📄 তাদের পিতা ছিলেন পুণ্যের আকর!
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুসা আলাইহিস সালাম ও খিজিরের ঘটনায় উল্লেখিত সন্তানের কল্যাণপ্রাপ্তির কারণ হিসেবে তার পিতার পুণ্যবান হওয়াকে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে-
وَ أَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَمَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنْزَهُمَا رَحْمَةً مِنْ رَّبِّكَ
প্রাচীরটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নিচে ছিল তাদের গুপ্তধন আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। সুতরাং আপনার প্রতিপালক চাইলেন তারা প্রাপ্তবয়সে উপনীত হোক এবং নিজেদের গুপ্তধন বের করে নিক। এসব আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহেই ঘটেছে। [সুরা কাহাফ: ৮২]
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এ ঘটনায় এক বিস্ময়কর তত্ত্ব ও সূক্ষ্ম মর্ম নিহিত আছে, যা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। একজন ব্যক্তি দুটি শিশু সন্তান রেখে মারা যান। বাচ্চাদুটির শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রতিপালনের সুযোগ তিনি পাননি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সন্তানদুটির রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং তাদের ললাটে লিখে দেন বিস্তৃত কল্যাণের বার্তা। কারণ, তাদের পিতা ছিলেন পুণ্যবান।
একই মর্ম ধারণ করে পবিত্র কুরআনে অন্য এক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে— (وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعْفًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا)
তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল-অক্ষম সন্তানসন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জীবন শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে। সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল- সঠিক কথা বলে। [সুরা নিসা: ০৯]
আমাদের মহান বীর ইমাদুদ্দিন জিনকি যেন কুরআনে বর্ণিত সেই এতিম সন্তানদ্বয়ের প্রতিচ্ছবি। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি তার পিতাকে হারান। অর্থাৎ তিনি তার শৈশব অতিবাহিত করেন পিতৃহীন অবস্থায়। কিন্তু তার পিতা ছিলেন সৎ ও খোদাভীরু। তিনি সর্বদা সরল-সঠিক কথা বলতেন। আর তাই আল্লাহ তাআলা পিতার সততা ও পুণ্যের ওসিলায় সন্তানের তত্ত্বাবধান করেছেন।
ইসলামি ইতিহাসে এর হাজারো দৃষ্টান্ত আছে। বহু সংস্কারক ও সমাজপ্রবর্তক পিতৃহীন অবস্থায় শৈশব অতিবাহিত করেছেন। শৈশবেই পিতৃবিয়োগ তাদের বরণীয়-মাননীয় ও সমাজ সংস্কারক হওয়ার পথে অন্তরায় হতে পারেনি। হাসান বসরি, শাফিয়ি, আহমাদ বিন হাম্বল, বুখারি, আবদুর রহমান আন-নাসির, সাইফুদ্দিন কুতুজ, উমর মুখতার— এমন উদাহরণ অসংখ্য। এমনকি স্বয়ং আমাদের প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও শৈশবেই পিতাকে হারিয়েছেন এবং পিতৃহীন শৈশব কাটিয়েছেন। এরপর সেই এতিম নবীই পরিণত হয়েছেন সর্বজনস্বীকৃত জগৎসংসারের শ্রেষ্ঠতম মানবে।
তাহলে এখন জানা দরকার, কে সেই মহান পিতা, যার পুণ্য ও সততার কারণে আল্লাহ তাআলা তার ও আমাদের কল্যাণে এই মহান পুত্র ইমাদুদ্দিন জিনকির তত্ত্বাবধান করেছিলেন?!
📄 আলেপ্পোর নতুন দিন
এমন মহান সন্তানের জনক, আল্লাহ তাআলা যার কল্যাণে উম্মাহর এই মহিরুহকে জাতির আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন; তিনি হলেন 'হাজিব আক সুনকুর তুর্কমানি'।
নামেই স্পষ্ট যে, তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন। তিনি ছিলেন তুর্কি শাখাগোত্র 'সাবয়ু' এর সদস্য। সেলজুক শাসকপরিবারের কাছে 'সাবয়ু' শাখাগোত্রের বিশেষ মর্যাদা-অবস্থান ছিল।
হাজিব আক সুনকুর মহান সেলজুক সুলতান মালিকশাহর অন্যতম আস্থাভাজন সঙ্গী ছিলেন। পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মালিকশাহর শাসনাধীন সেলজুক সাম্রাজ্যের সীমা পূর্বে চীন হতে পশ্চিমে এশিয়া মাইনর অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মালিকশাহ ছিলেন সদাচারী ও ন্যায়পরায়ণ। আর তাই কেবল সৎ ও পুণ্যবান লোকেরাই তার আস্থাভাজন হতে পারত। এর প্রমাণ হিসেবে আশা করি এ বিষয়টিই যথেষ্ট যে, তার প্রধান উজির ছিলেন ইসলামি ইতিহাসের অন্যতম মহান উজির নিজামুল মুলক। মালিকশাহর হাজিব আক সুনকুরই ছিলেন ইমাদুদ্দিন জিনকির পিতা। নিঃসন্দেহে এটিও মহান সুলতান মালিকশাহর সততার এক প্রকৃষ্ট প্রমাণ যে, আল্লাহ তাআলা তার প্রশাসন ও একান্ত সঙ্গী হিসেবে সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন।
হাজিব আক সুনকুর সুলতান মালিকশাহর এতটা প্রিয়পাত্র ছিলেন যে, সুলতান তাকে এক বিস্ময়কর উপাধি প্রদান করেন। সুলতান আক সুনকুরকে 'কাসিমুদ্দৌলা' (সাম্রাজ্যের অংশীদার) উপাধি দেন। অর্থাৎ সুলতান মালিকশাহ মনে করতেন, সাম্রাজ্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আক সুনকুরও তার সঙ্গে শরিক আছেন। নিঃসন্দেহে এ উপাধি প্রদান ছিল আক সুনকুরের অনন্যসাধারণ মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ।
সে সময় শাম অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল কঠিন দুর্যোগপূর্ণ। রাজনীতির ভয়ানক সংঘাত শামকে খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলেছিল। বিশেষ করে আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ লাভের লড়াইয়ে এ সময় তিনটি শক্তিশালী পক্ষ বিবাদমান ছিল। এক. আলেপ্পো ও মসুলের তৎকালীন শাসক মুসলিম বিন কুরাইশ আল-উকায়লি। দুই. দামেশকের আমির ও সুলতান মালিকশাহর ভাই তুতুশ বিন আলপ আরসালান। আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, মালিকশাহর ভাই হলেও তুতুশ ছিলেন চূড়ান্ত অসৎ ও দুরাচারী এক শাসক। তুতুশের দুই পুত্র রিজওয়ান ও দাক্কাকও ছিলেন পিতার মতোই দুরাচারী। তিন. রোমান সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলায়মান বিন কুতুলমিশ। সুলায়মান ছিলেন ক্রুসেড ইতিহাসের শুরুর দিকে আলোচিত ১ম কিলিজ আরসালানের পিতা।
ত্রিমুখী সংঘাতের দুঃখজনক পরিণতির শিকার হয়ে সুলায়মান বিন কুতুলমিশের হাতে মুসলিম বিন কুরাইশ নিহত হন। এর ফলে সুলায়মানের জন্য আলেপ্পোর দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু আলেপ্পোবাসী তার হাতে নগরীর শাসনভার তুলে দিতে অসম্মতি জানায় এবং ন্যায়পরায়ণ সুলতান মালিকশাহর কাছে নগরীটির দায়িত্ব গ্রহণের আবেদনবার্তা পাঠায়। মালিকশাহ এতে সম্মত হয়ে তার বাহিনী নিয়ে আলেপ্পো অভিমুখে রওনা হন। কিন্তু এরই মধ্যে সুলায়মান বিন কুতুলমিশ আলেপ্পোর আরেক দাবিদার তুতুশ বিন আলপ আরসালানের হাতে নিহত হন। সুলায়মানকে হত্যা করে তুতুশ আলেপ্পো দখলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মালিকশাহ ও তুতুশ দুই ভাই একই সময় আলেপ্পোতে পৌঁছান। কিন্তু তুতুশ অনুভব করেন যে, তার পক্ষে ভাইয়ের বিশালকায় বাহিনীর মোকাবিলা করার সামর্থ্য নেই। তাই তিনি মালিকশাহর জন্য আলেপ্পোর কর্তৃত্ব ছেড়ে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
আলেপ্পোর নতুন দিন
বিগত দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে আলেপ্পোর পরিস্থিতি ছিল চূড়ান্ত বিপর্যস্ত। আর তাই নগরীটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য সুলতান মালিকশাহ একটি সমাধানই দেখতে পান। তিনি আলেপ্পোর প্রশাসনিক দায়িত্ব প্রদান করেন এমন এক ব্যক্তিকে, যার শক্তি ও দক্ষতা এবং চারিত্রিক কুশলতা ও তাকওয়া-গুণের প্রতি তার পূর্ণ আস্থা আছে। তিনি আর কেউ নন, মালিকশাহর বিশ্বস্ত হাজিব কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর তুর্কমানি। ৪৭৯ হিজরির শাওয়াল মাসে (১০৮৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে) আক সুনকুরের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আলেপ্পোতে সেলজুক শাসনের সূচনা হয়। সুলতান তাকে আলেপ্পোর পাশাপাশি হামা, মানবিজ ও লাতাকিয়াসহ এ অঞ্চলের আরও কিছু নগরীর শাসনক্ষমতা প্রদান করেন।
হাজিব আক সুনকুর তুর্কমানি এমন এক সময়ে আলেপ্পোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যখন এ অঞ্চলের রাজন্যবর্গের অব্যাহত লড়াই-সংঘাতে নগরীটির পরিস্থিতি ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের অস্থির ও গোলযোগপূর্ণ। এ কারণে যারাই আলেপ্পোর শাসনভার গ্রহণ করত, তারা এর অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান বা অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি মোটেও নজর দিত না। ফলে আলেপ্পোর আয়-উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছিল। জনসাধারণের ওপর কঠিন করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির কারণে চোর-ডাকাতের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল এবং শান্তি-নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। এ কারণে বাণিজ্য ও কৃষিখাতসহ সর্বক্ষেত্রেই ব্যাপক ধস নেমেছিল। আর স্বাভাবিকভাবেই এসব বিষয় সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছিল।
সমাজজীবনের প্রতিটি শাখায় এমন ভয়াবহ অবনতি সত্ত্বেও নতুন প্রশাসক আক সুনকুর পূর্ণোদ্যমে তার কাজ শুরু করেন। তিনি রাজ্যের প্রতিটি অঙ্গনের সংস্কার ও পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হন। তার ভাবনাজুড়ে ছিল রাজ্যের প্রতিটি অঙ্গন। এক দিক উপেক্ষা করে অন্য দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে তিনি একই সঙ্গে প্রতিটি অঙ্গনের সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
আক সুনকুর প্রথমেই আলেপ্পো নগরীর বিধ্বস্তপ্রায় নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি আলেপ্পোতে শরয়ি দণ্ডবিধান কার্যকর করেন এবং চোর-ডাকাত, উগ্র ও চরমপন্থীদের বিতাড়িত বা আটক করেন।
যেহেতু এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য এমন শক্তিশালী নিরাপত্তাবাহিনী প্রয়োজন, যা জনসাধারণের ওপর জুলুম-নিপীড়নের পরিবর্তে জননিরাপত্তা ও জন-অধিকার রক্ষায় কাজ করবে, তাই আক সুনকুর একটি জনবান্ধব নিরাপত্তাবাহিনী গড়ে তোলেন।
শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি এর পাশাপাশি একটি যুগান্তকারী নীতি অবলম্বন করেন। তিনি প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে ‘সমষ্টিগত জবাবদিহিতা’র নীতি চালু করেন। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি বা কাফেলা কোথাও আক্রান্ত হলে পুরো গ্রামবাসী তার প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বহন করবে; তার সম্পদ চুরি হলে সকলে মিলে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। তার গৃহীত এ নীতি স্বল্প সময়ে অভিনব ফল বয়ে আনে। শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা সামাজিক ও সমষ্টিগত দায়িত্বে পরিণত হয়। এ নীতির কারণে সমষ্টিগত যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী সন্দেহ করার সুযোগ ছিল না। কারণ, জবাবদিহিতা এখন ব্যক্তিগত নয় বরং সমষ্টিগত দায়িত্ব।
আক সুনকুর তুর্কমানির গৃহীত এ নীতির প্রমাণ-উৎস শরিয়তে রয়েছে। ইসলামি দণ্ডবিধির একটি সুপ্রসিদ্ধ বিধান হলো ‘আকিলা’ নীতি; অর্থাৎ হত্যাকারীর পরিবার, গোত্র বা গ্রামের সকলে মিলে নিহত ব্যক্তির রক্তপণ পরিশোধের নীতি। এ নীতির ফলে রক্তপণ যত অধিকই হোক, তা অধিকারীর হাতে পৌঁছা নিশ্চিত হয়।
এমন অভিনব নীতি প্রণয়ন, যথার্থ প্রয়োগ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সঠিক ব্যবহারের ফলে অল্প কয়েক মাসের মধ্যে আলেপ্পোর প্রতিটি প্রান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। স্বভাবতই বাণিজ্য ও কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব প্রতিফলিত হয় এবং লেনদেনের প্রতিটি অঙ্গনে নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়। ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি লক্ষণীয় মাত্রায় উন্নতি লাভ করে, দ্রব্যমূল্য কমে আসে এবং পর্যাপ্ত উৎপাদন ও জোগান নিশ্চিত হয়। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর তুলনায় আলেপ্পো সামগ্রিকভাবে অনেক এগিয়ে যায়।
এখানে আমরা নিশ্চিতভাবে এ কথা বলতে পারি যে, আক সুনকুর রহ. শরিয়ত-নির্ধারিত দণ্ডবিধি বাস্তবায়নে পূর্ণ সচেষ্ট ছিলেন। অথচ অনেকে মনে করে, চুরির শাস্তি হাত কাটা, হত্যার বদলে হত্যা, বিবাহিত ব্যাভিচারীকে প্রস্তারাঘাত, অবিবাহিত ব্যাভিচারীকে বেত্রাঘাত ও মদপানকারীকে বেত্রাঘাত ইত্যাদি ইসলামি দণ্ডবিধি কার্যকর করা হলে সমাজ বিকৃত ও কুৎসিত হয়ে পড়বে। অনেকে ভেবেছিল, আলেপ্পোতে সন্ত্রাসী-অপরাধীদের সংখ্যা যেহেতু বেশি, তাই সেখানে ইসলামি দণ্ডবিধি কার্যকর করায় সমাজব্যবস্থা বিকৃত হয়ে গেছে! কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং গুটিকয়েক অপরাধীকে নির্ধারিত শাস্তি প্রদান করায় অন্যরা সতর্ক হয়ে গেছে। ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে এমন তথ্য নেই যে, সে সময় অসংখ্য অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল; বরং এ তথ্যই পাওয়া যায় যে, অধিকাংশ অপরাধী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে অন্যায়-অপরাধ ছেড়ে দিয়েছিল। নিঃসন্দেহে পবিত্র কুরআনের এ ঘোষণা সত্য-
﴿وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيُوةٌ يَأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾
হে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্যে জীবন রয়েছে। আশা করা যায়, তোমরা (কিসাসের ভয়ে হত্যাকাণ্ড) পরিহার করবে। [সুরা বাকারা: ১৭৯]
হ্যাঁ, কিসাস বিধান প্রয়োগ, ইসলামি দণ্ডবিধির যথার্থ অনুসরণ ও কুরআন-সুন্নাহর পূর্ণ বাস্তবায়নের ফলেই আলেপ্পোতে ফিরে এসেছিল জীবনের স্পন্দন এবং শান্তি, সম্মান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিশেষ মর্যাদাকর অবস্থান।
এমন অত্যুচ্চ শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আক সুনকুর আলেপ্পোতে এক অতি বিস্ময়কর নির্দেশ প্রচার করেন। তিনি ঘোষণা করেন—কেউ যদি দূরে কোথাও সফর করে আবার ফিরে আসার মনস্থ করে, অনুপস্থিতির সময়ে চুরি হওয়ার আশঙ্কায় তার মালসামানা সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই। সে প্রহরার ব্যবস্থা করা ছাড়াই নিশ্চিন্তে মাল রেখে সফরে চলে যাবে। তার মালের নিরাপত্তার দায়িত্ব আক সুনকুরের! নিঃসন্দেহে এটি ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নিরাপত্তার ঘটনা! মানুষের মুখেমুখে বিষয়টি আলোচিত হতে থাকে।
ইতিহাসগ্রন্থসমূহে এ সংক্রান্ত এক অবাক করা ঘটনা পাওয়া যায়। আক সুনকুর একবার আলেপ্পোর এক গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি দেখতে পেলেন, জনৈক কৃষক সারাদিনের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় চাষাবাদের উপকরণ গুছিয়ে বাহনের পিঠে ওঠাচ্ছে। কৃষি-উপকরণগুলো চামড়া-আচ্ছাদিত ছিল। আক সুনকুর তাকে বললেন, 'আপনি কি কাসিমুদ্দৌলার নির্দেশ শোনেননি? তিনি তো সামানপত্র জায়গা থেকে উঠিয়ে নিতে নিষেধ করেছেন।' কৃষক আক সুনকুরকে চিনত না। সে উত্তর দিল, 'আল্লাহ কাসিমুদ্দৌলাকে রক্ষা করুন। তার শাসনামলে আমরা যথেষ্ট নিরাপদে আছি। আমি চুরি হওয়ার ভয়ে এসব সামানা নিয়ে যাচ্ছি না। আমাদের এদিকে শিয়ালের উপদ্রব খুব বেশি। শিয়াল এসে এগুলোর ওপরের চামড়া খেয়ে ফেলে। এজন্যই আমরা সামানাগুলো রাতে বাড়িতে নিয়ে যাই।'
এরপর আক সুনকুর আলেপ্পোতে ফিরে এসে শিকারিদের নির্দেশ দিলে শিকারিরা খুঁজে খুঁজে চামড়াখেকো এসব প্রাণীকে ধরে ফেললে একসময় প্রাণীগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়।
আক সুনকুরের শাসনামলে আলেপ্পোতে এরূপ অকল্পনীয় জননিরাপত্তাই ছিল!
কেবল নিরাপত্তাবিধানে নয়; স্থাপত্যশিল্পেও আক সুনকুরের এমন অবদান আছে যা প্রমাণ করে যে, তিনি রাজ্যের প্রতিটি বিষয়ে গুরুত্বদানকারী একজন ভারসাম্যপূর্ণ শাসক ছিলেন। তিনি তার শাসনামলে আলেপ্পো মসজিদের মিনার পুনর্নির্মাণ করেন। মিনারটিতে আজও তার নাম খোদাই করা আছে।
কাসিমুদ্দৌলা রহ. সামরিক অঙ্গনেও চূড়ান্ত স্তরের বিন্যাস সাধন করেন। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি তিনি একটি সংরক্ষিত বাহিনীও গঠন করেন। সংরক্ষিত বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল বিশ হাজার। নিয়মিত বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছিল তুর্কমেন বংশোদ্ভূত আর সংরক্ষিত বাহিনীতে ছিল আরব ও তুর্কমেন উভয় ধরনের সৈন্য।
টিকাঃ
১৯৮. ইবনুল আদিম, বুগইয়াতুত-তালাব ফী তারীখি হালাব, ৮/৩৮৪৪।
১৯৯. ইবনুল ইবরি, তারীখু মুখতাসারিদ দুওয়াল, পৃষ্ঠা: ১৮৬।
২০০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ৪।
২০১. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/ ৯১-৯২।
২০২. প্রাগুক্ত, ২/৯৯-১০০।
২০৩. শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব নুওয়াইরি, নিহায়াতুল আরাব ফী ফুনুনিল আদাব, ২৭/৯৩।
২০৪. ইবনে ওয়াসিল, মুফাররিজুল কুরূব, ১/১৮।
২০৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৪৩।
২০৬. মুসতাফা শাকির, দুখুলুত-তুর্ক আল-গায ইলাশ-শাম, পৃষ্ঠা: ৩০৭, ৩১৪-৩১৫।
২০৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ১৫।
২০৮. সিবতু ইবনিল জাওযি, মিরআতয-যামান, ৮/২৪৪।
২০৯. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১০৪।
২১০. প্রাগুক্ত, ২/১০৫।
২১১. প্রাগুক্ত, ২/১০৪।
📄 কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর হত্যাকাণ্ড
আপন কর্মগুণে আক সুনকুর সকল মানুষের আলোচনায় পরিণত হন। তিনি আলেপ্পোবাসীর অগাধ ভালোবাসা লাভ করেন; বরং লাভ করেন পুরো মুসলিম বিশ্বের জনসাধারণের অন্তরে শ্রদ্ধার আসন।
ইবনুল কালানিসি আক সুনকুর সম্পর্কে বলেন, 'তিনি জনসাধারণের সঙ্গে সদাচরণ করেন। পুরো রাজ্যে ছড়িয়ে দেন ন্যায়বিচার। শঙ্কিত পথিকের পথযাত্রা নিরাপদ করেন। সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনেন। জনতার প্রতি সুবিচার করেন। অন্যায়কারীদের খুঁজে খুঁজে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন। অনিষ্টকারীদের ঝেটিয়ে বিদায় করেন। এতে দ্রুত তার সুনাম, সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে; প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা বাড়তে থাকে। ফলে পথিকরা নিশ্চিন্তে সফর করে; সর্বদিক থেকে পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে।'
ইবনুল আছির তার সম্পর্কে বলেন, 'কাসিমুদ্দৌলা ছিলেন প্রজার প্রতি সদাচরণ ও জন-অধিকার রক্ষার বিবেচনায় শ্রেষ্ঠতম রাজন্য। তার রাজ্যে ছিল পণ্যের সহজলভ্যতা, পূর্ণ ন্যায়বিচার ও বিস্তৃত নিরাপত্তা।'
ইবনে কাছির বলেন, 'কাসিমুদ্দৌলা ছিলেন শ্রেষ্ঠতম সদাচারী, নিষ্কলুষ ও সত্যনিষ্ঠ শাসক। তার আমলে জনজীবনে ছিল নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও পণ্যের সুলভ ব্যবস্থা।'
প্রখ্যাত ঐতিহাসিকগণ এভাবেই কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর রহ.-এর জীবনকে তুলে ধরেছেন।
কিন্তু এই বর্ণাঢ্য ও সৌন্দর্যমণ্ডিত জীবনও সকলকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। কিছু লোক তার এ কল্যাণকামিতা পছন্দ করছিল না; রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে তার এ অসামান্য অবদান তাদের সহ্য হচ্ছিল না। তার সততা ও খোদাভীতি তাদের মনে হিংসার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
এ জাতীয় ব্যক্তিদের সর্বশীর্ষে ছিলেন সুলতান মালিকশাহর ভাই তুতুশ বিন আলপ আরসালান। তুতুশ পুরো শাম অঞ্চলে তার আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু আলেপ্পোতে এমন ন্যায়বান শাসকের উপস্থিতি তার লক্ষ্য পূরণ জটিল করে তুলেছিল। কারণ, এ অঞ্চলের জনগণ যেমন আক সুনকুরকে অসম্ভব ভালোবাসে, তেমনই তার প্রতি হৃদ্যতা রাখেন সুলতান মালিকশাহ। তাহলে তুতুশের সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?!
তুতুশ ছিলেন ধূর্ততায় অতি সেয়ানা! তিনি জানতেন সুলতান মালিকশাহ আক সুনকুরকে পছন্দ করেন। সুতরাং তার বিরুদ্ধে সুলতানকে বিক্ষুব্ধ করার কোনো পথ খোলা নেই। তাই তিনি আলেপ্পো বাদে শামের অন্যান্য রাজ্যকে কর্তৃত্বভুক্ত করতে সচেষ্ট হন। এরপর তিনি সুলতান মালিকশাহকে জানান যে, শাম অঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্য উবায়দিদের হুমকির মুখে আছে। তাই উবায়দিদের প্রতিরোধ করার জন্য তার সুলতানের সহায়তা প্রয়োজন। তখন সুলতান মালিকশাহ আক সুনকুরসহ শাম অঞ্চলের সকল প্রশাসককে শিয়া উবায়দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তুতুশকে সহায়তা করতে নির্দেশ দেন।
কাসিমুদ্দৌলা ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন যে, তুতুশের মতলব উবায়দিদের প্রতিরোধ নয়; বরং নিজের একচ্ছত্র ক্ষমতার লালসা বাস্তবায়ন করা। এদিকে তিনি তো সুলতান মালিকশাহর পূর্ণ অনুগত। আবার তুতুশ সুলতান মালিকশাহর সহোদর হওয়ায় সরাসরি তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেও পারছিলেন না। সবদিক বিবেচনা করে তিনি তুতুশকে সহায়তা করেন; তবে কোনোমতে দায়সারাভাবে। এতে তুতুশ তার প্রতি আরও বেশি বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং ভাই মালিকশাহর কাছে বার্তা পাঠিয়ে কাসিমুদ্দৌলার বিরুদ্ধে সেলজুক পরিবারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন।
সুলতান মালিকশাহ যেহেতু কোনো পক্ষকেই বিক্ষুব্ধ করতে চাচ্ছিলেন না, তাই তিনি কোমল পন্থায় পরিস্থিতির সমাধান করার মনস্থ করেন। তিনি পারস্পরিক আলোচনার জন্য আক সুনকুর ও তুতুশসহ শাম অঞ্চলের সকল রাজন্যকে পারস্যে তার বাসভবনে আহ্বান করেন। আলোচনাসভায় তুতুশ সুস্পষ্ট ভাষায় আক সুনকুরের বিরুদ্ধে সেলজুক পরিবারের প্রতি আনুগত্যে অবহেলার অভিযান উত্থাপন করেন। বাধ্য হয়ে আক সুনকুর আত্মপক্ষ সমর্থন করেন এবং তুতুশকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সুলতান মালিকশাহ আক সুনকুরের কথা মেনে নেন এবং তাকে অপসারণে তুতুশের আবেদন নাকচ করে দেন। এরপর তিনি ভাই তুতুশকে আক সুনকুরের পেছনে না লাগার নির্দেশ দেন!
আক সুনকুর আলেপ্পোর দায়িত্ব গ্রহণ করার পাঁচ বছর পর ৪৮৪ হিজরি সনের রমজান মাসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এর পরের বছরই এক বেদনাদায়ক ঘটনা সংঘটিত হয়; ৪৮৫ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে (১০৯২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে) সুলতান মালিকশাহ ইন্তেকাল করেন। মালিকশাহর মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বারকিয়ারুক সুবিশাল সেলজুক সাম্রাজ্যের সুলতান পদে অধিষ্ঠিত হন। যেহেতু তুতুশ এই সর্বোচ্চ পদের প্রতি লালায়িত ছিলেন, তাই তিনি এতে প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হন এবং ভ্রাতুষ্পুত্র বারকিয়ারুকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে জোরপূর্বক সালতানাতের অধিকার অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
তুতুশ জানতেন, তিনি যদি বারকিয়ারুকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন, আক সুনকুর পেছন থেকে তার ওপর হামলে পড়তে পারেন। তাই তিনি এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের মনস্থ করেন। তিনি বারকিয়ারুকের বিরুদ্ধে অভিযানে তাকে সহায়তা করার জন্য আক সুনকুরকে তার বাহিনী নিয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেন। এর ফলে একদিকে যেমন আক সুনকুরের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকা যাবে, অপরদিকে আক সুনকুরের বিরাট সামরিক শক্তিকে বারকিয়ারুকের পতনে কাজে লাগানো যাবে।
কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর কঠিন বিপাকে পড়ে যান। তিনি জানতেন, তুতুশের সামরিক শক্তির তুলনায় তার শক্তি ও সামর্থ্য অনেক কম। তা ছাড়া যত কিছু হোক, তুতুশ প্রয়াত সুলতান মালিকশাহর সহোদর এবং বর্তমান সুলতান বারকিয়ারুকের চাচা। তার আদেশ তিনি অমান্য করেন কীভাবে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি তো প্রয়াত মহান সুলতান মালিকশাহর পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন। তিনি তো সুলতানের অবর্তমানে তার পুত্র বারকিয়ারুকের যথার্থ তত্ত্বাবধান ও কল্যাণ কামনা করেন। অধিকন্তু তিনি তুতুশের উগ্র লালসা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তিনি জানতেন, তুতুশ মুসলমানদের শাসক হওয়ার মতো উপযুক্ত ব্যক্তি নন। অতএব, এখন তিনি কী করবেন?
অনেক ভেবে-চিন্তে আক সুনকুর এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করেন যে, হয়তো একদিন তাকে জীবন দিয়ে এর মূল্য চুকাতে হবে। কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি এ ছাড়া ভিন্ন কোনো সমাধানও দেখছিলেন না।
কাসিমুদ্দৌলা সিদ্ধান্ত নেন, তিনি তার বাহিনী নিয়ে তুতুশের সঙ্গে বের হবেন এবং তাকে বোঝাবেন যে, তিনি তুতুশের পক্ষে যুদ্ধ করবেন। কিন্তু দু-পক্ষ মুখোমুখি হলে তিনি তুতুশকে ছেড়ে বারকিয়ারুকের বাহিনীতে যোগ দেবেন!
নিঃসন্দেহে এটি ছিল অতি বিপজ্জনক এক পরিকল্পনা। যুদ্ধে তুতুশ জয়লাভ করলে আক সুনকুরের সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তার চিন্তাধারা ছিল সুস্পষ্ট। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, চলমান সংঘাতে বারকিয়ারুকই ন্যায়ের পক্ষে আছেন। এর কারণ কেবল এই নয় যে, বারকিয়ারুক এ পদের বৈধ উত্তরাধিকারী; বরং এটিও আক সুনকুরের বিবেচনায় ছিল যে, সততা ও খোদাভীতির গুণে বারকিয়ারুক তুতুশের চেয়ে হাজার গুণ বেশি উপযুক্ত। আর তাই আক সুনকুর তুর্কমানি রহ. নিজের জীবন ও নিরাপত্তা উৎসর্গ করে ন্যায়ের পক্ষে প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নেন।
নিঃসন্দেহে তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মাহর এক দৃষ্টান্ত-বিরল মহান পুরুষ! ৪৮৬ হিজরি সনে তুতুশ ও বারকিয়ারুকের বাহিনী পারস্যের রায় নগরীতে পরস্পর মুখোমুখি হয়। আক সুনকুর তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন এবং তার বাহিনী নিয়ে সটকে পড়ে বারকিয়ারুকের বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হন। এডেসার তৎকালীন মুসলিম আমির বুজানও একই কাজ করেন। তিনিও প্রয়াত সুলতান মালিকশাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন।
আলেপ্পো ও এডেসার বাহিনী সরে যাওয়ায় তুতুশের বাহিনীর শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রায় থেকে পরাজিত হয়ে প্রস্থান করে। তুতুশ বিফল মনোরথে শামে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় আক সুনকুরের প্রতি তার বিদ্বেষ ও ক্ষোভ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
নতুন সুলতান বারকিয়ারুক আক সুনকুরকে আলেপ্পোর প্রশাসক পদে বহাল রাখেন। পাশাপাশি তিনি আক সুনকুরের সহায়তায় অতিরিক্ত সামরিক সাহায্যও প্রেরণ করেন। তিনি তুতুশের পক্ষ থেকে আক সুনকুরের ওপর ত্বরিত প্রতিশোধ-আঘাতের আশঙ্কা করছিলেন। এটি ৪৮৬ হিজরি সনের জিলকদ মাসের ঘটনা।
দ্রুতই এ আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়। তুতুশ বিভিন্ন বাহিনীকে সমবেত করে আলেপ্পো দখলের উদ্দেশে রওনা হন। আক সুনকুর এ সময় বারকিয়ারুকের অনুগত বিভিন্ন রাজন্যের কাছে সাহায্যবার্তা প্রেরণ করেন। কিন্তু তাদের আগমনে দেরি হওয়ায় আক সুনকুর একাই তার বাহিনী নিয়ে তুতুশের মোকাবিলায় বেরিয়ে পড়েন। অসম লড়াই শেষে আক সুনকুর পরাজিত ও বন্দি হন। দুরাচারী তুতুশ তৎক্ষণাৎ তাকে হত্যা করেন।
৪৮৭ হিজরি সনের ৯ জুমাদাল উলা (১০৯৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) শনিবার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা সংঘটিত হয়। এর মধ্য দিয়ে আক সুনকুরের আট বছরের আলেপ্পো শাসনের অবসান ঘটে। সম্মিলিত সাক্ষ্যমতে এই আটটি বছর ছিল আলেপ্পোর ইতিহাসের অন্যতম উন্নত ও সমৃদ্ধ কাল।
এই হলো ইসলামি ইতিহাসের এক মহান পুরুষ কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুরের দাস্তান!
তাহলে কেমন হতে পারে এই মহান ব্যক্তির গৃহে তারই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত ইমাদুদ্দিন জিনকির গল্প!
টিকাঃ
২১২. ইবনুল কালানিসি, যায়লু তারীখি দিমাশক, পৃষ্ঠা: ১৯৬।
২১৩. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৯৫।
২১৪. ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১২/১৪৭।
২১৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৭৭।
২১৬. সুহাইল যাক্কার, মাদখালুন ইলা তারীখিল হুরূবিস-সালিবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ২১৬।
২১৭. ইবনুল আদিম, বুগইয়াতুত-তালাব ফী তারীখি হালাব, ৪/১৯৫৬।
২১৮. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৮৪।
২১৯. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৮৮।
২২০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৮৮-৪৮৯ ও ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১০৯-১১০।
২২১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৮/৪৯৪ ও ইবনে ওয়াসিল, মুফাররিজুল কুরূব, ১/২৭।
📄 আক সুনকুর মুসলমানদের দৃষ্টিতে
আক সুনকুর যখন ইন্তেকাল করেন তখনও তার পুত্র ইমাদুদ্দিনের বয়স দশ পেরোয়নি! নিতান্ত শিশুকালেই তিনি তার পিতাকে হারান। নিশ্চয়ই সমকালীন অনেকেই এই পিতৃহারা শিশুটির নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিল। পিতৃহারা কত শিশুই তো সুষ্ঠু প্রতিপালনের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে! হারিয়ে যাবে আরও কত শিশু! কিন্তু ইমাদুদ্দিন জিনকি কালের গর্ভে হারিয়ে যাননি। বরং মহান আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন, তাকে মর্যাদার অধিকারী করেছেন। আর তাই তিনি যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি এক বিস্তৃত রাজ্যের শাসক; জনহৃদয়ের প্রিয়তম ব্যক্তি।
কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর যদিও তার পুত্রের জন্য অঢেল সম্পদ বা অত্যুচ্চ কোনো পদ রেখে যাননি; কিন্তু তিনি পুত্রের জন্য এমন কিছু অমূল্য সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, যা পদ ও সম্পদের চেয়ে বহুগুণ মূল্যবান।
১. সন্তানের জন্য তিনি রেখে গিয়েছিলেন আল্লাহ পাকের তত্ত্বাবধান ও রক্ষণাবেক্ষণ। নিঃসন্দেহে এ বড় উত্তম মিরাস! কাসিমুদ্দৌলা ছিলেন মুত্তাকি-খোদাভীরু এবং সর্বদা ন্যায় ও সঠিক বক্তব্য প্রদানকারী। ঐতিহাসিক ইবনুল আদিম তার সম্পর্কে বলেন, 'কাসিমুদ্দৌলা ছিলেন অগাধ তাকওয়া ও সুগভীর ঈমানের অধিকারী। পিতার এই তাকওয়াই দুর্বল শিশুপুত্রের সর্বাঙ্গীন হিফাজত করেছে। আল্লাহ তাআলা তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— وَ لْيَخْشَ الَّذِيْنَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعْفًا خَافُوْا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللهَ وَ لْيَقُوْلُوْا قَوْلًا سَدِيْدًا )
তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পশ্চাতে দুর্বল অক্ষম সন্তানসন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের জীবন শঙ্কাগ্রস্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে; সুতরাং তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সরল- সঠিক কথা বলে। [সুরা নিসা: ০৯]
২. পুত্রের জন্য তিনি রেখে গিয়েছিলেন শরিয়ত ও নীতি-নৈতিকতার প্রতি অগাধ ভক্তি ও অনুরাগ এবং শরিয়তের বিধিবিধান ও আদেশ- নিষেধের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাবোধ। শৈশবে ইমাদুদ্দিন জিনকি স্বচক্ষে শরিয়ত বাস্তবায়নের অভাবনীয় বরকত ও কল্যাণ প্রত্যক্ষ করেছেন। তাই জীবনে কখনোই তিনি একে ত্যাগ করেননি।
৩. কাসিমুদ্দৌলা তার পুত্রের জন্য আরও রেখে গিয়েছিলেন ন্যায়বিচারের সুউচ্চ মূল্যমানের উপলব্ধি। আর তাই ইমাদুদ্দিন জিনকির হৃদয় ও মানসে গেঁথে গিয়েছিল ন্যায়-ইনসাফের গুণ। তিনি যেকোনো ধরনের অন্যায় ও জুলুম অপছন্দ করতেন। এ কারণেই পরবর্তী সময়ে ইমাদুদ্দিন জিনকি পিতার মতো মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম ন্যায়বিচারক শাসকে পরিণত হন।
৪. তিনি পুত্রের জন্য রেখে গিয়েছিলেন জনগণের প্রতি স্বভাবসুলভ নমনীয়তার গুণ। তাই তো ইমাদুদ্দিন জিনকি নিজের স্বার্থের ওপর জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিতেন, কেউ তার অধিকার আদায়ে ত্রুটি করলে তাকে ক্ষমা করে এড়িয়ে যেতেন, দুর্বল ও দরিদ্রদের প্রতি দয়া করতেন এবং বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন ছাড়া প্রত্যেকের প্রাপ্য তাকে পৌঁছিয়ে দিতেন।
৫. পুত্রের জন্য আক সুনকুর সম্পদ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন অত্যুচ্চ বিনয় গুণ। আর তাই ইমাদুদ্দিন সুলতানের চাকচিক্য বা মসনদের ক্ষমতায় সামান্য প্রভাবিত না হয়ে সর্বদা আল্লাহর সামনে বিনয়ী ছিলেন। তিনি নিজের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অনুভব করতেন বলে কারও প্রতি উদ্ধত আচরণ করতেন না এবং নিজের বিজয় ও ক্ষমতায় আত্মমুগ্ধ হতেন না।
৬. তিনি পুত্রের জন্য রেখে গিয়েছিলেন প্রশাসনিক যোগ্যতা ও সহজাত নেতৃত্ব-দক্ষতা। এ কারণেই ইমাদুদ্দিন জিনকি জনগণকে তার প্রতি অনুগত বানাতে এবং প্রয়োজনে তাদেরকে আন্দোলিত করতে সক্ষম হন। আর একই কারণে তিনি ছিলেন ঐক্য-চিন্তা ও সকলকে এক পতাকাতলে সমবেত করার প্রতি অনুরাগী।
৭. পুত্রের জন্য তিনি রেখে গিয়েছিলেন জিহাদ-অনুরাগ ও জিহাদের মর্যাদাবোধ। আক সুনকুরের পুরো জীবনই ছিল জিহাদময়। তার রেখে যাওয়া আদর্শে অনুপ্রাণিত পুত্র ইমাদুদ্দিন জিনকির জীবনও ছিল সংগ্রাম ও জিহাদমুখর। আক সুনকুর তার পুত্রকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে সম্পদ ও ক্ষমতার লালসা উপেক্ষা করে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লড়াই করতে হয়। পুত্রকে তিনি শিক্ষা দিয়েছিলেন অশ্বারোহণ, অশ্বচালনা ও যুদ্ধবিদ্যার অভিনব নানা কলাকৌশল। কারণ, কাসিমুদ্দৌলা নিজে ছিলেন সমকালীন শ্রেষ্ঠতম যোদ্ধা ও কুশলী মুজাহিদ।
৮. আক সুনকুর তুর্কমানি তার পুত্রের জন্য রেখে গিয়েছিলেন আলেপ্পোবাসীর হৃদয়ভরা ভালোবাসা। রাজ্যের প্রতিটি মানুষ তাদের এই ন্যায়বান-দয়ালু শাসককে ভালোবাসত। ঐতিহাসিক ইবনুল আছির আক সুনকুরের প্রতি আলেপ্পোবাসীর ভালোবাসার বিবরণ এক আশ্চর্য বাক্যে তুলে ধরেছেন—‘শেষ সময় পর্যন্ত আলেপ্পোবাসী উত্তরাধিকার সূত্রে তার প্রতি হৃদ্যতা ও অনুরাগ পোষণ করে গেছে!’ অর্থাৎ প্রত্যেক পিতা তার সন্তানদের কাসিমুদ্দৌলার প্রতি অনুরাগী ও অনুগত থাকার অসিয়ত করে যেত। এভাবেই চলেছে তার শাসনামলের শেষ পর্যন্ত! মুগ্ধতা ও ভালোবাসা কত গভীর স্তরের হলে এমনটি হতে পারে! নিঃসন্দেহে এ বিষয়টিও ইমাদুদ্দিন জিনকির জীবনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
৯. কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুর তার পুত্রের জন্য আরও রেখে গিয়েছিলেন সেলজুক সাম্রাজ্যের ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী সুলতানদের প্রতি সুস্পষ্ট হৃদ্যতার অনুভূতি। তিনি নিজে প্রথমে মালিকশাহ ও পরে তার পুত্র বারকিয়ারুকের প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ত ও অনুগত ছিলেন। পিতার এই নীতি ইমাদুদ্দিন জিনকির জন্য সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে দিয়েছিল। জীবনে কখনোই তিনি কোনো উপাধি লাভ বা স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেননি; বরং ন্যায়পরায়ণ সুলতানের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে গেছেন এবং শক্তি দেখে ভক্তি বদল না করে সর্বদা এক নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেছেন। এ গুণটি ইমাদুদ্দিন জিনকির জীবনে প্রভূত কল্যাণ নিশ্চিত করেছিল।
১০. আক সুনকুর তার এতিম সন্তানের জন্য সর্বশেষ যে সম্পদটি রেখে গিয়েছিলেন, তা হলো-বিশ্বস্ত-অনুগত একদল বন্ধু ও সুহৃদ, যারা তাকে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসত; যারা তার পদ বা ক্ষমতাকে নয়; ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসত। আক সুনকুরের মৃত্যুর পর তারা তার এতিম পুত্রের তত্ত্বাবধান করে। আক সুনকুরও এমন করেই সুলতান মালিকশাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র বারকিয়ারুকের তত্ত্বাবধান করেছিলেন। কারণ, তিনিও সুলতানকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসতেন। পৃথিবীর বিধিবদ্ধ রীতিমতে সর্বদা এমনটিই ঘটে থাকে; সৎকর্মের প্রতিদান সমজাতীয়ই হয়ে থাকে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ সৎ কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ব্যতীত আর কী হতে পারে? [সুরা আর-রাহমান: ৬০]
এই হলো পূর্ণ দশ!
এই দশটি অমূল্য সম্পদ কাসিমুদ্দৌলা তার শিশুপুত্র ইমাদুদ্দিন জিনকির জন্য রেখে গিয়েছিলেন। মুসলিম সমাজে এমন পিতা কয়জন আছে, যারা কাসিমুদ্দৌলার মতো করে সন্তানের জন্য এমন অমূল্য সম্পদ রেখে যেতে পেরেছে?!
মানুষ সারা জীবন সন্তানের জন্য কাড়ি কাড়ি অর্থসম্পদ রেখে যেতে, প্লট-ফ্লাট ও গাড়ি-বাড়ির বীমা করে যেতে এবং একে-ওকে সন্তানের প্রতি লক্ষ রাখার অসিয়ত করে যেতে চেষ্টা করে। কাসিমুদ্দৌলা রহ. তার পুত্রের জন্য যেমন আদর্শ সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, তেমনটি খুব কম মানুষই করে থাকে। অবশ্য খুব কম সন্তানও তো পরবর্তীকালে একজন ইমামুদ্দিন জিনকি হয়ে ওঠে!
সুতরাং হে বিবেকবান, একটু ভাবুন এবং শিক্ষা গ্রহণ করুন।
***
টিকাঃ
২২২. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-তারীখুল বাহির, পৃষ্ঠা: ১৫।
২২০. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১০৫।