📄 শাম অঞ্চলে মুসলমান ও ক্রুসেডারদের পরিস্থিতি
তবে এ বছর শাম অঞ্চলের পরিস্থিতি মোটেও সুখকর ছিল না; ছিল না এর পরবর্তী বছরগুলোতেও! অবশ্য পূর্বে আমরা শামের যে পরিস্থিতি উল্লেখ করে এসেছি, তাতে এমনটিই ছিল স্বাভাবিক। জ্ঞানচর্চার অনুপস্থিতি, জিহাদি মূল্যবোধের শূন্যতা, জনগণের নেতিবাচক মানসিকতা, শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারী আচরণসহ আরও যেসব ব্যাধি তৎকালীন শাম অঞ্চলে বিদ্যমান ছিল, তাতে এর ব্যতিক্রম কীভাবেই- বা আশা করা যায়?!
এই দুই রছরে শাম অঞ্চলে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা হলো-
১. ক্রুসেডাররা জেনোভার একটি নৌবহরের সহায়তায় লেবাননে ত্রিপোলির উত্তরে অবস্থিত ব্যাবলস নৌবন্দরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তারা সেখানকার জনসাধারণকে নিরাপত্তা অঙ্গীকার প্রদান করলেও নগরীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরই বিশ্বাসঘাতকতা করে। (৬৮৯) ব্যাবলস পতনে সহায়তা করায় ক্রুসেডার সেনাপতি ৪র্থ রেমন্ড জেনোভার নৌবহরকে ব্যাবলস অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশের মালিকানা প্রদান করেন। ফলে পরবর্তী সময়ে জেনোভাবাসী ব্যাবলসে ব্যাপক পরিসরে বসতি স্থাপন করে। (৬৯০) ব্যাবলস নগরী দখলের মধ্য দিয়ে রেমন্ড তার স্বপ্নের ত্রিপোলি রাজ্যের কাঙ্ক্ষিত সীমানার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন। তার পরিকল্পিত ত্রিপোলি রাজ্যের উত্তর সীমানা ছিল তারতুস নগরী, আর দক্ষিণ সীমানা ছিল ব্যাবলস নগরী। ইতিমধ্যে তারতুস ও ব্যাবলস তার দখলে চলে এসেছে; বাকি আছে কেবল প্রধান ও কেন্দ্রীয় নগরী ত্রিপোলির পতন ঘটানো। (৬৯১)
২. এরপর ৪র্থ রেমন্ড ত্রিপোলির সরাসরি সামনে একটি বিরাট দুর্গ নির্মাণ করেন। তিনি দুর্গটির নামকরণ করেন সেন্ট গিল্স (Saint Gilles)। আরবি ইতিহাসগ্রন্থগুলোতে অবশ্য দুর্গটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে 'সানজিল দুর্গ'। রেমন্ড ত্রিপোলির পতন ঘটানোর কাজে ব্যবহারের জন্য দুর্গটি নির্মাণ করেন। দুর্গ নির্মাণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল রেমন্ডের মিত্র বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের একটি নৌবহরের সহায়তায় সাইপ্রাস থেকে আনা হয়। (৬৯২) এ সময় এ অঞ্চলের কোনো মুসলিম নেতাই দুর্গটি ধ্বংস করতে বা নির্মাণকাজে বাধা দিতে অগ্রসর হননি। অথচ ত্রিপোলি ছিল উত্তর-পূর্ব, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে দাক্কাক বিন তুতুশের শাসনাধীন দামেশক ও হিমস রাজ্য দ্বারা বেষ্টিত। ত্রিপোলি থেকে হিমস নব্বই কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত ছিল, দামেশক ছিল একশ বিশ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে।
৩. ৪৯৭ হিজরি সনে (১১০৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে) ঘটে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া এক ঘটনা, পতন ঘটে সুরক্ষিত আক্কা নগরীর। পুরো শাম অঞ্চলের সবচেয়ে দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত এ নগরীর পতন যেন ছিল অবশিষ্ট নগরীগুলোরও পতনের পূর্বাভাস। তা ছাড়া আক্কার পতনের ফলে এ অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য সমুদ্রপথে সাহায্যপ্রাপ্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়। আক্কা নগরীতেও ক্রুসেডাররা প্রথমে জনসাধারণকে নিরাপত্তা প্রদান করলেও পরে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। ইতিপূর্বে ব্যাবলস দখলে সহায়তাকারী জেনোভার নৌবহরটি আক্কা পতনেও ক্রুসেডারদের সহযোগিতা করে। (৬৯৩) বিনিময়ে বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্যের শাসক ১ম বল্ডউইন নৌবহরটিকে প্রদান করেন আক্কার এক- তৃতীয়াংশ। আক্কা নগরী এবার বাইতুল মুকাদ্দাস রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। (৬৯৪)
৪. বোহেমন্ড ইতালি চলে যাওয়ার পর টেনক্রেড এবার তার নথিপত্র গোছাতে শুরু করেন! তিনি তার বাহিনীকে বিন্যস্ত করে ৪৯৮ হিজরি সনে (১১০৫ খ্রিষ্টাব্দের বসন্ত কালে) আলেপ্পো-অধিপতি রিজওয়ান বিন তুতুশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধে টেনক্রেড জয়লাভ করেন এবং আরতাহ দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। যুদ্ধে রিজওয়ান-বাহিনীর তিন হাজার সৈন্য নিহত হয়। (৬৯৫)
৫. ৪৯৮ হিজরি সনেই (১১০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ আগস্ট) মুসলমানরা রামলা অঞ্চলে আরেকটি পরাজয়ের শিকার হয়। ইতিহাসে যুদ্ধটি 'রামলার তৃতীয় যুদ্ধ' নামে খ্যাত। বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগত উবায়দি বাহিনী এ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। (৬৯৬) সম্ভবত এটিই ছিল উবায়দি প্রশাসন কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের সর্বশেষ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। (৬৯৭)
৬. ৪৯৬ হিজরি সনের রমজান মাসে (১১০৩ খ্রিষ্টাব্দে) দাক্কাক বিন তুতুশ ইন্তেকাল করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হন তার আতাবিক (৬৯৮) তুগতেকিন (Toghtekin)। তুগতেকিন ছিলেন দাক্কাকের পিতা তুতুশের একজন ক্রীতদাস। (৬৯৯) তিনি একজন দক্ষ, চৌকস ও অভিজ্ঞ সেনাপতি ছিলেন। তুতুশ নিজ সন্তান দাক্কাকের পরিচর্যার দায়িত্ব তুগতেকিনকে প্রদান করেছিলেন এবং তাকে আতাবিক (রাজপুত্রের শিক্ষক) উপাধি প্রদান করেছিলেন। অবশ্য পরবর্তীকালে সেলজুক সুলতানদের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে আতাবিক উপাধিধারী সেনাপতিগণ চলমান ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করে; এমনকি তাদের অনেকে স্বাধীন শাসক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করে। আমাদের আলোচ্য ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটে; দাক্কাকের মৃত্যুর পর তুগতেকিন হিমস ও দামেশকের শাসক পদে অধিষ্ঠিত হন। (৭০০) এর মধ্য দিয়ে এই দুই নগরীতে সেলজুক শাসনের পুরোপুরি সমাপ্তি ঘটে। অবশ্য তুগতেকিন সার্বিক বিচারে দাক্কাকের চেয়ে বহুগুণে শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি জনগণের সঙ্গে ন্যায়-আচরণ করেন (৭০১) এবং শাসকজীবনে বেশ কয়েকবার ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। তবে তিনি ও তার বাহিনী চূড়ান্ত কোনো বিজয় এনে দিতে পারেননি। তুগতেকিনের শাসনকে তুর্কমেন (Turkmens) শাসনব্যবস্থার সূচনাকাল গণ্য করা হয়। বায়ান্নো বছর ব্যাপ্ত তুর্কমেন শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে ৫৪৯ হিজরি সনে (১ ১৫৪ খ্রিষ্টাব্দে)।
৭. ৪৯৮ হিজরি সনের ২ রবিউস সানি (১১০৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) ইন্তেকাল করেন পারস্য ও ইরাক অঞ্চলের সেলজুক সুলতান বারকিয়ারুক। মৃত্যুর পূর্বেই তিনি তার ভাই সুলতান মুহাম্মাদের সঙ্গে সমঝোতা-চুক্তিতে উপনীত হতে পেরেছিলেন, যার বিবরণ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। মৃত্যুর সময় সুলতান বারকিয়ারুকের বয়স হয়েছিল মাত্র পঁচিশ বছর! (৭০২) এভাবে নানাবিধ জটিলতা ও সবশেষে ভাইয়ের মৃত্যুর ফলে সুলতান মুহাম্মাদের ক্ষমতা সুসংহত হয়। তিনি এবার একই সঙ্গে নিজের ও ভাই বারকিয়ারুকের রাজ্য শাসন করতে থাকেন। এর মাধ্যমে পরবর্তী একটানা বারো বছর এ অঞ্চলে ঐক্য ও অবিচ্ছিন্নতা বজায় থাকে। (৭০৩)
৮. ৪৯৮ হিজরি সনেই (১১০৫ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে) বিদায় নেন চলমান ঘটনাপ্রবাহের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ফরাসি সেনাপতি ৪র্থ রেমন্ড! ত্রিপোলি অবরোধের জন্য তিনি যে দুর্গটি নির্মাণ করেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ত্রিপোলিবাসী অবরোধ মোকাবিলা করার জন্য একপর্যায়ে দুর্গটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন একটি জ্বলন্ত কাঠ রেমন্ডের গায়ে এসে পড়ে এবং এর কারণেই তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। (৭০৪) এভাবেই ক্রুসেডাররা হারায় নিজেদের একজন দুর্বিনীত নেতাকে। রেমন্ড অবশ্য তার অন্যান্য সঙ্গীর ন্যায় জীবদ্দশায় নিজস্ব রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি। (৭০৫) মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করে যান তার খালাতো ভাই উইলিয়াম জর্ডান (William Jordan)-কে। উইলিয়াম পুরোপুরি রেমন্ডের নীতি ও পরিকল্পনা অনুসরণ করে সামনে অগ্রসর হন এবং ত্রিপোলি দখলের লক্ষ্যে অবরোধ অব্যাহত রাখেন। রেমন্ডের ন্যায় তিনিও বাইজান্টাইন সম্রাট অ্যালেক্সিয়াস কমিনোসের সঙ্গে সহযোগিতা বিনিময় অব্যাহত রাখেন। (৭০৬)
৯. সুলতান মুহাম্মাদ মসুলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে বারকিয়ারুকের সঙ্গে মিত্রতার দাবিতে মসুলের আমির জাকারমিশ তাতে বাধ সাধেন। এর ফলে মসুলের নেতৃত্ব নিয়ে চরম সংকট দেখা দেয়। যদিও বারকিয়ারুক ও মুহাম্মাদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুসারে মসুলের কর্তৃত্ব সুলতান মুহাম্মাদেরই প্রাপ্য ছিল; কিন্তু জাকারমিশের যেহেতু স্বাধীন ক্ষমতার প্রতি ঝোঁক ছিল, তাই তিনি নগরীর নিয়ন্ত্রণ সমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। তবে কিছুদিনের মধ্যেই বারকিয়ারুকের মৃত্যুসংবাদ এসে পৌঁছলে জাকারমিশ মসুলের কর্তৃত্ব সুলতান মুহাম্মাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। অবশ্য এই সমর্পণ ছিল নিতান্তই সাময়িক, যেমনটি আমরা আগামী ঘটনাপ্রবাহে জানতে পারব। (৭০৭)
১০. ৪৯৮ হিজরি সনেই (১১০৫ খ্রিষ্টাব্দে) মুসলমানরা হারায় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উজ্জ্বল ভূমিকা পালনকারী এক মহান নেতাকে। তিনি হলেন হাসানকেইফের অধিপতি সুকমান বিন উরতুক। আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, জাকারমিশের সঙ্গে একজোট হয়ে বালিখের যুদ্ধে তিনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে এক মহান বিজয় বাস্তবায়ন করেছিলেন।
তার মৃত্যুর ঘটনাও যথেষ্ট উদ্দীপক ও শিক্ষণীয়। প্রথমে রেমন্ড এবং পরে উইলিয়াম ত্রিপোলি অবরোধ করলে ত্রিপোলির শাসক ইবনে আম্মার সুকমানের কাছে সাহায্যপ্রার্থনা করেন। তখন সুকমান তার বাহিনী নিয়ে ত্রিপোলির সহায়তায় রওনা হন। যদিও ইবনে আম্মার ও তার বাহিনী শিয়া ছিল; কিন্তু সুকমান বিন উরতুক রহ. সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। তিনি দেখেছেন শত্রু এখানে ক্রুসেডার বাহিনী, যারা শিয়া-সুন্নি সকলের শত্রু। আর তাই তিনি ত্রিপোলি থেকে প্রায় ছয়শ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হাসানকেইফ থেকে বীর-বিক্রমে রওনা হন। সুকমান ডিপথেরিয়া-রোগী ছিলেন। ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার হঠাৎ হঠাৎ ডিপথেরিয়ার উপসর্গ দেখা দিত। ত্রিপোলির পথে রওনা হয়ে তিনি যখন (ত্রিপোলি হতে একশ বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত) কারইয়াতাইন (Quaryatayn) অঞ্চলে পৌঁছেন, তখন তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। যেহেতু এ অবস্থায় তার পক্ষে কিছুতেই যুদ্ধ করা সম্ভব নয়, তাই সঙ্গীরা তাকে নিয়ে হাসানকেইফে ফিরে যাওয়ার আবেদন করে। প্রত্যুত্তরে তিনি যা বলেন, তা আজও ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছে—
“না, আমি পথচলা অব্যাহত রাখব। যদি সুস্থ হয়ে উঠি, তাহলে যে সংকল্প করেছি, তা পূর্ণ করব। আমি চাই না যে, আল্লাহ আমাকে মৃত্যুর ভয়ে কাফিরদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে পিছু হটতে দেখবেন। আর যদি আমার 'আজাল' এসে যায়, তাহলে তো আমি জিহাদের সফরে থাকায় শহিদ বিবেচিত হব।”
এরপর সৈন্যরা তাকে নিয়ে ত্রিপোলি অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু এর দুদিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। (৭০৮)
টিকাঃ
৬৮৯. প্রাগুক্ত, ৯/৭২ ও Albert d' Aix, p. 606.
৬৯০. Heyd: op.cit., 1, p.139.
৬৯১. সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/২৯০।
৬৯২. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৯৫।
৬৯৩. প্রাগুক্ত, ৯/৭২ ও Runciman, II, p. 139.
৬৯৪. Guillaman: de tyr, I, p. 445.
৬৯৫. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৮৪-৮৫।
৬৯৬. প্রাগুক্ত, ৯/৮৫ ও Gesta Francorum, p. 541.
৬৯৭. সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/২৪৭।
৬৯৮. 'আতাবিক' একটি তুর্কি শব্দ। তুর্কি 'আতাবিক' শব্দের অর্থ রাজপুত্রের শিক্ষক। সেলজুক সুলতানগণ শুরুতে সুলতান-পুত্রদের শিক্ষাদীক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সম্মানসূচক পদবি হিসেবে 'আতাবিক' উপাধি প্রদান করতেন। পরবর্তী সময়ে সালতানাতের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রশাসক, সেনাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরকেও উক্ত উপাধি প্রদান করা হয়। প্রথম আতাবিক উপাধি লাভ করেন সেলজুক সুলতান মালিকশাহর উজির নিজামুল মুলক তুসি। সেলজুক সুলতানগণ আতাবিক উপাধিধারী অনেককেই বিশাল জায়গির ভূমি প্রদান করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেলজুক সুলতানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে পড়লে আতাবিকদের অনেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করতে শুরু করে। অনেকে আবার সেলজুক সুলতানের প্রতি আনুগত্য অব্যাহত রাখলেও মোটামুটি স্বাধীনতা ভোগ করত। প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতি সম্বন্ধ করে এসব রাষ্ট্র আতাবিক-রাজ্য নামে পরিচিতি লাভ করে। সুবিশাল সেলজুক রাষ্ট্রের ভাঙনের পেছনে আতাবিকদের আলাদা রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠাও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল। [অনুবাদক]
৬৯৯. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৭৪ ও ইবনে কাছির দিমাশকি, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১২/২৪৬। ইবনুল আছির অবশ্য দাক্কাকের মৃত্যুসন উল্লেখ করেছেন ৪৯৭ হিজরি। ইবনুল কালানিসির মতও ইবনুল আছিরের অনুরূপ।
৭০০. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৭৪ ও ইবনুল কালানিসি, যায়লু তারীখি দিমাশক, পৃষ্ঠা: ১৪৮-১৪৯।
৭০১. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৭৪।
৭০২. প্রাগুক্ত, ৯/৭৭।
৭০৩. প্রাগুক্ত, ৯/৭৯-৮০।
৭০৪. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৯৫-৯৬ ও সিবতু ইবনিল জাওযি, মিরআতুয-যামান, পৃষ্ঠা: ৫২৮।
৭০৫. সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/২৯১।
৭০৬. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৯৬ ও Runciman: op. cit., II, p. 62.
৭০৭. আবুল হাসান ইযযুদ্দিন ইবনুল আছির, আল-কামিল ফিত-তারীখ, ৯/৭৯-৮১।
৭০৮. প্রাগুক্ত ৯/৮২-৮৩।