📄 [দুই] আব্বাসি খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ
আব্বাসি খিলাফতের মসনদে তখন সমাসীন খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ। তিনি যদি আব্বাসি খিলাফতের প্রতাপকালীন সময়ে আগমন করতেন, নিঃসন্দেহে প্রভূত মর্যাদা ও কীর্তির অধিকারী হতেন। কিন্তু এমন এক আমলে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন, যখন আব্বাসি খিলাফত মুমূর্ষু কাল অতিবাহিত করছে। খিলাফত তখন পুরোপুরি সেলজুক পরিবার নিয়ন্ত্রিত ছিল। অবশ্য মুসতারশিদ বিল্লাহ মাঝেমধ্যেই খিলাফতের অধিকার ও প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারে প্রচেষ্টা চালান। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, ইমাদুদ্দিন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক মাস পূর্বেও তিনি সুলতান মাহমুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখন সুলতান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে তার অপারগতা মেনে নিতে হয়। এ ঘটনা স্পষ্টতই ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে খলিফার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইমাদুদ্দিন জিনকি যদিও কারও সঙ্গে শত্রুতা বা বিদ্বেষ কামনা করতেন না; কিন্তু এ পর্যায়ে অবশ্যই তিনি সুলতান মাহমুদকে অগ্রাধিকার দেবেন, এরপর খলিফা বা অন্য কাউকে। এ বিষয়টিও ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তায় ছিল যে, খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ যেকোনো সুযোগে কোনো একদিন তাকে কষ্ট দিতে পারেন। কারণ, ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে সুলতান মাহমুদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা খলিফা ভালো করেই জানেন।
আব্বাসি খিলাফতের মসনদে তখন সমাসীন খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ। তিনি যদি আব্বাসি খিলাফতের প্রতাপকালীন সময়ে আগমন করতেন, নিঃসন্দেহে প্রভূত মর্যাদা ও কীর্তির অধিকারী হতেন। কিন্তু এমন এক আমলে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন, যখন আব্বাসি খিলাফত মুমূর্ষু কাল অতিবাহিত করছে। খিলাফত তখন পুরোপুরি সেলজুক পরিবার নিয়ন্ত্রিত ছিল। অবশ্য মুসতারশিদ বিল্লাহ মাঝেমধ্যেই খিলাফতের অধিকার ও প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারে প্রচেষ্টা চালান। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, ইমাদুদ্দিন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক মাস পূর্বেও তিনি সুলতান মাহমুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখন সুলতান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে তার অপারগতা মেনে নিতে হয়। এ ঘটনা স্পষ্টতই ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে খলিফার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইমাদুদ্দিন জিনকি যদিও কারও সঙ্গে শত্রুতা বা বিদ্বেষ কামনা করতেন না; কিন্তু এ পর্যায়ে অবশ্যই তিনি সুলতান মাহমুদকে অগ্রাধিকার দেবেন, এরপর খলিফা বা অন্য কাউকে। এ বিষয়টিও ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তায় ছিল যে, খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ যেকোনো সুযোগে কোনো একদিন তাকে কষ্ট দিতে পারেন। কারণ, ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে সুলতান মাহমুদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা খলিফা ভালো করেই জানেন।
📄 [তিন] মসুল নগরী
মসুল তখন তরঙ্গায়িত ফিতনায় অস্থির কাল অতিক্রম করছে। রাজ্যটির নিরাপত্তাব্যবস্থা তখন অত্যন্ত নাজুক। বছরখানেক পূর্বেই সেখানে বলতে গেলে বিনা বাধায় অতি সহজে বাতিনি ঘাতকদের হাতে আক সুনকুর আল-বুরসুকির মতো প্রশাসক নিহত হয়েছেন। (৩১২) এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিভিন্ন রকম দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক গতিময়তা ক্রমশ লোপ পাচ্ছিল। সন্ত্রাসী ও দুশ্চরিত্র লোকেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ জনতা চলাফেরা করতে ভয় পেত, শঙ্কিত থাকত সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে। এসব দিক বিবেচনায় ইমাদুদ্দিন জিনকির মসুলে আগমন মোটেও নিরাপদ ছিল না।
টিকাঃ
৩১২. প্রাগুক্ত, ৯/২৩৬।
মসুল তখন তরঙ্গায়িত ফিতনায় অস্থির কাল অতিক্রম করছে। রাজ্যটির নিরাপত্তাব্যবস্থা তখন অত্যন্ত নাজুক। বছরখানেক পূর্বেই সেখানে বলতে গেলে বিনা বাধায় অতি সহজে বাতিনি ঘাতকদের হাতে আক সুনকুর আল-বুরসুকির মতো প্রশাসক নিহত হয়েছেন। (৩১২) এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিভিন্ন রকম দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক গতিময়তা ক্রমশ লোপ পাচ্ছিল। সন্ত্রাসী ও দুশ্চরিত্র লোকেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ জনতা চলাফেরা করতে ভয় পেত, শঙ্কিত থাকত সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে। এসব দিক বিবেচনায় ইমাদুদ্দিন জিনকির মসুলে আগমন মোটেও নিরাপদ ছিল না।
টিকাঃ
৩১২. প্রাগুক্ত, ৯/২৩৬।
📄 [চার] মসুলের জনগণ
একটি নির্দিষ্ট নগরী বা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো তার জনগণ। অথচ এ বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আমরা পূর্বেও বারবার বলেছি, তৎকালীন মসুলের জনগণ ছিল জ্ঞানানুরাগী ও জিহাদপ্রিয়। আর তাই মসুল হতে পারত একটি শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের উৎকৃষ্ট বীজ। অধিকন্তু এই উপযুক্ত জনশক্তির কারণেই ভঙ্গুরপ্রায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও মসুলের ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির শাসনকেন্দ্র ও রাজধানী নগরী হওয়ার যোগ্যতা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ, যেসব বিষয় ইমাদুদ্দিন জিনকির কেন্দ্রীয় চিন্তা ও পরিকল্পনায় ছিল, তার অন্যতম হলো রাজধানী নগরী নির্বাচন। বিষয়টি এ কারণেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এক্ষেত্রে মসুলই একমাত্র প্রার্থী ছিল না; বরং বিভিন্ন কারণে আলেপ্পোও ছিল রাজধানী নগরী হওয়ার অন্যতম প্রার্থী। সামনের পয়েন্টে বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে।
একটি নির্দিষ্ট নগরী বা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো তার জনগণ। অথচ এ বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আমরা পূর্বেও বারবার বলেছি, তৎকালীন মসুলের জনগণ ছিল জ্ঞানানুরাগী ও জিহাদপ্রিয়। আর তাই মসুল হতে পারত একটি শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের উৎকৃষ্ট বীজ। অধিকন্তু এই উপযুক্ত জনশক্তির কারণেই ভঙ্গুরপ্রায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও মসুলের ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির শাসনকেন্দ্র ও রাজধানী নগরী হওয়ার যোগ্যতা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ, যেসব বিষয় ইমাদুদ্দিন জিনকির কেন্দ্রীয় চিন্তা ও পরিকল্পনায় ছিল, তার অন্যতম হলো রাজধানী নগরী নির্বাচন। বিষয়টি এ কারণেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এক্ষেত্রে মসুলই একমাত্র প্রার্থী ছিল না; বরং বিভিন্ন কারণে আলেপ্পোও ছিল রাজধানী নগরী হওয়ার অন্যতম প্রার্থী। সামনের পয়েন্টে বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে।
📄 [পাঁচ] আলেপ্পো নগরী
বিভিন্ন কারণেই আলেপ্পো ছিল তৎকালীন সময়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নগরী। সামরিক দিক থেকে নগরীটি ছিল অতি সুরক্ষিত। নগরীটির অবস্থান ছিল ইরাক ও শাম অঞ্চলের যোগাযোগপথের একেবারে সন্নিকটে। তা ছাড়া ক্রুসেডারদের বিভিন্ন শক্তিশালী দুর্গও ছিল আলেপ্পোর অতি নিকটে। আলেপ্পোর উত্তরে ছিল ক্রুসেড রাজ্য এডেসা আর পশ্চিমে ছিল আরেক ক্রুসেড রাজ্য এন্টিয়ক। অর্থনৈতিক দিক থেকেও রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল। অধিকন্তু নগরীটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। (৩১৩)
এসব কারণে ইমাদুদ্দিন জিনকি বিশ্বাস করতেন, এ অঞ্চলে আলেপ্পোর গুরুত্ব অনেক বেশি। তা ছাড়া আলেপ্পোবাসীর হৃদয়ে তখনও তাদের প্রয়াত শাসক ইমাদুদ্দিন জিনকির পিতা কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুরের কল্যাণে ভরপুর স্মৃতি জাগ্রত ছিল। এই যোগসূত্র নিঃসন্দেহে ইমাদুদ্দিনের জন্য এক ব্যাপক জনশক্তি ও গণসমর্থনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
কিন্তু একই সঙ্গে এ বিষয়টিও বিবেচনাভুক্ত ছিল যে, আলেপ্পোর জনমানস ছিল মসুলবাসীর চিন্তাধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। তুতুশ বিন আলপ আরসালান ও তার পুত্র রিজওয়ানের আমলসহ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আলেপ্পোর জনগণ ছিল অসৎ নেতৃত্ব, দুঃশাসন ও মন্দ পরিচর্যার শিকার। আলেপ্পোর জনসাধারণের মাঝে যদিও কল্যাণ-সম্ভাবনা অবশিষ্ট ছিল; কিন্তু পারিপার্শ্বিক বিচারে তারা ক্রুসেডবিরোধী আন্দোলনের বীজরূপে বিবেচিত হওয়ার উপযুক্ত ছিল না। অধিকন্তু আলেপ্পোর অবস্থান ছিল শক্তিশালী ক্রুসেড ঘাঁটিগুলোর নাগালে। তাই একে শাসনকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা ছিল অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণে ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তা ও পরিকল্পনায় আলেপ্পোর চেয়ে মসুলের গুরুত্ব বেশি ছিল। অবশ্য তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় উভয় নগরীরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এ সময় আলেপ্পোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত বিপর্যস্ত। আক সুনকুর আল-বুরসুকির পুত্র ইযযুদ্দিন মাসউদ নিহত হওয়ার পর কুতলুগ আবেহ নামক জনৈক তুর্কমেন নেতা দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। শাসক হিসেবে যদিও সে রিজওয়ান বিন তুতুশের পুত্র ইবরাহিমকে মসনদে বসিয়েছিল; কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল তার হাতেই। ইবরাহিম ছিল তার পিতার মতোই দুরাচারী আর কুতলুগ আবেহ ছিল তার চেয়েও বড় দুরাচারী। ফলে দুঃশাসন আর জুলুম-নিপীড়নেই কাটতে থাকে আলেপ্পোর দিনরাত। নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে এডেসার শাসক জোসেলিন ও এন্টিয়কের অধিপতি ২য় বোহেমন্ডসহ বহিঃশত্রুদের লোলুপ দৃষ্টি এ সময় আলেপ্পোর প্রতি নিবদ্ধ ছিল। (৩১৪)
কুতলুগ আবেহের নিপীড়নে বিপর্যস্ত আলেপ্পোবাসী নিষ্কৃতি লাভের আশায় নতুন এক ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়। তিনি হলেন সুলায়মান বিন আবদুল জাব্বার আল-উরতুকি। কিন্তু তিনি ছিলেন অতিশয় দুর্বল। ফলে একের পর এক চক্রান্ত ও ফিতনা ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্থিতিশীল হচ্ছিল না; অথচ ক্রুসেডাররা দাঁড়িয়ে আছে নগরদ্বারের সন্নিকটে! (৩১৫)
টিকাঃ
৩১৩. ইমাদুদ্দিন খলিল, ইমাদুদ্দিন জিনকি, পৃষ্ঠা: ৭১।
৩১৪. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ১/৪৩০-৪৩১।
৩১৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২২১।
বিভিন্ন কারণেই আলেপ্পো ছিল তৎকালীন সময়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি নগরী। সামরিক দিক থেকে নগরীটি ছিল অতি সুরক্ষিত। নগরীটির অবস্থান ছিল ইরাক ও শাম অঞ্চলের যোগাযোগপথের একেবারে সন্নিকটে। তা ছাড়া ক্রুসেডারদের বিভিন্ন শক্তিশালী দুর্গও ছিল আলেপ্পোর অতি নিকটে। আলেপ্পোর উত্তরে ছিল ক্রুসেড রাজ্য এডেসা আর পশ্চিমে ছিল আরেক ক্রুসেড রাজ্য এন্টিয়ক। অর্থনৈতিক দিক থেকেও রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল। অধিকন্তু নগরীটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ। (৩১৩)
এসব কারণে ইমাদুদ্দিন জিনকি বিশ্বাস করতেন, এ অঞ্চলে আলেপ্পোর গুরুত্ব অনেক বেশি। তা ছাড়া আলেপ্পোবাসীর হৃদয়ে তখনও তাদের প্রয়াত শাসক ইমাদুদ্দিন জিনকির পিতা কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুরের কল্যাণে ভরপুর স্মৃতি জাগ্রত ছিল। এই যোগসূত্র নিঃসন্দেহে ইমাদুদ্দিনের জন্য এক ব্যাপক জনশক্তি ও গণসমর্থনের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
কিন্তু একই সঙ্গে এ বিষয়টিও বিবেচনাভুক্ত ছিল যে, আলেপ্পোর জনমানস ছিল মসুলবাসীর চিন্তাধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত। তুতুশ বিন আলপ আরসালান ও তার পুত্র রিজওয়ানের আমলসহ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আলেপ্পোর জনগণ ছিল অসৎ নেতৃত্ব, দুঃশাসন ও মন্দ পরিচর্যার শিকার। আলেপ্পোর জনসাধারণের মাঝে যদিও কল্যাণ-সম্ভাবনা অবশিষ্ট ছিল; কিন্তু পারিপার্শ্বিক বিচারে তারা ক্রুসেডবিরোধী আন্দোলনের বীজরূপে বিবেচিত হওয়ার উপযুক্ত ছিল না। অধিকন্তু আলেপ্পোর অবস্থান ছিল শক্তিশালী ক্রুসেড ঘাঁটিগুলোর নাগালে। তাই একে শাসনকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা ছিল অতি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণে ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তা ও পরিকল্পনায় আলেপ্পোর চেয়ে মসুলের গুরুত্ব বেশি ছিল। অবশ্য তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় উভয় নগরীরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এ সময় আলেপ্পোর রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ছিল অত্যন্ত বিপর্যস্ত। আক সুনকুর আল-বুরসুকির পুত্র ইযযুদ্দিন মাসউদ নিহত হওয়ার পর কুতলুগ আবেহ নামক জনৈক তুর্কমেন নেতা দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে। শাসক হিসেবে যদিও সে রিজওয়ান বিন তুতুশের পুত্র ইবরাহিমকে মসনদে বসিয়েছিল; কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ছিল তার হাতেই। ইবরাহিম ছিল তার পিতার মতোই দুরাচারী আর কুতলুগ আবেহ ছিল তার চেয়েও বড় দুরাচারী। ফলে দুঃশাসন আর জুলুম-নিপীড়নেই কাটতে থাকে আলেপ্পোর দিনরাত। নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে এডেসার শাসক জোসেলিন ও এন্টিয়কের অধিপতি ২য় বোহেমন্ডসহ বহিঃশত্রুদের লোলুপ দৃষ্টি এ সময় আলেপ্পোর প্রতি নিবদ্ধ ছিল। (৩১৪)
কুতলুগ আবেহের নিপীড়নে বিপর্যস্ত আলেপ্পোবাসী নিষ্কৃতি লাভের আশায় নতুন এক ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়। তিনি হলেন সুলায়মান বিন আবদুল জাব্বার আল-উরতুকি। কিন্তু তিনি ছিলেন অতিশয় দুর্বল। ফলে একের পর এক চক্রান্ত ও ফিতনা ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি কোনোভাবেই স্থিতিশীল হচ্ছিল না; অথচ ক্রুসেডাররা দাঁড়িয়ে আছে নগরদ্বারের সন্নিকটে! (৩১৫)
টিকাঃ
৩১৩. ইমাদুদ্দিন খলিল, ইমাদুদ্দিন জিনকি, পৃষ্ঠা: ৭১।
৩১৪. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ১/৪৩০-৪৩১।
৩১৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২২১।