📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [আট] এডেসা রাজ্য

📄 [আট] এডেসা রাজ্য


মওদুদের মৃত্যুর পর এবং বিশেষ করে সামরিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে তুলনামূলক অদক্ষ ও অযোগ্য নেতারা বিভিন্ন মুসলিম রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণের পর এডেসা রাজ্য নতুন করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে সক্ষম হয়। এ সুযোগে এডেসা রাজ্য আশেপাশের অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরু করে। এডেসা নৃপতি বল্ডউইন ডি বুর্গ ৫১০ হিজরি সনে (১১১৬ খ্রিষ্টাব্দে) কায়সুম ও রাবান নগরী দখল করে নেন। এরপর ৫১১ হিজরি সনে (১১১৭ খ্রিষ্টাব্দে) তিনি দখল করেন আলবেরা (Birecik) নগরী। সবশেষে একই বছর তিনি পতন ঘটান আলেপ্পোর উত্তরে অবস্থিত অতি গুরুত্বপূর্ণ কোরিস (Coris) দুর্গের। এর মাধ্যমে তিনি সরাসরি আলেপ্পোর ওপর নজর রাখার এবং প্রথম সুযোগেই নগরীটির পতন ঘটানোর সক্ষমতা অর্জন করেন। আলেপ্পো এবার একই সঙ্গে এডেসা ও এন্টিয়ক দুই ক্রুসেড রাজ্যের সম্ভাব্য শিকারে পরিণত হয়।

টিকাঃ
১১৪. Matthieu d' Edesse, pp. 116, 117.
১১৫. Setton: op. cit., 1 p. 405.
১১৬. Cam. Med. Hist. Vol. 5, p. 301.

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [নয়] এন্টিয়ক ও ত্রিপোলি রাজ্য

📄 [নয়] এন্টিয়ক ও ত্রিপোলি রাজ্য


আলোচ্য সময়ে রাজ্যদুটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তবে পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে রাজ্যদুটি এ সময় নিজেদের সমরশক্তি বৃদ্ধি করতে থাকে এবং নতুন নতুন দুর্গ ও নগরপ্রাচীর নির্মাণ করে। পাশাপাশি রাজ্যদুটি প্রত্যাশিত সম্প্রসারণের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের সামরিক জনবল বৃদ্ধিতেও সচেষ্ট হয়। এ সময়ে রজার যেমন এন্টিয়কের শাসক পদে বহাল ছিলেন, পন্সও তেমনই বহাল ছিলেন ত্রিপোলির শাসক পদে।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 [দশ] উত্তরাঞ্চলের আর্মেনীয় জনগোষ্ঠী

📄 [দশ] উত্তরাঞ্চলের আর্মেনীয় জনগোষ্ঠী


মওদুদের মৃত্যুর পর এডেসার শাসক বল্ডউইন ডি বুর্গ নিজেকে অনেকটা নিরাপদ ভাবতে থাকেন। এ সময় তিনি অনুভব করেন যে, এডেসা নগরীর মূল চালিকাশক্তি আর্মেনীয়দের হত্যা ও বিতাড়নের কারণে নগরীটির সামগ্রিক পরিস্থিতি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেহেতু ইতিমধ্যে 'মওদুদ সমস্যা'র সমাধান হয়ে গেছে, তাই তার দৃষ্টিতে আর্মেনীয়দের পুনরায় এডেসায় ফিরিয়ে আনাতে কোনো সমস্যা ছিল না। আর্মেনীয়রাও বল্ডউইনের আহ্বানে দ্বিধাহীন চিত্তে সাড়া দিয়ে নিজেদের বাড়িঘর ও কৃষিক্ষেত্র ফিরে পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগায়। অবশ্য এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মনে ক্রুসেডারদের প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষ সুপ্ত রেখেই তারা এডেসায় ফিরে আসে। এ আশঙ্কাও তাদের মনে ছিল যে, ক্রুসেডাররা ভবিষ্যতেও তাদের ওপর দমননীতি চালাতে পারে; আবারও ফিরে আসতে পারে গণহত্যা ও গণবিতাড়নের মতো বিয়োগান্ত ঘটনা।
এডেসার অধিবাসী আর্মেনীয়রা বাহ্যত ক্রুসেডারদের সঙ্গে সহাবস্থান মেনে নিলেও এডেসার বাইরের আর্মেনীয়দের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তারা ক্রুসেডারদের সঙ্গে সহযোগিতা বিনিময়ের আহ্বান পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে। বরং ৫০৬ হিজরি সনে (১112 খ্রিষ্টাব্দে) মৃত্যুবরণকারী আর্মেনীয় নেতা কোগ বাসিলের বিধবা স্ত্রী ৫০৮ হিজরি সনে (১১১৪ খ্রিষ্টাব্দে) কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়া মসুলের প্রশাসক আক সুনকুরের কাছে তাকে ও তার জনগণকে মসুলের অধীনস্থ করে নেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট ভাষায় আবেদন জানান এবং আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে জিজিয়া কর প্রদানের অঙ্গীকার করেন।
এভাবেই একের পর এক ঘটনা এ বিষয়টি প্রমাণ করে যে, আর্মেনীয় খ্রিষ্টানরা তাদের স্বধর্মীয় ক্রুসেডারদের চেয়ে মুসলমানদের উদারতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি হাজার গুণ বেশি আস্থা রাখত।
সারকথা এই দাঁড়াল যে, মহান মুজাহিদ মওদুদের মৃত্যুপরবর্তী পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন সাধিত হয়, যার সিংহভাগই ছিল ক্রুসেডারদের অবস্থান দৃঢ়করণে সহায়ক। পাশাপাশি মুসলিম রাজ্যগুলোতেও বেশ কিছু রাজনৈতিক রদবদল ঘটে, যার বেশিরভাগই ইতিবাচক ছিল না। একমাত্র ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত করা যায় আলেপ্পোর শাসক রিজওয়ান বিন তুতুশের মৃত্যুকে, যার মাধ্যমে মুসলমানরা এক দাম্ভিক অত্যাচারীর অপশাসন থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে।

টিকাঃ
১১৭. Grousset: Hist. des. Croisades 1, pp. 491.
১১৮. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ২/১৫৩-১৫৪।

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিয়োগ-ঘটনা

📄 গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিয়োগ-ঘটনা


এরপর ৫১১ হিজরি সনের শেষভাগে, ৫১২ হিজরি সনে এবং ৫১৩ হিজরি সনের শুরুতে (১১১৭ ও ১১১৮ খ্রিষ্টাব্দে) হিলাল-ছালিব উভয় শিবিরে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিয়োগ ঘটনা ঘটে, যা উভয় শিবিরের চলমান সংঘাতে মৌলিক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00