📄 [এক] সেলজুক সুলতান মাহমুদ
সমকালীন মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি তখন সেলজুক সুলতান মাহমুদ। তার নিবাস ছিল ইস্পাহানে। বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল; যার মাঝে ইরান এবং বাগদাদ ও মসুলসহ ইরাকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আলেপ্পোর ওপরও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল। তা ছাড়া তিনিই মূলত ইমাদুদ্দিনকে মসুলের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। এসব কারণে তার সঙ্গে ইমাদুদ্দিন জিনকির মিত্রতা ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক প্রত্যাশিতই ছিল। (৩১০)
ইমাদুদ্দিন জিনকি যখন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সুলতান মাহমুদের বয়স তখন তেইশ বছর। তিনি ছিলেন জ্ঞানী, সহনশীল, মহৎ ও সংযমী একজন শাসক। (৩১১) অবশ্য পিতা সুলতান মুহাম্মাদ ও পূর্বপুরুষদের মতো সমুন্নত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তার ছিল না।
টিকাঃ
৩১০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৪২-২৪৩ ও আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ৩২-৩৪।
৩১১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৫৯।
সমকালীন মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি তখন সেলজুক সুলতান মাহমুদ। তার নিবাস ছিল ইস্পাহানে। বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব ছিল; যার মাঝে ইরান এবং বাগদাদ ও মসুলসহ ইরাকও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আলেপ্পোর ওপরও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল। তা ছাড়া তিনিই মূলত ইমাদুদ্দিনকে মসুলের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। এসব কারণে তার সঙ্গে ইমাদুদ্দিন জিনকির মিত্রতা ও বিশ্বস্ততার সম্পর্ক প্রত্যাশিতই ছিল। (৩১০)
ইমাদুদ্দিন জিনকি যখন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সুলতান মাহমুদের বয়স তখন তেইশ বছর। তিনি ছিলেন জ্ঞানী, সহনশীল, মহৎ ও সংযমী একজন শাসক। (৩১১) অবশ্য পিতা সুলতান মুহাম্মাদ ও পূর্বপুরুষদের মতো সমুন্নত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তার ছিল না।
টিকাঃ
৩১০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৪২-২৪৩ ও আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ৩২-৩৪।
৩১১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২৫৯।
📄 [দুই] আব্বাসি খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ
আব্বাসি খিলাফতের মসনদে তখন সমাসীন খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ। তিনি যদি আব্বাসি খিলাফতের প্রতাপকালীন সময়ে আগমন করতেন, নিঃসন্দেহে প্রভূত মর্যাদা ও কীর্তির অধিকারী হতেন। কিন্তু এমন এক আমলে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন, যখন আব্বাসি খিলাফত মুমূর্ষু কাল অতিবাহিত করছে। খিলাফত তখন পুরোপুরি সেলজুক পরিবার নিয়ন্ত্রিত ছিল। অবশ্য মুসতারশিদ বিল্লাহ মাঝেমধ্যেই খিলাফতের অধিকার ও প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারে প্রচেষ্টা চালান। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, ইমাদুদ্দিন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক মাস পূর্বেও তিনি সুলতান মাহমুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখন সুলতান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে তার অপারগতা মেনে নিতে হয়। এ ঘটনা স্পষ্টতই ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে খলিফার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইমাদুদ্দিন জিনকি যদিও কারও সঙ্গে শত্রুতা বা বিদ্বেষ কামনা করতেন না; কিন্তু এ পর্যায়ে অবশ্যই তিনি সুলতান মাহমুদকে অগ্রাধিকার দেবেন, এরপর খলিফা বা অন্য কাউকে। এ বিষয়টিও ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তায় ছিল যে, খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ যেকোনো সুযোগে কোনো একদিন তাকে কষ্ট দিতে পারেন। কারণ, ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে সুলতান মাহমুদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা খলিফা ভালো করেই জানেন।
আব্বাসি খিলাফতের মসনদে তখন সমাসীন খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ। তিনি যদি আব্বাসি খিলাফতের প্রতাপকালীন সময়ে আগমন করতেন, নিঃসন্দেহে প্রভূত মর্যাদা ও কীর্তির অধিকারী হতেন। কিন্তু এমন এক আমলে তিনি খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন, যখন আব্বাসি খিলাফত মুমূর্ষু কাল অতিবাহিত করছে। খিলাফত তখন পুরোপুরি সেলজুক পরিবার নিয়ন্ত্রিত ছিল। অবশ্য মুসতারশিদ বিল্লাহ মাঝেমধ্যেই খিলাফতের অধিকার ও প্রতিপত্তি পুনরুদ্ধারে প্রচেষ্টা চালান। পূর্বেও আমরা উল্লেখ করেছি, ইমাদুদ্দিন মসুলের দায়িত্ব গ্রহণের অল্প কয়েক মাস পূর্বেও তিনি সুলতান মাহমুদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। কিন্তু তখন সুলতান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে তার অপারগতা মেনে নিতে হয়। এ ঘটনা স্পষ্টতই ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে খলিফার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইমাদুদ্দিন জিনকি যদিও কারও সঙ্গে শত্রুতা বা বিদ্বেষ কামনা করতেন না; কিন্তু এ পর্যায়ে অবশ্যই তিনি সুলতান মাহমুদকে অগ্রাধিকার দেবেন, এরপর খলিফা বা অন্য কাউকে। এ বিষয়টিও ইমাদুদ্দিন জিনকির চিন্তায় ছিল যে, খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহ যেকোনো সুযোগে কোনো একদিন তাকে কষ্ট দিতে পারেন। কারণ, ইমাদুদ্দিন জিনকির সঙ্গে সুলতান মাহমুদের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা খলিফা ভালো করেই জানেন।
📄 [তিন] মসুল নগরী
মসুল তখন তরঙ্গায়িত ফিতনায় অস্থির কাল অতিক্রম করছে। রাজ্যটির নিরাপত্তাব্যবস্থা তখন অত্যন্ত নাজুক। বছরখানেক পূর্বেই সেখানে বলতে গেলে বিনা বাধায় অতি সহজে বাতিনি ঘাতকদের হাতে আক সুনকুর আল-বুরসুকির মতো প্রশাসক নিহত হয়েছেন। (৩১২) এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিভিন্ন রকম দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক গতিময়তা ক্রমশ লোপ পাচ্ছিল। সন্ত্রাসী ও দুশ্চরিত্র লোকেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ জনতা চলাফেরা করতে ভয় পেত, শঙ্কিত থাকত সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে। এসব দিক বিবেচনায় ইমাদুদ্দিন জিনকির মসুলে আগমন মোটেও নিরাপদ ছিল না।
টিকাঃ
৩১২. প্রাগুক্ত, ৯/২৩৬।
মসুল তখন তরঙ্গায়িত ফিতনায় অস্থির কাল অতিক্রম করছে। রাজ্যটির নিরাপত্তাব্যবস্থা তখন অত্যন্ত নাজুক। বছরখানেক পূর্বেই সেখানে বলতে গেলে বিনা বাধায় অতি সহজে বাতিনি ঘাতকদের হাতে আক সুনকুর আল-বুরসুকির মতো প্রশাসক নিহত হয়েছেন। (৩১২) এমন চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিভিন্ন রকম দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বাণিজ্যিক গতিময়তা ক্রমশ লোপ পাচ্ছিল। সন্ত্রাসী ও দুশ্চরিত্র লোকেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ জনতা চলাফেরা করতে ভয় পেত, শঙ্কিত থাকত সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে। এসব দিক বিবেচনায় ইমাদুদ্দিন জিনকির মসুলে আগমন মোটেও নিরাপদ ছিল না।
টিকাঃ
৩১২. প্রাগুক্ত, ৯/২৩৬।
📄 [চার] মসুলের জনগণ
একটি নির্দিষ্ট নগরী বা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো তার জনগণ। অথচ এ বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আমরা পূর্বেও বারবার বলেছি, তৎকালীন মসুলের জনগণ ছিল জ্ঞানানুরাগী ও জিহাদপ্রিয়। আর তাই মসুল হতে পারত একটি শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের উৎকৃষ্ট বীজ। অধিকন্তু এই উপযুক্ত জনশক্তির কারণেই ভঙ্গুরপ্রায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও মসুলের ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির শাসনকেন্দ্র ও রাজধানী নগরী হওয়ার যোগ্যতা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ, যেসব বিষয় ইমাদুদ্দিন জিনকির কেন্দ্রীয় চিন্তা ও পরিকল্পনায় ছিল, তার অন্যতম হলো রাজধানী নগরী নির্বাচন। বিষয়টি এ কারণেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এক্ষেত্রে মসুলই একমাত্র প্রার্থী ছিল না; বরং বিভিন্ন কারণে আলেপ্পোও ছিল রাজধানী নগরী হওয়ার অন্যতম প্রার্থী। সামনের পয়েন্টে বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে।
একটি নির্দিষ্ট নগরী বা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো তার জনগণ। অথচ এ বিষয়টি অনেক বিশ্লেষকেরই দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। আমরা পূর্বেও বারবার বলেছি, তৎকালীন মসুলের জনগণ ছিল জ্ঞানানুরাগী ও জিহাদপ্রিয়। আর তাই মসুল হতে পারত একটি শক্তিশালী ও পরিপূর্ণ রাষ্ট্রের উৎকৃষ্ট বীজ। অধিকন্তু এই উপযুক্ত জনশক্তির কারণেই ভঙ্গুরপ্রায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও মসুলের ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকির শাসনকেন্দ্র ও রাজধানী নগরী হওয়ার যোগ্যতা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। কারণ, যেসব বিষয় ইমাদুদ্দিন জিনকির কেন্দ্রীয় চিন্তা ও পরিকল্পনায় ছিল, তার অন্যতম হলো রাজধানী নগরী নির্বাচন। বিষয়টি এ কারণেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এক্ষেত্রে মসুলই একমাত্র প্রার্থী ছিল না; বরং বিভিন্ন কারণে আলেপ্পোও ছিল রাজধানী নগরী হওয়ার অন্যতম প্রার্থী। সামনের পয়েন্টে বিষয়টি সুস্পষ্ট হবে।