📘 ছোটদের ইসলামী শিক্ষা > 📄 ৩য় পাঠ– তায়াম্মুম

📄 ৩য় পাঠ– তায়াম্মুম


তায়াম্মুম : অযু ও গোসলের জন্য পানি না পেলে অথবা পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে পবিত্র মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করাকে তায়াম্মুম বলা হয়।

তায়াম্মুমের নিয়ম :
(১) প্রথমে অন্তরে মাটি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করবে।
(২) “বিসমিল্লাহ” বলে তায়াম্মুম আরম্ভ করবে।
(৩) অতঃপর পবিত্র মাটিতে দু' হাত একবার মারবে।
(৪) দু' হাত দিয়ে পূর্ণ মুখমণ্ডল একবার মাসাহ করবে।
(৫) এরপর দু' হাত কব্জি পর্যন্ত একবার মাসাহ করবে। (সহীহুল বুখারী, হাঃ ৩৩৮)

টিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রদেরকে তায়াম্মুম-এর পদ্ধতি প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা দিবেন।

📘 ছোটদের ইসলামী শিক্ষা > 📄 ৪র্থ পাঠ– আযান

📄 ৪র্থ পাঠ– আযান


আযান অর্থ: আহ্বান করা, ঘোষণা দেয়া।

ইসলামী পরিভাষায়: সালাতের সময় হলে নির্দিষ্ট আরবী শব্দ দ্বারা উচ্চৈঃস্বরে মানুষকে সালাতের জন্য আহ্বান করাকে আযান বলা হয়।

আযানের শব্দগুলো নিম্নরূপ :
اللهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার)
তারপর أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ (আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ২ বার।
তারপর أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُوْلُ اللَّهِ (আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লা-হ) ২ বার।
তারপর ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতে হবে حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ (হাইয়্যা 'আলাস্ সালা-হ্, অর্থাৎ- সালাতের দিকে এসো) ২ বার।
তারপর বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে বলতে হবে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ (হাইয়্যা 'আলাল্ ফালা-হ, অর্থাৎ- কল্যাণের দিকে এসো) ২ বার।
তারপর কিবলামুখী হয়ে বলতে হবে- اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লা-হু আকবার আল্লা-হু আকবার) ১ বার।
অতঃপর لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ (লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ) ১ বার।

ফজরের আযানে “হাইয়্যা আলাল্ ফালা-হ” বলার পর الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِّنَ النَّوْমِ (আস্সালাতু খাইরুম মিনান্নাওম, অর্থাৎ- ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম) ২ বার বলে বাকী অংশ পূর্ণ করতে হবে।

আযানের জবাব ও দু'আ
মুয়ায্যিনের আযান শুনে জবাব দিবে, অতঃপর দরূদ পড়ে নিম্নের দু'আ পড়বে, তাহলে রাসূল ﷺ -এর শাফা'আত অবশ্যই পাবে।

দু'আ: اللَّهُمَّ رَبَّ হ্যযিহিদ দা'ওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ, ওয়াবআসহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়া আদতাহ।

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা রব্বা হা-যিহিদ্‌ দা'ওয়াতিত্ তা-ম্মাহ্, ওয়াসলা- তিল ক্বা-য়িমাহ্, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাযীলাহ্, ওয়ার্'আহু মাক্কা-মাম্ মাহমুদানিল্লাযী ওয়া 'আস্তাহ্।

“হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই রব! মুহাম্মাদ ﷺ-কে অসীলা নামক স্থান ও মর্যাদা দান কর। তুমি তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দাও, যা তাঁকে প্রদানের তুমি ওয়াদা করেছ।” (সহীহুল বুখারী- হাঃ ৬১৪)

টিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রদের আযানের শব্দসমূহ শিখানোর পর আযান দেয়ার নিয়ম শিক্ষা দিবেন।

📘 ছোটদের ইসলামী শিক্ষা > 📄 ৫ম পাঠ– সালাত

📄 ৫ম পাঠ– সালাত


সালাত আদায় করা ইসলামের একটি অন্যতম রুকন।
কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে।

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নাম ও রাক্'আত সংখ্যা :
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ১৭ রাক্'আত ফরয সালাত আদায় করতে হবে। নিম্নের ছকে তা বর্ণনা করা হল :

সালাতের নাম : রাক্'আত সংখ্যা
সালাতুল ফাজর : ২ রাক্'আত
সালাতুয্ যোহর : ৪ রাক্'আত
সালাতুল 'আসর : ৪ রাক্'আত
সালাতুল মাগরিব : ৩ রাক্'আত
সালাতুল 'ইশা : ৪ রাক্'আত

পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে ১২ রাক্'আত সুন্নাত সালাত আদায় করতে হবে। নিম্নের ছকে তা বর্ণনা করা হল :

সালাতের নাম : ফরযের আগে : ফরযের পরে
সালাতুল ফাজর : ২ রাক্'আত : -
সালাতুয্ যোহর : ৪ রাক্'আত : ২ রাক্'আত
সালাতুল 'আসর : - : -
সালাতুল মাগরিব : - : ২ রাক্'আত
সালাতুল 'ইশা : - : ২ রাক্'আত

এ ১২ রাক'আত সুন্নাত সঠিকভাবে আদায় করলে আল্লাহ তা'আলা এর বিনিময়ে জান্নাতে একটি বাড়ী তৈরি করে দেন। (সহীহ মুসলিম, হাঃ ৭২৮)

বিতর সালাত
রাতে 'ইশার সালাতের পরে সর্বশেষ যে বেজোড় সংখ্যক সালাত আদায় করতে হয় তাকে সালাতুল বিতর বলা হয়। সহীহ হাদীসের আলোকে সালাতুল বিতর ১, ৩, ৫, ৭ ও ৯ রাক্'আত পড়া যায়।

📘 ছোটদের ইসলামী শিক্ষা > 📄 ৬ষ্ঠ পাঠ– ইসলামী আদব

📄 ৬ষ্ঠ পাঠ– ইসলামী আদব


যে কোন কাজ শুরু করার আগে بِسْمِ اللهِ (বিসমিল্লাহ) “আল্লাহর নামে শুরু করছি” বলতে হয়।

যে কোন মুসলিম ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ হলে সর্বপ্রথম- السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ
উচ্চারণ : আস্সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
“আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক” বলতে হয়।

কোন ব্যক্তি সালাম দিলে তার জবাবে বলতে হয়- وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ
উচ্চারণ : ওয়া ‘আলাইকুমুস্ সালা-ম ওয়া রাহমাতুল্লা-হ।
“আপনার ওপরও শান্তি এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।”

সালাম শেষে দু’জনে (১+১) দু’হাতে মুসাফাহা করতে হয়, এতে আল্লাহ তা’আলা উভয়ের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।
সর্বদায় ছোটদের স্নেহ করবে এবং বড়দের সম্মান করবে।
পিতা-মাতার প্রতি সর্বদায় শ্রদ্ধাশীল হবে, তাঁদের সদুপদেশ মেনে চলবে এবং তাঁদের সেবা করবে, আর আল্লাহর কাছে তাদের জন্য দু'আ করবে।

রব্বির হামহুমা- কামা- রব্বা ইয়া-নী সগীরা- (رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا)
অর্থ: “হে আমার রব! তাদের (পিতা-মাতার) দু'জনের প্রতি রহম করুন তেমনিভাবে, তারা আমার ছোটকালে যেমনভাবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।” (সূরা বানী ইসরাঈল- আয়াত: ২৪)

টিকাঃ
শিক্ষক সালাম ও মুসাফাহার পদ্ধতি ছাত্রদের মাঝে পরস্পরে প্রয়োগ দেখাবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00