📄 পঞ্চম শিক্ষা : বিজয় নিশ্চিত করার জন্য ঐক্য জরুরি!
মুসলিম উম্মাহর সৎ ও যোগ্য সন্তানগণ এ বিষয়টিও উপলব্ধি করেছিলেন যে, ঐক্য ব্যতীত জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ কার্যকর হয় না। এ কারনেই রণাঙ্গনের কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই তারা জাতিকে এক ও অভিন্ন কাঠামোতে ঐক্যবদ্ধ করতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থেকেছেন এবং নিজেদের পূর্ণ সময় ও প্রচেষ্টা এ উদ্দেশ্যে ব্যয় করেছেন। এ পথে তারা প্রচুর সংকট অতিক্রম করেছেন, কঠিন সব বিপদ-আপদ মোকাবিলা করেছেন; কিন্তু তবুও এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পুরো জীবন আগ্রহী ও সচেষ্ট থেকেছেন। কারণ, তারা প্রকৃতই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন, বিভেদ-বিচ্ছিন্নতাই ব্যর্থতার কারণ এবং কলহ-বিবাদের সঙ্গেই পরাজয় সংশ্লিষ্ট। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন—
﴿وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّبِرِينَ )
এবং পরস্পরে কলহ করবে না, অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্যধারণ করবে। বিশ্বাস রাখো, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন। [সুরা আনফাল: ৪৬]
ঐক্য ও একক ইসলামি কাঠামো সকল নেতা ও শাসকের চাহিদা ছিল না। অনেকেই অতি সামান্য ভূখণ্ডের ব্যক্তিক্ষমতার লোভে ঐক্যের বিরোধিতা করেছে, ঐক্যপ্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। একে কেন্দ্র করেই সংঘটিত হয়েছে মোকাবিলা, সংঘর্ষ ও সংঘাত। আর তাই অর্থহীন ফাঁপা নেতৃত্বের প্রত্যাশী যেসব নেতা কেবল নিজেদের স্বার্থ অনুসন্ধান করে, তাদের মোকাবিলার জন্য সকল পন্থায় চেষ্টা করা অপরিহার্য ছিল।
সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতৃবৃন্দ কখনো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে, কখনো অর্থসম্পদ বা জায়গিরের প্রস্তাব দিয়ে, কখনো-বা হুমকি-ধমকির মাধ্যমে তাদেরকে ঐক্যের পথে আনতে চেষ্টা করেছেন; আবার কখনো এসব পন্থায় কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে সামরিক লড়াইয়ের মাধ্যমে সমাধানে সচেষ্ট হয়েছেন। এভাবে তাদের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যদিও বৃহত্তর জাতির বিবেচনায় তা ছিল আংশিক ঐক্য; কিন্তু তার মাধ্যমেই বিজয় নিশ্চিত হয়েছে এবং আমরা স্বস্তি ও আনন্দ প্রত্যক্ষ করেছি।
আমরা আমাদের পঠিত ইতিহাসে দেখেছি, আমাদের ইসলামি ইতিহাসের মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকি রহ. দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য মাত্রায় ঐক্যের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি অর্থসম্পদ বা জায়গির প্রদান করে, কাউকে ক্ষমতা প্রদান করে ঐক্যের পথে আনতে চেয়েছেন; জাতির যৌথ নেতৃত্বের নিদর্শন হিসেবে কারও হাতে হাত রেখেছেন। আবার কখনো তিনি দুটি রাজ্যকে একীভূত করার জন্য বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ সারি যেন বিভক্ত না হয়ে যায়, এজন্য তিনি সুলতান মাসউদ বা অন্যদের কষ্টদায়ক আচরণও উপেক্ষা করেছেন। এসব আচরণ তিনি করেছেন সেলজুক, আব্বাসি, উরতুক, তুর্কমেন, আরব, বনু মুনকিয, বনু দানিশমান্দসহ সকলের সঙ্গে। ঐক্য প্রত্যাখ্যানকারী কোনো নগরী তিনি মাসের পর মাস এমনকি বছরের পর বছর অবরোধ করে রেখেছেন। উম্মাহর ঐক্যের অতি মূল্যবান স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য তিনি তার জীবনের শুরু থেকে শেষ পুরোটাই ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। আর এভাবেই তিনি মৃত্যুর সময় রেখে যেতে পেরেছেন এক বিরাট একক রাষ্ট্রকাঠামো, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল মসুল, আলেপ্পো, হাররান, নুসায়বিন, হিমস, হামা ও বালাবান্ধু নগরী।
নিঃসন্দেহে এ এক কঠিন জীবন। কিন্তু যেহেতু তার সামনে এর লক্ষ্য সুস্পষ্ট ছিল, আর দৃষ্টি ছিল একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতি, তাই এই সুকঠিন কাজও তার জন্য সহজ কাজে পরিণত হয়েছিল।
📄 ষষ্ঠ শিক্ষা : আদর্শ নমুনা ব্যতীত পরিবর্তন ও সংস্কারের আশা নেই!
পেছনের আলোচনায় আমরা অনুধাবন করেছি, মুসলিম জনগণের মধ্যে কল্যাণের অনেক উপাদান রয়েছে, আছে সুস্থ ও সঠিক প্রকৃতি ও স্বভাব। কিন্তু জাতির জন্য প্রয়োজন এমন সুস্পষ্ট ও সুন্দর আদর্শ নমুনা, সকলে যার অনুসরণ করবে। এমন আদর্শ নমুনা সামনে থাকলেই অন্তরে অন্তরে সুপ্ত কল্যাণ উদ্ভাসিত হবে এবং সততা ও কল্যাণের আগ্রহ ও প্রবণতা জনসাধারণের মাঝে স্পন্দিত হবে।
স্বভাবগতভাবেই মানুষ অনুসরণযোগ্য আদর্শের মুখাপেক্ষী। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্য হতে রাসুল প্রেরণ করেছেন, যেন তারা মানুষের জন্য সৎ ও উত্তম নমুনা হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
বস্তুত আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ—এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে। [সুরা আহযাব: ২১]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় মানুষ যখন নবীজিকে নিজেদের মাঝে প্রত্যক্ষ করেছে এবং দেখেছে যে, তিনি তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন নন, তিনি তাদের পরিচর্যা ও দীক্ষাদান করছেন, জিহাদ করছেন, দান করছেন, হক ও ন্যায়ের কথা বলছেন, মজলুমের পক্ষে প্রতিরক্ষা করছেন, কল্যাণ কাজ করছেন ও অন্যায় হতে দূরে থাকছেন, তখন সাধারণ মানুষও স্পন্দিত হয়েছে। মানুষ দেখেছে, তিনি তাদেরকে যা বলেন, তা বাস্তব, জীবন্ত এবং তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে, তখন তারা তাকে সত্যায়ন করেছে এবং তার নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেছে।
মুসলিম উম্মাহর সৎ ও ন্যায়বান ব্যক্তিগণও এমনই ছিলেন।
তাদের কথা-কাজে ভিন্নতা ছিল না।
তাদের ভেতর-বাহির অভিন্ন ছিল।
মানুষকে তারা যে উপদেশ দিতেন, তা অন্যদের কাছে দাবি করার পূর্বে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন।
আমরা ইমাদুদ্দিন জিনকিকে দেখেছি, তিনি নিজের জন্য কোনো ভূসম্পদ বা অর্থসম্পদ গ্রহণ করেননি। এ কারণেই তিনি তার সৈন্যদের এবং সেনাপতি ও প্রশাসকদের মানুষের ভূসম্পত্তি ও সম্পদ গ্রহণে নিষেধ করতে পারতেন।
আমরা তাকে আরও দেখেছি, তিনি প্রতিদিন তার সম্পদ দরিদ্র- অসহায়দের দান করতেন। আর তাই তিনি তার সঙ্গীদেরকেও কৃষকসমাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সদয় আচরণ করার নির্দেশ প্রদানের শক্তি রাখতেন।
আমরা দেখেছি, তিনি সবার আগে লড়াই শুরু করতেন, অন্যান্য সৈন্যের তুলনায় তিনি সবার আগে শত্রুর কাছে পৌঁছে যেতেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, এডেসা নগরদ্বারে তিনিই সবার পূর্বে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এ কারণেই তিনি তার সৈন্যদেরকেও জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন।
আমরা তাকে দেখেছি, তিনি আলিম ও ফকিহগণের কাছে শরিয়তের বিধান জিজ্ঞেস করতেন, তাদের মতামত-পরামর্শ শুনতেন ও গ্রহণ করতেন। এ কারণেই তিনি তার জনগণকে আলিমদের কথা শ্রবণের ও অনুসরণের আদেশ করতে পেরেছিলেন।
দাঈ ও দ্বীনপ্রচারক, আলিম-উলামা, মুজাহিদ-সেনাপতি এবং শাসক ও নেতৃবৃন্দের জেনে রাখা উচিত, এক ব্যক্তির সামনে হাজারজনের কথার চেয়ে হাজারজনের মাঝে একজনের কাজ বেশি কার্যকর ও কল্যাণকর!
📄 সপ্তম শিক্ষা : পরিবর্তন ও সংস্কারের চাবিকাঠি উলামায়ে কেরামের হাতে
এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, আমাদের আলোচ্য ইতিহাসে সর্বদা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে মসুল ও উত্তর ইরাক থেকে। আমরা আরও দেখেছি, বাগদাদের জনগণের স্বভাব-প্রকৃতি দামেশক, হিমস বা কায়রোর জনগণের স্বভাব-প্রকৃতির চেয়ে বহুগুণে শ্রেয় ছিল। এর একমাত্র কারণ ছিল-ইরাক অঞ্চলে উলামায়ে কেরাম অব্যাহত মেহনত চালিয়ে গিয়েছিলেন। একই কথা প্রযোজ্য পারস্য ও আশেপাশের এলাকার ক্ষেত্রেও।
বরং এর সূচনা আরও আগে থেকে। ক্রুসেড অভিযানেরও কয়েক দশক পূর্ব থেকে। মহান উজির নিজামুল মুলক এই বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের সূচনা করেছিলেন। নিজামুল মুলক ছিলেন প্রথমে সেলজুক সুলতান আলপ আরসালান এবং পরবর্তী সময়ে তার পুত্র মালিকশাহর উজির। জ্ঞানচর্চার অঙ্গনে তার অন্যতম সুকীর্তি হলো—তিনি পারস্য ও ইরাকের প্রতিটি অঞ্চলে নিজামিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সমকালীন যুগশ্রেষ্ঠ সংস্কারক উলামায়ে কেরামকে এসব মাদরাসায় অধ্যাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত করেছিলেন। নিঃসন্দেহে তার এই পদক্ষেপ অঞ্চলটির জনসাধারণের চরিত্র ও আচার-আচরণে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছিল, তাদের আকিদা ও বিশ্বাসকে সব ধরনের প্রান্তিকতা ও সংশয়-সন্দেহ হতে পরিচ্ছন্ন রেখেছিল এবং তাদের চিন্তা-চেতনাকে সব ধরনের ভ্রষ্টতা ও ভ্রান্তি-বিভ্রান্তি হতে মুক্ত রেখেছিল। এভাবেই তাদের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেছিল একটি বোধসম্পন্ন, সচেতন, সতর্ক, জিহাদপ্রিয়, দ্বীনের প্রতি উদ্যমী, কল্যাণকর্মে অগ্রগামী, সৎকর্মে উদ্বুদ্ধকারী এবং অসৎকর্ম অপছন্দকারী ও নিষেধকারী এক জাতি। তদ্রূপ সে জাতি এমন সব জিহাদি অভিযানে শরিক হয়েছে, যার বিবরণ আমরা পাঠ করেছি। এই অভিযানপ্রবাহের সূচনা হয়েছিল কারবুগার অভিযানের মাধ্যমে, এরপর একে একে জাকারমিশ, আক সুনকুর আল-বুরসুকি, বুরসুক বিন বুরসুক ও মওদুদ বিন তুনতেকিনের অভিযান এবং সবশেষে অনন্যসাধারণ বীরযোদ্ধা ইমাদুদ্দিন জিনকির অভিযানসমূহ।
নিজামুল মুলক ইলমি অঙ্গনে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তা নিষ্ফল হয়নি। সমকালীন উলামায়ে কেরাম জাতির পরিচর্যা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে যে গুরুত্ব প্রদান করেছেন, তা অর্থহীন প্রমাণিত হয়নি। 'তার' এবং 'তাদের' প্রচেষ্টা ও গুরুত্ব তাদের ইন্তেকালের অনেক বছর পরে হলেও অতি উত্তম ও পরিপক্ব ফল প্রদান করেছে।
📄 অষ্টম শিক্ষা : সুপরিণতি কেবল ঈমানদার-মুত্তাকিদের ভাগ্যে জোটে!
এডেসা নগরী এবং তার আশেপাশের অঞ্চল দীর্ঘ প্রায় পঞ্চাশ বছর ক্রুসেডারদের অধিকৃত ছিল। সেখানে এমন একটি খ্রিষ্টান প্রজন্ম বেড়ে উঠেছিল, যারা বিশ্বাস করত যে, এই ভূমি কেবল তাদেরই। অনেক মুসলমান মনে করেছিল, এ ইস্যুর পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং এ ভূখণ্ড চিরদিনের জন্য মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এডেসা ভূমি আর কোনো দিন ইসলামি শাসনে ফিরে আসবে না; এসব নগরী ও দুর্গের প্রাচীরে আর কোনো দিন ইসলামি পতাকা উড্ডীন হবে না। মুসলমানদের অনেকেই এডেসা পুনরুদ্ধার অসম্ভব মনে করেছিল এবং হতাশা ও নিরাশার পাতালকুঠুরিতে ঢুকে পড়েছিল।
কিন্তু যে বাস্তবতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা হলো-প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ক্রুসেড রাজ্য এডেসার পতন ঘটেছে, অন্ধকারের বুক চিরে আলো উদিত হয়েছে, উষার দুয়ারে আঘাত হেনে দ্বীনের সৈনিকগণ রাঙা প্রভাতের বার্তা নিশ্চিত করেছে। পূর্বের ন্যায় এসব দুর্গ ও নগরী ইসলামি দুর্গ ও নগরে পরিণত হয়েছে, নগরপ্রাচীরের শীর্ষদেশে পতপত করে উড়েছে ইসলামের পতাকা।
পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ মুমিনদেরকে নুসরত ও বিজয়দানের খোদায়ি প্রতিশ্রুতি এমন সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তা কোনো মুমিনের কাছে অবোধগম্য নয়। এ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিসসমূহ এত অধিক যে, সুনির্দিষ্ট সংখ্যার আয়ত্তে নিয়ে আসা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّا لَتَنْصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُوْمُ الْأَشْهَادُ
নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, আমি আমার রাসুলগণকে এবং মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনেও সাহায্য করি এবং সেই দিনও করব, যেদিন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে। [সুরা মু'মিন: ৫১]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
«إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الْأَرْضَ، فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا، وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا رُوِيَ لِي مِنْهَا»
আল্লাহ তাআলা আমার জন্য পৃথিবী সংকুচিত করে দিয়েছিলেন। তখন আমি পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত জমিনের সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছি। পৃথিবীর যতটুকু আমার জন্য সংকুচিত করে দেওয়া হয়েছিল, আমার উম্মতের সাম্রাজ্য অচিরেই ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে। (৫৮২)
প্রকৃত মুমিন তো সে ব্যক্তি, যে আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সত্যায়ন করে। আর যে আল্লাহর নুসরত ও সাহায্যের বিষয়ে সংশয়-সন্দেহ পোষণ করে, তার পক্ষে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা অসম্ভব। আশাহীন জাতি তো প্রাণহীন দেহের ন্যায়। আর তাই উম্মাহর দ্বীনপ্রচারক ও সমাজসংস্কারকদের কর্তব্য হলো, তারা মুসলমানদের হৃদয়ে আশা পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং তাদের অন্তর্জগৎকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করবেন যে, জুলুম ও অন্যায় এবং সীমালঙ্ঘন ও স্বেচ্ছাচারিতা যতই প্রবল ও প্রচণ্ড হোক না কেন, হক ও ন্যায় অবশ্যই বিজয়ী হবে। আর আল্লাহ তো আপন কর্মে পরাক্রমশালী; যদিও অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
টিকাঃ
৫৮২. ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮৮৯, ইমাম আবু দাউদ, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪২৫২, ইমাম তিরমিজি, সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২১৭৬ ও ইমাম ইবনে মাজা, সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস নং ৩৯৫২।