📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 ইমাদুদ্দিনের অব্যাহত বিজয়

📄 ইমাদুদ্দিনের অব্যাহত বিজয়


এতসব দুর্যোগ চলাকালে ইমাদুদ্দিন জিনকি ব্যস্ত ছিলেন অধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে। তিনি হামা অধিকার ও হিমসে ব্যর্থ হওয়ার পর আলেপ্পোতে ফিরে আসেন। এরপর তিনি ক্রুসেড রাজ্য এন্টিয়কের সামরিক অস্থিরতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজ্যটিতে অভিযান পরিচালনার ছক আঁকতে শুরু করেন। তিনি জানতেন, এন্টিয়ক এখন এলিসের মতো অবিবেচক মহিলার প্রত্যক্ষ শাসনে চলছে। নিকটবর্তী আরেক ক্রুসেড রাজ্য এডেসা থেকে এন্টিয়কে যেন কোনো ধরনের সামরিক সাহায্য পৌঁছতে না পারে, এ উদ্দেশ্যে ইমাদুদ্দিন জিনকি আলেপ্পোর আমির সিওয়ারকে তিল-বাশির, আনতেপ (Antep) ও আযায নগরীতে হামলা চালানোর নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে তিনি এডেসা ও এন্টিয়কের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেন। এডেসার সৈন্যরা এখন নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকবে বলে এন্টিয়কের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সামান্য সুযোগও তাদের থাকবে না।
পরিকল্পনা প্রণয়নের পর ইমাদুদ্দিন জিনকি এন্টিয়ক নগরীর আশেপাশের বিভিন্ন দুর্গে এবং এ অঞ্চলের অধিকৃত বিভিন্ন মুসলিম নগরীতে হামলা চালাতে থাকেন। একটানা কয়েকটি যুদ্ধের পর আমাদের মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকি কাফারতাব, মাআ'ররাতুন-নোমান ও যারদানা নগরী পুনরুদ্ধার করেন। ইরাক পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত মুসলিম উম্মাহর জন্য ইমাদুদ্দিন জিনকির এ বিজয়গুলো ক্ষতস্থানে মলমের কাজ করে! (৪০০)
ইমাদুদ্দিনের এই বিজয়ধারা হিলাল-ছালিব উভয় শিবিরের সকলকে সমান্তরালে সচেতন ও সতর্ক করে তোলে!
ইমাদুদ্দিন জিনকির ধারাবাহিক বিজয় ক্রুসেড শিবিরের এন্টিয়ক শাসক এলিসের অন্তরে প্রচণ্ড ভীতি সৃষ্টি করে। তিনি এবার নতুন এক পাগলামি করে বসেন! এলিস বাইজান্টাইন সম্রাট ২য় জন কম নিনোসের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তার পুত্রের সঙ্গে নিজের কন্যা কন্সটেন্সের বিয়ের প্রস্তাব দেন (৪০১) এবং এর মধ্য দিয়ে কার্যত ক্যাথলিক এন্টিয়ক রাজ্যের ওপর অর্থোডক্স বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেন!
এলিসের এমন পদক্ষেপ ক্রুসেডারদের শেকড় নাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ প্রায় চল্লিশটি বছর ধরে তারা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যকে এন্টিয়ক থেকে দূরে রাখতে সচেষ্ট থেকেছে। আজ এই অবিবেচক নারী শাসক এক মুহূর্তে ক্রুসেডারদের এতদিনের সব সাধনা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাচ্ছেন! এন্টিয়কের ক্রুসেডাররা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং রাজা ফাল্কের সঙ্গে পত্রবিনিময় করে। ফাল্ক আর কোনো সমাধান না খুঁজে পেয়ে এন্টিয়কের শিশু রাজকন্যা কন্সটেন্সকে তার এমন কোনো মিত্রের কাছে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যিনি এন্টিয়ক রাজ্যভার সামলাতে পারবেন। অথচ কন্সটেন্সের বয়স তখন দশ বছরও হয়নি! ফাল্ক এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বেছে নেন আকুইতিনের ডিউক (The Duke of Aquitaine) ৯ম উইলিয়ামের (৪০২) পুত্র যুবরাজ রেমন্ড অফ পয়টিয়ার্স (Raymond of Poitiers)-কে। (৪০৩) ফরাসি এই যুবরাজ তখন তৎকালীন ইংল্যান্ডের রাজা ১ম হেনরির রাজপ্রাসাদে তার তত্ত্বাবধানে বাস করতেন। ফাল্কের ত্বরিত বার্তা পেয়ে রেমন্ড এন্টিয়কে চলে আসেন এবং কন্সটেন্সকে বিয়ে করে এন্টিয়কের শাসনভার গ্রহণ করেন! শক্তিশালী এই তরুণ শাসক এন্টিয়কের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নতুন করে গুছিয়ে নেন। স্বভাবতই বেপরোয়া নারী শাসক এলিস প্রশাসন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং বাধ্য হয়ে লাতাকিয়ার চলে যান। কিছুদিন পরই তিনি সেখানে মারা যান। (৪০৪)
এই ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির অব্যাহত বিজয়ধারায় ক্রুসেড শিবিরের প্রতিক্রিয়া।
ওদিকে ইমাদুদ্দিন জিনকির বিজয়ধারা মুসলিম বিশ্বে সৃষ্টি করে দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া। সাধারণ জনতা, আলিম ও ফকিহসমাজ এবং উম্মাহর সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিগণ এ বিজয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। (৪০৫) সকলের হৃদয়ে চলমান সংকট থেকে নিষ্কৃতির আশা আরও জোরালো হয়। কিন্তু বিপরীতে মুসলিম সমাজেরই কিছু মানুষ ইমাদুদ্দিনের বিজয় সংবাদে প্রচণ্ড বিচলিত- উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে! তাদের অন্তর্জগতে সাম্প্রদায়িক চেতনা আরও তীব্র হয়ে জেগে ওঠে!

টিকাঃ
৪০০. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/২৬০-২৬১।
৪০১. Runciman: op.cit.,ll, pp. 88-90.
৪০২. এই ৯ম উইলিয়াম ইতিপূর্বে একটি ক্রুসেডার বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর বিবরণ পূর্বে গত হয়েছে। [সম্পাদক]
৪০৩. Guillaume de Tyr., p. 618.
৪০৪. সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/৪৩৪।
৪০৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৯১।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 হত্যাপ্রচেষ্টা থেকে ইমাদুদ্দিনের নিষ্কৃতি

📄 হত্যাপ্রচেষ্টা থেকে ইমাদুদ্দিনের নিষ্কৃতি


বীরযোদ্ধা ইমাদুদ্দিন জিনকির অব্যাহত বিজয় সুলতান মাসউদের মনে প্রচণ্ড উদ্বেগের জন্ম দেয়। বেশ কিছু কারণে তার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পেয়ে শঙ্কায় রূপ নেয়। যথা-
১. খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর শেষ সময়ে খলিফার সঙ্গে ইমাদুদ্দিন জিনকির বেশ চমৎকার সম্পর্ক ছিল। হতে পারে, খলিফার হত্যাকাণ্ড তাকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। অধিকন্তু আমজনতার মুখেমুখে ছড়িয়ে পড়েছে, সুলতান মাসউদই খলিফাকে হত্যা করতে বাতিনিদের প্ররোচিত করেছেন।
২. এসব ধারাবাহিক বিজয়ের ঘটনা মুসলিমসমাজে ইমাদুদ্দিন জিনকির মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। ফলে সকল সুলতানের তুলনায় তার ধার-ভার অনেক বেড়ে গেছে। মোটেও অসম্ভব কিছু নয় যে, ইমাদুদ্দিন জিনকি তার শাসিত অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন রাজ্যের দাবি তুলবেন। ইতিপূর্বে তার চেয়ে শক্তিতে দুর্বল অনেকেও এরূপ দুঃসাহস দেখিয়েছে। দামেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তুগতেকিনের বংশধরগণ, হিমস শাসন করছে খায়র খানের পুত্ররা, শাইজার শাসন করছে মুনকিযের ছেলেরা।
৩. ইমাদুদ্দিন জিনকির নেতৃত্বে শুরু হওয়া ঐক্য-প্রচেষ্টার যথার্থতা সকলের কাছে সুস্পষ্ট। তিনি ইতিমধ্যে মসুলের সঙ্গে আলেপ্পো ও হামা নগরীকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। জাযিরা অঞ্চলের বেশ কিছু নগরীও তিনি অধিকার করে নিয়েছেন। তিনি কুর্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করেছেন; সখ্যতা ও হৃদ্যতা গড়ে তুলেছেন উরতুকি শাসক হুসামুদ্দিন তামারতাশ বিন ইলগাজির সঙ্গেও। এভাবে ইমাদুদ্দিন জিনকির একীভূতকরণ প্রচেষ্টা অন্যান্য ইসলামি নগরীতেও প্রসারিত হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এরই ধারাবাহিকতায় অচিরেই একসময় হয়তো তিনি নজর দেবেন বাগদাদের দিকে এবং সেলজুকদের দুর্গ পারস্য ভূমির দিকেও।
৪. সুলতান মাসউদের শত্রুর অভাব নেই। এক্ষেত্রে সবার ওপরে আছে ভ্রাতুষ্পুত্র দাউদ বিন মাহমুদ, ভাই সেলজুকশাহ ও চাচা সুলতান সানজারের নাম। তাদের কেউ যদি সুলতান মাসউদের বিপক্ষে ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে জোট করেন, তখন তিনি কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবেন?!
সবগুলো বিষয় সামনে রেখে সুলতান মাসউদ এমন এক গর্হিত কর্মের পরিকল্পনা করেন, যা তার মতো 'সচ্চরিত্রে'র পরিচয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তির কাছ থেকে একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি ইমাদুদ্দিন জিনকিকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন!
সুলতান মাসউদ তাকে পদচ্যুত করবেন না। কারণ, তাহলে তো ইমাদুদ্দিন তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীরূপে ময়দানে থেকে যাবেন। তাই তিনি ইমাদুদ্দিন জিনকিকে হত্যা করেই পুরোপুরি নিষ্কৃতি লাভ করবেন! মুসলমানদের স্বপ্ন-সাধনা, ক্রুসেডবিরোধী জিহাদ-সংগ্রাম বা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রচেষ্টা—এসব বিষয়ের কী হবে, সে চিন্তা সুলতান মাসউদের বিলকুল ছিল না।
এরই নাম আত্মকেন্দ্রিকতা ও অহমিকা! তিনি মনে করছিলেন, পৃথিবীর সবকিছু আবর্তিত হবে তাকে কেন্দ্র করে। তিনি চাচ্ছিলেন, চারিদিকের সবকিছু পরিচালিত হবে তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে; ফলাফল যাই হোক না কেন!
সুলতান মাসউদ যদিও এমন নিকৃষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেন; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তো আপন বান্দার প্রতি পরম দয়াশীল। আল্লাহ তাআলা ইমাদুদ্দিন জিনকির নিষ্কৃতির ব্যবস্থা করে দেন এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে, যার হাত ধরে কোনো কল্যাণ আসতে পারে, এমনটি কারও দূরতম কল্পনাতেও ছিল না।
সেই ব্যক্তির নাম দুবাইস বিন সাদাকা!
সেই দুরাচারী শিয়া নেতা, ইমাদুদ্দিন জিনকি যাকে কয়েক বছর পূর্বে বুরি বিন তুগতেকিনের বন্দিশালা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন; তার প্রতি সদ্ব্যবহার করে তাকে কাছে টেনে নিয়েছিলেন এবং সম্মানিত করেছিলেন। দুবাইস বিন সাদাকা ইমাদুদ্দিন জিনকির সেই সদাচরণের কথা মনে রেখেছিল। খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর সঙ্গে প্রচণ্ড বিরোধের জের ধরে দুবাইস সুলতান মাসউদের সঙ্গে জোট বেঁধেছিল। সুলতান মাসউদ যখন ইমাদুদ্দিন জিনকিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন, সে তখন সুলতানের বাসভবনেই অবস্থান করছিল। দুবাইস সুলতান মাসউদের দুষ্ট পরিকল্পনার বিষয়টি জেনে ফেলে। সে আরও জানতে পারে, ইমাদুদ্দিন জিনকিকে প্রথমে হামাদানে সুলতানের বাসভবনে ডেকে আনা হবে, এরপর অসতর্ক মুহূর্তে তাকে হত্যা করা হবে। দুবাইস দ্রুত ইমাদুদ্দিন জিনকির কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত করে এবং সুলতানের আহ্বানে তার বাসভবনে আসতে কঠোরভাবে নিষেধ করে।
সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর কী মহিমা! সুলতান মাসউদ জেনে ফেলেন যে, দুবাইস বিন সাদাকাই তার ষড়যন্ত্রের কথা ফাঁস করে দিয়ে ইমাদুদ্দিনকে গুপ্তহত্যার চক্রান্ত বানচাল করে দিয়েছে। তাই তিনি তৎক্ষণাৎ দুবাইসকে হত্যা করেন। এ সংবাদ জানার পরই ইমাদুদ্দিন জিনকি তার সেই বিখ্যাত উক্তিটি করেন, 'আমরা তাকে অর্থের বিনিময়ে (বন্দিদশা থেকে) মুক্ত করেছিলাম; আর সে প্রাণের বিনিময়ে আমাদের রক্ষা করল!’ (৪০৬)
মহান আল্লাহ পাকের ইচ্ছা ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকি আরও কয়েক বছর বেঁচে থাকবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা আরও কিছু মহৎ কর্ম তার জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন।
এমন বিতৃষ্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পরও এবং ক্রুসেডবিরোধী যুদ্ধ তৎপরতার সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত অবস্থায় এভাবে পৃষ্ঠদেশে আঘাতের শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইমাদুদ্দিন জিনকি তার জিহাদি তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। তিনি তো সুলতানদের পারস্পরিক পার্থিব সংঘাতে নিজেকে জড়াতে চাননি। তারপরও তিনি যখন এমন হত্যাষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হলেন, তখন বাধ্য হয়েই ভবিষ্যতে তিনি সুলতানদের বিরোধ-বিসংবাদ সম্পর্কে উদাসীন থাকবেন না এবং এই ঘনীভূত বিপর্যয়ে নিজে জড়িত না হলেও আত্মরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন।
ইরাকের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। মুসতারশিদ বিল্লাহর পুত্র রাশিদ বিল্লাহর হাতে এই শর্তে বায়আত গ্রহণ করা হয়েছে যে, তিনি কখনো সৈন্যসমাবেশ ঘটাতে পারবেন না এবং সুলতান মাসউদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু নতুন খলিফা কীভাবে সবার মুখের এই মন্তব্য উপেক্ষা করেন যে, সুলতান মাসউদই তার পিতাকে হত্যা করার জন্য বাতিনিদের প্ররোচিত করেছেন! তা ছাড়া সুলতান মাসউদের ভয়ে তটস্থ রাজন্যদের অনেকেই তখন তাকে ছেড়ে খলিফা রাশিদ বিল্লাহর পক্ষে সমবেত হয়েছে। নিজের হৃত সালতানাত খুঁজে ফেরা সুলতান দাউদ বিন মাহমুদও খলিফার পক্ষ নিয়েছেন। তারা সকলে সুলতান মাসউদের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাদের বাহিনীগুলো বাগদাদে সমবেত হতে শুরু করে। সুলতান মাসউদ নিজে তখন অবস্থান করছেন হামাদানে! (৪০৭)
ইমাদুদ্দিন জিনকি ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখছিলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, সংঘাতে না জড়ালেও তিনি ঘটনার কাছাকাছি থাকবেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি মসুলের নিকটে চলে আসেন এবং সম্ভাব্য প্রয়োজন দেখা দিলে তা পূরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। পাশাপাশি তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা করে দেন যে, তিনি খলিফা রাশিদ বিল্লাহর পক্ষে আছেন। (৪০৮) সুলতান মাসউদ কর্তৃক ইমাদুদ্দিন জিনকিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ফাঁস হওয়ার পর খলিফার সঙ্গে তার এই নতুন মিত্রতায় কারও আপত্তি করার কিছু ছিল না।
বাগদাদে খলিফা রাশিদ বিল্লাহ, অন্যান্য সহযোগী সুলতান ও দাউদ বিন মাহমুদের বাহিনীর সঙ্গে সুলতান মাসউদের বাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধ হয়। যুদ্ধগুলোতে সুলতান মাসউদের বাহিনীরই প্রাধান্য ছিল। এরপর সুলতান মাসউদ শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে বাগদাদে প্রবেশ করেন। খলিফা রাশিদ বিল্লাহ বাধ্য হয়ে উত্তর দিকে পলায়ন করলে ইমাদুদ্দিন জিনকি তাকে মসুলে আশ্রয় দেন এবং বাগদাদের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রতি নজর রাখেন। (৪০৯)
সুলতান মাসউদ বাগদাদে আব্বাসি রাজপরিবারের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। যেহেতু খলিফা রাশিদ বিল্লাহ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করেছেন, তাই সুলতান মাসউদ তাকে অপসারণ করে এমন কাউকে নতুন খলিফা নির্বাচনের মনস্থ করেন, যিনি সুলতান মাসউদের প্রতি অনুগত থাকবেন আর জনগণ তার পক্ষে থাকবে। তখন আর নতুন করে কোনো সংঘাতের সূচনাও হবে না। আব্বাসি নেতৃবৃন্দ এমন এক ব্যক্তির নাম প্রস্তাব করে, যিনি ছিলেন সকলের প্রিয়, সদাচারী, ন্যায়বান ও সচ্চরিত্রের অধিকারী। সুলতান মাসউদও তাদের প্রস্তাব মেনে নেন। ফলে ইরাকের পরিস্থিতিও অনেকাংশে শান্ত হয়ে আসে। প্রস্তাবিত সেই ব্যক্তি হলেন, প্রয়াত খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর ভাই ও অপসারিত খলিফা রাশিদ বিল্লাহর চাচা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন মুসতাযহির বিল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি 'আল-মুকতাফি লি- আমরিল্লাহ' উপাধি গ্রহণ করেন। পরবর্তী চব্বিশ বছরেরও অধিক সময় তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ফলে বাগদাদ-পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। খলিফা মুকতাফি লি-আমরিল্লাহ ৫৩০ হিজরি সনের জিলহজ মাসে (১১৩৬ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে) খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। (৪৪°)

টিকাঃ
৪০৮. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/২৫০।
৪০৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/ ২৮৮-২৮৯।
৪০৮. প্রাগুক্ত, ৯/২৮৮-২৮৯।
৪০৯. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৯১-২৯২।
৪৪°, আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/ ২৯২-২৯৩ ও ইবনে ওয়াসিল, মুফাররিজুল কুরূব, ১/৬৫-৬৬।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা

📄 দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা


এমন উত্তাল ঘটনাবহুল সময়েও ইমাদুদ্দিন জিনকি তার মূল ও প্রধান লক্ষ্য থেকে উদাস থাকেননি। সুলতান মাসউদের বিজয় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরও তিনি তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী সুলতানের প্রতি প্রতিশোধপ্রবণ হওয়ার সামান্য চিন্তাও করেননি। অথচ ইমাদুদ্দিন জিনকির সেনাশক্তি, জনমনে তার মর্যাদা ও সম্মান সুলতান মাসউদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণে যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তিনি কোনো পারিপার্শ্বিক যুদ্ধে জড়িয়ে উম্মাহকে দ্বিধাবিভক্ত করতে চাচ্ছিলেন না। তিনি বরং সব সময় জীবনের সবচেয়ে বড় দুই গুরুদায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকতে সচেষ্ট ছিলেন— মুসলমানদের ঐক্য ও ক্রুসেডবিরোধী জিহাদ।
সে মতে ইমাদুদ্দিন জিনকি ৫৩০ হিজরি সনের শেষ ও ৫৩১ হিজরি সনের শুরু ভাগে চারটি মৌলিক বিষয়কে কেন্দ্র করে কাজ করে যান।
১. খলিফা মুকতাফি লি-আমরিল্লাহর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। উদ্দেশ্য ছিল আব্বাসি কাঠামোর সঙ্গে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ার নিশ্চয়তা লাভ। যদিও আব্বাসিরা তখন উদ্বেগ জাগানোর মতো কোনো শক্তি ছিল না; কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে এটি স্পষ্ট ছিল যে, দুর্বল হলেও মুসলমান জনসাধারণ তখনও খলিফার মত ও সম্মানের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছিল। তদুপরি নতুন খলিফা একজন সদাচারী, জনপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। (৪৪১)
২. হুসামুদ্দিন তামারতাশের সহায়তায় জাযিরা অঞ্চলের দিকে জিনকি রাজ্যের বিস্তৃতি। ইমাদুদ্দিন ও তার মিত্র হুসামুদ্দিন মিলে দিয়ারে বকরের উত্তরে অবস্থিত জুর পাহাড় ও সিওয়ান অঞ্চলে সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করেন। এর মধ্য দিয়ে জাযিরা অঞ্চলে জিনকি রাষ্ট্র যথেষ্ট বিস্তৃতি লাভ করে এবং ঐক্য পরিকল্পনার বিরোধীরা কার্যত নিষ্ক্রিয় ও শান্ত হয়ে যায়। ফলে জাযিরা অঞ্চলের পরিস্থিতিও অনেকটা স্থিতিশীল হয়ে আসে। ইমাদুদ্দিন জিনকিও নিশ্চিন্তে ক্রুসেডার দমনে মনোযোগী হওয়ার সুযোগ পান। (৪৪২)
৩. হিমস নগরী! দামেশকের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে হিমস নগরী। তদ্রূপ ইমাদুদ্দিন জিনকি যদি এন্টিয়ক বা ত্রিপোলি রাজ্যে অভিযান পরিচালনা করতে চান, তখনও তার পৃষ্ঠদেশে দুর্বলতার তিলক-চিহ্ন হয়ে থাকবে হিমস। ইমাদুদ্দিন বারবার অবরোধ-চেষ্টা চালালেও নগরটি জয়ে ব্যর্থ হন। কিন্তু ইমাদুদ্দিন জিনকির অব্যাহত চেষ্টায় হিমসের শাসক কুরাইশ বিন খায়র খানের অন্তর্জগৎ প্রকম্পিত হয়ে পড়ে। তিনি নিরুপায় হয়ে হিমসের নিয়ন্ত্রণ দামেশকের অধিপতি শিহাবুদ্দিন মাহমুদের হাতে সমর্পণ করেন এবং ইমাদুদ্দিন জিনকির কর্তৃত্ব থেকে নগরীটিকে রক্ষা করতে তার সহযোগিতা কামনা করেন। শিহাবুদ্দিন হিমসের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব প্রদান করেন তার সবচেয়ে শক্তিশালী ও কঠোর সেনাপতি মুইনুদ্দিন আনুরকে। (৪৪৩)
৪. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ক্রুসেডারদের দমন। ইমাদুদ্দিন জিনকি ক্রুসেডারদের সুসংগঠিত হওয়ার সামান্য সুযোগও দিতে চাচ্ছিলেন না। তাই তিনি কদিন পরপরই অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালাতে থাকেন। এমনই এক অভিযানে তিনি লাতাকিয়া অঞ্চলে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে এক তাৎপর্যপূর্ণ বিজয় অর্জন করেন। তিনি লাতাকিয়া অঞ্চলের ক্রুসেড দুর্গগুলো গুঁড়িয়ে দেন, প্রচুর সৈন্যকে হত্যা করেন এবং একবারেই বন্দি করেন সাত হাজারের অধিক ক্রুসেড সেনাকে। মুসলিম বাহিনী অগণিত যুদ্ধলব্ধ সম্পদও লাভ করে। যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে প্রাপ্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্চর, গরু ও মেষের সংখ্যাই ছিল এক লক্ষের অধিক! আর ঐতিহাসিক ইবনুল আছিরের ভাষ্যমতে পোশাক-পরিচ্ছদ, অলংকার ও আসবাবপত্রের পরিমাণ ছিল গণনাতীত!
এই মহান বিজয় বাস্তবার্থেই মুসলমানদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। এটি ছিল ৫৩০ হিজরি সনের শাবান মাসের ঘটনা। (৪৪৪)
ইমাদুদ্দিন জিনকি এই চারটি কেন্দ্রে সম্মিলিতভাবে তার কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখলেও নিজের পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন ছিলেন। সুলতান মাসউদ আবারও যেন কোনো ধরনের প্রতারণা করতে না পারেন, এজন্য তিনি ইরবিল ও বাগদাদের মধ্যবর্তী দাকুকা নগরীকে তার রাজ্যভুক্ত করে নেন। দাকুকার অবস্থান ছিল মসুলের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে। এখন থেকে দাকুকা নগরী তার ও সুলতান মাসউদের শাসিত অঞ্চলের মধ্যে প্রতিবন্ধকরূপে বিবেচিত হবে। সুলতান মাসউদ যদি মসুলে কোনো ধরনের অভিযান চালাতে চান, দাকুকা থেকে ইমাদুদ্দিন তা জেনে ফেলবেন এবং আকস্মিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হবেন না। ৫৩১ হিজরি সনের শুরুতে তিনি নগরীটির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। (৪৪৫)

টিকাঃ
৪৪১, ইবনুল কালানিসি, যায়লু তারীখি দিমাশক, পৃষ্ঠা: ৪৪৩ ও ইবনে ওয়াসিল, মুফাররিজুল কুরূব, ১/৬৭-৭১।
৪৪২, ইমাদুদ্দিন খলিল, ইমাদুদ্দিন জিনকি, পৃষ্ঠা: ১১৯।
৪৪৩. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৯৮।
৪৪৪. প্রাগুক্ত, ৯/২৯১।
৪৪৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৩০০।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 জেগে উঠেছে মুজাহিদদের আত্মমর্যাদাবোধ!

📄 জেগে উঠেছে মুজাহিদদের আত্মমর্যাদাবোধ!


এরপর আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এক মাধ্যমে ইমাদুদ্দিন জিনকির সামনে ক্রুসেডারদের শক্তিকে আরও দুর্বল করার ব্যবস্থা করে দেন। বাযওয়াশ নামক দামেশকের জনৈক সেনাপতি এ সময় ইমাদুদ্দিন জিনকির মতো ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে তৎপর হয়ে ওঠেন। অথচ ইতিপূর্বে আমরা দামেশককে প্রয়োজনে ক্রুসেডারদের সঙ্গে সহযোগিতা বিনিময় করতেও দ্বিধা করতে দেখিনি! নিকট ভবিষ্যতেও আমরা এর আরেকটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করব। ব্যতিক্রমী এই ঘটনার বিবরণ হলো, এই সেনাপতি তার বাহিনীর একটি অংশ নিয়ে ত্রিপোলি অভিমুখে অগ্রসর হন। এ অঞ্চল ও দিয়ারে বকর অঞ্চলের বেশ কিছু তুর্কমেন সৈন্যও তাকে সহায়তা করে। তারা দ্রুতবেগে ত্রিপোলি রাজ্যে হামলা চালায়। মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় ত্রিপোলির শাসক পন্স বেরিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়। পন্সের পিতামহ ৪র্থ রেমন্ডের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট গিল্স দুর্গের নিকটে সংঘটিত এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। যুদ্ধে ত্রিপোলির শাসক পন্স নিহত হন; বন্দি হয় প্রচুর ক্রুসেড সেনা। পাশাপাশি প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ মুসলমানদের হস্তগত হয়। (৪৪৬) ৫৩১ হিজরি সনের রজব মাসে (১১৩৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে) এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকি উম্মাহর হৃদয়ে সুপ্ত জিহাদি চেতনাকে এমনভাবে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, কখনোই জিহাদে অভ্যস্ত নয় এমন এক বাহিনী জিহাদের জন্য বেরিয়ে এসেছে এবং বিরাট সফলতা এনে দিয়েছে। তারা শুধু ত্রিপোলির ক্রুসেডশক্তির সমূহ ক্ষতিসাধনই করেনি, কার্যত ক্রুসেড শিবিরের দম্ভই চূর্ণ করে দিয়েছে।
পন্সের মৃত্যুর পর ত্রিপোলি রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন তার পুত্র ২য় রেমন্ড (Raymond II)। কঠিন সামরিক ও রাজনৈতিক সংকটের মাঝে শুরু হয় তার শাসনামল।
হিলাল-ছালিব সংঘাতের ইতিহাসে এ যুদ্ধটি এক বিস্ময়কর যুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। কারণ, তৎকালীন দামেশক-প্রশাসন ও দামেশকের সেনাপতিগণ ক্রুসেডারদের অত্যন্ত নিকটভাজন ছিল। এমনকি তারা ইমাদুদ্দিন জিনকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরস্পর পত্রবিনিময় করত। এতে অনুমিত হয় যে, ত্রিপোলির এ যুদ্ধ ছিল দামেশক বাহিনীর একটি অংশের বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা, যাতে স্বেচ্ছায় যোগ দিয়ে শক্তি জুগিয়েছিল প্রচুর সংখ্যক তুর্কমেন সৈন্য। তাদের হাত ধরেই এরূপ মহান বিজয় ও প্রভাবক ফলাফল অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এরপরও দামেশক-ক্রুসেডার মিত্রতায় তেমন একটা ফাটল ধরেনি! আর তাই এ সম্ভাবনাই দৃঢ়তা লাভ করে যে, ত্রিপোলি অভিযানে অংশগ্রহণকারী দামেশক বাহিনী মোটেও তৎকালীন দামেশক প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেনি।

টিকাঃ
৪৪৬. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৯৮ ও Guillaume de Tyr., pp. 640.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00