📘 ছোটদের নবী রাসুল সাঃ > 📄 হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম

📄 হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম


আরবের উত্তর-পশ্চিমে আল-হিজর নামক একটি জায়গা আছে। এর আরেক নাম মাদায়েনে সালেহ। এখানে একটি প্রাচীন জাতি বাস করতো। এই জাতির নাম ছিল সামূদ। মদীনা এবং তাবুকের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সামূদ জাতির এই আবাস স্থানকেই প্রাচীন কালে আল-হিজর বলে উল্লেখ করা হতো। পবিত্র কুরআন মজীদে মাদায়েন ও আল-হিজর এ উভয় নামেরই উল্লেখ আছে।

পাপ ও গোনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে 'আদ' জাতিকে ধ্বংস করার পর আল্লাহ তা'আলা এই সামূদ জাতিকে প্রভাব প্রতিপত্তি দান করলেন। তারা বিভিন্ন দিক দিয়ে খুব উন্নতি লাভ করলো। তারা প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হয়ে অত্যন্ত বিলাসী জীবন যাপন করতে লাগলো। তারা পাহাড় কেটে কেটে যে বাসস্থান নির্মাণ করতো তা যেমন ছিল মজবুত তেমনি ছিল জাঁকজমক ও শান শওকতে ভরা। কিন্তু হলে কি হবে? অর্থ সম্পদ ও জাঁকজমক তাদের যতই বেড়ে চললো ততই তাদের মনুষ্যত্ব অর্থাৎ ভাল গুণাবলীর অভাব হতে লাগলো। তাদের এলাকার অতীতের যে সব চিহ্ন আজো টিকে আছে সেগুলো দেখলে তাদের যে কত ধন-সম্পদ ছিল এবং দুনিয়ায় তারা যে কত উন্নতি লাভ করেছিল তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তারা যতই উন্নতি লাভ করতে লাগলো ততই আল্লাহকে ভুলে যেতে থাকলো। এক আল্লাহর হুকুম-আহকাম পালন না করে তারা মূর্তি তৈরী করে তার পূজা করতে লাগলো। কিছু সংখ্যক জালেম-অত্যাচারী লোক ছিলো তাদের নেতা। তাদের হুকুম মত এরা চলতো। তাদের সমাজে কোন প্রকার ন্যায় বিচার ছিল না। ধনী ও প্রভাবশালীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো। আর গরীব ও দুর্বলদের প্রতি জুলুম করা হতো।

হযরত সালেহ (আ) তাদের কাছে নবী হয়ে এলেন
সামূদ জাতি যখন এ ধরনের জুলুম অত্যাচার ও অন্যায়ের মধ্যে ডুবে ছিল তখন আল্লাহ তা'আলা হযরত সালেহ (আ)-কে নবী বানিয়ে তাদের কাছে পাঠালেন। নবুওয়াত লাভ করে হযরত সালেহ (আ) তাদের ভুল-ত্রুটি ও অন্যায় সম্পর্কে সতর্ক করে দিতে থাকলেন। তিনি দেখলেন তারা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে অস্বীকার করে নিজেদের হাতে তৈরী মূর্তির পূজা করে। হযরত সালেহ (আ) তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা। তিনি তাদের বললেনঃ একমাত্র আল্লাহর ইবাদত ও দাসত্ব করেই সৌভাগ্য লাভ এবং পরকালে নাজাত পাওয়া যাবে। তিনি তাদের একথা বুঝালেন যে, 'আদ' জাতিকে ধ্বংস করার পর মহান আল্লাহ তাদেরকে পরীক্ষার জন্য ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দান করেছেন। তিনি তাকওয়া বা পরহেজগারীর পথ গ্রহণ করতে বললেন। মূর্তি পূজা করতে নিষেধ করলেন। তিনি বললেনঃ তোমারা গরীব ও দুর্বলের প্রতি দয়া কর এবং অন্যায় কাজ ছেড়ে দাও। তোমরা তো চিরদিন এ দুনিয়াতে বাস করবে না। একদিন তোমাদের মরতে হবে। আবার আখেরাতে পুনরায় জীবিত হয়ে আল্লাহর কাছে এ দুনিয়ার সব কাজ-কর্মের হিসেব দিতে হবে। সুতরাং সেদিকেই বেশী করে মনোযোগ দাও। আর সে জন্যই চেষ্টা সাধনা করো। এসব কথা বলে হযরত সালেহ (আ) তদের এক আল্লাহর দাসত্ব করার আহবান জানালেন। আর অন্য সব কিছু পরিত্যাগ করতে বললেন।

সমাজের লোকেরা তাকে প্রত্যাখান করলো
হযরত সালেহ (আ)-এর এই কথা কওমের নেতাদের পছন্দ হলো না। তারা মনে করলো একথা মানলে তারা আর নেতা থাকতে পারবে না। কওমের লোকদের ওপর এখন যেভাবে হুকুম চালাচ্ছে সেভাবে হুকুম চালাতে পারবে না। তাদের ওপর জুলুম করা যাবে না। সস্তায় তাদের নিকট থেকে কোন কাজ আদায় করা যাবে না। কারণ তখন সবাইকে আল্লাহর কথা মত চলতে হবে। আর আল্লাহর কথা তো ন্যায় বিচারে ভরা। সে কথা মানলে জুলুম বা অন্যায় করা যাবে না। তাই সমাজের নেতারা তাঁর কথা মানলো না। তবে কিছু দুর্বল ও অসহায় লোক তাঁর কথা মেনে নিল। তাঁরা আল্লাহকে বিশ্বাস করলো এবং হযরত সালেহ (আ)-কেও নবী বলে স্বীকার করলো। কিন্তু নেতারা বললোঃ তোমরা যা বিশ্বাস করেছো আমরা তা মানি না।'

কিন্তু আল্লাহর নবীগণ কখনো কোন কিছুতে দমে যান না বা হতাশ হন না। হযরত সালেহ (আ) ও কওমের নেতাদের কথায় দমলেন না। তিনি রাতদিন এক করে আল্লাহর দীনের কথা প্রচার করে চললেন। এতে ফলও ফলতে লাগলো। অল্প সংখ্যক হলেও কিছু কিছু লোক তাঁর কথা মেনে নিতে লাগলো। তবে তারা সমাজের প্রভাবশালী কোন লোক নয়। বরং যারা দুর্বল ও অত্যাচারিত তারাই বেশী সংখ্যায় তাঁর কথা মানতে থাকলো। এ অবস্থা দেখে নেতারা মনে করলো এ ভাবে আর চলতে দেয়া ঠিক নয়। একটা ফন্দি করে সালেহ (আ) এর কাজ বন্ধ করতে হবে। তাই তারা এসে হযরত সালেহ (আ)-কে বললো, তুমি যে আল্লাহর নবী তার প্রমাণ কি? আমাদের সামনে যদি তেমন কোন প্রমাণ পেশ করতে পার তাহলে তোমার কথা বিশ্বাস করা যায় কিনা ভেবে-চিন্তে দেখা যাবে।

হযরত সালেহ (আ) এর মু'জিযা
কওমের নেতাদের এসব কথা শুনে হযরত সালেহ (আ) আল্লাহর কাছে একটা মু'জিযা অর্থাৎ প্রমাণের জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলেন। সবাই দেখতে পেল পাহাড় থেকে একটি উটনী নেমে আসছে। উটনীটা কাছে এলে হযরত সালেহ (আ) সেটি দেখিয়ে বললেনঃ দেখো, এই উটনীটাই আমার নবুওয়াতের প্রামাণ। এখন থেকে এ উটনীটা সর্বত্র চরে বেড়াবে। আর তোমাদের এলাকায় যত পানি আছে তার সবটুকু একদিন এ উটনীটা পান করবে। আর অন্যদিন পান করতে পারবে তোমরা ও তোমাদের যত গবাদি পশু আছে সবাই মিলে। এখন থেকে পালা করে এ নিয়ম চলতে থাকবে। এতে তোমাদের কিছু অসুবিধা নিশ্চয়ই হবে। কিন্তু সাবধান! এ উটনীর কোন ক্ষতি করার চিন্তা করো না। যদি তা করো তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব এসে তোমাদের ধ্বংস করে দেবে।

উটনীটাকে হত্যা করা হলো
প্রথম প্রথম কওমের লোকেরা উটনীটাকে কিছু বললো না। কিন্তু পরে তারা খুবই বিরক্ত হয়ে উঠলো। কারণ উটনীটা যেখানে ইচ্ছা চরে বেড়াতে থাকলো। আর এক দিন পর পর এলাকার সব পানি পান করে ফেলতে লাগলো। এতে সবাই বেশ একটু অসুবিধায় পড়ে গেল। তাদের মধ্যে নয়জন খুব প্রভাবশালী নেতা ছিল। তারা সলা-পরামর্শ করে উটনীটাকে হত্যা করতে মনস্থ করলো। সুতরাং একজন লোক ঠিক করে তার উপর এ দায়িত্ব দেয়া হলো। অবশেষে যা হবার তাই হলো। সেই দুষ্ট লোকটি একদিন উটনীটাকে হত্যা করে ফেললো। উটনীটাকে হত্যা করার পরে হযরত সালেহ (আ) তাদেরকে জানিয়ে দিলেন যে আর রক্ষা নেই। মাত্র তিনদিনের মধ্যে তোমাদের ওপর আল্লাহর আযাব নেমে আসবে। এর মধ্যে একদিন তারা সালেহ (আ)-কেও রাতের বেলা গোপনে হত্যা করতে মনস্থ করলো। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তাদের সে সুযোগ দিলেন না।

আযাব
আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব অবধারিত জেনে হযরত সালেহ (আ) আল্লাহর নির্দেশে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে যাওয়ার আগেও তিনি বললেনঃ হে আমার জাতির লোকেরা, আমি আল্লাহর হুকুম তোমাদের শুনিয়েছি। আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করেছি। তোমাদের যাতে কোন ক্ষতি না হয় সে জন্য আমি তোমাদেরকে অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু তোমরা আমার কথা শোননি। প্রকৃত কথা হলো তোমরা তোমাদের মঙ্গলকামীকে পছন্দ করো না। এ কথা বলে হযরত সালেহ (আ) এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন। নির্দিষ্ট দিনে বিকট এক আওয়াজ হলো। এত জোরে আওয়াজ হলো যে, এরূপ আওয়াজ আর কোন দিন কেউ শোনেনি। প্রচন্ড আওয়াজে সবাই মুখ থুবড়ে পড়ে গেল। অনেকে মারা গেল। এরপর তাদের ওপর পাথর বর্ষিত হলো। সব শেষে ভূমিকম্প দিয়ে গোটা এলাকা ওলট পালট করে দেয়া হলো। এভাবে সবাই করুণ অবস্থায় মারা গেল।

এ আযাব থেকে হযরত সালেহ (আ) ও তাঁর প্রতি যে একশ বিশজন লোক ঈমান এনেছিলেন তাঁরা বেঁচে গেলেন। পরে তিনি এসব লোকদের নিয়ে ফিলিস্তিনের 'রামলা' নামক স্থানে বসতি স্থাপন করেছিলেন বলে জানা যায়। এখানে তিনি আল্লাহর দীনের কাজ করতে করতে ইনতিকাল করেন। জীবনের একটি মুহুর্তের জন্যও তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে ভুলে যাননি।

অনুশীলনী
১। আল-হিজর বা মাদায়েনে সালেহ কোথায় অবস্থিত?
২। সামুদ জাতি কারা? তারা কিভাবে ঘর-বাড়ি তৈরী করতো?
৩। সামূদ জাতি কিসের পূজা করত? তাদের কাছে নবী বানিয়ে কাকে পাঠানো হয়েছিল?
৪। হযরত সালেহ (আ) নবুওয়াত লাভ করে কি দেখতে পেলেন? তিনি তাদের কি করতে বললেন?
৫। সামূদ কওমের নেতারা হযরত সালেহ (আ)-এর কথা পছন্দ করলো না কেন?
৬। কি ধরনের লোকজন হযরত সালেহ (আ)-কে নবী বলে মানলো?
৭। উটনীটা কিসের প্রমাণ ছিল? সেটিকে তারা হত্যা করলো কেন?
৮। উটনীটাকে হত্যা করার কয়দিন পর আযাব এসেছিল?
৯। কি কি আযাব দিয়ে সামূদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল?
১০। কারা এই আযাব থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন? তারা পরে কোথায় গেলেন?

📘 ছোটদের নবী রাসুল সাঃ > 📄 হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিম সালাম

📄 হযরত ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিম সালাম


হযরত নূহের (আ) ইনতিকালের বহুদিন পর আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম (আ)-কে নবী করে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইরাকের 'উর' নামক এক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল আযর। সে ছিল একজন প্রভাবশালী রাজ পুরোহিত। হযরত ইবরাহীম (আ) যে দেশে জন্মলাভ করেন সে দেশের শাসকের নাম ছিল নমরূদ। সে ছিল খুব অত্যাচারী। সে নিজের ইচ্ছা মত রাজ্য শাসন করতো। তার রাজ্যও ছিল অনেক বড়। রাজ্যের লোকেরা ছিল মুশরিক। তারা নমরূদকে পূজা করতো।

হযরত ইবরাহীম (আ) যখন বড় হলেন তখন দেখলেন লোকেরা মূর্তি পূজা করে। মূর্তির সামনে নত হয়। মূর্তিদের ভয় করে, ভক্তি করে। নমরূদেরও ভাল-মন্দ আদেশ সব তারা মেনে নেয়। এসব দেখে হযরত ইবরাহীম (আ) মনে বড় দুঃখ পেলেন। তিনি চিন্তা করতে লাগলেন কেমন করে এসব অজ্ঞ লোকদের তিনি বুঝাবেন।

এ অবস্থার মধ্যে হযরত ইবরাহীম (আ) বড় হয়ে উঠলে আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করলেন। তখন তিনি নিজ জাতিকে সংশোধনের পথ পেলেন। তিনি তাঁর পিতাকে বললেনঃ হে আমার সম্মানিত পিতা, আপনি এসব মূর্তি তৈরী করে পূজা করছেন কেন? এসব মূর্তি তো শুনতেও পায় না, দেখতেও পায় না। এদের কোন শক্তি নেই। এরা মানুষের ভাল-মন্দ কিছুই করতে পারে না। হে আমার পিতা, মহান আল্লাহ আমাকে এমন জ্ঞান দান করেছেন যা মানলে আপনি হিদায়াতের পথ পাবেন।' কিন্তু হযরত ইবরাহীমের (আ) পিতা তাঁর কথা তো শুনলোই না, বরং উল্টা তাঁকে কঠোরভাবে এ বলে শাসালোঃ ইবরাহীম, তুমি যদি এসব কথা বলা না ছাড় তাহলে আমরা তোমাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করবো। সুতরাং যদি বাঁচতে চাও তাহলে এসব কথা ছাড়। তা না হলে আমার কাছ থেকে দূর হয়ে যাও।

হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁর কওমের লোকদের আল্লাহর পথের দিকে ডাকলেন। তিনি তাদের বুঝালেন, সবকিছু ছেড়ে একমাত্র আল্লাহকে রব ও ইলাহ বলে স্বীকার করো। মূর্তি পূজা ছেড়ে দাও। মূর্তির কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু কওমের লোকেরাও তাঁর কথা শুনলো না। তাদের বিশ্বাস মূর্তিগুলোর অনেক ক্ষমতা আছে। হযরত ইবরাহীম (আ) তাদের এ ভুল ভেঙে দেয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকলেন। একদিন তিনি সুযোগ পেয়েও গেলেন। কোন এক উৎসব উপলক্ষে সব লোক শহরের বাইরে চলে গেল। যাওয়ার সময় তারা হযরত ইবরাহীম (আ)-কেও ডাকলো। কিন্তু তিনি তাদের সাথে না গিয়ে শহরেই থাকলেন। সব লোক চলে যাওয়ার পর তিনি মন্দিরে প্রবেশ করলেন। সেখানে ছোট, বড় ও মাঝারি সব রকমের মূর্তি সারি সারি রাখা ছিল। তিনি একখানা কুঠারের আঘাতে সবগুলো মূর্তি ভেঙে ফেললেন। শুধু বড় মূর্তিটা না ভেঙে তার গলায় কুঠার ঝুলিয়ে রেখে মন্দির থেকে বের হয়ে এলেন।

উৎসব শেষে লোকজন শহরে ফিরে এসে মন্দিরে প্রবেশ করে তাদের সব মূর্তি ভাঙা দেখে হৈ চৈ শুরু করে দিল। তাদের একটিই প্রশ্ন, কে এ কাজ করলো? কেউ কেউ বললো, ইবরাহীম নামে এক যুবক আছে। সে মূর্তি এবং তাদের পূজা করা পছন্দ করে না। সে হয়তো এ কাজ করেছে। সবাই হযরত ইবরাহীম (আ)-কে ডেকে এনে মূর্তি ভাঙার কথা জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ বড় মূর্তিটাকে জিজ্ঞেস করে দেখ না। ঐ তো কুড়াল ঘাড়ে করে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই বললোঃ তুমি তো জানো মূর্তি কথা বলতে পারে না। সে কি করে বলবে? হযরত ইবরাহীম (আ) বললেনঃ যারা কথা বলতে পারে না, নিজেকে বাঁচাতে পারে না, তোমরা তদের পূজা কর কেন? এবার সবাই লা-জওয়াব হয়ে গেল। কিন্তু সবাই বুঝে ফেললো যে, এ কাজ ইবরাহীমই করেছে।

আস্তে আস্তে কথাটি রাজ দরবার পর্যন্ত পৌঁছলো। বিচারে ইবরাহীমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হলো। অনেক কাঠ-খড় যোগাড় করে বিরাট আগুনের কুন্ড জ্বালানো হলো এবং হযরত ইবরাহীম (আ)-কে তার মধ্যে ফেলে দেয়া হলো। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি আগুনে পুড়লেন না। আল্লাহ তাঁর অসীম কুদরতে তাঁকে রক্ষা করলেন। সবাই অবাক হয়ে গেলো।

এরপর একদিন তাঁকে নমরূদের রাজ দরবারে ডাকা হলো। তিনি রাজ দরবারে উপস্থিত হলে নমরূদ তাঁকে জিজ্ঞেস করলোঃ তুমি কাকে রব বা প্রভু বলে স্বীকার করো? হযরত ইবরাহীম (আ) নমরূদের রাজ দরবারে উপস্থিত হয়েও নমরূদকে দেখে ভয় করলেন না। তিনি নমরূদের মুখের ওপর বলে দিলেনঃ আমার প্রভু তিনি যিনি বাঁচাতে ও মারতে পারেন। নমরূদ তখন জেলখানা থেকে দু'জন কয়েদীকে ডেকে এনে একজনকে মেরে ফেললো এবং এজনকে ছেড়ে দিল। সে এবার হযরত ইবরাহীমের দিকে তাকিয়ে বললোঃ দেখলে, আমি মারতেও পারি, বাঁচাতেও পারি? হযরত ইবরাহীম (আ) বললেনঃ ঠিক আছে, আমার প্রভু আল্লাহ সূর্য পূর্বদিক থেকে উদিত করেন। তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে উঠাও। এবার নমরূদ বোকা বনে গেল। কোন জবাব দিতে পারলো না। হযরত ইবরাহীম (আ) নমরূদের রাজ দরবার থেকে চলে এলেন।

এরপরও তারা হযরত ইবরাহীমের (আ) ওপর নানা ভাবে অত্যাচার করতে থাকলো। তাই তিনি নিজের জন্মস্থান ইরাকের 'উর' শহর ছেড়ে প্রথমে শামদেশে (বর্তমান সিরিয়া) এবং পরে ফিলিস্তিনে হিজরত করলেন। সাথে গেলেন তাঁর স্ত্রী সারা ও ভাতিজা হযরত লূত আলাইহিস সালাম। সেখানে কিছুকাল থাকার পর তিনি স্ত্রী সারাকে নিয়ে মিসর সফরে গেলেন। সেখানকার বাদশাহ তাঁর চরিত্রে মুগ্ধ হয়ে হাজেরা নাম্নী নিজের বংশের একজন মেয়েকে তাঁর সাথে বিয়ে দিলেন। হযরত ইবরাহীম (আ) আবার ফিলিস্তিনে ফিরে এসে সেখানেই বসবাস করতে শুরু করলেন। হযরত ইবরাহীম (আ)-এর বয়স তখন নব্বই বছরেরও বেশী। তখনও তাঁর কোন সন্তানাদি হয়নি। কারণ তাঁর প্রথমা স্ত্রী সারা ছিলেন সন্তানহীনা।

এ সময়ে দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরার গর্ভে হযরত ইবরাহীম (আ) এর একটি পুত্র সন্তান জন্মলাভ করে। তিনি তার নাম রাখলেন ইসমাঈল। এ সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পরেই আল্লাহ তা'আলা এ পুত্র ও তাঁর মা হাজেরাকে মক্কায় রেখে আসার আদেশ করলেন। তখন পর্যন্ত মক্কা ছিল জন-মানবহীন। সেখানে কেউ বসবাস করতো না। খাদ্য দ্রব্য বা পানিও সেখানে পাওয়া যেত না। কিন্তু হযরত ইবরাহীম (আ) এসব কোন কিছুই চিন্তা করলেন না। তিনি তার স্ত্রী ও পুত্রকে মক্কায় রেখে এলেন। আল্লাহর অশেষ করুনায় সেখানে যমযম নামক কুপের উদ্ভব হলো। এ কূপের পানি পাওয়ার পরে লোকজন সেখানে এসে বসবাস করতে আরম্ভ করলো। এভাবে মক্কায় মানুষের বসতি গড়ে উঠলো।

হযরত ইবরাহীম (আ) বাস করতেন শত শত মাইল দূরে ফিলিস্তিনে। তিনি মাঝে মাঝে স্ত্রী হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈলকে দেখতে মক্কায় আসতেন। পুত্র ইসমাঈল কিছু বড় হলে একদিন তিনি স্বপ্নে দেখলেন আল্লাহ তা'আলা তাঁর পুত্রকে কুরবানী করতে আদেশ করছেন। নবীদের স্বপ্ন কখনো মিথ্যা হয় না। তাই তিনি পুত্র ইসমাঈলকে সব কিছু খুলে বললেন। পুত্রও খুশী মনে কুরবানী হতে রাজী হয়ে গেলেন। হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁকে নিয়ে মক্কার অদূরে মিনা উপত্যকায় উপস্থিত হলেন। বৃদ্ধ পিতার আদরের ধন একমাত্র পুত্র ইসমাঈলকে কোরবানীর উদ্দেশ্যে শুইয়ে দিয়ে আল্লাহকে খুশী করার জন্য পিতা হযরত ইবরাহীম (আ) চোখ বন্ধ করে তাঁর গলায় ছুরি চালালেন। পরীক্ষায় তিনি পাশ করলেন। তাই আল্লাহ তা'আলা তাঁর ছুরির নিচে থেকে ইসমাঈলকে সরিয়ে দিলেন এবং তাঁর পরিবর্তে একটি দুম্বা ছুরির নিচে দিয়ে ইবরাহীমকে ডেকে বললেনঃ হে ইবরাহীম, তুমি স্বপ্নের মাধ্যমে দেয়া আমার আদেশ সত্যই পালন করে দেখালে। তাই আমি তোমার জন্য এ ব্যবস্থা করলাম।

পিতা পুত্র বাড়িতে ফিরে এলেন। কিছু দিন পরে আল্লাহ তা'আলা হযরত ইবরাহীম (আ)-কে বায়তুল্লাহর স্থান দেখিয়ে তা নির্মাণ করতে আদেশ করলেন। তাই পিতা-পুত্র উভয়ে মিলে এবার কা'বা ঘর বা বায়তুল্লাহ তৈরী করতে থাকলেন। পাথর বহন করে এনে তা ঠিকঠাক মত ছেঁটে কেটে একটার পর একটা রেখে নির্মাণ কাজ চললো। হযরত ইসমাঈল (আ) পাথর ও অন্যান্য জিনিস যোগান দিচ্ছিলেন আর হযরত ইবরাহীম (আ) ঘরের দেয়াল গেঁথে উঠাচ্ছিলেন। এ সময় বাপ-বেটা উভয়ে অত্যন্ত আকুলভাবে দো'আ করেছিলেনঃ 'হে আল্লাহ, আমাদের এ কাজ কবুল কর।'

এভাবে সারাজীবন একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর দীনের কাজ করে মানুষকে আল্লাহর পথে ডেকে একশত পঁচাত্তর বছর বয়সে হযরত ইবরাহীম (আ) ইনতিকাল করেন। ফিলিস্তিনের আল-খলীল নামক স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। প্রথমা স্ত্রী সারার গর্ভেও হযরত ইবরাহীম (আ)-এর এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তিনিও নবী ছিলেন। তার নাম হযরত ইসহাক (আ)। হযরত ইসমাঈল (আ) একশ' সাইত্রিশ বছর বয়সে মক্কায় ইন্তিকাল করেন। তাঁকে বায়তুল্লাহর নিকটে তাঁর মায়ের কবরের পাশেই দাফন করা হয়। আল্লাহর নবীগণ এভাবেই সারা জীবন আল্লাহর নির্দেশ পালন করেছেন এবং মানুষকে সত্যের পথে ডেকেছেন।

অনুশীলনী
১। হযরত ইবরাহীম (আ) কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন? তাঁর পিতার নাম কি ছিল?
২। হযরত ইবরাহীম (আ) বড় হয়ে কি দেখলেন?
৩। হযরত ইবরাহীম (আ) মূর্তিদের সম্বন্ধে পিতার কাছে কি বললেন?
৪। উৎসবের দিন সব লোক শহরের বাইরে চলে গেলে হযরত ইবরাহীম (আ) কি করলেন?
৫। 'উৎসব শেষে লোকেরা ফিরে এসে কি দেখলো?
৬। মূর্তি ভাঙার কথা জিজ্ঞেস করলে হযরত ইবরাহীম (আ) কি বললেন?
৭। হযরত ইবরাহীম (আ)-কে আগুনে ফেলার পর কি হলো?
৮। নমরূদের প্রশ্নের জবাবে হযরত ইবরাহীম (আ) কি বলেছিলেন?
৯। তিনি জন্মস্থান ছাড়লেন কেন? জন্মস্থান ছেড়ে তিনি কোথায় গেলেন?
১০। ইসমাঈল কার গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন?
১১। কে কে কা'বা ঘর নির্মাণ করলেন?

📘 ছোটদের নবী রাসুল সাঃ > 📄 হযরত লূত আলাইহিস সালাম

📄 হযরত লূত আলাইহিস সালাম


হযরত লূত আলাইহিস সালাম ছিলেন আল্লাহর একজন নবী। তিনি ছিলেন হযরত ইবরাহীমের (আ) ভাতিজা। তাঁর পিতার নাম ছিল হারাণ। হযরত ইবরাহীম (আ) ইরাকের প্রাচীন ব্যাবিলন শহরের নিকটবর্তী 'উর' নামক যে স্থানে জন্মলাভ করেছিলেন হযরত লূতও (আ) সেখানেই জন্মলাভ করেন।

আল্লাহর পথে অর্থাৎ ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকতে গিয়ে হযরত ইবরাহীম (আ) নমরূদ ও তাঁর দেশের অন্যান্য লোকদের হাতে জুলুম নির্যাতন ভোগ করলেন, তাদেরকে অনেক বুঝালেন কিন্তু তারা তাঁকে আল্লাহর নবী বলে বিশ্বাস করলো না। বরং তাঁর প্রতি আরো মারমুখী হয়ে উঠলো। এ অবস্থা দেখে হযরত ইবরাহীম (আ) তাদের ঈমান গ্রহণ সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়লেন। তিনি বুঝতে পারলেন এসব লোক তাঁকে নবী বলে বিশ্বাস করবে না। আর আল্লাহকেও প্রভু বলে স্বীকার করে তাঁর হুকুম আহকাম মেনে চলবে না। তাই তিনি ইরাক ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সংকল্প করলেন। তিনি মনে করলেন এ এলাকা ছেড়ে অন্য স্থানে গেলে সেখানকার লোকের মধ্যে আল্লাহর হুকুম-আহকাম ঠিক মত প্রচার করতে পারবেন। লোকদের আল্লাহর পথে ডাকতেও পারবেন। তাই তিনি ইরাক ছেড়ে ফিলিস্তিনে হিজরত করলেন।

হিজরত করার সময় হযরত ইবরাহীম (আ)-এর সাথে আরো দু'জন লোক হিজরত করলেন। তাঁদের একজন ছিলেন হযরত ইবরাহীমের (আ) স্ত্রী সারা এবং অন্যজন ছিলেন তাঁর ভাতিজা হযরত লূত আলাইহিস সালাম। এ দু'জনই হযরত ইবরাহীম (আ)-কে আল্লাহর নবী বলে বিশ্বাস করতেন এবং তাঁর নির্দেশ মত চলতেন। হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁর স্ত্রী সারা ও ভাতিজা লূতকে সাথে করে হিজরত করলেন। প্রথমে তাঁরা ফিলিস্তিনে পৌঁছলেন এবং পরে মিসর চলে গেলেন।

মিসর থেকে ফিরে এসে হযরত ইবরাহীম (আ) ভাতিজা লূতকে বর্তমান জর্ডান রাষ্ট্রের অন্তর্গত মরু- সাগরের দক্ষিণে সাদুম নামক এলাকায় সেখানকার লোকদের মধ্যে ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠালেন। হযরত লূত (আ) এস্থানেই বসতি স্থাপন করলেন আর মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে থাকলেন।

সাদূমের অধিবাসীরা ছিল খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। হযরত লূত (আ) দেখলেন সাদূমের অধিবাসীরা সবাই খুব জঘণ্য ধরণের কাজে লিপ্ত। যে কোন খারাপ ও লজ্জার কাজ করতে তারা মোটেই কুণ্ঠা বোধ করতো না। এমন কোন লজ্জার কাজ ছিল না যা তারা করতে পারতো না। যে কোন লজ্জাকর কাজ তারা মাহফিলে বসে করতো। তাদের এলাকায় কোন বিদেশী লোক বা কাফেলা এলে দিন-দুপুরে তারা তার সব কিছু লুট পাঠ করে নিতো। রাস্তার পাশে ওঁত পেতে বসে থেকে ডাকাতি করতো। এ ছাড়াও আরো এমন অনেক কাজ করতো যা মুখে বলতেও লজ্জা লাগে। তোমরা বড় হলে তাদের ওই সব গোনাহর কাজ সম্পর্কে আরো জানতে পারবে।

তোমরা জানো, নবী এবং রসূলগণ যেখানেই যান বা থাকেন সেখানকার লোকজনকে ভাল হতে উপদেশ দেন, ভাল কাজ করতে বলেন, আর সব রকম অন্যায় কাজ ছেড়ে দিতে বলেন। তাঁরা চান সব মানুষ আল্লাহর হুকুম মত চলুক যাতে সমাজের বুকে ও রাষ্ট্রের মধ্যে সবাই শান্তিতে বাস করতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক মানুষ না বুঝে বোকার মত তাঁদের বিরোধিতা করে।

হযরত লূত (আ) দেখলেন সাদূম ও তার পার্শ্ববর্তী আমুরা শহরের লোকেরা আল্লাহকে ভুলে গিয়ে সব রকম অন্যায় কাজ করছে। তিনি তাদের বললেনঃ আমি আল্লাহর নবী। তোমরা যে সব কাজ করছো তা অন্যায়। আল্লাহ এসব কাজ পছন্দ করেন না। তোমরা এসব কাজ ছেড়ে দাও। এক আল্লাহকে প্রভু বলে মেনে নাও এবং তাঁর আদেশ মত চলো। কিন্তু সাদূম ও আমুরার লোকেরা তাঁর কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করলো না। বরং ঠাট্টা বিদ্রুপ করে পরস্পর বললো, এত বড় ভাল লোক দিয়ে আমাদের কোন কাজ নেই। তাঁকে এবং তাঁর সংগী-সাথীদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দাও।

এরূপ ব্যবহার দেখে হযরত লূত (আ) শেষ বারের মত তাদের সাবধান করতে চাইলেন। তাই তিনি একটি মাহফিলে তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন! আমি দেখছি তোমরা জঘণ্য বেহায়াপনার কাজ করছো। রাহাজানি করে বেড়াচ্ছো। প্রকাশ্য সভা-সমিতিতে অশ্লীল কাজ করছো। এ ছাড়াও তোমরা অনেক গোনাহর কাজে লিপ্ত রয়েছো। আমি আল্লাহর নবী হিসেবে তোমাদেরকে শেষ বারের মত সাবধান করছি। যদি তোমরা এসব করা ছেড়ে না দাও তাহলে আল্লাহ তা'আলা আযাব নাযিল করে তোমাদের ধ্বংস করে ফেলবেন।

এ কথা শুনে তাঁর কওমের লোকজন আরো বেঁকে বসলো। তারা জিদ ধরে বললো: ঠিক আছে, এমন কাজ করলে যদি আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন এবং আযাব পাঠান তাহলে তুমি আমাদের জন্য সে আযাব নিয়ে এসো। এভাবে তারা আল্লাহর নবীর কথা শুনলো না। আর তাই আল্লাহ আযাৰ পাঠিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করার কথা তাঁর নবীকে জানিয়ে দিলেন।

একদিন মানুষের রূপ ধরে তিনজন ফেরেশতা হযরত লূত আলাইহিস সালামের বাড়িতে এলেন। তাঁরা হযরত লূতকে বললেনঃ আজকের রাত্রি ভোর হওয়ার আগেই আপনি ঈমানদারদের সাথে নিয়ে এ এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন। আমরা আল্লাহর ফেরেশতা। এ এলাকার মানুষকে ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে পাঠিয়েছেন। ভোর হওয়ার আগেই আমরা এসব পাপী লোকদের ধ্বংস করবো। তাই আপনি কোন দিকে খেয়াল না করে দ্রুত এ এলাকা ছেড়ে যান।

এত দিনের প্রচারের ফলে যেসব লোক হযরত লূতের (আ) প্রতি ঈমান এনেছিল তিনি তাদেরকে সাথে নিয়ে সাদূম থেকে বেরিয়ে পড়লেন। ভোর হওয়ার আগেই তিনি এলাকার বাইরে চলে গেলেন। এদিকে ভোরের আলো প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই ফেরেশতাগণ গোটা এলাকা ওলট পালট করে দিলেন। সব লোক মাটি চাপা পড়ে মারা গেল। এরপর তাদের ওপর আসমান থেকে ভারী পাথর বর্ষণ করা হলো। গোটা এলাকায় নেমে এলো চিরদিনের জন্য নিস্তব্ধতা। আজ পর্যন্ত আর ঐ এলাকায় মানুষের কোন বসতি গড়ে উঠতে পারেনি। ধীরে ধীরে ঐ এলাকা মরু সাগরের পানিতে ডুবে গিয়ে সাগরে পরিণত হয়েছে।

সাদূম থেকে বেরিয়ে হযরত লূত (আ) তাঁর ঈমানদার সাথীদের নিয়ে ‘দাগার’ নামক পার্শ্ববর্তী একটা স্থানে চলে গেলেন। ভোর হলে তিনি দেখলেন, সাদূম ও আমূরা এলাকা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। পরে তিনি ঐ এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী অন্য একটি এলাকায় বসতি স্থাপন করেন এবং সারা জীবন আল্লাহর দীনের দিকে মানুষকে আহবান জানাতে থাকেন। এ স্থানেই তিনি ইনতিকাল করেন।
নবী রসূলগণ মানুষের দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে পারেন না। হযরত লূতও (আ) তাঁর লোকদের উপদেশ দিয়েছেন এবং ভাল পথে ডেকেছেন। কিন্তু তাঁর কথা না শোনার কারণেই সাদূম ও আমূরার অধিবাসীরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তাই সবার উচিত আল্লাহর নবীর কথা মেনে চলা।

অনুশীলনী
১। হযরত লূতের (আ) পিতার নাম বল। হযরত ইবরাহীমের (আ) সাথে তাঁর সম্পর্ক কি?
২। হযরত লূত (আ) কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
৩। হযরত ইবরাহীমের (আ) সাথে কয়জন হিজরত করেছিলেন? তাঁদের নাম বল।
৪। হিজরত করে প্রথমে তাঁরা কোথায় গেলেন?
৫। হযরত লূত (আ) কোথায় বসতি স্থাপন করলেন? সে এলাকার লোক কেমন ছিল?
৬। হযরত লূত (আ) সাদূমবাসীদের কি বললেন এবং তারা কি বললো?
৭। শেষবারের মত হযরত লূত (আ) তাদেরকে কি বললেন?
৮। শেষ কথা শোনার পর সাদূমবাসীরা কি করলো?
৯। সাদূমবাসীদেরকে আযাব দিয়ে কিভাবে ধ্বংস করা হলো?
১০। ঐ এলাকার অবস্থা পরে কিরূপ হয়েছে?
১১। হযরত লূত (আ) পরে কোথায় গেলেন?
১২। আমাদের কি করা উচিত?

📘 ছোটদের নবী রাসুল সাঃ > 📄 হযরত মূসা আলাইহিস সালাম

📄 হযরত মূসা আলাইহিস সালাম


হযরত মূসা আলাইহিস সালাম মিসরে জন্মলাভ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী হযরত ইয়াকুবের (আ) বংশধর। তাঁর পিতার নাম ছিল ইমরান। হযরত মূসা (আ) বনী ইসরাঈল বংশের লোক। বনী ইসরাঈলগণ কিনআন থেকে হযরত ইউসুফের (আ) যুগে মিসরে আসেন এবং বসবাস করতে থাকেন। তাঁর সময়েও মিসরের শাসক রাজাদের উপাধি হতো ফিরআউন। হযরত ইউসুফের (আ) সময়ের ফিরআউন হযরত ইউসুফের সুমধুর চরিত্র, জ্ঞান-গরিমা ও বুদ্ধিমত্তা দেখে মুগ্ধ হন এবং মিসরের শাসনভার তাঁর ওপর অর্পণ করে নিজে নাম মাত্র শাসক থাকেন। এ সময়ে বনী ইসরাঈলগণ কিনআন থেকে মিসরে আগমন করেন।

হযরত মূসা (আ) যে সময় জন্মলাভ করেন সে সময় মিসরের শাসক ছিল ফিরআউন দ্বিতীয় রা'মসীস। এ সময় বিভিন্ন কারণে মিসরের আদি অধিবাসী কিবতিরা বনী ইসরাঈলদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছিল। ফিরআউন রা'মসীসের হুকুমে বনী ইসরাঈলদের ঘরে কোন পুত্র সন্তান হলে তাকে সরকারী লোকজন গিয়ে মেরে ফেলতো। আরো বিভিন্ন ভাবে তাদের ওপর অত্যাচার করা হতো। তাদের দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রমের কাজ করানো হতো। এ যখন অবস্থা তখন বনী ইসরাঈলদের মধ্যে মূসা (আ) জন্মলাভ করেন। সরকারী লোকজন খবর পেলেই এসে তাঁকে মেরে ফেলবে, এ চিন্তায় হযরত মূসার মা অস্থির হয়ে উঠলেন। অবশেষে তিনি একটি ফন্দি করলেন। একটি কাঠের বাক্স তৈরী করে তার মধ্যে মূসাকে শুইয়ে দিয়ে বাক্সটি নীল নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। বাক্স ভাসতে ভাসতে ফিরআউনের মহলের ঘাটে গিয়ে ভিড়লো। লোকজন বাক্সটি তুলে এনে দেখলো তার মধ্যে ফুটফুটে একটি শিশু হাত-পা নেড়ে খেলা করছে। ফিরআউন তাকে কোন বনী ইসরাইল ঘরের সন্তান মনে করে মেরে ফেলতে চাইলো। কিন্তু ফিরআউনের স্ত্রী তাকে নিজের সন্তান হিসেবে লালন-পালন করতে চাইলেন। ফিরাউন এতে রাজি হলো এবং পরে টাকার বিনিময়ে মূসার মাকেই দাই হিসেবে ডেকে আনা হলো। এভাবে আল্লাহর মহান কুদরতে হযরত মূসা (আ) রক্ষা পেলেন এবং নিজের মায়ের কোলেই লালিত পালিত হতে লাগলেন।

ফিরআউনের মহলেই হযরত মূসা (আ) ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলেন। বড় হয়ে তিনি দেখলেন মিসরে বনী ইসরাঈলদের ওপর চলছে নানা প্রকার জুলুম। মাঝে মাঝে তিনি এ সব জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন। একদিন তিনি বাজারের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন এক কিবতী বনী ইসরাঈলের একজন লোকের ওপর জুলুম করছে। হযরত মূসা (আ) কিবতীকে নিবৃত্ত করতে চাইলেন। কিন্তু সে হযরত মূসা (আ)-কেই আক্রমণ করে বসলো। তখন তিনি কিবতীকে সজোরে এক ঘুষি লাগালেন। এতে হঠাৎ করে সে মারা গেল। পরে মূসা (আ) জানতে পারলেন ফিরআউন বিষয়টি জানতে পেরেছে এবং তাঁকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। এ খবর পেয়ে হযরত মূসা (আ) মিসর ছেড়ে বের হলেন এবং কয়েক দিন পর মাদায়েন এলাকায় গিয়ে উপস্থিত হলেন।

বেশ কয়েক বছর তিনি মাদায়েনে কাটালেন এবং সেখানেই বিয়ে করলেন। পরে ক্ষমতাসীন ফিরআউন দ্বিতীয় রামসীসের মৃত্যু হলে এবং তার পুত্র মিনফাতাহ ফিরআউন হলে তিনি মাদায়েন থেকে মিসরে ফিরে যেতে মনস্থ করলেন। তাই একদিন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মিসরে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে সিনাই মরুভূমিতে একদিন রাত্রি বেলা আগুনের দরকার হলো। হযরত মূসা (আ) পাহাড়ের উপর আগুন দেখে তা আনতে গেলেন। পাহাড়টির নাম ছিল তূর পাহাড়। আর আগুন ছিল মহান আল্লাহর নূর। সেখানেই আল্লাহ তা'আলা তাঁকে নবুওয়াত দান করলেন। আল্লাহ তাঁকে আদেশ করলেন: তুমি ফিরআউনের কাছে যাও। সে বাড়াবাড়ি করছে। তাকে আমার আদেশ নিষেধ শুনিয়ে সৎপথে আসতে বলো। এই সাথে আল্লাহ তা'আলা মূসা (আ)-কে কিছু মুজিযাও দান করলেন।

মূসা (আ) মিসরে গিয়ে ফিরআউনের দরবারে উপস্থিত হলেন। সংগে ছিলেন তাঁর ভাই আল্লাহর নবী হযরত হারুন (আ)। দরবারে উপস্থিত হয়ে মূসা (আ) ফিরআউনকে বললেনঃ আমাদের দু' ভাইকে আল্লাহ তাঁর রসূল করে তোমার কাছে পাঠিয়েছেন। আমরা তোমার কাছে আল্লাহর দেয়া হিদায়াতের বাণী নিয়ে এসেছি। তুমি আল্লাহকে প্রভু বলে স্বীকার করো। তাঁর আইন-কানুন দেশে চালু করো। তাহলে দেশে সুখ-শান্তি আসবে। আর বনী ইসরাঈলদের ওপর অত্যাচার করা বন্ধ করো। তা না হলে তাদের মিসর থেকে বের করে নিয়ে যেতে দাও।

এসব কথা শুনে ফিরআউন বললোঃ হে মূসা, তোমার রব বা প্রভু কে? মূসা (আ) বললেনঃ যিনি আসমান-যমীন, পাহাড়-পর্বত, জীব-জন্তু সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। যিনি সবাইকে খেতে দেন, যিনি মৃত্যু দেন তিনিই আমার রব বা প্রভু। ফিরআউন বললোঃ তুমি যে আল্লাহর নবী তার প্রমাণ কি? তখন মূসা (আ) তাঁর লাঠিখানা মাটিতে ফেলে দিলেন। সংগে সংগে সেটি সাপ হয়ে গেল। আর হাতখানা বগলের নিচে রেখে তারপর বাইরে বের করলেন, আর সংগে সংগে তা বিদ্যুতের চমক সৃষ্টি করলো। এসব দেখে ফিরআউন মনে করলো মূসা খুব যাদুবিদ্যা শিখে এসেছে। সুতরাং তাঁকে বড় বড় যাদুকর দিয়ে জব্দ করতে হবে। তাই ফিরআউন সারা মিসরের সব বড় বড় যাদুকরকে ডেকে মূসা (আ)-কে মোকাবিলা করতে বললো। একদিন একটা মাঠে অসংখ্য লোকের সামনে হযরত মূসা (আ) ও যাদুকরদের মোকাবিলা হলো। যাদুকররা তাদের যাদুর সাহায্যে বড় বড় সাপ তৈরী করলো এতে ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হলো। কিন্তু হযরত মূসা (আ) ভয় পেলেন না। তিনি তাঁর লাঠি মাটিতে ফেলা মাত্র তা প্রকান্ড সাপে পরিণত হলো এবং যাদুকরদের বানানো সাপগুলোকে এক এক করে মুহূর্তের মধ্যে গিলে ফেললো। এতে যাদুকররা বুঝতে পারলো যে মূসা (আ) যাদুকর নন। তিনি সত্যই আল্লাহর নবী। সুতরাং যাদুকররা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো এবং হযরত মূসা (আ)-কে নবী বলে স্বীকার করে নিল। আরো অনেক লোকও ঈমান আনলো। এ দেখে ফিরআউন অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে উঠলো। শুরু হলো মূসা (আ) ও তাঁর লোকদের ওপর আরো বেশী অত্যাচার। সব দেখে মূসা (আ) তাঁর লোকদের বললেন, সবর করো- ধৈর্য ধরো। তোমরা সত্য পথে আছ। সুতরাং তোমরাই জয়ী হবে।

জুলুম, অত্যাচার খুব বেড়ে গেল। যে সব যাদুকর আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল এবং মূসা (আ)-কে নবী বলে স্বীকার করেছিল ফিরআউন তাদের শূলে চড়িয়ে হত্যা করলো। মূসা (আ) দেখলেন এখন আর মিসরে থাকা সম্ভব নয়। তাই আল্লাহর নির্দেশে তিনি মিসর থেকে বনী ইসরাঈলদের নিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এক রাতে যখন মিসরের অধিবাসীরা এবং ফিরআউনের লোকজন এক আনন্দ উৎসবে মত্ত ছিল তখন মূসা (আ) খবর পাঠিয়ে সমস্ত বনী ইসরাঈলদের জড়ো করলেন এবং মিসর থেকে বের হয়ে পড়লেন। তিনি চাচ্ছিলেন লোহিত সাগর পার হয়ে সিনাই উপত্যকায় পৌঁছবেন। বনী ইসরাঈলরা বের হয়ে পড়ার পরপরই ফিরআউন তা জানতে পারলো। সুতরাং তৎক্ষণাৎ সে সৈন্য-সামন্ত নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করলো। সকাল বেলায় বনী ইসরাঈলরা যখন লোহিত সাগরের কিনারে পৌঁছলো তার পরপরই ফিরআউনের বিশাল সৈন্যদল অস্ত্র-শস্ত্র সহ তাদের কাছে পৌঁছে গেল। বনী ইসরাঈলরা ভয়ে শিউরে উঠলো। কিন্তু আল্লাহর নবী মূসা (আ) মোটেই ভয় পেলেন না। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আদেশ করলেনঃ তুমি তোমার লাঠি দিয়ে সাগরের পানির উপর আঘাত কর। মূসা (আ) তাই করলেন। সংগে সংগে সাগরের পানি দু' ভাগ হয়ে গেল এবং মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়ে গেল। মূসা (আ) সে রাস্তা দিয়ে বনী ইসরাঈলদের নিয়ে পার হয়ে সিনাই উপত্যকায় পৌঁছে গেলেন। ফিরআউন দেখলো সাগরের মধ্য দিয়ে সুন্দর রাস্তা। মূসা দিব্যি এ রাস্তা দিয়ে পার হয়ে গেল। সুতরাং সে তার লোকজন সৈন্য-সামন্তকেও সে রাস্তা দিয়ে পার হতে আদেশ দিল। নিজেও অগ্রসর হলো। কিন্তু সাগরের মাঝখানে পৌঁছলে আল্লাহর আদেশে সাগরের পানি আবার মিশে গেল। ফিরআউন ও তার সৈন্য-সামন্ত সাগরের অথৈ পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগলো। এভাবে ফিরআউন ও তার লোকজন লোহিত সাগরে ডুবে মারা গেল। জালিমদের পরিণতি কেমন হয় আল্লাহ পাক এভাবে তা দেখিয়ে দিলেন।

হযরত মূসা (আ) বনী ইসরাঈলদের মিসর থেকে উদ্ধার করে নিয়ে সিনাই উপদ্বীপে পৌঁছলেন। তূর পাহাড় এই স্থানে অবস্থিত। এ পাহাড়েই আল্লাহ তা'আলা মূসা (আ) এর সাথে কথা বার্তা বলতেন। মূসা (আ) কে আল্লাহ তা'আলা 'তাওরাত' নামক আসমানী কিতাব দান করলেন- যাতে তিনি তাঁর জাতিকে আল্লাহর পথে চালাতে পারেন। এখানেই মূসার (আ) বড় ভাই আল্লাহর নবী হযরত হারুন (আ) মৃত্যুবরণ করেন। হযরত মূসাও (আ) দীর্ঘদিন জীবিত থাকার পর এ স্থানেই একশ' বিশ বছর বয়সে মৃত্যু বরণ করেন এবং তূর পাহাড়ের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। একটি হাদীসে নবী (স) বলেছেন: আমি সেখানে গেলে পথের ধারে বালুর লাল ঢিবিগুলো থেকে সামান্য দূরে তাঁর কবর তোমাদের দেখিয়ে দিতে পারতাম। এভাবেই আল্লাহর সব নবী (আ) মানুষের উপকারের জন্য সারা জীবন কাজ করে গিয়েছেন। তাঁরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেই ভয় করেননি।

অনুশীলনী
১। হযরত মূসা (আ) কোথায় জন্মলাভ করেছিলেন?
২। বনী ইসরাঈলগণ কখন মিসরে গমন করেছিলেন?
৩। একদিন বাজারের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় মূসা (আ) কি দেখলেন? তিনি তখন কি করলেন?
৪। হযরত মূসা (আ) মিসর ছেড়ে গেলেন কেন? তিনি কোথায় গেলেন?
৫। হযরত মূসা (আ) কোন স্থানে নবুওয়াত লাভ করলেন? আল্লাহ তাঁকে কি বললেন?
৬। যাদুকরদের ডেকে ফিরআউন কি করলো? যাদুকররা ঈমান আনলো কেন?
৭। ফিরআউন কিভাবে ডুবে মরলো?
৮। হযরত মূসা (আ) কোথায় ইনতিকাল করেছিলেন? তাঁর বয়স তখন কত ছিল?
৯। মিসরের শাসকদের উপাধি কি ছিল?
১০। হযরত মূসা (আ) এর সময়ে মিসরের শাসক কেমন ছিল? তার নাম কি ছিল?
১১। মূসা (আ) এর ভাইয়ের নাম কি? তিনি কোথায় ইনতিকাল করেন?
১২। মূসা (আ)-কে আল্লাহ তা'আলা যে মুযিজা দিয়েছিলেন তা কি ছিল উল্লেখ করো।
১৩। হযরত মূসা (আ) এর ওপর নাযিলকৃত কিতাবের নাম কি?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00