📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 বালাতের যুদ্ধ

📄 বালাতের যুদ্ধ


পূর্বেই আমরা উল্লেখ করেছি যে, আলেপ্পো-প্রশাসনের মূল নিয়ন্ত্রক বদরউদ্দিন লুলুর মৃত্যুর পর রাজ্যটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ায় রাজ্যটির উলামায়ে কেরাম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধিদল মারদিনের আমির ইলগাজি বিন উরতুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজ্যের দায়িত্বভার তার হাতে তুলে দেয়। এ সময় এন্টিয়কের শাসক রজার আলেপ্পোতে সৃষ্ট প্রচণ্ড দুর্বল পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করে নগরীটিকে নিজ রাজ্যভুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। ক্রুসেডারদের যুদ্ধপ্রস্তুতির সংবাদ জানতে পেরে ইলগাজিও তৎপর হয়ে ওঠেন। তিনি আলেপ্পো নগরীর প্রতিরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে সেনাসংগ্রহ শুরু করেন। দামেশকের আমির তুগতেকিন এ সময় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মতি প্রকাশ করায় তিনি তার সঙ্গে মিলে একটি শক্তিশালী জোট গড়তে সক্ষম হন। তুগতেকিনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, মওদুদ রহ.-এর মৃত্যুর পর তিনি হৃদ্যতাবশত ক্রুসেডারদের সঙ্গে মিত্রতা করেননি; বরং পরিস্থিতির নাজুকতায় অসহায় হয়েই এমন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মুসলিম জোটে আরও যোগ দেন শাইজারের আমির সুলতান বিন মুনকিয, যিনি মওদুদের আমলেও বেশ কয়েকটি ক্রুসেডবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
সকলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী বাহিনী গঠন করার পর ইলগাজি এন্টিয়ক অভিমুখে যাত্রা করেন। আরতাহ-এর নিকটবর্তী বিস্তৃত সমতল ভূমিতে মুসলিম বাহিনী অতর্কিতে এন্টিয়কের ক্রুসেডার বাহিনীর ওপর আপতিত হয় এবং তাদেরকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল বিশ হাজার। অপরদিকে এন্টিয়কের বাহিনীতে পদাতিক ও অশ্বারোহী যোদ্ধা মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার সৈন্য ছিল। রজার ইতিমধ্যে বাইতুল মুকাদ্দাসের নতুন শাসক ২য় বল্ডউইনের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করে বার্তা প্রেরণ করেছিলেন। বল্ডউইনও ত্রিপোলির শাসক পন্সকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত আগমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর তাআলার অনুগ্রহে সহায়ক ক্রুসেডার বাহিনী আগমনের পূর্বেই মুসলিম বাহিনী অতর্কিতে তাদের ওপর আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়।
সমতল প্রান্তরটিতে সংঘটিত হয় ক্রুসেড ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ। ইতিহাসে যুদ্ধটি 'বালাতের যুদ্ধ' নামে খ্যাত। ৫১৩ হিজরি সনের ১৬ রবিউল আউয়াল (১১১৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ জুন) সংঘটিত এ যুদ্ধে ক্রুসেডার বাহিনী সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যায়। এন্টিয়ক অধিপতি রজারও নিহত হন। প্রচুর সৈন্য নিহত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে ক্রুসেডাররা ল্যাটিন ভাষায় জায়গাটির নামকরণ করে ager sanguinis (রক্তের প্রান্তর)!
মালাতিয়া • মারদিন
সুমাইসাত মারআশ এডেসা আদরেরা সিনজার আদানা মপসুয়েসাটিয়া তিল-বাশির মসুল হাররান হিরাক্লিয়া ইসকানদারুন আরতাহ এন্টিয়ক সারুজ লাতাকিয়া মাআরিরাতুন • মানবিজ জাবালা নোমান •আলেপ্পো বানিয়াস তারতুস শাইজার ইরকা • হিমস ত্রিপোলি ব্যাবলস • বালাবাকু বৈরুত সিডন সুর আক্কা হাইফা • দামেশক
• তাবারিয়া
মানচিত্র নং-২৫ বালাতের যুদ্ধ
সর্ববিচারেই এটি ছিল এক ঐতিহাসিক ও মহিমান্বিত বিজয়। বালাতের বিজয় চলমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। যেমন :
১. এ যুদ্ধ মুসলমানদের প্রভাব পুনরুদ্ধারে এবং হতাশায় আচ্ছন্নদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। মুসলমানরা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় যে, জাতির ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
২. ক্রুসেডাররা বিরাট মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়ের শিকার হয়, যা পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের তৎপরতায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
৩. এ যুদ্ধের পর আলেপ্পো নিয়মতান্ত্রিকভাবে উরতুকিদের শাসনে চলে যায়, যা বহাল ছিল পরবর্তী পূর্ণ ছয় বছর।
৪. এন্টিয়ক এমন একসময় শাসকহারা হয়ে পড়ে, যখন দায়িত্ব গ্রহণের উপযুক্ত বিকল্প কোনো নেতা বা প্রয়াত শাসক রজারের কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না। অপ্রাপ্তবয়স্ক ২য় বোহেমন্ড তখনও ইতালিতেই ছিল। এ কারণে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের রাজা ২য় বল্ডউইন এন্টিয়কের তত্ত্বাবধান করতে থাকেন এবং এন্টিয়কের গির্জাধ্যক্ষ বার্নার্ড ডি ফালিন্স-এর সহায়তায় নতুন করে রাজ্যটির প্রশাসনিক বিন্যাস শুরু করেন।
৫. ক্রুসেডবিরোধী সমরাঙ্গনে নতুন তারকা হিসেবে আবির্ভূত হন ইলগাজি বিন উরতুক। নতুন আব্বাসি খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর পক্ষ থেকে ইলগাজিকে সম্মানসূচক উপহার প্রেরণ করা হয়। কবি-সাহিত্যিকগণ তার প্রশংসায় কবিতা রচনা করে। অনেক মুসলিম জনসাধারণ তাকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করে। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইলগাজি নতুন করে আরও কয়েকটি যুদ্ধে ক্রুসেডারদের মুখোমুখি হন। কিছু যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হন, পরাজয়ও ভাগ্যে জোটে কিছু যুদ্ধে। অবশ্য এসব যুদ্ধ গুরুত্ব ও প্রভাব বিচারে ঐতিহাসিক বালাতের যুদ্ধের সমস্তরের ছিল না।
মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতের ছয় বছর পর ৫১৩ হিজরি সনে (১১১৯ খ্রিষ্টাব্দে) এসে সার্বিক পরিস্থিতি যে রূপ ধারণ করে, তা আমরা সংক্ষেপে নিম্নোক্ত কয়েকটি পয়েন্টে তুলে ধরতে পারি।
১. বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্য এখন '২য় বল্ডউইন' উপাধিধারী বল্ডউইন ডি বুর্গের শাসনাধীন।
২. এডেসা রাজ্যের শাসক পদে আছেন জোসেলিন।
৩. এন্টিয়ক রাজ্য আপাতত ২য় বল্ডউইনই দেখাশোনা করছেন। ২য় বোহেমন্ড পরিণত বয়সে উপনীত হয়ে ইতালি থেকে আগমন করলে তিনি তার হাতে এন্টিয়কের শাসনভার তুলে দেবেন।
৪. ত্রিপোলি রাজ্যের শাসক পদে বারট্রামের পুত্র পন্স অধিষ্ঠিত আছেন।
৫. মুসলিম রাজ্য আলেপ্পো এখন ইলগাজি বিন উরতুকের কর্তৃত্বাধীন। এ সময় তিনিই ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
৬. দামেশকের শাসনক্ষমতা তুগতেকিনের হাতেই আছে। তিনি নতুন করে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। কেবল এন্টিয়ক রাজ্যের বিরুদ্ধেই নয়; ইতিমধ্যে তিনি দক্ষিণে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধেও লড়াই শুরু করেছেন।
৭. মসুলের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত আছেন বাহ্যত সুলতান মাহমুদের অনুগত জুয়ুশ বেগ। অবশ্য সুলতান মাহমুদের ভাই মাসউদ এ সময় মসুলেই অবস্থান করছিলেন। মাসউদ মসুল নগরীকে সুলতান মাহমুদের কর্তৃত্বাধীন সেলজুক সাম্রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের অধীনে আনার লক্ষ্যে জুয়ুশ বেগের সহায়তায় ভাই মাহমুদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন।
৮. আইনগত ও আনুষ্ঠানিকভাবে সুলতান মাহমুদই ছিলেন সেলজুকদের প্রধান নেতা। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে এ সময় সেলজুক সাম্রাজ্য কার্যত বিভক্ত ছিল।
৯. আব্বাসি খিলাফতের লাগাম এখন খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর হাতে। তিনি সেলজুক সুলতানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এসে খিলাফতের হারানো প্রভাব ও ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তৎপর আছেন।
১০. বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য এখন নতুন সম্রাট ২য় জন কমনিনোসের শাসনাধীন। তিনি তার পিতা প্রয়াত সম্রাট অ্যালেক্সিয়াস কমনিনোসের রাজনৈতিক আদর্শই অনুসরণ করছিলেন। এ কারণেই এ সময় হিলাল-ছালিব সংঘাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যকে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।
এই সংক্ষিপ্ত চিত্র সামনে রেখে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, এ সময় সামগ্রিক চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক ছিল। অবশ্য ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইসলামি ভূখণ্ড মুক্ত করার চেতনা ও সংকল্প তখনও সুস্পষ্টরূপে দৃশ্যমান হয়নি। এর জন্য আমাদের প্রতীক্ষা করতে হবে আরও আটটি বছর! তখন দৃশ্যপটে আবির্ভূত হবেন এক মহান ব্যক্তি, যিনি এই চেতনা ও সংকল্প লালন করে ইসলামি ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনকে আপন জীবনের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করে নেবেন।

টিকাঃ
১০০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৮৫।
১০১. ইবনুল কালানিসি, যায়লু তারীখি দিমাশক, পৃষ্ঠা : ২০০-২০১।
১০২. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৮৮ ও Guillaume de Tyr, 1,pp. 525-526.
১০০ সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/৪০৫।
১৩৪. Stevenson: op. cit., p.104.
১৩৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৯৪, ১৮৬। ইলগাজিকে নিয়ে যেসব কবিতা রচিত হয়েছিল, তার একটি হলো-
قل ما تشاء فقولك المقبول وعليك بعد الخالق التعويل واستبشر القرآن حين نصرته وبكي لفقد رجاله الإنجيل আপনি যা ইচ্ছা বলুন; গৃহীত হবে আপনারই কথা। স্রষ্টার পর আপনিই আমাদের ভরসা।
আপনি যখন কুরআনের সহায়তা করছিলেন, কুরআন তখন পুলকিত হচ্ছিল। ওদিকে ইঞ্জিল তো তার অনুসারীদের বিয়োগ-বেদনায় কাঁদছে!

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 ইলগাজির অক্ষমতা

📄 ইলগাজির অক্ষমতা


এবার জানা যাক, কী ঘটেছিল পরবর্তী আট বছরে অর্থাৎ ৫১৩ হিজরি সন হতে ৫২১ হিজরি সন পর্যন্ত সময়ে?
এ সময় ইলগাজি বিন উরতুক উরতুক পরিবারের জন্য একটি বৃহৎ রাজ্য গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। তিনি সুবিস্তৃত দিয়ারে বকর অঞ্চলের প্রায় পুরোটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। ফলে উত্তরে সিলভান (Silvan) এবং দক্ষিণে মারদিন ও হাসানকেইফসহ দিয়ারে বকর অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নগরী উরতুক রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। দিয়ারে বকর অঞ্চলের বাইরে দক্ষিণের হাররান নগরীতেও তিনি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। আর পুরো আলেপ্পো রাজ্য তো পূর্বেই তার কর্তৃত্বে চলে এসেছিল।
স্বাভাবিকভাবেই এ সুবিশাল রাজ্য ক্রুসেডারদের বিরাট শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা দ্রুত ইলগাজি ও তুগতেকিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এবং বালাতের যুদ্ধে পরাজয়ের দুই মাসেরও কম সময় পর ১১১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ আগস্ট সংঘটিত এক যুদ্ধে ইলগাজি ও তুগতেকিনের সম্মিলিত মুসলিম বাহিনীকে পরাজিত করে। অবশ্য ফলাফলের বিচারে একে চূড়ান্ত ও নিষ্পত্তিমূলক বিজয় বলা যায় না। ইলগাজি এ পরাজয়ে হতোদ্যম না হয়ে নতুন করে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন এবং বিশেষ করে উরতুক রাজ্যের নিকটবর্তী এডেসা অঞ্চলে হামলা চালান। ১১২০ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে তিনি আযায (Azaz) নগরীতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। অবশ্য এ বছরই ইলগাজি নিশ্চিন্তে তার সুবিস্তৃত রাজ্যের পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করতে অনেকটা বাধ্য হয়ে ২য় বল্ডউইনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন।
ইলগাজি যখন সুবিস্তৃত উরতুক রাজ্যের পুনর্গঠনে ব্যস্ত, ইরাক ও মসুলের পরিস্থিতি তখন প্রচণ্ড রকম অশান্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে তিনি আব্বাসি খিলাফত বা সেলজুক সালতানাতের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হয়ে নিশ্চিন্তে নিজের রাজ্য গোছাতে থাকেন। সে বছরই অর্থাৎ ৫১৪ হিজরি সনে (১১২০ খ্রিষ্টাব্দে) সেলজুক সুলতান মাহমুদ ও (মসুলের আমির জুয়ুশ বেগের সমর্থনপুষ্ট) তার ভাই মাসউদের মধ্যে কঠিন সংঘাত ও লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে। সুলতান মাহমুদের বিজয় ও পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণে আসার মধ্য দিয়ে এই বেদনাদায়ক বিরোধের সমাপ্তি ঘটে।
অবশ্য ইরাকবাসীর দুর্যোগ দুই সেলজুক সুলতানের সংঘাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আরব বনু মাজিদ গোত্রের দুবাইস বিন সাদাকা নামক জনৈক শিয়া এ সময় ইরাকে বিদ্রোহের ডাক দেয়। সে তার অনুসারীদের নিয়ে বাগদাদে পৌঁছে খলিফার প্রাসাদ ঘেরাও করে। নিরুপায় খলিফা সুলতান মাহমুদের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করলে তিনি তার বাহিনী নিয়ে রওনা হন। পরিস্থিতি নাজুক বুঝে দুবাইস পালিয়ে ক্রুসেড রাজ্য এডেসা-সংলগ্ন জাযিরা অঞ্চলের উত্তরে আশ্রয় নেয়। অবশ্য এর পূর্বেই সে বাগদাদে ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এরপর দুবাইস তার সামরিক শক্তি ক্রুসেডারদের সেবায় ব্যয় করতে শুরু করে। তার আশা ছিল, এর বিনিময়ে ক্রুসেডাররা তাকে তার নিজস্ব রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে!
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইতিপূর্বে ক্রুসেডার-বিরোধী লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী মসুল চলমান ইসলাম-খ্রিষ্টবাদ সংঘাতের ক্ষেত্র হতে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সন্দেহ নেই, এ কারণে ক্রুসেডাররা অনেকটা স্বস্তিবোধ করছিল। কারণ, মসুল যদি তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ইলগাজির সঙ্গে শরিক হতো, তাহলে নিশ্চিত করেই ক্রুসেডারদের দুর্যোগ বহুগুণে বেড়ে যেত।
এ সময় বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের ক্রুসেড শক্তি বিরাট বিপাকে পড়ে যায়। কারণ, নিজেদের সাম্রাজ্যের পাশাপাশি তখন তাদের এন্টিয়ক রাজ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হচ্ছিল এবং এর ফলে তাদের সামরিক শক্তি বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া তাদের শত্রুও তখন অনেক। এদিকে উরতুক পরিবার, ওদিকে তুগতেকিন, আরও আছে তুগতেকিনের শাসনাধীন সুর নগরী। এ ছাড়াও আছে উবায়দি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আসকালান। অধিকন্তু মিশরের উবায়দি প্রশাসন যদিও তখন অনেকটা নিশ্চুপ ছিল; কিন্তু ফিলিস্তিন অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য তারাও উপযুক্ত সুযোগের প্রতীক্ষায় ওত পেতে ছিল।

টিকাঃ
১৩৬. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯১-১৯২।
১৩৭. Foucher de Chartres, pp. 445-446.
১৩৮. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯১-১৯২ ও Foucher de Chartres, p. 446.
১০৯. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৯১-১৯২।
১৪০. প্রাগুক্ত, ৯/২১৯-২২১।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 ক্রুসেডার মিলিশিয়া বাহিনী

📄 ক্রুসেডার মিলিশিয়া বাহিনী


সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্রুসেডাররা এসব সংকটের মধ্যেই সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও চরম উগ্র সামরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায়। ফলে গড়ে ওঠে নাইট হসপিটালার ও নাইট টেম্পলার নামক দুটি সংগঠন। সংগঠনদুটিকে ক্রুসেডারদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও ভয়ংকর সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নাইট হসপিটালার (Knights Hospitaller) সংগঠনটি মূলত ক্রুসেড অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক বছর পূর্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাইতুল মুকাদ্দাসে আগত দরিদ্র তীর্থযাত্রীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইউরোপীয় কিছু খ্রিষ্টান বণিকের তত্ত্বাবধানে একটি দাতব্যসংস্থা হিসেবে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগঠনটির কার্যালয় ছিল বাইতুল মুকাদ্দাসের কিয়ামা গির্জা (The Church of the Holy Sepulchre)-এর পাশে। ক্রুসেডাররা আল-কুদসে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উনত্রিশ বছর পূর্বে ১০৭০ খ্রিষ্টাব্দ হতে সংগঠনটি কাজ শুরু করে। সংস্থার সদস্য ও কর্মীদের Hospitallers (চিকিৎসা-সেবাকর্মী) বলে অভিহিত করা হতো, যা পরবর্তী সময়ে আরবিতে উচ্চারণ বিকৃত হয়ে ‘আল-ইসবিতারিয়া’ রূপ ধারণ করে।
নাইট হসপিটালার সংস্থার সদস্যগণ সরাসরি রোমের পোপের নির্দেশনা মেনে চলত বলে কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা ভোগ করত। ক্রুসেডারদের আল-কুদস দখলকালে তারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করেছিল। ক্রুসেডাররাও তাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে প্রচুর উপঢৌকন দিয়ে তাদেরকে খুশি রাখত। আল-কুদসসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি পুরো ইউরোপজুড়ে সংস্থাটির প্রচুর দাতা ছিল। ফলে দিনে দিনে সংস্থাটি অঢেল বিত্ত-বৈভব ও ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে যায়।
২য় বল্ডউইন তার শাসনামলের শুরুতেই বিভিন্ন জটিলতা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ায় হসপিটালার সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেন। এর ফলে সংস্থাটির প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেড়ে যায় এবং সংস্থার সদস্যরা প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত সামরিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখতে শুরু করে। অবশ্য কর্মধারা সম্পূর্ণ বদলে গেলেও এরপরও তাদের পুরোনো নাম 'হসপিটালারস' বহাল ছিল।
নাইট হসপিটালারের পাশাপাশি আরেকটি ভয়ংকর সংগঠন গড়ে ওঠে নাইট টেম্পলার (Knights Templar) নামে। নাইট টেম্পলার শুরু থেকেই ছিল আগা-গোড়া সামরিক সংগঠন। হুগো ডি পায়েন্স (Hugue de payens) নামক জনৈক ফরাসি যোদ্ধা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদুল আকসার যে অংশটিকে ইহুদিরা সুলায়মানি মন্দির (Solomon's Temple/ First Temple)-এর স্থান বলে দাবি করে থাকে, হুগো সে জায়গাটিকেই তার সামরিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচিত করেন। এ কারণেই সংস্থাটির সদস্যগণ দাউদের উপাসনালয়ের প্রতি সম্বন্ধিত হয়ে Knights Templar বা উপাসনালয়ের যোদ্ধা নামে পরিচিতি লাভ করে। আরবিতে তাদেরকে দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি সম্বন্ধ করে 'দাওয়িয়া' বলা হতো। প্রতিষ্ঠাতা হুগো শুরুতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে সফর করে বাইতুল মুকাদ্দাসের ধর্মীয়-সামরিক সেবায় জীবন উৎসর্গ করতে আগ্রহী যোদ্ধাপুরুষদের সংগ্রহ করেন। প্রথমদিকে সংগঠনটির কর্মতৎপরতা খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাদানে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছুদিন পরই সংগঠনটি শাম অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
এভাবে একদিকে পুরোপুরি সামরিক সংগঠন নাইট টেম্পলার প্রতিষ্ঠা এবং অপরদিকে সেবাসংস্থা নাইট হসপিটালারের সামরিক সংগঠনে রূপান্তরের কারণে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্য লাভ করে একটি সার্বক্ষণিক সামরিক শক্তি। সংস্থাদুটির ক্ষমতা ও প্রভাব এত বেশি ছিল যে, অনেক সময় তারা খোদ বাইতুল মুকাদ্দাসের রাজা ও গীর্জাধ্যক্ষেরও নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকত। এ তথ্যটিও প্রণিধানযোগ্য যে, বিভিন্ন যুদ্ধে এ সংস্থাদুটি ক্রুসেডার বাহিনীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও হিংস্র ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হতো। তাদের যুদ্ধনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বা অঙ্গীকার রক্ষা বলে কিছু ছিল না। অথচ নামে মনে হবে একটি সংস্থার কাজ ধর্মীয় সেবাদান, আরেকটির কাজ চিকিৎসাসেবা প্রদান!

টিকাঃ
১৪১. Delaville Le Roulx : Les Hospitallers.en Terre Saint et en Chypre, p. 29.
১৪২. KIng: The Kinghts Hospitallers in the Holy land, p. 1 & Runciman: op. cit. II, pp. 163-164.
১৪০. King: The Kinghts Hospitallers in the Holy land, p. 31-32 Guillaume de Tyr, 1, pp. 520-521.

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্রুসেডাররা এসব সংকটের মধ্যেই সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও চরম উগ্র সামরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায়। ফলে গড়ে ওঠে নাইট হসপিটালার ও নাইট টেম্পলার নামক দুটি সংগঠন। সংগঠনদুটিকে ক্রুসেডারদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও ভয়ংকর সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নাইট হসপিটালার (Knights Hospitaller) সংগঠনটি মূলত ক্রুসেড অভিযান শুরু হওয়ার কয়েক বছর পূর্বেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাইতুল মুকাদ্দাসে আগত দরিদ্র তীর্থযাত্রীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইউরোপীয় কিছু খ্রিষ্টান বণিকের তত্ত্বাবধানে একটি দাতব্যসংস্থা হিসেবে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংগঠনটির কার্যালয় ছিল বাইতুল মুকাদ্দাসের কিয়ামা গির্জা (The Church of the Holy Sepulchre)-এর পাশে। ক্রুসেডাররা আল-কুদসে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উনত্রিশ বছর পূর্বে ১০৭০ খ্রিষ্টাব্দ হতে সংগঠনটি কাজ শুরু করে। সংস্থার সদস্য ও কর্মীদের Hospitallers (চিকিৎসা-সেবাকর্মী) বলে অভিহিত করা হতো, যা পরবর্তী সময়ে আরবিতে উচ্চারণ বিকৃত হয়ে ‘আল-ইসবিতারিয়া’ রূপ ধারণ করে।
নাইট হসপিটালার সংস্থার সদস্যগণ সরাসরি রোমের পোপের নির্দেশনা মেনে চলত বলে কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা ভোগ করত। ক্রুসেডারদের আল-কুদস দখলকালে তারা বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করেছিল। ক্রুসেডাররাও তাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে প্রচুর উপঢৌকন দিয়ে তাদেরকে খুশি রাখত। আল-কুদসসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি পুরো ইউরোপজুড়ে সংস্থাটির প্রচুর দাতা ছিল। ফলে দিনে দিনে সংস্থাটি অঢেল বিত্ত-বৈভব ও ভূসম্পত্তির মালিক হয়ে যায়।
২য় বল্ডউইন তার শাসনামলের শুরুতেই বিভিন্ন জটিলতা ও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ায় হসপিটালার সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেন। এর ফলে সংস্থাটির প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেড়ে যায় এবং সংস্থার সদস্যরা প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত সামরিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রাখতে শুরু করে। অবশ্য কর্মধারা সম্পূর্ণ বদলে গেলেও এরপরও তাদের পুরোনো নাম 'হসপিটালারস' বহাল ছিল।
নাইট হসপিটালারের পাশাপাশি আরেকটি ভয়ংকর সংগঠন গড়ে ওঠে নাইট টেম্পলার (Knights Templar) নামে। নাইট টেম্পলার শুরু থেকেই ছিল আগা-গোড়া সামরিক সংগঠন। হুগো ডি পায়েন্স (Hugue de payens) নামক জনৈক ফরাসি যোদ্ধা সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদুল আকসার যে অংশটিকে ইহুদিরা সুলায়মানি মন্দির (Solomon's Temple/ First Temple)-এর স্থান বলে দাবি করে থাকে, হুগো সে জায়গাটিকেই তার সামরিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচিত করেন। এ কারণেই সংস্থাটির সদস্যগণ দাউদের উপাসনালয়ের প্রতি সম্বন্ধিত হয়ে Knights Templar বা উপাসনালয়ের যোদ্ধা নামে পরিচিতি লাভ করে। আরবিতে তাদেরকে দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি সম্বন্ধ করে 'দাওয়িয়া' বলা হতো। প্রতিষ্ঠাতা হুগো শুরুতে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে সফর করে বাইতুল মুকাদ্দাসের ধর্মীয়-সামরিক সেবায় জীবন উৎসর্গ করতে আগ্রহী যোদ্ধাপুরুষদের সংগ্রহ করেন। প্রথমদিকে সংগঠনটির কর্মতৎপরতা খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাদানে সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছুদিন পরই সংগঠনটি শাম অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
এভাবে একদিকে পুরোপুরি সামরিক সংগঠন নাইট টেম্পলার প্রতিষ্ঠা এবং অপরদিকে সেবাসংস্থা নাইট হসপিটালারের সামরিক সংগঠনে রূপান্তরের কারণে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্য লাভ করে একটি সার্বক্ষণিক সামরিক শক্তি। সংস্থাদুটির ক্ষমতা ও প্রভাব এত বেশি ছিল যে, অনেক সময় তারা খোদ বাইতুল মুকাদ্দাসের রাজা ও গীর্জাধ্যক্ষেরও নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকত। এ তথ্যটিও প্রণিধানযোগ্য যে, বিভিন্ন যুদ্ধে এ সংস্থাদুটি ক্রুসেডার বাহিনীর সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও হিংস্র ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হতো। তাদের যুদ্ধনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বা অঙ্গীকার রক্ষা বলে কিছু ছিল না। অথচ নামে মনে হবে একটি সংস্থার কাজ ধর্মীয় সেবাদান, আরেকটির কাজ চিকিৎসাসেবা প্রদান!

টিকাঃ
১৪১. Delaville Le Roulx : Les Hospitallers.en Terre Saint et en Chypre, p. 29.
১৪২. KIng: The Kinghts Hospitallers in the Holy land, p. 1 & Runciman: op. cit. II, pp. 163-164.
১৪০. King: The Kinghts Hospitallers in the Holy land, p. 31-32 Guillaume de Tyr, 1, pp. 520-521.

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 কিছু জটিল ঘটনা ও ইলগাজির মৃত্যু

📄 কিছু জটিল ঘটনা ও ইলগাজির মৃত্যু


আবারও ইলগাজির আলোচনায় ফিরে আসছি। তিনি যদিও তার রাজ্যের পুনর্গঠনে সচেষ্ট ছিলেন; কিন্তু কিছুতেই সন্তোষজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারছিলেন না। অনেক সময় তার সৈন্যরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করত এবং তার বিরোধিতা করত। ৫১৫ হিজরি সনে (১১২১ খ্রিষ্টাব্দে) তার পুত্র পর্যন্ত তার সঙ্গে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দিয়ে আলেপ্পোতে নিজের জন্য স্বতন্ত্র রাজ্যপ্রতিষ্ঠার দাবি করে। এমনকি সে ক্রুসেডারদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যারদানা ও আসারিব দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেয়। উদ্বিগ্ন ইলগাজি দ্রুত আলেপ্পোতে ছুটে এসে ছেলেকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং আলেপ্পোর শাসনভার নিজের হাতে নিয়ে নেন। এরপর তিনি তার বাহিনী নিয়ে রওনা হন যারদানা দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে। সংবাদ পেয়ে এন্টিয়ক রাজ্যের অধীনস্থ দুর্গটির প্রতিরক্ষার জন্য ২য় বল্ডউইন বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে বেরিয়ে আসেন। মুসলিম বাহিনী যারদানা দুর্গের সন্নিকটে ক্রুসেডার বাহিনীর মুখোমুখি হয়। অবশ্য যুদ্ধের পরিবর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে। দুঃখের বিষয় চুক্তিতে ইলগাজি যারদানার অধিকার ছেড়ে দিতে সম্মত হন!
ইলগাজির যুদ্ধ ইতিহাস ও জীবনচরিত দেখলে আশ্চর্য হতে হয় যে, তিনি সব সময়ই ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের সুবিধাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি লড়াই, অবরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মতৎপরতায় ধৈর্য ধরে বেশিক্ষণ অবিচল থাকতে পারতেন না। আমার বিশ্বাস, এর জন্য দায়ী তিনি নন; বরং তার সৈন্যগণ! তার বাহিনী ছিল মওদুদ রহ.-এর বাহিনীর তুলনায় সম্পূর্ণই ভিন্ন প্রকৃতির। মূলত ইলগাজির বাহিনী ছিল বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ভাড়াটে সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত। তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ প্রদানের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে সংগ্রহ করতেন। স্বভাবতই এসব ভাড়াটে যোদ্ধাদের মাঝে আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সময় ও জীবন উৎসর্গ করার মতো মুজাহিদসুলভ অবিচলতা থাকত না। তা ছাড়া ঐতিহাসিক ইবনুল আছিরের ভাষ্যমতে সৈন্যদের প্রদানের মতো পর্যাপ্ত অর্থসম্পদও ইলগাজির হাতে ছিল না। আর তাই ইলগাজি যদিও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিজয় অর্জন করেছিলেন এবং কিছু কিছু বিজয় ছিল সামগ্রিক বিচারে অত্যন্ত মহান ও গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তিনি ও তার বাহিনী প্রকৃত জিহাদের ঝান্ডা উত্তোলন এবং অবিচল থেকে তা বহন করার মতো উপযুক্ত ছিলেন না।
উত্তরাঞ্চলের এই পরিস্থিতির মধ্যেই এমন দুটি ঘটনা ঘটে; যা পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহের পট পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
প্রথম ঘটনা হলো, সেলজুক সুলতান মাহমুদ আক সুনকুর আল-বুরসুকিকে পুনরায় মসুলের প্রশাসক পদে নিযুক্ত করেন। আক সুনকুর ইতিপূর্বে ৫০৭ থেকে ৫০৯ হিজরি সন পর্যন্ত মসুলের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অপসারণের ছয় বছর পর তিনি পুনরায় পূর্বের দায়িত্ব লাভ করেন। আক সুনকুরের নতুন করে দায়িত্ব লাভের পেছনে যে বিষয়টি বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল, তা হলো— মাঝের এই পুরো সময়টি তিনি সুলতান মাহমুদের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করেন। সুলতান মাহমুদ ও তার ভাই মাসউদের পারস্পরিক সংঘাতের সময় তিনি সুলতানের পাশে ছিলেন। বরং দুই ভাইয়ের সমঝোতা ও পরিস্থিতি শান্তকরণেও আক সুনকুরের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। এর মাধ্যমে তিনি সুলতান মাহমুদের অন্তরে বিশেষ অবস্থান লাভ করতে সক্ষম হন। আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, তিনি একজন সৎ ও খোদাভীরু ব্যক্তি ছিলেন। সুতরাং মসুলের প্রশাসক পদে তার পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করেই আগামীর ঘটনাপ্রবাহে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
দ্বিতীয় ঘটনা হলো, ৫১৫ হিজরি সনে (১১২১ খ্রিষ্টাব্দে) জনৈক ইসমাইলি বাতিনি গুপ্তঘাতকের হাতে মিশরের উবায়দি সাম্রাজ্যের প্রধান উজির আফজাল বিন বদর আল-জামালি নিহত হন। পাঠক হয়তো একজন ইসমাইলি শিয়ার হাতে একজন ইসমাইলি শিয়া নেতার হত্যার ঘটনায় আশ্চর্যান্বিত হবেন। বিষয় হলো, আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, ইসমাইলিরা পরস্পর প্রচণ্ড শত্রুভাবাপন্ন দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। উজির আফজাল ছিলেন প্রথম দল অর্থাৎ মুসতালিয়া ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত আর ঘাতক ছিল হাশশাশিন বা বাতিনিয়া নামে পরিচিত দ্বিতীয় দল নিযারিয়া ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। মিশরের ক্ষমতাসীন উবায়দি প্রশাসনের প্রধান ব্যক্তি উজির আফজালকে হত্যার মাধ্যমে বাতিনিরা মূলত মুসতালিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছিল। কারণ, উজিরদের একচ্ছত্র আধিপত্যের সেই যুগে উজির আফজালই ছিলেন উবায়দি প্রশাসনের মূল হর্তাকর্তা; খলিফা 'আমির বি আহকামিল্লাহ' ছিলেন নামেই খলিফা।
আফজাল হত্যাকাণ্ডের কারণে মিশরের উবায়দি প্রশাসনের ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও এর ফলে বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্রুসেড সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল; কিন্তু ভবিষ্যতে সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদ ও সালাহুদ্দিন আইয়ুবির আমলে শাম অঞ্চল একত্রীকরণ প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করেই এ বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

টিকাঃ
১৪১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২০৯ ও ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯৯।
১৪২. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯৯।
১৪৬. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৯৫।
১৪৭. প্রাগুক্ত, ৯/২০৭।
১৪৮, প্রাগুক্ত, ৯/২০৭-২০৮।

আবারও ইলগাজির আলোচনায় ফিরে আসছি। তিনি যদিও তার রাজ্যের পুনর্গঠনে সচেষ্ট ছিলেন; কিন্তু কিছুতেই সন্তোষজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারছিলেন না। অনেক সময় তার সৈন্যরা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করত এবং তার বিরোধিতা করত। ৫১৫ হিজরি সনে (১১২১ খ্রিষ্টাব্দে) তার পুত্র পর্যন্ত তার সঙ্গে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দিয়ে আলেপ্পোতে নিজের জন্য স্বতন্ত্র রাজ্যপ্রতিষ্ঠার দাবি করে। এমনকি সে ক্রুসেডারদের সঙ্গে সন্ধিচুক্তি করে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যারদানা ও আসারিব দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ক্রুসেডারদের হাতে তুলে দেয়। উদ্বিগ্ন ইলগাজি দ্রুত আলেপ্পোতে ছুটে এসে ছেলেকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং আলেপ্পোর শাসনভার নিজের হাতে নিয়ে নেন। এরপর তিনি তার বাহিনী নিয়ে রওনা হন যারদানা দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে। সংবাদ পেয়ে এন্টিয়ক রাজ্যের অধীনস্থ দুর্গটির প্রতিরক্ষার জন্য ২য় বল্ডউইন বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে বেরিয়ে আসেন। মুসলিম বাহিনী যারদানা দুর্গের সন্নিকটে ক্রুসেডার বাহিনীর মুখোমুখি হয়। অবশ্য যুদ্ধের পরিবর্তে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটে। দুঃখের বিষয় চুক্তিতে ইলগাজি যারদানার অধিকার ছেড়ে দিতে সম্মত হন!
ইলগাজির যুদ্ধ ইতিহাস ও জীবনচরিত দেখলে আশ্চর্য হতে হয় যে, তিনি সব সময়ই ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অর্জিত বিজয়ের সুবিধাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি লড়াই, অবরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মতৎপরতায় ধৈর্য ধরে বেশিক্ষণ অবিচল থাকতে পারতেন না। আমার বিশ্বাস, এর জন্য দায়ী তিনি নন; বরং তার সৈন্যগণ! তার বাহিনী ছিল মওদুদ রহ.-এর বাহিনীর তুলনায় সম্পূর্ণই ভিন্ন প্রকৃতির। মূলত ইলগাজির বাহিনী ছিল বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ভাড়াটে সৈন্যদের সমন্বয়ে গঠিত। তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ প্রদানের লোভ দেখিয়ে তাদেরকে সংগ্রহ করতেন। স্বভাবতই এসব ভাড়াটে যোদ্ধাদের মাঝে আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের সময় ও জীবন উৎসর্গ করার মতো মুজাহিদসুলভ অবিচলতা থাকত না। তা ছাড়া ঐতিহাসিক ইবনুল আছিরের ভাষ্যমতে সৈন্যদের প্রদানের মতো পর্যাপ্ত অর্থসম্পদও ইলগাজির হাতে ছিল না। আর তাই ইলগাজি যদিও ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু বিজয় অর্জন করেছিলেন এবং কিছু কিছু বিজয় ছিল সামগ্রিক বিচারে অত্যন্ত মহান ও গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তিনি ও তার বাহিনী প্রকৃত জিহাদের ঝান্ডা উত্তোলন এবং অবিচল থেকে তা বহন করার মতো উপযুক্ত ছিলেন না।
উত্তরাঞ্চলের এই পরিস্থিতির মধ্যেই এমন দুটি ঘটনা ঘটে; যা পরবর্তী সময়ের ঘটনাপ্রবাহের পট পরিবর্তনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
প্রথম ঘটনা হলো, সেলজুক সুলতান মাহমুদ আক সুনকুর আল-বুরসুকিকে পুনরায় মসুলের প্রশাসক পদে নিযুক্ত করেন। আক সুনকুর ইতিপূর্বে ৫০৭ থেকে ৫০৯ হিজরি সন পর্যন্ত মসুলের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অপসারণের ছয় বছর পর তিনি পুনরায় পূর্বের দায়িত্ব লাভ করেন। আক সুনকুরের নতুন করে দায়িত্ব লাভের পেছনে যে বিষয়টি বিশেষভাবে ভূমিকা রেখেছিল, তা হলো— মাঝের এই পুরো সময়টি তিনি সুলতান মাহমুদের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করেন। সুলতান মাহমুদ ও তার ভাই মাসউদের পারস্পরিক সংঘাতের সময় তিনি সুলতানের পাশে ছিলেন। বরং দুই ভাইয়ের সমঝোতা ও পরিস্থিতি শান্তকরণেও আক সুনকুরের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল। এর মাধ্যমে তিনি সুলতান মাহমুদের অন্তরে বিশেষ অবস্থান লাভ করতে সক্ষম হন। আর আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, তিনি একজন সৎ ও খোদাভীরু ব্যক্তি ছিলেন। সুতরাং মসুলের প্রশাসক পদে তার পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করেই আগামীর ঘটনাপ্রবাহে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
দ্বিতীয় ঘটনা হলো, ৫১৫ হিজরি সনে (১১২১ খ্রিষ্টাব্দে) জনৈক ইসমাইলি বাতিনি গুপ্তঘাতকের হাতে মিশরের উবায়দি সাম্রাজ্যের প্রধান উজির আফজাল বিন বদর আল-জামালি নিহত হন। পাঠক হয়তো একজন ইসমাইলি শিয়ার হাতে একজন ইসমাইলি শিয়া নেতার হত্যার ঘটনায় আশ্চর্যান্বিত হবেন। বিষয় হলো, আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, ইসমাইলিরা পরস্পর প্রচণ্ড শত্রুভাবাপন্ন দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। উজির আফজাল ছিলেন প্রথম দল অর্থাৎ মুসতালিয়া ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত আর ঘাতক ছিল হাশশাশিন বা বাতিনিয়া নামে পরিচিত দ্বিতীয় দল নিযারিয়া ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। মিশরের ক্ষমতাসীন উবায়দি প্রশাসনের প্রধান ব্যক্তি উজির আফজালকে হত্যার মাধ্যমে বাতিনিরা মূলত মুসতালিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছিল। কারণ, উজিরদের একচ্ছত্র আধিপত্যের সেই যুগে উজির আফজালই ছিলেন উবায়দি প্রশাসনের মূল হর্তাকর্তা; খলিফা 'আমির বি আহকামিল্লাহ' ছিলেন নামেই খলিফা।
আফজাল হত্যাকাণ্ডের কারণে মিশরের উবায়দি প্রশাসনের ভিত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও এর ফলে বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্রুসেড সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল; কিন্তু ভবিষ্যতে সুলতান নুরুদ্দিন মাহমুদ ও সালাহুদ্দিন আইয়ুবির আমলে শাম অঞ্চল একত্রীকরণ প্রচেষ্টায় নিশ্চিত করেই এ বিষয়টি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

টিকাঃ
১৪১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/২০৯ ও ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯৯।
১৪২. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৯৯।
১৪৬. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৯৫।
১৪৭. প্রাগুক্ত, ৯/২০৭।
১৪৮, প্রাগুক্ত, ৯/২০৭-২০৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00