📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [আট] জাযিরা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ

📄 [আট] জাযিরা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ


এই অঞ্চলটিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটির অবস্থান উত্তর দিক থেকে দজলা ও ফুরাত নদীর মাঝে। আধুনিক রাষ্ট্রসীমায় ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের বিভিন্ন অংশ মিলে ছিল তৎকালীন জাযিরা অঞ্চল। ক্রুসেড রাজ্য এডেসা এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এডেসা রাজ্যের অবস্থান ছিল মসুলের অতি নিকটে। বরং মসুলকে জাযিরা অঞ্চলের একটি নগরী হিসেবেই গণ্য করা হতো। আর তাই ইমাদুদ্দিন জিনকির সামগ্রিক চিন্তা-পরিকল্পনায় এ অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল।
অতি দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান ও ক্রুসেড রাজ্য এডেসার নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও অঞ্চলটি বিভিন্ন আরব, তুর্কমেন ও উরতুকি শাসকের মাঝে বিভক্ত ছিল। এ কথা বললে মোটেও অত্যুক্তি হবে না যে, এই সীমিত পরিসরের অঞ্চলটি তখন গোটা দশেক আলাদা রাজ্যে বিভক্ত ছিল। কেবল তা-ই নয়; রাজ্যবিস্তারের লালসায় তারা লিপ্ত ছিল পারস্পরিক হানাহানিতে। (৩২৪)

টিকাঃ
৩২৪. দেখুন: মুহাম্মাদ সুহাইল তাকৃশ, তারীখুয-যিনকিয়্যীন ফিল-মাওসিলি ওয়া বিলাদিশ-শাম, পৃষ্ঠা: ৯৮-৯৯।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [নয়] কুর্দি গোষ্ঠী

📄 [নয়] কুর্দি গোষ্ঠী


আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, কুর্দিরা ছিল এক মহান সুন্নি সম্প্রদায়। তারা মসুলের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করত। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে সেলজুকদের কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এরই অনিবার্য পরিণতিতে অঞ্চলটিতে আলিমদের সংখ্যা কমে যায়; শান্তি-নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়ে, মূর্খতা ও অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ে এবং অঞ্চলটি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন নগরীর জন্য দুশ্চিন্তা ও শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। (৩২৫)
কুর্দিরা অনেকগুলো শাখাগোত্রে বিভক্ত ছিল আর প্রতিটি শাখাগোত্র ছিল পরস্পর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও স্বাধীন। আর তাই কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলটিকে 'কুর্দি রাজ্য' বলে আখ্যায়িত করার সুযোগ ছিল না। হামিদিয়া, হাকারিয়া, মিহরানিয়া ও বাশনাবিয়া ছিল তৎকালে এ অঞ্চলের কুর্দিদের প্রসিদ্ধ কয়েকটি শাখাগোত্র। (৩২৬)

টিকাঃ
৩২৫. ইমাদুদ্দিন খলিল, ইমাদুদ্দিন জিনকি, পৃষ্ঠা: ১০১। (ঈষৎ পরিমার্জিত)
৩২৬. মুহাম্মাদ সুহাইল তাকৃশ, তারীখুয-যিনকিয়্যীন ফিল-মাওসিলি ওয়া বিলাদিশ-শাম, পৃষ্ঠা: ১০৫।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [দশ] ক্রুসেডার শক্তি

📄 [দশ] ক্রুসেডার শক্তি


এ অঞ্চলে বিদ্যমান উল্লিখিত জটিলতা ও সমস্যাসমূহের পাশাপাশি সবচেয়ে কঠিন সমস্যা ও দুশ্চিন্তা হিসেবে মুসলমানদের কাঁধে চেপে ছিল এডেসা, এন্টিয়ক, ত্রিপোলি ও বাইতুল মুকাদ্দাস নামক চারটি ক্রুসেড রাজ্যের সম্মিলিত ক্রুসেড কাঠামো।
৫২০ হিজরি সনে (১১২৬ খ্রিষ্টাব্দে) আক সুনকুর আল-বুরসুকির মৃত্যুর পর মসুলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ গোলযোগ চলাকালে ক্রুসেড রাজ্যগুলো আরও সুসংহত ও দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। তারা এ সময় রাজ্যগুলোর পাশ দিয়ে পথ অতিক্রমকারী প্রতিটি মুসলিম কাফেলার ওপর হামলা চালাতে শুরু করে এবং নিকটবর্তী ইসলামি নগরীগুলোর ওপর কর আরোপ করতে থাকে। এর ফলে এ অঞ্চলের জনসাধারণের মাঝে এক ধরনের ভীতি-আতঙ্ক তৈরি হয়। এর অন্যতম কারণ এও ছিল যে, নগরীগুলোর দুর্বলচিত্ত মুসলিম শাসকদের মাঝে ক্রুসেডারদের প্রতিরোধ বা কোনো ধরনের লড়াই প্রচেষ্টার আগ্রহ বা পরিকল্পনা ছিল না। (৩২৭)
বিপরীতে ক্রুসেডার নেতৃবৃন্দের অবস্থান ছিল অনেকটা স্থিতিশীল। এডেসায় জোসেলিন, এন্টিয়কে ২য় বোহেমন্ড, ত্রিপোলিতে বারট্রামের পুত্র পন্স আর বাইতুল মুকাদ্দাসে ২য় বল্ডউইন-প্রতিটি ক্রুসেড রাজ্যেই ছিল আলাদা আলাদা শক্তিশালী শাসক।
ইমাদুদ্দিন জিনকির দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্রুসেড রাজ্য ছিল মসুল ও আলেপ্পোর মাঝে গজালের মতো প্রোথিত এডেসা রাজ্য!
মোটামুটি এই ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির মনমস্তিষ্কে বিদ্যমান তৎকালীন পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র। নিঃসন্দেহে চিত্রটি ছিল অত্যন্ত জটিল; যাতে দু-চার-দশটি নয়; ছিল শত শত সমস্যা ও বিপত্তি। আর এই জটিল ও যৌগিক সংকট থেকে নিষ্কৃতির উপায় ছিল একটিই। প্রথমে মহান আল্লাহর প্রতি নিষ্ঠাপূর্ণ বিশ্বাস; এরপর সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, দূরদর্শী পরিকল্পনা, কর্মনীতিতে অগ্রাধিকার নির্ণয়ে সুষ্ঠু বিন্যাস, নানা মত ও নানা পথের মানুষের সঙ্গে কৌশলী কূটনীতি প্রয়োগ এবং অন্যায় প্রতিরোধ ও অন্যায্যের সংস্কারে পূর্ণ প্রজ্ঞার ব্যবহার।

টিকাঃ
৩২৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ৩২-৩৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00