📄 [তিন] আব্বাসি খলিফা মুসতায়হির বিল্লাহ
আটাশতম আব্বাসি খলিফা মুসতাযহির বিল্লাহ ৪৮৭ হিজরি থেকে ৫১২ হিজরি সন (১০৯৪-১১১৮ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর খলিফা পদে অধিষ্ঠিত হন তার পুত্র মুসতারশিদ বিল্লাহ। নতুন খলিফা পূর্ববর্তী খলিফাদের মতো ছিলেন না। তিনি ছিলেন উচ্চাভিলাষী, উন্নত মনোবল ও কঠোর ব্যক্তিত্বের অধিকারী, নির্ভীক ও সাহসী। তিনি ফকিহ আলিম ছিলেন। হাদিসশাস্ত্রের বিখ্যাত ইমাম ইবনুস সালাহ রহ. শাফিয়ি মাজহাবের শ্রেষ্ঠতম আলিমদের তালিকায় তার নাম উল্লেখ করেছেন। ইবনুস সালাহ-এর ন্যায় একজন বিদগ্ধ শাস্ত্রজ্ঞের এই স্বীকৃতিকে নিঃসন্দেহে খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা যায়। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আমরা লক্ষ করব যে, খলিফা মুসতারশিদ বিল্লাহর খিলাফতকাল ইসলামি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখে যেতে সক্ষম হবে। কারণ বিগত দুই শতাব্দীর অন্যান্য খলিফার ন্যায় তিনি কাগুজে খলিফা হওয়াকে মেনে নেবেন না; বরং খলিফা পদ ও খলিফার মতামত যেন সকলের কাছে ওজনদার বিবেচিত হয়, এমন পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরিতে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবেন। তার এই প্রচেষ্টা নিশ্চিত করেই এ অঞ্চলে বিভিন্ন সংঘাতের জন্ম দেবে, যা চলমান ঘটনাপ্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
টিকাঃ
১২২. প্রাগুক্ত, ৯/১৭৩।
📄 [চার] বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের রাজা ১ম বল্ডউইন
১ম বল্ডউইনকেই বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের মূল প্রতিষ্ঠাতা গণ্য করা হয়। তিনি তার শাসনামলে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যকে যে বিস্তৃত সীমানায় পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন, পরবর্তী দশকের পর দশক তা অক্ষত ছিল। তিনি আসকালান ব্যতীত ফিলিস্তিন অঞ্চলের সকল নগরীর পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন, অধিকার করেছিলেন সুর নগরী বাদে লেবানন অঞ্চলের পুরো দক্ষিণার্ধ। তিনি মিশরের ফারামা অঞ্চল দখল করার পর সেখান থেকে ফেরার পথে ৫১১ হিজরি সনে (১১১৮ খ্রিষ্টাব্দে) আরিশ অঞ্চলে ইহধাম ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর ক্রুসেডারদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে তার চাচাতো ভাই ও এডেসার শাসক বল্ডউইন ডি বুর্গ বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। নিঃসন্দেহে এই মনোনয়ন ছিল বল্ডউইন ডি বুর্গের জন্য অভাবনীয় উন্নতির নিদর্শন। কারণ, আল-কুদস নগরীর অত্যুচ্চ মর্যাদা ও বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্যের বিস্তৃত আয়তনের কারণে বাইতুল মুকাদ্দাসের শাসকই অন্য ক্রুসেড রাজ্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতেন। তা ছাড়া ক্রুসেডারদের প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য রাষ্ট্র ইমারত বা রাজ্য পর্যায়ের হলেও বাইতুল মুকাদ্দাস ছিল একটি পরিপূর্ণ রাষ্ট্র。
এরপর থেকে বল্ডউইন ডি বুর্গ '২য় বল্ডউইন' নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বাইতুল মুকাদ্দাসে চলে আসার সময় তার ফুফাতো ভাই জোসেলিন ডি কার্টেনিকে এডেসা রাজ্যের শাসক নির্বাচিত করেন। যদিও ইতিপূর্বে তিনি জোসেলিনকে তিল-বাশিরের প্রশাসক পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন; কিন্তু ততদিনে উভয়ের মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটেছিল। ২য় বল্ডউইন এক্ষেত্রে এ বিষয়টিও বিবেচনা করেন যে, এডেসাসহ শামের উত্তরাঞ্চল সম্পর্কে জোসেলিনের বেশ ভালো জানা- শোনা আছে।
টিকাঃ
১২০. প্রাগুক্ত, ৯/১৭৮।
১২৪. Guillaume de Tyr, 1, p.. 519 & Runciman: op. cit., II, pp. 143-144.
📄 [পাঁচ] ১ম বল্ডউইনের দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যাডেলেইড
এখানে এ তথ্যটি প্রণিধানযোগ্য যে, ১ম বল্ডউইন যখন অ্যাডেলেইডকে বিয়ে করেন, তখন ক্রুসেডারদের মধ্যে যারা তার বিরুদ্ধাচারী ছিল, তারা এর সমালোচনায় মেতে ওঠে। তারা প্রচার করে যে, বল্ডউইনের প্রথম স্ত্রী আরডাকে পরিত্যাগ করার কার্যকারণ ছিল জাল ও বানোয়াট। সুতরাং অ্যাডেলেইড তার একমাত্র স্ত্রী নন; বরং দ্বিতীয় স্ত্রী। আর খ্রিষ্ট ধর্মমতে একসঙ্গে দুই স্ত্রী গ্রহণ অবৈধ। এ সময় পোপ ২য় পাসকাল বিষয়টির তদন্ত করার জন্য গির্জার প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। তদন্তে এ বিষয়ে বল্ডউইনের প্রতারণা প্রমাণিত হয় এবং দ্বিতীয় বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দীর্ঘ চার বছর বল্ডউইনের সঙ্গে বাস করার পর অ্যাডেলেইড এবার সিসিলিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন! এর ফলে বাইতুল মুকাদ্দাস সাম্রাজ্য ইতালিয়ান নরম্যানদের শক্তি ও অ্যাডেলেইডের সম্পত্তি হাতছাড়া করে ফেলে। এর অল্প কিছুদিন পর অ্যাডেলেইড সিসিলিতেই মারা যান, এদিকে আরিশে মারা যান রাজা ১ম বল্ডউইন।
টিকাঃ
১২৫. Stevenson: op. cit., p. 106.
১২৬. Runciman: op. cit., II, pp. 105-106.
📄 [ছয়] আল-কুদসের গির্জাধ্যক্ষ আরনাল্ফ মালকোরন
পূর্বেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আরনাল্ফ মালকোরন দুশ্চরিত্র হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। ১ম বল্ডউইনের সঙ্গে আঁতাঁত করে তিনি খ্রিষ্টধর্ম বিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেন। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে আরডার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ও অ্যাডেলেইডকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে ১ম বল্ডউইনকে অন্যায় সহায়তার বিষয়টি। আরনাল্ফ মালকোরনের মৃত্যুর পর বাইতুল মুকাদ্দাসের গির্জাধ্যক্ষের দায়িত্ব লাভ করেন জেরমন্ড (Germond)।
টিকাঃ
১২৭. Runciman: op. cit., II, pp. 105-106.
১২৮. Runciman: op. cit., II, pp. 143-144.