনের ক্ষেত্রে, আখলাক ও চরিত্রগুণে, ইবাদত, জিহাদ, প্রশাসন পরিচালনা, শাসন, আচার-আচরণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সবকিছুতে।
তিনি এক মহান বীর! কীর্তির বিশালতায় সমৃদ্ধ জীবন তার!
আমার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল, জিনকি রাষ্ট্র সম্পর্কে একটি গ্রন্থ লিখব এবং তাতে তার পিতার জীবনেতিহাসের সঙ্গে তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কেও আলোকপাত করব। কিন্তু পরে উপলব্ধি করলাম, এতে তার হক ও অধিকারের প্রতি অসম্মান করা হবে এবং তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করা হবে না। আর তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি আমার সময় ও কর্মপ্রচেষ্টা তার জন্য অবসর করে তার জীবনের ক্ষণগুলোকে একত্র করার চেষ্টা করব, যেন তা আমাদেরকে এবং সমগ্র মানবজাতিকে সৌভাগ্যবান করে। কারণ, এ জাতীয় মহান ব্যক্তিদের কর্ম ও কীর্তির কল্যাণ কেবল আপন সমাজ নয়; বরং পুরো পৃথিবীতেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অব্যাহত থাকে।
আর তাই আমাদের পরবর্তী গ্রন্থ হবে এই মহান মনীষী সম্পর্কে। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে তার ন্যায়, তার পিতার ন্যায় এবং তার পিতামহের ন্যায় মহান ব্যক্তি দান করেন। তারা কতই না মহান পরিবার! কতই না উত্তম আদর্শ! মোটামুটি এই হলো এই অমর ইতিহাস হতে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা।
এই হলো পূর্ণ দশ!
নিঃসন্দেহে প্রকৃত শিক্ষা ও উপদেশ আরও অনেক অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য খুঁজে খুঁজে সবগুলো বের করে মোট সংখ্যা নির্ণয় করা নয়। আমরা চেষ্টা করেছি চিন্তা-ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সকল মুসলমানকে দ্বীনের সঠিক ও সুন্দর উপলব্ধিজ্ঞান দান করেন এবং নিজেদের ইতিহাসের সঠিক মর্মজ্ঞান দান করেন। আল্লাহই তাওফিকদাতা; তিনিই সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00