📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 তিন. রাজনৈতিক পটভূমি

📄 তিন. রাজনৈতিক পটভূমি


খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকে, নির্দিষ্ট করে বললে ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে হান, গোথ ও ভ্যান্ডাল জনগোষ্ঠীসহ উত্তর জার্মানির কিছু বর্বর জাতি-গোষ্ঠীর উপর্যুপরি ধ্বংসাত্মক হামলায় সুপ্রাচীন পশ্চিমা রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। অত্যন্ত বর্বর ও দস্যু প্রকৃতির এসব জাতি-গোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী রোমান সভ্যতার প্রতি সামান্য সমীহ প্রদানের পরিবর্তে লাগাতার হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাট চালিয়ে রোমান সাম্রাজ্যকে ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছিয়ে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে মাত্র দুই শতাব্দীর পরিক্রমায় এসব জার্মান গোত্র পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের সংমিশ্রণের কারণে ইউরোপীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মাঝেও তাদের উগ্র- হিংসাত্মক চেতনা ও অপরাধমূলক স্বভাব ছড়িয়ে পড়ে। (১১০)

এরপর প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধের শতাব্দীকাল পূর্বে খ্রিষ্টীয় নবম ও দশম শতাব্দীতে ইউরোপ উপর্যুপরি কয়েকটি বিশাল সামরিক আঘাতের শিকার হয়। এসব আঘাতের কোনোটি ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চল থেকে আগত ভাইকিং দস্যুদের (১১১) পক্ষ থেকে, আবার কোনোটি ছিল আন্দালুস বা উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত মুসলিম অভিযাত্রীদের পক্ষ থেকে। এভাবে লাগাতার আক্রমণ ও আক্রান্ত পরিস্থিতি ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে ধীরে ধীরে যুদ্ধাংদেহি মনোভাব বৃদ্ধি করে এবং তাদের মন-মানস সামরিক মানসে রূপান্তরিত হতে থাকে। সে যুগে ইউরোপের চোখে অশ্বারোহী যোদ্ধার সাজ ছিল একজন মহান ও অভিজাত ব্যক্তির রূপ। (১১২)

ইউরোপের অভ্যন্তরে এই চারিত্রিক ও মানসিক পরিবর্তনের অনিবার্য দাবি ও অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী পরস্পর বিরোধ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়বে। বাস্তবেও তা-ই ঘটে। সাম্রাজ্য বিস্তার ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লালসা চরিতার্থ করার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সংঘর্ষ। একপর্যায়ে ইউরোপে সামন্তবাদের (Feudalism) উত্থান ঘটে এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন করদরাজ্যে পরিণত হয়। প্রতিটি করদরাজ্য একজন জমিদার বা সামন্তের অধীনে পরিচালিত হতো। সামন্তদের কেউ কেউ নিজ অঞ্চলের শক্তিশালী রাজার আনুগত্য করত, আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছাচারিতা প্রদর্শন করত। অন্যের ভূমি দখল করার উগ্র মানসে এসব সামন্তের মধ্যে সব সময়ই চলত পারস্পরিক হানাহানি-লড়াই। আর তাই প্রত্যেক জমিদার ও সামন্তের ছিল নিজস্ব সামরিক মিলিশিয়া বাহিনী। এভাবে একেকটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অনেকগুলো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ও বিবাদমান সামরিক শক্তি সৃষ্টির কারণে পুরো ইউরোপজুড়ে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোমের গির্জা বিরোধ-বিসংবাদে লিপ্ত এসব শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। (১১৩)

পরিস্থিতির সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছিল ফ্রান্সে। বাস্তব অর্থে তখন ফরাসি রাজার নিজ দেশের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। দেশের কর্তৃত্ব ছিল বিভিন্ন সামন্তের হাতে। এক দেশ পরিণত হয়েছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইমারত ও রাজ্যে। প্রতিটি রাজ্যের ছিল নিজস্ব বাহিনী। (১১৪) জার্মানির পরিস্থিতি অবশ্য ফ্রান্সের তুলনায় কিছুটা সহনশীল ছিল। জার্মানিতে তখন শাসনক্ষমতা ছিল শক্তিশালী রাজা ৩য় হেনরির হাতে। ৩য় হেনরির মৃত্যুর পর শাসনভার গ্রহণ করেন তার পুত্র ৪র্থ হেনরি। এটি ক্রুসেড যুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগের কথা। এই দুই শক্তিমান শাসকের দৃঢ়তাপূর্ণ শাসনের কারণে জার্মানির পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। (১১৫) অবশ্য এ সময়ই পোপের সঙ্গে রাজা ৪র্থ হেনরির বিরোধের ঘটনা ঘটে, যার কথা আমরা পূর্বেও আলোচনা করেছি। (১১৬) এই বিরোধ-প্রতিক্রিয়া আমরা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহেও লক্ষ করব।

ইংল্যান্ডেও তখন একজন শক্তিশালী শাসকের আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি হলেন ১ম উইলিয়াম বা দিগ্বিজয়ী উইলিয়াম (William the Conqueror)। কিন্তু সে সময় ইংল্যান্ডের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ছিল ভঙ্গুরপ্রায়। ফলে পুরো ইউরোপের কথা চিন্তা করার পরিবর্তে ইংল্যান্ড তখন নিজেকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত ছিল। (১১৭) ওদিকে আন্দালুসের উত্তরে অবস্থিত খ্রিষ্টান রাষ্ট্রগুলো নিজেদের পূর্ণ শক্তি ব্যয় করছিল আন্দালুসের মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে। (১১৮)

এ সময় ইউরোপের পশ্চিম প্রান্তে সর্বশেষ সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল ইতালি। আক্ষরিক অর্থেই ইতালি তখন অত্যন্ত শক্তিশালী একটি সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় নরম্যান (ভাইকিং) জনগোষ্ঠীর কর্তৃত্বে থাকা দক্ষিণ ইতালির অঞ্চলগুলোর কথা। রবার্ট গোয়েসকার্ড (Robert Guiscard) নামক অত্যন্ত শক্তিশালী ও তীব্র সাম্রাজ্যবাদী চেতনা লালনকারী জনৈক নেতার উক্ত অঞ্চলে আবির্ভাব ঘটার পর ইতালি ঐতিহ্যবাহী বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করার পর্যায়ে উপনীত হয়। (১১৯) রবার্ট গোয়েসকার্ড বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের কাছ থেকে বলকান অঞ্চলের কর্তৃত্ব কেড়ে নিতে সক্ষম হন। এমনকি প্রথমে বাইজান্টাইনদের ও পরে সেলজুকদের অধিকারে থাকা এন্টিয়ক অঞ্চল দখল করার জন্য ইতালিয়ান নরম্যানরা প্রথমবারের মতো যেসব প্রচেষ্টা চালায়, সেগুলোর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানও তারই ছিল। রবার্ট গোয়েসকার্ডের পুত্র বোহেমন্ড (Bohemond I) এসব অভিযানে সরাসরি নেতৃত্বদান করেন। এই বোহেমন্ডই ছিলেন পরবর্তী সময়ে সংঘটিত প্রথম ক্রুসেড অভিযানের অন্যতম সেনাপতি। (১২০)

নরম্যান জনগোষ্ঠীনির্ভর ইতালির এই ক্রমবর্ধমান শক্তির আত্মপ্রকাশের প্রায় কাছাকাছি সময়েই ইতালির ভেনিস (Venice) বন্দরকেন্দ্রিক একটি সামরিক নৌশক্তির উত্থান ঘটে। পুরো ভূমধ্যসাগর অববাহিকার ঘটনাপ্রবাহের পটপরিবর্তনে এই নৌশক্তির সরাসরি ভূমিকা ছিল। (১২১)

তাহলে আলোচনার সার এই দাঁড়াচ্ছে যে, ইউরোপের রাজনৈতিক অঙ্গনে তখন পরস্পর বিবাদমান ও সাম্রাজ্য বিস্তারে প্রতিযোগিতারত অনেকগুলো সামরিক শক্তির অস্তিত্ব ছিল। আর যেহেতু ইউরোপ ছিল তুলনামূলক সংকীর্ণ একটি ভূখণ্ড; অধিকন্তু প্রচণ্ড তুষারপাতের পাশাপাশি জালের মতো ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য পাহাড় ও পর্বতমালার কারণে ইউরোপের ভূ-প্রকৃতিও ছিল যথেষ্ট জটিল ও দুর্গম, তাই স্বাভাবিকভাবেই ইউরোপের উচ্চাভিলাষী অনেক নেতার মাথায় ইউরোপের বাইরে সাম্রাজ্য বিস্তারের চিন্তা উঁকি দিতে থাকে। ইতালিয়ান নরম্যান নেতা রবার্ট গোয়েসকার্ডও এ জাতীয় চিন্তায় আচ্ছন্ন ছিলেন। কিছুদিন পরই সংঘটিত ক্রুসেড অভিযানে ইউরোপীয় নেতৃবৃন্দের এই সাম্রাজ্যবাদী চিন্তাও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

টিকাঃ
১১০. Robert S. Hoyt and Stanley Chodorow. Europe in the middle Ages, pp. 38- 55; Mayer, The Crusades, p. 15-16.
>>>. উত্তর ইউরোপের উপদ্বীপ স্ক্যান্ডিনেভিয়া (Scandinavia) অঞ্চলের অধিবাসীদের নরম্যান (The Normans) বলা হয়। ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন মিলে অঞ্চলটি গঠিত। তৎকালে নরম্যান জাতিগোষ্ঠী অত্যন্ত বর্বর ও অসভ্য জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিল। আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে তারা দস্যুবৃত্তি চালাত। ইতিহাসে তারা ভাইকিং (Viking) জলদস্যু নামেও পরিচিত। নরম্যান ভাইকিংরা অষ্টম শতাব্দী হতে একাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে লুটতরাজ চালায় এবং বসতি স্থাপন করে। হিংস্র ও বর্বর ক্রুসেড অভিযানে নরম্যানরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। [অনুবাদক]
১১২. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৪২-৪৩।
১১০. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৭০-৭৪।
১১৪. নরম্যান ফ্র্যাঙ্ক ক্যান্টোর, আত-তারীখুল ওয়াসিত, ১/২৭২-২৮২।
১১৫. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৭৪।
১১৬. ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ নিয়ে পোপতন্ত্র ও সাম্রাজ্যতন্ত্রের পারস্পরিক সংঘাত সম্পর্কে জানতে দেখুন : Hoyt and Chodorow: Europ in the Middle Ages, pp. 292-302; Barraclough: The Medieval Papacy, pp. 39-77.
১১৭. কাসিম আবদুহু কাসিম, মাহিয়াতুল হুরূবিস সালীবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ৫৭।
১১৮. Benjamin W. Wheeler : The Reconquest of Spain, pp. 31-40.
১১৯. Charanis, op. cit., p. 188.
১২০. Ostrogorsky: op. cit., p. 317.
১২১. Bishop, op. cit., p. 46.

📘 ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাস > 📄 চার. সামাজিক পটভূমি

📄 চার. সামাজিক পটভূমি


তৎকালীন ইউরোপীয় জনসাধারণ নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসে অভ্যস্ত ছিল না। তারা পরিভ্রমণরত যাযাবর বেদুইনদের ন্যায় জীবনযাপন করত। পানাহারদ্রব্য বা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে তারা বারবার স্থান পরিবর্তন করত বলে একটি নির্দিষ্ট ভূমিতে অবস্থান ও বসবাসের চেতনা ও রীতি তাদের মাঝে অনুপস্থিত ছিল। সম্ভবত এ বিষয়টিও তৎকালীন ইউরোপের অনেক মানুষকে তুলনামূলক উন্নত ও সচ্ছল জীবনব্যবস্থার খোঁজে পুরো ইউরোপ ছেড়ে ফিলিস্তিনে গমনে উদ্বুদ্ধ করেছিল। (১২২)

সামন্তবাদনির্ভর ব্যবস্থা চালু থাকায় ইউরোপের কৃষকসমাজ সামন্ত ও জমিদারদের পক্ষ থেকে প্রচণ্ড নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হতো। তৎকালীন ইউরোপে কৃষকদের সামান্য অধিকারও ছিল না। জমির সঙ্গে কৃষকরাও বিক্রি হতো; একই সঙ্গে মালিক বদল ঘটত ভূমি ও ভূমি-শ্রমিকের। জমিদারদের প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের পেছনেই কৃষকদের রক্ত পানি হতো। এর ফলে ইউরোপীয় কৃষকসমাজে ধীরে ধীরে ভূমি-মালিক ও সামন্তদের প্রতি ক্ষোভ সঞ্চারিত হতে থাকে। কিন্তু এ সংকট থেকে নিষ্কৃতির কোনো সুযোগ দূরে থাক, স্বপ্ন ও আশাও তাদের মানসপটে ছিল না। (১২৩)

কেবল এই শোষণ ও লাঞ্ছনাকর জীবনব্যবস্থাই নয়; পুরো ইউরোপ তখন নিরক্ষরতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। মূর্খতা ও শিক্ষাবিমুখতার শিকার ছিল সমাজের বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণি। জ্ঞান ও জ্ঞানচর্চার প্রতি সামান্য আকর্ষণ ও অনুরাগ সমকালীন ইউরোপে ছিল না। এই জ্ঞানদীনতা ও পশ্চাৎপদতার কারণে যেকোনো চিন্তাধারা বা অনুপ্রাণিকা অতি সহজে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারত। তাদের সামনে কেউ কোনো চিন্তাধারা তুলে ধরলে সেটি ভালো না মন্দ, তার পরিণতিই-বা কী হতে পারে-এসব বিশ্লেষণ করার মতো বুদ্ধি, মনোবৃত্তি বা মানসিক যোগ্যতা তাদের ছিল না। ছিল না পরস্পর সাংঘর্ষিক দুটি মতাদর্শ সামনে এলে একটিকে বেছে নেওয়ার মতো জ্ঞান-যোগ্যতা। নিঃসন্দেহে এসব বিষয়ও তাদেরকে সবকিছু ছেড়ে যুদ্ধের জন্য ফিলিস্তিন অভিমুখে অগ্রসর হতে সহায়তা করেছিল। (১২৪)

উল্লিখিত আলোচনায় যেসব পটভূমি ও প্রেক্ষাপটের কথা এসেছে, তার মাধ্যমে আমাদের সামনে এ বিষয়টি সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয় যে, তৎকালীন ইউরোপীয় সমাজ ছিল ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জাতিগত বিবেচনায় বিভক্ত অনেকগুলো দল-উপদলের সমষ্টি। প্রতিটি দল-উপদলেরই ছিল আপন আপন আয়তন ও সামর্থ্য অনুপাতে ছোট-বড় আশা-প্রত্যাশা, অভিলাষ-স্বার্থচিন্তা ও বিস্তৃত পরিকল্পনা। সুতরাং প্রিয় পাঠক, এই শতধা বিভক্ত ইউরোপিয়ান জাতি-গোষ্ঠীর মাঝে যদি এমন কোনো ব্যক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে, যিনি তার জাদুকরী যোগ্যতাবলে সকলের বিভিন্নমুখী চিন্তা-চেতনাকে এক-অভিন্ন উদ্দেশ্যে পরিচালিত করতে সক্ষম হবেন এবং বস্তুগত ও বুদ্ধিগত স্তরের ভিন্নতা সত্ত্বেও সকলকে ধাবিত করবেন এক লক্ষ্য পানে; সবাই ছুটে যাবে অভিন্ন গন্তব্য অভিমুখে নিজেদের সৌভাগ্যের সন্ধানে, তাহলে নিশ্চিত করেই কি তা চরম বিস্ময়ের বিষয় হবে না?! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সমকালীন ইউরোপে সেই চরম বিস্ময়কর ঘটনাই ঘটেছিল!

তাহলে দেখার বিষয়-

কে সেই জাদুকরী যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি? কীভাবে তিনি শতধাবিভক্ত ইউরোপীয় জনগোষ্ঠীকে এক সুতোয় গাঁথতে সক্ষম হলেন?

আর কীই-বা ছিল ক্রুসেড অভিযানগুলোর প্রকৃত কারণ ও কার্যকারণ, অনুঘটক ও অনুপ্রাণিকা? ক্রুসেড অভিযান কেবলই একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ ছিল, না অর্থনৈতিক লড়াই, নাকি ধর্মীয় সংঘাত?

সামনের পরিচ্ছেদে আমরা এসব প্রশ্নের উত্তরই খুঁজে নেব, ইনশাআল্লাহ।

টিকাঃ
১২২. সাইদ আশুর, আল-হারাকাতুস সালীবিয়্যা, ১/৩৬।
১২৩. Boissonade: Life and Work in Med Europe, p. 85.
১২৪. Boase, Kingdoms and Strongholds of the Crusaders, pp. 16-17; Bishop, op. cit., p. 105. Wolff the Awarkening of Europ, p. 202; Coulton, The Medleval Scene, pp. 33-34.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00