📄 ৪র্থ পাঠ– আযান
আযান অর্থ: আহ্বান করা, ঘোষণা দেয়া।
ইসলামী পরিভাষায়: সালাতের সময় হলে নির্দিষ্ট আরবী শব্দ দ্বারা উচ্চৈঃস্বরে মানুষকে সালাতের জন্য আহ্বান করাকে আযান বলা হয়।
আযানের শব্দগুলো নিম্নরূপ :
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার)
তারপর أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ (আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ২ বার।
তারপর أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللَّهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লা-হ) ২ বার।
তারপর ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতে হবে حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ (হাইয়্যা 'আলাস্ সালা-হ্, অর্থাৎ- সালাতের দিকে এসো) ২ বার।
তারপর বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতে হবে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ (হাইয়্যা 'আলাল্ ফালা-হ, অর্থাৎ- কল্যাণের দিকে এসো) ২ বার।
তারপর কিবলামুখী হয়ে বলতে হবে- اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার) ১ বার।
অতঃপর لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ১ বার।
ফজরের আযানে “হাইয়্যা আলাল্ ফালা-হ” বলার পর الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْমِ (আস্সালাতু খাইরুম মিনান্নাওম, অর্থাৎ- ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম) ২ বার বলে বাকী অংশ পূর্ণ করতে হবে।
আযানের জবাব ও দু'আ
মুয়ায্যিনের আযান শুনে জবাব দিবে, অতঃপর দরূদ পড়ে নিম্নের দু'আ পড়বে, তাহলে রাসূল ﷺ -এর শাফা'আত অবশ্যই পাবে।
দু'আ: اللَّهُمَّ رَبَّ হ্যযিহিদ দা'ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়া আদতাহ।
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রব্বা হা-যিহিদ্ দা'ওয়াতিত্ তা-ম্মাহ্, ওয়াসলা- তিল ক্বা-য়িমাহ্, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ্, ওয়ার্'আহু মাক্কা-মাম্ মাহমুদানিল্লাযী ওয়া 'আস্তাহ্।
“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই রব! মুহাম্মাদ ﷺ-কে অসীলা নামক স্থান ও মর্যাদা দান কর। তুমি তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দাও, যা তাঁকে প্রদানের তুমি ওয়াদা করেছ।” (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৬১৪)
টিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রদের আযানের শব্দসমূহ শিখানোর পর আযান দেয়ার নিয়ম শিক্ষা দিবেন।
📄 ৫ম পাঠ– সালাত
সালাত আদায় করা ইসলামের একটি অন্যতম রুকন।
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম ও রাক্'আত সংখ্যা :
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ১৭ রাক্'আত ফরয সালাত আদায় করতে হবে। নিম্নের ছকে তা বর্ণনা করা হল :
সালাতের নাম : রাক্'আত সংখ্যা
সালাতুল ফাজর : ২ রাক্'আত
সালাতুয্ যোহর : ৪ রাক্'আত
সালাতুল 'আসর : ৪ রাক্'আত
সালাতুল মাগরিব : ৩ রাক্'আত
সালাতুল 'ইশা : ৪ রাক্'আত
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ১২ রাক্'আত সুন্নাত সালাত আদায় করতে হবে। নিম্নের ছকে তা বর্ণনা করা হল :
সালাতের নাম : ফরযের আগে : ফরযের পরে
সালাতুল ফাজর : ২ রাক্'আত : -
সালাতুয্ যোহর : ৪ রাক্'আত : ২ রাক্'আত
সালাতুল 'আসর : - : -
সালাতুল মাগরিব : - : ২ রাক্'আত
সালাতুল 'ইশা : - : ২ রাক্'আত
এ ১২ রাক'আত সুন্নাত সঠিকভাবে আদায় করলে আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে জান্নাতে একটি বাড়ী তৈরি করে দেন। (সহীহ মুসলিম, হাঃ ৭২৮)
বিতর সালাত
রাতে 'ইশার সালাতের পরে সর্বশেষ যে বেজোড় সংখ্যক সালাত আদায় করতে হয় তাকে সালাতুল বিতর বলা হয়। সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতুল বিতর ১, ৩, ৫, ৭ ও ৯ রাক্'আত পড়া যায়।
📄 ৬ষ্ঠ পাঠ– ইসলামী আদব
যে কোন কাজ শুরু করার আগে بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ) “আল্লাহর নামে শুরু করছি” বলতে হয়।
যে কোন মুসলিম ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সর্বপ্রথম- السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ
উচ্চারণ : আস্সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
“আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক” বলতে হয়।
কোন ব্যক্তি সালাম দিলে তার জবাবে বলতে হয়- وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
উচ্চারণ : ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালা-ম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
“আপনার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।”
সালাম শেষে দু’জনে (১+১) দু’হাতে মুসাফাহা করতে হয়, এতে আল্লাহ তা’আলা উভয়ের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।
সর্বদায় ছোটদের স্নেহ করবে এবং বড়দের সম্মান করবে।
পিতা-মাতার প্রতি সর্বদায় শ্রদ্ধাশীল হবে, তাঁদের সদুপদেশ মেনে চলবে এবং তাঁদের সেবা করবে, আর আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দু'আ করবে।
রব্বির হামহুমা- কামা- রব্বা ইয়া-নী সগীরা- (رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا)
অর্থ: “হে আমার রব! তাদের (পিতা-মাতার) দু'জনের প্রতি রহম করুন তেমনিভাবে, তারা আমার ছোটকালে যেমনভাবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বানী ইসরাঈল- আয়াত: ২৪)
টিকাঃ
শিক্ষক সালাম ও মুসাফাহার পদ্ধতি ছাত্রদের মাঝে পরস্পরে প্রয়োগ দেখাবেন।
📄 ৭ম পাঠ– কুরআন পাঠ শিক্ষা
সূরা ফাতিহা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
উচ্চারণ : (১) বিসমিল্লা-হির রাহ্মা-নির রাহীম। (২) আল হাম্দু লিল্লা-হি রাব্বিল 'আ-লামীন। (৩) আর্ রাহ্মা-নির রাহীম। (৪) মা-লিকি ইয়াউমিদ্দীন (৫) ইয়্যা-কা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তা'ঈন। (৬) ইহদিনাস্ সিরা-ত্বাল্ মুস্তাকীম। (৭) সিরা-ত্বাল্লাযীনা আন্ 'আমতা 'আলাইহিম, গাইরিল মাগ্যুবি 'আলাইহিম, ওয়ালায্য-ল্লীন। (আ-মীন)
অর্থ : (১) পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। (২) যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার, যিনি বিশ্ব জগতের পালনকর্তা। (৩) যিনি অত্যন্ত মেহেরবান ও দয়ালু। (৪) যিনি বিচার দিনের মালিক। (৫) আমরা একমাত্র তোমারই 'ইবাদাত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। (৬) আমাদের সরল সঠিক পথ দেখাও। (৭) সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নি'আমত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের উপর গযব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (হে আল্লাহ! কবুল করুন)।
সূরা আল্ ইহ্লাস
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدُه
اللهُ الصَّমَدُه
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُه
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدُه
উচ্চারণ : (১) কুল্ হুওয়াল্লা-হু আহাদ। (২) আল্লা-হুস্ সামাদ। (৩) লাম্ ইয়ালিদ। (৪) ওয়া লাম্ ইউলাদ। (৫) ওয়া লাম্ ইয়াকুল্লাহ কুফুওয়ান আহাদ।
অর্থ : (১) হে নবী! তুমি বলে দাও সেই আল্লাহ একক, (২) যে আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন (অথচ সবাই তাঁরই মুখাপেক্ষী), (৩) তিনি (কাউকে) জন্ম দেননি এবং (কারো হতে) তিনি জন্মলাভও করেননি। (৪) আর তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই।
সূরা আল্ ফালাক্ব
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
وَمنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِهِ
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَه
উচ্চারণ : ১। কুল আ'ঊযু বিরাব্বিল্ ফালাক্ব, ২। মিনশাররি মা- খালাক্ব, ৩। ওয়ামিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা- ওয়াক্বাব, ৪। ওয়ামিন্ শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল 'উক্বাদ। ৫। ওয়ামিন্ শাররি হা-সিদিন ইযা- হাসাদ।
অর্থ : ১। তুমি বল! আমি ভোরের প্রতিপালকের আশ্রয় চাচ্ছি। ২। সেই সমস্ত জিনিসের অনিষ্ট থেকে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন। ৩। এবং অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা (বিশ্ব চরাচরকে) ঢেকে নেয়, ৪। আর গিরাসমূহে ফুঁক দানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে, ৫। এবং হিংসুক ব্যক্তির হিংসা থেকে।
সূরা আন্ নাস
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ
مَلِكِ النَّاسِ
إِلَهِ النَّاسِ
مِنْ شَرِّ الْوَسْوَাসِ الْخَنَّاسِ
الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ : (১) কুল, আ'উযু বিরাব্বিন্ না-স, (২) মালিকিন্ না-স, (৩) ইলা-হিন্ না-স, (৪) মিন্ শাররিল্ ওয়াসওয়্যা-সিল খান্না-স, (৫) আল্লাযী ইউওয়াস্সিসু ফী সুদূরিন্না-স, (৬) মিনাল্ জিন্নাতি ওয়ান্না-স।
অর্থ : (১) তুমি বল, আমি মানুষের প্রতিপালকের, (২) মানুষের মালিকের, (৩) মানুষের উপাস্যের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, (৪) সেই লুকায়িত কুমন্ত্রণা দানকারীর অনিষ্ট থেকে, (৫) যে মানুষের অন্তরসমূহে কুমন্ত্রণা দান করে, (৬) জিন্ ও ইনসানের মধ্য হতে।
টিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রদেরকে সূরাগুলো মুখে মুখে পড়াবেন এবং মুখস্থ করাবেন।