📄 [দুই] মসুল রাজ্য
আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, তৎকালীন মসুলের জনগণ ছিল জিহাদ-অনুরাগী এবং ইলম ও আলিমদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা এটাই ছিল যে, মওদুদ রহ.-এর ইন্তেকালের পর কোনো সৎ ও পুণ্যবান ব্যক্তিই মসুলের প্রশাসক পদে অধিষ্ঠিত হবেন এবং শাসক ও জনতার মাঝে সমন্বয় ও সংগতি বজায় থাকবে। যদিও প্রশাসক নির্বাচনের অধিকার মসুলবাসীর ছিল না, ছিল সেলজুক সুলতান মুহাম্মাদের হাতে; কিন্তু এমনটিই সুন্নাতুল্লাহ ও আল্লাহ পাকের শাশ্বত নীতি। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
«كَمَا تَكُوْنُوْنَ يُوَلَّى عَلَيْكُمْ»
তোমরা যেমন প্রকৃতির হবে, তোমাদের দায়িত্ব তেমন প্রকৃতির মানুষকেই প্রদান করা হবে।
মওদুদের পর মসুলের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন এক মহান ও শ্রেষ্ঠতম তুর্কি সেনাপতি আক সুনকুর আল-বুরসুকি। ঐতিহাসিক ইবনুল আছির তার চরিত্র-বিবরণীতে উল্লেখ করেছেন—
তিনি ছিলেন মহানুভব ও পুণ্যবান। আলিম, জ্ঞানসাধক ও সৎ লোকদের ভালোবাসতেন। চিন্তা ও কর্মে ন্যায়-নীতি বজায় রাখতেন। শ্রেষ্ঠতম প্রশাসক ছিলেন। নামাজের প্রতি যত্নবান ছিলেন; নিয়মিত রাত জেগে তাহাজ্জুদ পড়তেন।
আক সুনকুর রহ. যদিও ঈমানি চেতনা ও উন্নত চরিত্রগুণের অধিকারী ছিলেন; কিন্তু তার সামরিক ও রাজনৈতিক দক্ষতা একই মানের ছিল না। রাজনৈতিক দক্ষতার অভাবের কারণেই তিনি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন মুসলিম রাজ্যের সঙ্গে পার্শ্বসংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে মারদিনের আমির ইলগাজি বিন উরতুকের সঙ্গে তার সংঘাত ছিল চলমান পরিস্থিতির বিচারে একেবারেই অর্থহীন। ইলগাজির সঙ্গে বিরোধের কারণেই তিনি উত্তর ইরাক ও দিয়ারে বকর অঞ্চলে বিদ্যমান উরতুক পরিবারের সকল রাজন্যের সমর্থন হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তার কর্মতৎপরতা একমুখী না হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে।
অপরদিকে সামরিক দুর্বলতার কারণেই ৫০৮ হিজরি সনের জিলহজ মাসে (১১১৫ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) এডেসায় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও তিনি উল্লেখযোগ্য বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হন। অধিকন্তু ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভিযান শেষে ফেরার পথে তিনি অভিযানে তাকে সহায়তা না করায় উরতুক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন এবং বিরাট পরাজয়ের শিকার হন। উরতুকিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার পনেরো হাজার সদস্যবিশিষ্ট বাহিনী ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে সুলতান মুহাম্মাদ ৫০৯ হিজরি সনে (১১১৫ খ্রিষ্টাব্দে) তাকে মসুলের প্রশাসক পদ হতে বরখাস্ত করে জুয়ুশ বেগকে তার স্থলাভিষিক্ত করেন।
যে বছর আক সুনকুরকে বরখাস্ত করা হয়, সে বছরই সেলজুক সুলতান মুহাম্মাদ একটি বিরাট বাহিনী গঠন করেন এবং হামাদানের প্রশাসক বুরসুক বিন বুরসুককে বাহিনীটির নেতৃত্ব প্রদান করেন। ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পাশাপাশি বাহিনীটির দায়িত্ব ছিল সুলতান মুহাম্মাদের আনুগত্য প্রত্যাখ্যানকারী বিচ্ছিন্ন মুসলিম রাজ্যগুলোকে বশীভূত করা এবং তুগতেকিনের শাসনাধীন দামেশক রাজ্য ও বদরুদ্দিন লুলুর শাসনাধীন আলেপ্পো রাজ্যের মতো শাম অঞ্চলের যেসব স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য সেলজুক সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত ছিল না, সেগুলোকেও বশীভূত করা। মসুলের নতুন আমির জুয়ুশ বেগও এ অভিযানে প্রধান সেনাপতি বুরসুক বিন বুরসুকের অধীনে অংশগ্রহণ করেন।
বিষাদিত সে অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ আর কী দেবো! কেবল পরিণতির কথাই বলি। অভিযান শেষ হয় এক বিস্ময়কর নির্লজ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে; যার এক পক্ষে ছিল সেলজুক বাহিনী, অপর পক্ষে সম্মিলিত ক্রুসেডার বাহিনীর সঙ্গে দিয়ারে বকর, আলেপ্পো ও দামেশকের মুসলিম বাহিনী!
এসব মুসলিম রাজন্যের দৃষ্টিতে ক্রুসেডারদের চেয়ে সেলজুকরা ছিল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিষ্টকর! তাই তারা সেলজুক মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এন্টিয়কের শাসক রজার ও অন্যান্য ক্রুসেডার নেতাকে মিত্রতার প্রস্তাব প্রদান করে! আর এভাবেই এসব অঞ্চলের মুসলিম বাহিনীগুলো ক্রুসেডারদের নেতৃত্ব মেনে নিয়ে খ্রিষ্টান ক্রুসেডারদের সঙ্গে এক পতাকাতলে সমবেত হয়ে অবতীর্ণ হয় 'মুসলিম শত্রু'-বিরোধী লড়াইয়ে!
নিঃসন্দেহে এটি ছিল চিন্তাগত দীনতা; বরং বলা ভালো দৃষ্টিভঙ্গির শূন্যতা! পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, কোনো বিচারেই এর কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এ ধরনের অযাচিত বিভক্তির বিবরণ শুনে যেকোনো শ্রোতাই বিস্ময়ে হতবাক হবেন; হোক তিনি মুসলিম কিংবা অমুসলিম!
আরও আক্ষেপের বিষয়, এ যুদ্ধ শেষ হয় বুরসুক ও তার নেতৃত্বাধীন সেলজুক বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। মুসলিম-ক্রুসেডার জোট যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে অকল্পনীয় পরিমাণ সম্পদ লাভ করে। অবশ্য সমুদয় সম্পদই ক্রুসেডার নেতা রজার তার বাহিনীর জন্য নিয়ে নেন। রজার যখন এন্টিয়কে ফিরে আসেন, এন্টিয়কবাসীর তখন খুশির সীমা নেই! রজার যে শুধু বিপুল সম্পদরাজিই নিয়ে আসেননি; সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মুসলিম শিবিরের বিভেদ-বিভক্তির সংবাদ!
রণক্ষেত্রের নামের প্রতি সম্বন্ধ করে ইতিহাসে এ যুদ্ধ পরিচিতি লাভ করে ‘দানিসের যুদ্ধ’ নামে।
দানিসের যুদ্ধের পরও জুয়ুশ বেগ মসুলের প্রশাসক পদে বহাল থাকেন। পরবর্তী সময়ে তার পক্ষ থেকে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিশোধমূলক প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়নি।
যে মরণব্যাধি এভাবে জাতিকে ক্ষেত্রবিশেষে আপন ভাইয়ের রক্ত ঝরাতে প্ররোচিত করে, প্ররোচিত করে চরম শত্রুর সঙ্গে হাত মেলাতে, তার ছোবলে এভাবেই ব্যর্থ হয় মসুলবাসীর প্রচেষ্টা।
মওদুদের ইন্তেকালের পর মোটামুটি এই ছিল মসুলের হালচাল।
টিকাঃ
৯২. আবু আবদুল্লাহ আল-কুযায়ি, মুসনাদুশ শিহাব, হাদিস নং ৫৭৭। ইমাম বায়হাকি রহ. একই অর্থবোধক একটি হাদিস ভিন্ন শব্দে রেওয়ায়েত করেছেন। দেখুন: বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, হাদিস নং ৭৩৯১।
১০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫৩।
১৪. প্রাগুক্ত, ৯/২৩৬।
১৫. প্রাগুক্ত, ৯/১৫৩-১৫৪।
৯৬. প্রাগুক্ত ৯/১৬১।
৯৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫৮।
*. দেখুন: আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫৯, উসামা বিন মুনকিয, আল-ই'তিবার, পৃষ্ঠা: ২০ ও Guillaume de Tyr, p. 489.
📄 [তিন] ইমাদুদ্দিন জিনকি
এই সম্ভাবনাময় তরুণ যোদ্ধা বিভিন্ন যুদ্ধে নিজের দ্যুতি ছড়াতে থাকেন। সবাই তার ব্যতিক্রমী সামরিক দক্ষতার কথা জানতে পারে। অধিকন্তু সকলে উপলব্ধি করে যে, তিনি সেলজুক সুলতানদের পূর্ণ অনুগত এবং দ্বিধাহীন চিত্তে তাদের প্রতিটি আদেশ পালন করেন। এ কারণে বিভিন্ন যুদ্ধে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে সংঘটিত যুদ্ধগুলোতে তিনি বিজয়ের কেতন ওড়াতে না পারলেও সকলের মুখেমুখে ছিল ইমাদুদ্দিন জিনকি নামক এক সদ্য উদিত তারকার কীর্তি-আলোচনা।
📄 [চার] দামেশকের আমির তুগতেকিন
আমরা পূর্বেও উল্লেখ করেছি যে, মওদুদ-হত্যাকাণ্ডের পর রিজওয়ান প্রচার করেছিলেন, তুগতেকিনই তাকে হত্যা করেছেন। এই প্রচারণার মাধ্যমে রিজওয়ান প্রথমত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে, দ্বিতীয়ত তুগতেকিনের দিক থেকে আশঙ্কামুক্ত হতে চেয়েছিলেন। রিজওয়ানের অপপ্রচারে আরও অনেকের মতো স্বয়ং সেলজুক সুলতান মুহাম্মাদও প্রভাবিত হয়ে পড়েন। তিনি মওদুদ-হত্যার দায়ভার তুগতেকিনের ওপর চাপান। তা ছাড়া দামেশকের অভ্যন্তরে অবস্থান করা অবস্থায় মওদুদের নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব তুগতেকিনের কাঁধেই বর্তায়। এসব কারণে তুগতেকিন অনুভব করেন যে, তার চারপাশ ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে আসছে এবং সহযোগী মিত্রের সংখ্যা কমে আসছে। এ চিন্তা থেকেই তিনি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এক নিকৃষ্ট অন্যায় করে বসেন। সকলের অনিষ্ট আচরণ থেকে আত্মরক্ষা করতে তিনি এবার হাত মেলান ক্রুসেডারদের সঙ্গে!
দুর্বলতার সময়টুকু পার করার জন্য তিনি যদি বড়োজোর ক্রুসেডারদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করতেন, তাও মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু ক্রুসেডারদের সঙ্গে মৈত্রীচুক্তি করে তাদের সঙ্গে একই পরিখায় অবস্থান করে আপন মুসলিম ভাই সেলজুকদের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হওয়া না ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য, না বিবেকের কাঠগড়ায় ক্ষমাযোগ্য।
অবশ্য অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এ ঘটনা প্রমাণ করে যে, মওদুদ হত্যাকাণ্ডে তুগতেকিন জড়িত ছিলেন না। কারণ, মওদুদের ছত্রছায়া হারিয়ে ফেলার পরপরই তিনি নতুন আশ্রয়ের আশায় ক্রুসেডারদের সঙ্গে মিত্রতা করেছিলেন। এতে এ ধারণাই দৃঢ়তা লাভ করে যে, তিনি নিজেই নিজের মূল অবলম্বনকে হত্যা করতে পারেন না। এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, দামেশকে মওদুদের আগমনের অব্যবহিত পূর্বেই তিনি ক্রুসেডারদের অধিকৃত বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে এবং ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে সুর নগরবাসীকে সহায়তা করে ক্রুসেডারদের উত্তেজিত করেছিলেন।
যাই হোক, তুগতেকিনের এই অন্যায় অবস্থানের কারণে দামেশকের মতো একটি বৃহৎ নগরী চলমান সংঘাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক পাশে সরে পড়ে। অবশ্য এ তথ্যটিও প্রণিধানযোগ্য যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাতিনি শিয়াদের প্রভাব-নিয়ন্ত্রণ থাকায় এমনিতেও দামেশকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কখনোই স্থিতিশীল ছিল না।
টিকাঃ
৯৯. Grousset: Hist. des. Croisades 1, pp. 276-277.
📄 [পাঁচ] আলেপ্পো রাজ্য
৫০৭ হিজরি সনে (১১১৩ খ্রিষ্টাব্দে) দুরাচারী রিজওয়ানের মৃত্যুর পর আলেপ্পো রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করেন তার তরুণ পুত্র আলপ আরসালান। মহান পিতামহ আলপ আরসালানের নামে নাম হলেও তিনি কোনো দিক থেকেই পিতামহের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন না; বরং পিতার মতো তিনিও ছিলেন চরম হঠকারী, অবিবেচক ও ধর্মীয় চেতনাশূন্য। নিজের একচ্ছত্র ক্ষমতা নিশ্চিত করতে শুরুতেই তিনি তার দুই সহোদর মালিকশাহ ও মুবারকশাহকে হত্যা করেন! কিন্তু তিনি ছিলেন ভীরু ও দুর্বল চিত্তের একজন শাসক। দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্রুসেডারদের রোষানল থেকে আত্মরক্ষা করতে তিনি এন্টিয়ক শাসক রজারকে জিজিয়া কর প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অবশ্য তার শাসনামলের শুরুতেই এমন এক ঘটনা ঘটে, যা প্রমাণ করে যে, আলেপ্পোবাসীর মাঝে তখনও সামান্য হলেও কল্যাণ-গুণ অবশিষ্ট আছে। রিজওয়ানের শাসনামলে আলেপ্পোতে বাতিনি গোষ্ঠী অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল। আলপ আরসালানের শাসনামলের শুরুতে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং পালের গোদা আবু তাহির আস-সায়িগকে হত্যা করে। এরপর উত্তেজিত জনতা বাতিনিদের ওপর চড়াও হয়ে তাদের হত্যা ও আটক করতে থাকে। কূলকিনারা না পেয়ে অবশিষ্ট বাতিনিরা দ্রুত আলেপ্পো ছেড়ে পালিয়ে যায়। আগ্রাসী বাতিনি গোষ্ঠী যদিও সন্ত্রাসকর্মে কুখ্যাত ছিল; কিন্তু এই ব্যতিক্রমী জনতার সহসা উত্থান তাদেরকে ভীত করে তোলে। তারা অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করে যে, দীর্ঘ বিশ বছর বাতিনি-শিয়া আদর্শ-প্রভাবিত শাসনব্যবস্থার অধীনে বসবাস করার পরও আলেপ্পোর জনগণের চেতনা ও মর্যাদাবোধ বিলুপ্ত হয়নি, নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআর প্রতি তাদের হৃদ্যতা ও আকর্ষণ। সম্ভবত এ ঘটনা পরবর্তী বছরগুলোতে আলেপ্পোর জনগণের মেজাজ ও প্রকৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। নিশ্চিত করেই এ বিষয়টি ভবিষ্যৎ জিহাদি আন্দোলনের অঙ্গনে ব্যাপক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে।
এ তথ্যটিও প্রণিধানযোগ্য যে, এই আলপ আরসালান বেশিদিন আলেপ্পোর ক্ষমতা ভোগ করতে পারেননি। বরং তার আতাবিক বদরউদ্দিন লুলু তাকে হত্যা করে তার ছোট ভাই ছয় বছরের শিশু সুলতান শাহকে ক্ষমতায় বসান। এর মাধ্যমে কার্যত আলেপ্পোর শাসনক্ষমতা চলে যায় বদরউদ্দিন লুলুর হাতে। কোনো সন্দেহ নেই যে, এর ফলে আলেপ্পোর অবস্থান অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। আগামীর ঘটনাপ্রবাহে এ বিষয়টিও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
টিকাঃ
১০০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫১ ও ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৬৭।
১০১. ইবনুল আদিম, যুবদাতুল হালাব, ২/১৬৮।
১০২. প্রাগুক্ত: ২/১৬৮-১৬৯।