📄 দৃশ্যপটে ক্রুসেড আন্দোলনের প্রস্তুতি
শুরু হলো ইসলামি ভূখণ্ড অভিমুখে ক্রুসেড আগ্রাসনের প্রস্তুতিগ্রহণ!
পোপ ২য় আরবান সিদ্ধান্ত নেন—প্রথমেই তিনি পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তের সকল পাদরিকে সমবেত করতে একটি পাদরিসভা আয়োজন করবেন এবং ক্ষয়িষ্ণুপ্রায় ক্ষমতার অধিকারী গির্জাগুলোর অবস্থা যাচাই করবেন। পাদরিসভা শেষ হওয়ার পর তিনি আয়োজন করবেন একটি বিশাল গণসম্মেলন। সম্মেলনে বিভিন্ন করদরাজ্যের সামন্ত এবং সম্ভব হলে সকল শাসক ও রাজাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে; আমন্ত্রণ জানানো হবে সাধারণ জনগণকেও, যেন সম্মেলনটি অত্যন্ত কার্যকর ও প্রভাববিস্তারকারী মহাসমাবেশে পরিণত হয়। আর সেই সম্মেলন থেকেই তিনি সকলকে ফিলিস্তিন অভিমুখে সামরিক অভিযানে গমনের আহ্বান জানাবেন।
প্রশ্ন রয়ে গেল—কোথায় অনুষ্ঠিত হবে এই বিশাল জনসমাবেশ?
জার্মানির রাজা ৪র্থ হেনরিসহ ইউরোপের অধিকাংশ রাজার সঙ্গে তখন পোপের বিরোধ চলছিল। কিন্তু করদরাজ্যগুলোর সামন্ত ও জমিদারদের সঙ্গে বিশেষ করে ফ্রান্সের সামন্তদের সঙ্গে পোপের চমৎকার ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। পোপ ফ্রান্সের সামন্তদের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সেখানেই মহাসমাবেশ আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন। (১৩৬) ফ্রান্সকে বেছে নেওয়ার পেছনে আরও কিছু কারণ ছিল। তখন ফ্রান্স ছিল অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। শেষ দশ বছরে ফ্রান্সের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যা সেখানকার অর্থনীতিতে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা এটাই ছিল যে, এই চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশা হতে নিষ্কৃতি পেতে ইসলামি প্রাচ্যে যুদ্ধাভিযানে গমনের চিন্তা ফ্রান্সবাসীর মাঝেই সবচেয়ে সাদরে গৃহীত হবে। (১৩৭)
প্রয়োগ ইংল্যান্ড পোমেরানিয়া পোল্যান্ড নরম্যান জার্মানি ফ্রান্স হাঙ্গেরি ক্রোয়েশিয়া ইতালি ক্যাস্টোলা রাজ্য নাফার রাজ্য অ্যারাগোন কেরমন্ট বার্সেলোনা রাজ্য মুরাবিতি রাষ্ট্র রাজ্য রোম ভূমধ্যসাগর সিলিলি
মানচিত্র নং-৯ ক্রুসেড যুদ্ধের প্রচারণা
সবদিক বিবেচনা করে পোপ ২য় আরবান ফ্রান্সের ক্লেরমন্ট (১৩৮) নগরীতে জনসমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ নভেম্বর (৪৮৮ হিজরি সনের ২৭ জিলকদ)। ফ্রান্সের প্রতিটি প্রান্তে যেন সমাবেশের প্রচারণা চালানো যায় এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ যেন সমাবেশে উপস্থিত হতে পারে, এ চিন্তা করে পোপ তুলনামূলক বিলম্ব করাকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ফ্রান্সের রাজা ১ম ফিলিপের (Philip I) সঙ্গে যেন কোনো প্রকার সংঘাত সৃষ্টি না হয়, এ উদ্দেশ্যে তিনি সম্মেলনস্থল হিসেবে প্যারিসের চিন্তা বাদ দিয়েছিলেন। রাজা ফিলিপ একদিকে যেমন পোপের বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, অপরদিকে পোপ তার মিশন বাস্তবায়নে যাদের ওপর নির্ভর করছিলেন, সেই সামন্তদেরও ফিলিপের সঙ্গে বিরোধ ছিল।
২৭ নভেম্বর, ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দ। ক্লেরমন্ট সম্মেলনের (Council of Clermont) নির্ধারিত দিন। প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও পোপের আহ্বানে নির্দিষ্ট সময়ে সকলে সমবেত হয়েছে। সম্মেলনের জন্য ক্লেরমন্টের একটি বিস্তৃত ময়দান প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া ময়দানটিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বরং পোপের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য শোনার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগতদের ভিড়ে ক্লেরমন্টের আশেপাশের জনপদগুলোও জনারণ্যে পরিণত হয়েছিল।
উপস্থিত জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে পোপ বেশ দীর্ঘ ও আবেদনময়ী ভাষণ প্রদান করলেন। আজকের এই ভাষণের জন্য তিনি দীর্ঘ সাত মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। (১৩৯)
প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও উপস্থিত জনসমুদ্র ধৈর্য ধরে সুভাষী ও বাগ্মী পোপ আরবানের মর্মস্পর্শী বক্তব্য শুনতে লাগল। বরং তারা পোপের প্রতিটি উচ্চারণে আন্দোলিত হয়ে উঠল। পোপের বক্তব্য যেন প্রত্যেকের হৃদয়বীণায় উত্তেজনার ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছিল। পোপ অতি সুকৌশলে একটির পর একটি বিষয় তুলে ধরছিলেন আর উপস্থিত জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তুলছিলেন। তিনি সেদিন শ্রেণি, পরিবেশ ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের দিক থেকে শতধা বিভক্ত উপস্থিত জনসাধারণকে প্রভাবিত করার জন্য তৃণীরের সবকটি তিরই ব্যবহার করেছিলেন। ইউরোপীয় বিভিন্ন বর্ণনায় পোপের পুরো ভাষণ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণে তিনি প্রাচ্যের খ্রিষ্টানসমাজকে উদ্ধার এবং বিধর্মীদের (অর্থাৎ মুসলমানদের) জুলুম-নির্যাতন থেকে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের রক্ষা করতে ফিলিস্তিনে গমনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উপস্থিত জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলমানদের হাতে খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের লাঞ্ছিত ও নিপীড়িত হওয়ার বিভিন্ন (কাল্পনিক) ঘটনাও তাদেরকে শোনান। (১৪০)
উপস্থিত জনসাধারণকে প্রভাবিত করতে পোপ যেসব বিষয় কাজে লাগান, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—তিনি সকলকে জানান যে, এ ভাষণ তিনি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে নিজের পক্ষ থেকে দিচ্ছেন না; বরং স্বয়ং ঈসা মাসিহের সহকারী হিসেবে দিচ্ছেন। যেমন তিনি বলেন, 'আর তাই শোনো, বক্তা তো আমি নই; বরং স্বয়ং প্রভুই আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তোমাদেরকে যিশুখ্রিষ্টের সহযোগী হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করি'।(১৪১) ভাষণে তিনি লুকের ইঞ্জিল হতে নিম্নোক্ত পদটিও আবৃত্তি করেন—
যে কেউ ক্রুশ কাঁধে তুলে নিয়ে আমার অনুসরণ না করে, সে আমার শিষ্য হতে পারে না। (১৪২)
শ্রোতাদের প্রভাবিত করতে পোপ উপস্থিত সকলকে পাপমার্জনার প্রতিশ্রুতিও প্রদান করেন। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তৎকালীন প্রেক্ষাপটে পাপমোচন একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছিল। কারণ, সকলের অনুভূতি ছিল—অচিরেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে পোপ বলেন, 'আমি উপস্থিত সকলকে সম্বোধন করে বলছি আর অনুপস্থিতদের জন্যও ঘোষণা করছি; অধিকন্তু স্বয়ং যিশুখ্রিষ্ট আমাকে এ ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন যে, সেখানে গমনকারী সকলের জন্য পাপমোচন কার্যকর হবে, যখন তাদের জীবন পার্থিব শৃঙ্খলসহ পূর্ণতায় পৌঁছবে। পবিত্র ভূমিতে যাত্রার পথে মৃত্যু আসুক, কিংবা সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার সময়, অথবা পৌত্তলিকদের (মুসলমানদের) বিরুদ্ধে লড়াই চলাকালে—সকল ক্ষেত্রেই ক্ষমাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। প্রভু আমাকে যে ক্ষমতা দান করেছেন, তার ভিত্তিতে আমি আসন্ন অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য পাপমোচন প্রাপ্তির কথা ঘোষণা করছি।' তিনি এ সময় আরও বলেন, 'এই অভিযানে অংশগ্রহণ করে এমনকি যদি শেষ পর্যন্ত তোমরা মৃত্যুবরণও কর, তবুও সর্বাবস্থায়ই কল্যাণ ও উপকার লাভ করতে থাকবে। কারণ, যারাই এ অভিযানে শরিক হবে, তারা পাপমুক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করবে।'(১৪৩)
শ্রোতাদের প্রভাবিত করতে তিনি ফিলিস্তিনে তীর্থযাত্রায় গমনকারী খ্রিষ্টানরা যে নিপীড়ন ও অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হয়ে থাকে, তার চিত্রও সকলের সামনে চিত্রায়িত করেন। অথচ পুরো বিষয়টাই ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কিন্তু তিনি একে একটি মর্মস্পর্শী ও মানবিক বিষয়ের রূপ দিয়ে সকলের সামনে তুলে ধরেন।(১৪৪)
পোপ ইসলামি প্রাচ্যভূমিতে বিদ্যমান অঢেল ধনসম্পদের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেও উপস্থিত শ্রোতাদের আন্দোলিত করেন। তিনি ফিলিস্তিন ভূমি সম্পর্কে ইঞ্জিল হতে নিম্নোক্ত শ্লোকও পাঠ করে শোনান—
আমি এই ভূমি (ফিলিস্তিন) দান করেছি, যাতে আছে উপচে পড়া দুধ ও মধু।(১৪৫)
এর মাধ্যমে তিনি একই সঙ্গে ধনী-দরিদ্র উভয় শ্রেণির আবেগকে নাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হন। কারণ, দরিদ্ররা তখন খুঁজছে জীবনের ন্যূনতম আশ্রয়, আর ধনী সামন্তরা খুঁজছে আরও বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের মালিকানা।
পোপ ২য় আরবান উপস্থিত যোদ্ধাদের প্রভাবিত করার জন্য বলেন, 'তোমরা পারস্পরিক সংঘাতের মাধ্যমে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিনষ্ট করবে কেন; এর পরিবর্তে তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করছে এক উর্বর ক্ষেত্র, যেখানে তোমরা নিজেদের শক্তি পরীক্ষা ও দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারবে।'
প্রভাবক হিসেবে পোপ আরও যে বিষয়টি কাজে লাগান, তা হলো—তিনি ফরাসিদের বীরত্ব ও যুদ্ধদক্ষতার প্রশংসা করেন এবং তাদের পূর্বপুরুষদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করেন। এরপর তিনি তাদেরকে ইউরোপের নেতৃত্বের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। (১৪৬)
শ্রোতাদের প্রভাবিত করতে তিনি আরও একটি টোপ ফেলেন। তিনি ঘোষণা করেন—যারা ঋণের ভারে আক্রান্ত, তারা যদি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের ঋণ ক্ষমা করে দেওয়া হবে কিংবা দীর্ঘ মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন—যুদ্ধ চলাকালে সামন্তদের মালিকানাধীন ভূমির কর মওকুফ করে দেওয়া হবে; (১৪৭) আর বিভিন্ন অপরাধকর্মে অভিযুক্তরা যদি অভিযানে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তাদের শাস্তিও ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (১৪৮)
এভাবে পোপ ২য় আরবান সবগুলো প্রভাবক বিষয়কে মর্মস্পর্শী অলংকারপূর্ণ ভাষায় সন্তোষজনক যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমে তুলে ধরেন। ফলে তার প্রতিটি উচ্চারণ উপস্থিত শ্রোতাদের হৃদয়ে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যেও তিনি সকল শ্রোতার বীরত্ব ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হন। তার প্রতিটি কথা শেষ হতেই উপস্থিত শ্রোতারা সমস্বরে তার আহ্বানে সাড়া দেয় এবং বক্তৃতা শেষে সকলে সমস্বরে চিৎকার করে বলে ওঠে—Deus vult (এটিই ঈশ্বরের ইচ্ছা)। পরবর্তী সময়ে এ বাক্যটিই ক্রুসেডার বাহিনীর শ্লোগানে পরিণত হয়। (১৪৯)
এখানে এ তথ্যটিও উল্লেখযোগ্য যে, স্বয়ং পোপ ২য় আরবানও উপস্থিত জনসমুদ্র হতে এমন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রত্যাশা করেননি। বরং সকলের সম্মিলিত সাড়া তাকে উৎকণ্ঠিত করে তোলে। তিনি মূলত বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে চেয়েছিলেন, সাধারণ জনগণের ওপর নয়। কিন্তু সাধারণ জনগণ তো একে নিজেদের ঋণ-ক্ষুধা, রোগ-ব্যাধি ও অন্যান্য সংকট থেকে নিষ্কৃতির এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছিল। আর তাই এভাবেও বলা যায় যে, পোপ তার ভাষণে উপস্থিত কারও জন্যই পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ রাখেননি! (১৫০)
নিঃসন্দেহে এটি ছিল ফ্রান্সভূমিতে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব। ফ্রান্স থেকে এ আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইউরোপে। (১৫১) এই সম্মেলনেই পোপ ঘোষণা করেন, যারা এ অভিযানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা প্রত্যেকে যেন আসন্ন অভিযানের মর্যাদা ও ধার্মিকতার নিদর্শন হিসেবে লাল সুতা দিয়ে একটি ক্রুশ বুনন করে নিজেদের কাঁধে লাগিয়ে নেয়। (১৫২)
টিকাঃ
১৩৬. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৭০।
১৩৭. ক্লেরমন্ট সম্মেলনে যোগদানকারী ধর্মযাজক রবার্টের (Robert the Monk) বর্ণনা সম্পর্কে জানতে দেখুন: Robert de Reims, "Historia iherosolimitana", RHC, Occ., 111, pp. 727-730.
১৩৮. ক্লেরমন্ট (Clermont-Ferrand) নগরী ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে রাজধানী প্যারিস থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
১৯. H. Hagenmeyer: "Chronologi de la Premiere Croisade, 1094-1100", ROL VI, p. 225. আর ক্লেরমন্ট সম্মেলন সফল করতে পোপের দক্ষিণ ফ্রান্সে পরিভ্রমণ সম্পর্কে জানতে দেখুন: Duncalf, "The Councils of Piacenza and Clermont", in Setton, vol. 1, pp. 234-237.
১৪০. Fulcher de Chartres, pp. 65-66; Robert de Moin. pp. 2-3. ক্লেরমন্ট সম্মেলনে পোপ ২য় আরবানের প্রদত্ত ভাষণ সবচেয়ে সুচারুরূপে উল্লেখ করেছেন মনেরো। তিনি বিভিন্ন ঐতিহাসিকের বর্ণনায় উল্লেখিত ভাষণ নিয়ে তুলনামূলক গবেষণা করে পূর্ণ ভাষণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। দেখুন: D.C Munro : The Speech of Pope Urban II at Clemont, pp. 231-242.
১৪১. Robert le Noin, p. 4; Baudri de Bourgueil, p. 7; William of Tyre, vol. 1, p 39.
১৪২. নববিধান, লুক অধ্যায়, ১৪/২৭।
১৪০. Fulcher de Chartres, pp. 61-63.
১৪৪. Chalandon : Hist de la Premiere Croisade, pp. 37-41.
১৪৫. পুরোনো ইচ্ছাপত্র, গণনা পুস্তক অধ্যায়, ১৩/২৭ ও Fulcher de Chartres, pp. 65-66.
১৪৬. Fulcher de Chartres, pp. 67; Baudri, pp. 14-15; Guibert le de Nogent, p. 11.
১৪৭. Mayer, The Crusades, pp. 41-42; Runciman, A Hist. 1, p. 109.
১৪৮. Thompson: op. cit., vol. 1, p. 302.
১৪৯. Robert de Moin. pp. 4-5; Fulcher de Chartres, pp. 68.
১৫০. Riley - Smith op, cit, pp. 39-40.
১৫১. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১০ ও আল-হামলাতুস সালীবিয়্যাতুল উলা নুসুন ওয়া ওয়াসাইকু তারীখিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১৭।
১৫২, Mayer, The Crusades, pp. 41-42; Runciman, A Hist. 1, p. 109.
📄 সুদৃঢ় ও গঠনমূলক পরিকল্পনা
পোপ কিন্তু জনসমাবেশের এই কল্পনাতীত উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনাতেই তুষ্ট হয়ে বসে থাকেননি। তিনি এই উদ্দীপনাকে অব্যাহত রাখতে এবং প্রতিক্রিয়াকে আরও জোরালো করতে এর পরপরই অত্যন্ত শক্তিশালী ও গঠনমূলক এক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং কার্যকর ও ফলপ্রসূ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
১. একেবারে শুরু থেকেই যেন অভিযান-প্রস্তুতির প্রতিটি পদক্ষেপ পোপ ও রোমান ক্যাথলিক গির্জার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়, পোপ ২য় আরবান তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ক্লেরমন্ট সম্মেলনের দিনই ফ্রান্সের লি-পিউ অঞ্চল (Le Puy)-এর বিশপ ও গির্জাধ্যক্ষ অ্যাডমার ডি মনটেইল (Adhemar de Monteil)-কে আসন্ন অভিযানের আধ্যাত্মিক সর্বাধিনায়ক নির্বাচিত করেন। সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, অভিযানে অ্যাডমার পোপের প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করবেন। (১৫৩)
২. পশ্চিম ইউরোপের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেন নিজ নিজ অঞ্চলের জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, এজন্য পোপ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। পোপের আশা ছিল—এই পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধের প্রচারণা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে। (১৫৪)
৩. ইউরোপজুড়ে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং ফিলিস্তিন অভিযানের জন্য যোদ্ধাসংগ্রহের জোরদার প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে পোপ আরবান এমিয়েন্স (Amiens) অঞ্চলের পিটার (Peter the Hermit) নামক জনৈক ধর্মযাজককে দায়িত্ব প্রদান করেন। ধর্মযাজক পিটার ছিলেন স্বভাব বাগ্মিতার অধিকারী। তিনি অতি সাধারণ পোশাক পরিধান করতেন এবং নগ্নপদে পথ চলতেন। গন্তব্য অধিক দূরত্বের হলে তার সঙ্গে বাহন হিসাবে থাকত একটি ল্যাংড়া গাধা।
পিটার পোপ-প্রদত্ত দায়িত্ব সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সসহ ফ্রান্সের আনাচে-কানাচে প্রচারণা চালাতে থাকেন। সাধারণ জনগণের মাঝে তার এই প্রচারণার জাদুকরী প্রভাব পড়ে। (১৫৫) মানুষ দলে দলে তার অনুসরণ করতে থাকে। ফলে অল্প কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় পিটার পনেরো হাজার লোক জমা করে ফেলেন। এ হিসাব কেবল পুরুষদের; নারী ও শিশুরা ছিল এ হিসাবের বাইরে। (১৫৬) অবশ্য পিটারের সঙ্গে যোগ দেওয়া অধিকাংশ মানুষ ছিল সাধারণ দরিদ্র শ্রেণির জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারী অপরাধীদের দল। অতি নগণ্য সংখ্যক যোদ্ধাপুরুষ এবং কয়েকজন সামন্তও অবশ্য পিটারের বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। যেহেতু ধর্মযাজক পিটারের গঠিত এ বাহিনীটির সদস্যদের মাঝে যোদ্ধাবাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনীর কোনো বৈশিষ্ট্য ও ছাপ ছিল না, তাই তারা 'কৃষকদের বাহিনী' (Peasants Crusade), 'ভিখারিদের বাহিনী' (Paupers Crusade) ইত্যাদি নামে পরিচিতি লাভ করে। (১৫৭)
পিটারের ন্যায় ওয়ালটার (Walter Sans Avoir) নামক আরেক ধর্মযাজক সন্ন্যাসীও ক্রুসেড অভিযানের প্রচারণা চালাতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল প্রদক্ষিণ করেন। তিনিও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে অভিযানে শরিক হতে আগ্রহী স্বেচ্ছাসেবক সৈন্যদের বড় একটি দল সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। (১৫৮) ধর্মযাজক ওয়ালটার 'কাঙাল ওয়ালটার' (Walter the Penniless) নামে পরিচিত ছিলেন।
৪. সৈন্যসংগ্রহ ও যুদ্ধপ্রস্তুতির প্রচেষ্টা মাত্রাতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কায় পোপ ২য় আরবান অভিযান শুরুর সময় অনির্ধারিত ও উন্মুক্ত রেখে দিতে রাজি ছিলেন না। তিনি বিভিন্ন নগরী থেকে আগত বিচ্ছিন্ন দল ও সৈন্যদের সমবেত হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থানও ঘোষণা করে দেন। তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১০৯৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ আগস্ট (৪৮৯ হিজরির ২৩ শাবান) আর সকলের সমবেত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করা হয় বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল। বিলম্বিত তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল যেন সৈন্যসংগ্রহের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায় এবং বসন্তের শুরুতে সংগৃহীত ফল-ফসলও বাহিনীর রসদ হিসেবে সঙ্গে নেওয়া যায়। (১৫৯) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়-প্রয়োজনীয় রসদসামগ্রী সংগ্রহ করার পর কালবিলম্ব না করে প্রতিটি বাহিনী কনস্টান্টিনোপল অভিমুখে রওনা হয়ে যাবে। এরপরও পথে কেটে যাবে প্রায় তিন মাস। আর সমবেত হওয়ার স্থান হিসেবে কনস্টান্টিনোপলকে নির্বাচনের কারণ হলো, ক্রুসেডারদের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে তারা এশিয়া মাইনর অঞ্চলে সেলজুকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে; এরপর শাম অঞ্চলে অভিযান চালাবে এবং সবশেষে পৌঁছবে তাদের মূল ও শেষ লক্ষ্যস্থল ফিলিস্তিনে, বিশেষ করে বাইতুল মুকাদ্দাসে। আর প্রথম লক্ষ্য এশিয়া মাইনরের ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশের পূর্বে কনস্টান্টিনোপলই ছিল খ্রিষ্টান শাসনাধীন সর্বশেষ ঘাঁটি। তা ছাড়া ক্রুসেড অভিযানের যাবতীয় প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন করার জন্য পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার পথ ও পদ্ধতি সুবিন্যস্ত করার জন্য বাইজান্টাইন সম্রাট ১ম অ্যালেক্সিয়াস কমনিনোসের সঙ্গে পোপের সাক্ষাৎ করারও প্রয়োজন ছিল।
৫. পোপ আরবান অভিযানে গমনে উদ্বুদ্ধ করতে ইউরোপের বিভিন্ন রাজা, শাসক ও সামন্তদের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। পোপের প্রেরিত পত্র রাজা ও রাষ্ট্রনায়কদের মাঝে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে না পারলেও সামন্ত বা রাজন্যবর্গের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। যেসব রাজন্য তার পত্র পেয়ে সাড়া প্রদান করে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ফ্রান্সের তুলুজ (Toulouse) ও প্রভিন্স (Provence) অঞ্চলের কাউন্ট ৪র্থ রেমন্ড (Raymond IV)। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আসন্ন যুদ্ধে ৪র্থ রেমন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন সেনাপতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। কারণ, ইতিপূর্বে তিনি আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। অধিকন্তু তার তীর্থযাত্রী হিসেবে বাইতুল মুকাদ্দাসে গমনের অভিজ্ঞতাও ছিল। (১৬০) রেমন্ড নিজেকে পুরো ক্রুসেডার বাহিনীর নেতৃত্বদানের উপযুক্ত মনে করতেন। পোপ তার এই সামরিক যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও উদ্দীপনাকে মূল্যায়ন করেন এবং তার সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক করেন। এমনকি পরবর্তী সময়ে পোপ যখন অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য সমবেত বিশাল এক জনসমাবেশকে উৎসাহ জোগাতে ১০৯৬ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে নিম (Nîmes) নগরীতে সম্মেলনের আয়োজন করেন, সেখানে রেমন্ডকেও সঙ্গে নিয়ে যান। (১৬১)
রেমন্ড ছাড়া আরও কয়েকজন রাজন্য পোপের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। তাদের পরিচয়-বিবরণ অভিযানে গমনের পূর্বে ক্রুসেডার বাহিনীর বিন্যাস সংক্রান্ত আলোচনায় আসবে।
৬. কেবল শাসক ও রাজন্যবর্গের কাছে পত্র পাঠিয়েই পোপ ক্ষান্ত হননি। তিনি আসন্ন অভিযান সহজ করতে বিভিন্ন নৌবহরের সহায়তা লাভের জন্য ইতালির জেনোভা বন্দর-সংশ্লিষ্ট সামরিক ও অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও পত্রবিনিময় করেন। তারা পোপের আহ্বানে সাদরে সাড়া দেয় এবং ক্রুসেডারদের সহায়তা করার জন্য বারোটি সমুদ্র-উপযোগী জাহাজসহ বিভিন্ন নৌযান প্রস্তুত রাখে। বিনিময়ে পোপ তাদেরকে আগামী দিনে অধিকৃত শাম অঞ্চলে বিশেষ ছাড়ে বাণিজ্য-সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। (১৬২)
৭. কেবল পত্র-যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে অভিযানের সফলতার উদ্দেশ্যে পোপ নিজে অনেকগুলো নগরী ও জনপদে পরিভ্রমণ করেন। তিনি ক্লেরমন্ট সম্মেলনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের লিমোজিস (Limoges) নগরীতে আরেকটি সম্মেলনের আয়োজন করেন। এরপর তিনি ১০৯৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে তুর্ক্স (Tours), আনজের্স (Angers), মেইন-এট-লরিয়ে (Maine-et-Loire), পয়টিয়ার্স (Poitiers), বর্দো (Bordeaux), তুলুজ, নিম প্রভৃতি নগরীতে সফর করেন। (১৬৩)
পোপের এই অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বিরাট সংখ্যক জনবল সংগৃহীত হয়। সৈন্যদের অধিকাংশই ছিল ফ্রান্সের নাগরিক। ইতালি, ইংল্যান্ড ও স্পেন থেকেও কিছু সৈন্য যোগ দেয়। এমনকি স্কটল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো দূরবর্তী বিভিন্ন দেশ থেকেও কিছু সৈন্য অভিযানে যোগ দিতে উপস্থিত হয়। (১৬৪)
৮. পোপ এই মর্মেও সতর্কবাণী প্রদান করেন যে, যারা অভিযানে অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়ে ক্রুশ প্রতীক ধারণ করবে, তাদের মধ্য হতে কেউ যদি পরে অভিযানে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে সে স্বর্গবঞ্চিত হওয়ার শাস্তি ভোগ করবে। (১৬৫) এই হুমকি প্রদানের কারণ হলো— পোপ বুঝতে পেরেছিলেন যে, জনসাধারণের এই সাময়িক উদ্দীপনা একসময় নিশ্চয়ই স্তিমিত হয়ে যাবে। তখন হয়তো এই বিপুল সংখ্যক জনগণ তার সঙ্গে থাকবে না। ফলে পরিণতি হবে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ। এই হুমকিদানের মাধ্যমে তিনি এই নিশ্চয়তা পেতে চাচ্ছিলেন যে, যারা অভিযানে যোগ দিতে সম্মতি জানাচ্ছে, তারা সকলেই শেষ পর্যন্ত বের হবে এবং এর মাধ্যমে তিনি তার পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
নিঃসন্দেহে পোপের পুরো পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুবিন্যস্ত। যথেষ্ট সময়, মেধা, চিন্তা ও অর্থ ব্যয় করে তিনি এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন। তার গঠনমূলক পরিকল্পনার মাধ্যমেই পুরো পশ্চিম ইউরোপের প্রচেষ্টা একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। বিগত কয়েক শতাব্দীতে বরং নির্দিষ্ট করে বললে সুপ্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর থেকে ইউরোপে এরূপ ঐক্য ও উদ্দীপনা কখনো পরিলক্ষিত হয়নি।
টিকাঃ
১৫৩, Cam. Med. Hist. vol. 5 p. 273.
১৫৪, Runciman, A Hist. 1, p. 108-109; Mayer, The Crusades, pp. 42-43.
১৫৫. Grousset: Hist. des Croisades 1, p. 50.
১৫৬. Michaud: op. cit. Tome 1, p.p. 105-106.
১৫৭. ধর্মযাজক পিটারের প্রচারণা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন: Albert d'Aix, in Peters (ed.), The first Crusade, pp. 96-99; William of Tyre, 1, pp. 99-106; Chronique de Zimmen, A OL, 11, pp. 23-24; Anna Comnena, Alexiade, pp. 310-311; Runciman, A Hist. of Crusades, 1, pp. 123-127; Duncalf, "Clermont to Constantinople, p. 260-262.
১৫৮. Vasiliev: op. cit., vol 11, p. 404.
১৫৯. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১০৮।
১৬০. Michel Le Syrien: (Rec. Hist. Cr Doc. Arm), 1. p. 372.
১৬১. Cam. Med. Hist. vol. 5, p. 273.
১৬২. Heyd: Hist. du Commerce 1, p. 133; Setton: op. cit, 1, p. 252.
১৬০. Hagenmeyer, Chronologi, ROL, VI, pp. 224-225, p. 226-243; AOL, 1, pp. 109-110, 116, 119.
১৬৪. Runciman, op. cit., vol. 1, p. 112.
১৬৫, Runciman, op. cit., vol. 1, p.p. 108-109.