📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 আসমানি ইশারা!

📄 আসমানি ইশারা!


এই আলোচনার পর আশা করি কোনো পাঠকের কাছে এ বিষয়টি অসম্ভব মনে হবে না যে, নেতাদের প্ররোচনায় কীভাবে একজন বাতিনি গুপ্তঘাতক মুসলিম উম্মাহর এক মহৎ পুরুষকে হত্যার লক্ষ্যে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল। হয়তো তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল অনন্ত জান্নাতের কিংবা নিদেনপক্ষে চরম আসক্তির বস্তু এক পেয়ালা হাশিশের! আসমানি ইশারা!
এ বিষয়ে শেষ কথা হলো, এই ঘৃণ্য এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য তো আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ জানে না, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ মহান এক নেতাকে হারায়; যিনি এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝান্ডা বহন করেছিলেন, যখন অন্য সবাই এই মর্যাদার কেতন বহন করতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছিল। নিঃসন্দেহে মওদুদের মৃত্যুপরবর্তী সময় ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় কঠিন সময়। তবে মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতপরবর্তী পরিস্থিতির বিশ্লেষণের পূর্বে আমি বিস্ময়কর দুটি ঘটনার অবতারণা করতে চাচ্ছি। ঘটনাদুটির সংঘটনে কোনো বিস্ময় নেই; বিস্ময় সংঘটনের সময়ে!
প্রথম ঘটনা মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতের মাত্র তিন মাস পূর্বে সিন্নারার যুদ্ধে ইমাদুদ্দিন জিনকি নামক ইসলামি ইতিহাসের এক মহান বীরযোদ্ধার আত্মপ্রকাশ। বড় বিস্ময়কর সময় নির্বাচন! কেন তিনি আরও অনেক পূর্বে আলোচনায় এলেন না? কেন আত্মপ্রকাশ করলেন না মওদুদের মৃত্যুর অনেক দিন পর? এর একমাত্র উত্তর তো এই যে, এমনটিই ছিল তাকদিরের লিখন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্ধারণ। তবে আমরা এর অন্তর্নিহিত রহস্য ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত খুঁজে বের করতে পারি। এই সুনির্দিষ্ট সময়ে তার আত্মপ্রকাশের মাঝে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে—
"মুসলিম জাতি মৃত্যুঞ্জয়ী, চির অমর জাতি। মুসলিম জাতির অস্তিত্ব কখনোই কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার নয়। আমরা একজন নেতা হারালে তৎক্ষণাৎ আরেকজন আত্মপ্রকাশ করবেন; একজন বীরসেনানী শহিদ হলে তার ঝান্ডা বহনে অগ্রসর হবেন আরেকজন। এ ধারা চলবে ততদিন, যতদিন না আল্লাহ তাআলা পৃথিবী ও পৃথিবীর ওপরের সবকিছুর চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহণ করবেন।"
নিঃসন্দেহে রাব্বে কারিমের এই শাশ্বত নীতি মুসলমানদের হৃদয়ে বিজয়ের আশা জিইয়ে রাখে। ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে দেখুন। যেখানেই উম্মাহর আশা-প্রত্যাশার কোনো প্রদীপ নিভে যেতে দেখবেন, সেখানেই দেখবেন নতুন এক প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। অনন্যসাধারণ জাতির এ এক অনন্য বৈশিষ্ট্য!
দ্বিতীয় বিস্ময়কর ঘটনা, মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতের মাত্র তিন মাস পর ৫০৭ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসে (১১১৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) আলেপ্পোর শাসক রিজওয়ানের প্রয়াণ!
রহস্যজনক মওদুদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রিজওয়ানের হাত থাক বা না থাক, একই সময়ে তার প্রস্থান ছিল নিতান্তই আশ্চর্যকর। রিজওয়ানের চারিত্রিক কলুষতা ছিল সর্বজনজ্ঞাত। মওদুদ-হত্যাই তার প্রথম বা একমাত্র অপরাধ ছিল না; এর পূর্বেও তিনি উম্মাহর স্বার্থবিরোধী নানারকম অপকর্ম ঘটিয়েছেন। এই সুনির্দিষ্ট সময়ে তার ইহধাম ত্যাগের মাঝে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে—
"প্রতিটি মানুষের জন্য একটি 'আজাল' বা সুনির্ধারিত সময় আছে। কেউ তা এড়িয়ে যেতে পারে না। আজালের পূর্বেও কেউ মারা যায় না, আজালের পরেও না। মরতে হবে সবাইকে, কেউ থাকতে পারবে না চিরদিন। সচ্চরিত্র-অসচ্চরিত্র, নেককার-বদকার, নিষ্ঠাবান মুমিন-বিশ্বাসঘাতক মুনাফিক সবাইকে ছুঁয়ে যাবে মৃত্যু। শাহাদাতের তামান্নায় সম্মুখ লড়াইয়ে অগ্রসর হওয়া মুজাহিদ যেমন মৃত্যুবরণ করবেন, বেঁচে থাকার আশায় গৃহকোণে আত্মগোপন করা কাপুরুষও তেমনই হীমশীতল মৃত্যুথাবার শিকার হবে।”
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এক শাশ্বত বিধান— প্রতিটি প্রাণীই গ্রহণ করবে মৃত্যু-স্বাদ। তবে নিজের মৃত্যুর পথ মানুষ নিজেই বেছে নেয়! সুতরাং আপনার পথও আপনিই বেছে নিন। পুণ্যবানদের দোয়া সঙ্গে নিয়ে রবের অনুগত বান্দা হিসেবে মাথা উঁচু করে মৃত্যুকে বরণ করে নেবেন, না-কি মুমিনদের অভিশাপ সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর অবাধ্য বান্দা হিসেবে লাঞ্ছনা মাথায় নিয়ে মারা যাবেন, তা নির্বাচনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আপনারই হাতে! আল্লাহর কাছে প্রার্থনা— তিনি আমাদেরকে তাঁর সুন্নাত ও শাশ্বত নীতি অনুধাবন করার তাওফিক দিন।
***

টিকাঃ
*০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫১।
১. সূরা আলে-ইমরান: ১৮৫।

এই আলোচনার পর আশা করি কোনো পাঠকের কাছে এ বিষয়টি অসম্ভব মনে হবে না যে, নেতাদের প্ররোচনায় কীভাবে একজন বাতিনি গুপ্তঘাতক মুসলিম উম্মাহর এক মহৎ পুরুষকে হত্যার লক্ষ্যে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিল। হয়তো তাকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল অনন্ত জান্নাতের কিংবা নিদেনপক্ষে চরম আসক্তির বস্তু এক পেয়ালা হাশিশের! আসমানি ইশারা!
এ বিষয়ে শেষ কথা হলো, এই ঘৃণ্য এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য তো আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ জানে না, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এর মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ মহান এক নেতাকে হারায়; যিনি এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঝান্ডা বহন করেছিলেন, যখন অন্য সবাই এই মর্যাদার কেতন বহন করতে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছিল। নিঃসন্দেহে মওদুদের মৃত্যুপরবর্তী সময় ছিল মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় কঠিন সময়। তবে মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতপরবর্তী পরিস্থিতির বিশ্লেষণের পূর্বে আমি বিস্ময়কর দুটি ঘটনার অবতারণা করতে চাচ্ছি। ঘটনাদুটির সংঘটনে কোনো বিস্ময় নেই; বিস্ময় সংঘটনের সময়ে!
প্রথম ঘটনা মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতের মাত্র তিন মাস পূর্বে সিন্নারার যুদ্ধে ইমাদুদ্দিন জিনকি নামক ইসলামি ইতিহাসের এক মহান বীরযোদ্ধার আত্মপ্রকাশ। বড় বিস্ময়কর সময় নির্বাচন! কেন তিনি আরও অনেক পূর্বে আলোচনায় এলেন না? কেন আত্মপ্রকাশ করলেন না মওদুদের মৃত্যুর অনেক দিন পর? এর একমাত্র উত্তর তো এই যে, এমনটিই ছিল তাকদিরের লিখন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্ধারণ। তবে আমরা এর অন্তর্নিহিত রহস্য ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিত খুঁজে বের করতে পারি। এই সুনির্দিষ্ট সময়ে তার আত্মপ্রকাশের মাঝে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে—
"মুসলিম জাতি মৃত্যুঞ্জয়ী, চির অমর জাতি। মুসলিম জাতির অস্তিত্ব কখনোই কালের গর্ভে বিলীন হওয়ার নয়। আমরা একজন নেতা হারালে তৎক্ষণাৎ আরেকজন আত্মপ্রকাশ করবেন; একজন বীরসেনানী শহিদ হলে তার ঝান্ডা বহনে অগ্রসর হবেন আরেকজন। এ ধারা চলবে ততদিন, যতদিন না আল্লাহ তাআলা পৃথিবী ও পৃথিবীর ওপরের সবকিছুর চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহণ করবেন।"
নিঃসন্দেহে রাব্বে কারিমের এই শাশ্বত নীতি মুসলমানদের হৃদয়ে বিজয়ের আশা জিইয়ে রাখে। ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে দেখুন। যেখানেই উম্মাহর আশা-প্রত্যাশার কোনো প্রদীপ নিভে যেতে দেখবেন, সেখানেই দেখবেন নতুন এক প্রদীপ জ্বলে উঠেছে। অনন্যসাধারণ জাতির এ এক অনন্য বৈশিষ্ট্য!
দ্বিতীয় বিস্ময়কর ঘটনা, মওদুদ রহ.-এর শাহাদাতের মাত্র তিন মাস পর ৫০৭ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসে (১১১৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) আলেপ্পোর শাসক রিজওয়ানের প্রয়াণ!
রহস্যজনক মওদুদ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রিজওয়ানের হাত থাক বা না থাক, একই সময়ে তার প্রস্থান ছিল নিতান্তই আশ্চর্যকর। রিজওয়ানের চারিত্রিক কলুষতা ছিল সর্বজনজ্ঞাত। মওদুদ-হত্যাই তার প্রথম বা একমাত্র অপরাধ ছিল না; এর পূর্বেও তিনি উম্মাহর স্বার্থবিরোধী নানারকম অপকর্ম ঘটিয়েছেন। এই সুনির্দিষ্ট সময়ে তার ইহধাম ত্যাগের মাঝে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে—
"প্রতিটি মানুষের জন্য একটি 'আজাল' বা সুনির্ধারিত সময় আছে। কেউ তা এড়িয়ে যেতে পারে না। আজালের পূর্বেও কেউ মারা যায় না, আজালের পরেও না। মরতে হবে সবাইকে, কেউ থাকতে পারবে না চিরদিন। সচ্চরিত্র-অসচ্চরিত্র, নেককার-বদকার, নিষ্ঠাবান মুমিন-বিশ্বাসঘাতক মুনাফিক সবাইকে ছুঁয়ে যাবে মৃত্যু। শাহাদাতের তামান্নায় সম্মুখ লড়াইয়ে অগ্রসর হওয়া মুজাহিদ যেমন মৃত্যুবরণ করবেন, বেঁচে থাকার আশায় গৃহকোণে আত্মগোপন করা কাপুরুষও তেমনই হীমশীতল মৃত্যুথাবার শিকার হবে।”
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এক শাশ্বত বিধান— প্রতিটি প্রাণীই গ্রহণ করবে মৃত্যু-স্বাদ। তবে নিজের মৃত্যুর পথ মানুষ নিজেই বেছে নেয়! সুতরাং আপনার পথও আপনিই বেছে নিন। পুণ্যবানদের দোয়া সঙ্গে নিয়ে রবের অনুগত বান্দা হিসেবে মাথা উঁচু করে মৃত্যুকে বরণ করে নেবেন, না-কি মুমিনদের অভিশাপ সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর অবাধ্য বান্দা হিসেবে লাঞ্ছনা মাথায় নিয়ে মারা যাবেন, তা নির্বাচনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আপনারই হাতে! আল্লাহর কাছে প্রার্থনা— তিনি আমাদেরকে তাঁর সুন্নাত ও শাশ্বত নীতি অনুধাবন করার তাওফিক দিন।
***

টিকাঃ
*০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/১৫১।
১. সূরা আলে-ইমরান: ১৮৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00