📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [এক] জাযিরা অঞ্চলকে এডেসা রাজ্যে অভিযান পরিচালনার সহায়ক ক্ষেত্ররূপে প্রস্তুত করা

📄 [এক] জাযিরা অঞ্চলকে এডেসা রাজ্যে অভিযান পরিচালনার সহায়ক ক্ষেত্ররূপে প্রস্তুত করা


জাযিরা অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ তুর্কমেন নাগরিক বসবাস করত। অঞ্চলটির পরিস্থিতি ছিল অস্থিতিশীল। ইমাদুদ্দিন জিনকি যদিও এ অঞ্চলের শক্তিশালী নেতা হুসামুদ্দিন তামারতাশের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বিনিময়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন; কিন্তু এ সম্পর্ক ছিল একেবারেই দুর্বল। এ সম্পর্কের ভিত্তি কেবল এই ছিল যে, হুসামুদ্দিন ইমাদুদ্দিনের শক্তিকে ভয় পেতেন কিংবা তার দানদক্ষিণা লাভের আশা করতেন। আর এ জাতীয় শঙ্কা ও লালসা-নির্ভর মিত্রতা সাধারণত স্বার্থের সংঘাত হলেই ভেঙে পড়ে। জাযিরা অঞ্চলের আরেক প্রভাবশালী নেতা রুকনুদ্দৌলা দাউদ যদিও খ্রিষ্টান বাহিনীর শাইজার অবরোধের সময় পঞ্চাশ হাজার সৈন্যের বাহিনী নিয়ে আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত অনমনীয় ও একগুঁয়ে প্রকৃতির লোক। ইতিপূর্বে তিনি কয়েকবার ইমাদুদ্দিন জিনকির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এ অঞ্চলে তার প্রচুর সহযোগী ও অনুসারীও আছে। আর তাই মোটেও অসম্ভব নয় যে, ভবিষ্যতেও তিনি বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করবেন।
ইমাদুদ্দিন জিনকির দিক থেকে বিবেচনা করলে তিনি জাযিরার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রেখে এডেসা জয়ের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হতে সক্ষম ছিলেন না। কারণ, এডেসা অভিমুখে অগ্রসর হতে হলে তাকে অবশ্যই জাযিরা অঞ্চল পাড়ি দিতে হবে। আবার ক্রুসেডাররা কোনোভাবে তাকে চাপে ফেলে দিলে তখন তার অবশ্যই জাযিরা অঞ্চলে এমন একটি শক্তিশালী ঘাঁটির প্রয়োজন হবে, যেখানে তিনি নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারবেন। আর তাই এডেসা জয়ের জন্য জাযিরা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ছিল অপরিহার্য শর্ত।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [দুই] দামেশক নগরীকে রাজ্যভুক্ত করার প্রচেষ্টা

📄 [দুই] দামেশক নগরীকে রাজ্যভুক্ত করার প্রচেষ্টা


দামেশক ছিল পুরো শাম অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী, অতি সুরক্ষিত সামরিক দুর্গ, অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ নগরী এবং ধনসম্পদ ও সামরিক সম্পদে সমৃদ্ধতম নগরী। তা ছাড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের কারণে দামেশক থেকে এ অঞ্চলের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার ওপর নজর রাখা যেত। দামেশক ছিল বৈরুত, সিডন, আক্কা ও তাবারিয়াসহ অধিকৃত বিভিন্ন ইসলামি নগরীর অতি নিকটে অবস্থিত। ত্রিপোলি ক্রুসেড রাজ্যের অবস্থানও ছিল দামেশকের কাছে। দামেশকের অবস্থান ছিল বাইতুল মুকাদ্দাসের পথের পাশে। দামেশক থেকে দক্ষিণের বাইতুল মুকাদ্দাস এবং উত্তরের ত্রিপোলি, এন্টিয়ক ও এডেসা রাজ্যের মধ্যবর্তী সংযোগপথে নজর রাখা যেত। আর তাই ক্রুসেডারদের পরাভূত করতে এবং তাদেরকে ইসলামি ভূখণ্ড থেকে তাড়িয়ে দিতে সক্ষম বাস্তব শক্তি নির্মাণের লক্ষ্যে মজবুত ঐক্য বাস্তবায়নের পথে দামেশক নগরীকে জিনকি রাজ্যের অন্তর্ভুক্তকরণ অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00