📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস 📄 [দশ] ক্রুসেডার শক্তি

📄 [দশ] ক্রুসেডার শক্তি


এ অঞ্চলে বিদ্যমান উল্লিখিত জটিলতা ও সমস্যাসমূহের পাশাপাশি সবচেয়ে কঠিন সমস্যা ও দুশ্চিন্তা হিসেবে মুসলমানদের কাঁধে চেপে ছিল এডেসা, এন্টিয়ক, ত্রিপোলি ও বাইতুল মুকাদ্দাস নামক চারটি ক্রুসেড রাজ্যের সম্মিলিত ক্রুসেড কাঠামো।
৫২০ হিজরি সনে (১১২৬ খ্রিষ্টাব্দে) আক সুনকুর আল-বুরসুকির মৃত্যুর পর মসুলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ গোলযোগ চলাকালে ক্রুসেড রাজ্যগুলো আরও সুসংহত ও দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। তারা এ সময় রাজ্যগুলোর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমকারী প্রতিটি মুসলিম কাফেলার ওপর হামলা চালাতে শুরু করে এবং নিকটবর্তী ইসলামি নগরীগুলোর ওপর কর আরোপ করতে থাকে। এর ফলে এ অঞ্চলের জনসাধারণের মাঝে এক ধরনের ভীতি-আতঙ্ক তৈরি হয়। এর অন্যতম কারণ এও ছিল যে, নগরীগুলোর দুর্বলচিত্ত মুসলিম শাসকদের মাঝে ক্রুসেডারদের প্রতিরোধ বা কোনো ধরনের লড়াই প্রচেষ্টার আগ্রহ বা পরিকল্পনা ছিল না। (৩২৭)
বিপরীতে ক্রুসেডার নেতৃবৃন্দের অবস্থান ছিল অনেকটা স্থিতিশীল। এডেসায় জোসেলিন, এন্টিয়কে ২য় বোহেমন্ড, ত্রিপোলিতে বারট্রামের পুত্র পন্স আর বাইতুল মুকাদ্দাসে ২য় বল্ডউইন-প্রতিটি ক্রুসেড রাজ্যেই ছিল আলাদা আলাদা শক্তিশালী শাসক।
ইমাদুদ্দিন জিনকির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেড রাজ্য ছিল মসুল ও আলেপ্পোর মাঝে গজালের মতো প্রোথিত এডেসা রাজ্য!
মোটামুটি এই ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির মনমস্তিষ্কে বিদ্যমান তৎকালীন পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র। নিঃসন্দেহে চিত্রটি ছিল অত্যন্ত জটিল; যাতে দু-চার-দশটি নয়; ছিল শত শত সমস্যা ও বিপত্তি। আর এই জটিল ও যৌগিক সংকট থেকে নিষ্কৃতির উপায় ছিল একটিই। প্রথমে মহান আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠাপূর্ণ বিশ্বাস; এরপর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শী পরিকল্পনা, কর্মনীতিতে অগ্রাধিকার নির্ণয়ে সুষ্ঠু বিন্যাস, নানা মত ও নানা পথের মানুষের সঙ্গে কৌশলী কূটনীতি প্রয়োগ এবং অন্যায় প্রতিরোধ ও অন্যায্যের সংস্কারে পূর্ণ প্রজ্ঞার ব্যবহার।

টিকাঃ
৩২৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ৩২-৩৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية