📄 গাছের পাখিটি কী বলে?
এক রৌদ্রতপ্ত দুপুরে শহর ও বহু গ্রামের মাঝে এক বটগাছের ছায়ার নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিল জনা কয়েক লোক। পরিচয়ের পর আপোসে গল্প করছিল। এমন সময় গাছের ডালে একটি পাখি ডাক দিতে লাগল। ওদের মধ্যে একজন বলল, 'আচ্ছা! আপনারা কি বলতে পারেন, পাখিটা কী বলছে?'
প্রথম ব্যক্তি চট্ ক'রে বলে উঠল, 'আমি জানি, পাখিটা কী বলছে। ও বলছে, "পিয়াজ-রসুন-আদরক"।'
দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতিবাদ ক'রে বলল, 'আরে ধুৎ! পাখিটা বলছে, "সি-বা-জল ট্যাবলেট"।'
তৃতীয় ব্যক্তি বলল, 'না-না, আসলে পাখিটা বলছে, "সুবহা-ন তে-রী কুদরত"।'
চতুর্থ ব্যক্তি বলল, 'অসম্ভব! পাখিটা বলছে, "ইযাস সামা-উন ফাত্মারাত"।'
আসলে প্রথম ব্যক্তিটি ছিল একজন সবজি-ব্যবসায়ী। দ্বিতীয় ব্যক্তিটি ছিল চিকিৎসক। তৃতীয় ব্যক্তিটি ছিল ভিক্ষুক। আর চতুর্থ ব্যক্তিটি ছিল মাদ্রাসার ছাত্র। সকলে নিজ নিজ নিত্য ব্যবহৃত শব্দ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে পাখির বুলিকে কল্পনা করল। সাধারণতঃ এমনটাই হয়ে থাকে, যে যেমন মানুষ, তার তেমন ধারণা।
📄 শিক্ষার মান যখন তখন
একদা এক শিক্ষিত ভদ্রলোক নদীপথে এক মাঝির নৌকায় চড়ে যাত্রা করছিলেন। কথায় কথায় তিনি মাঝিকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'মাঝি! তুমি কি অঙ্ক জানো?' মাঝি বলল, 'আজ্ঞে না।' ভদ্র লোকটি বললেন, 'তাহলে তোমার জীবনের চার আনাই মিছে।' ভদ্র লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, 'তুমি কি ভূগোল জানো?' মাঝি বলল, 'আজ্ঞে না।' ভদ্র লোকটি বললেন, 'তাহলে তোমার জীবনের ৮ আনাই মিছে।' ভদ্র লোকটি পুনরায় প্রশ্ন করলেন, 'তুমি কি জ্যামিতি জান?' মাঝি উত্তরে একই কথা বলল, 'আজ্ঞে না।' ভদ্র লোকটি বললেন, 'তাহলে তোমার জীবনের ১২ আনাই মিছে।'
আকাশে মেঘ ছিল আগে থেকেই। এমন সময় শশন্ গতিতে ঝড় শুরু হল। নৌকা ডুবুডবু। শিক্ষিত ভদ্র লোকটি বললেন, 'মাঝি এবারে কী হবে?' মাঝি বলল, 'নৌকা হয়তো ডুবে যাবে। আপনি সাঁতার জানেন তো?' ভদ্র লোকটি বললেন, 'না তো!' মাঝি বলল, 'তাহলে আজ্ঞে, আপনার জীবনের ষোল আনাই মিছে!'
📄 দুনিয়ার মূল্য
সালামাহ আল-আহমার বলেন, একদা বাদশা হারুন রশীদের নিকট গমন করলাম। তাঁর বিভিন্ন বালাখানা ও রাজমহল দেখে আমি তাঁকে বললাম, 'আপনার মহলখানা বেশ প্রশস্ত। আপনার মৃত্যুর পর যদি আপনার কবরটাও প্রশস্ত হয়, তবেই উত্তম।' এ কথা শুনে বাদশা কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর বললেন, 'হে সালামাহ! আপনি আমাকে সংক্ষেপে আরো কিছু উপদেশ দিন।'
আমি বললাম, 'হে আমীরুল মু'মেনীন! আপনি কোন মরুভূমিতে থেকে যদি পিপাসিত হন, তাহলে আপনার পিপাসা মিটাবার জন্য কী পরিমাণ অর্থ দিয়ে এক ঢোক পানি কিনবেন?' তিনি বললেন, 'আমার অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে।' আমি বললাম, 'অতঃপর তা পান ক'রে তা যদি পেট থেকে বের হতে না চায়, তাহলে তা বের করার জন্য কী ব্যয় করবেন?' তিনি বললেন, 'বাকী অর্ধেক রাজত্ব ব্যয় ক'রে দেব।'
আমি বললাম, 'অতএব সে দুনিয়ার উপর আল্লাহর অভিশাপ, যে দুনিয়ার মূল্য হল এক ঢোক পানি ও এক ঢোক পেশাব!' এ কথায় বাদশা হারুন আরো জোরে কেঁদে উঠলেন।
📄 মোসাহেবি ও চাটুকতা
বাদশা আকবর খেতে খেতে একটি তরকারি বড় পছন্দ করলেন। পাচক বীরবলকে তরকারিটির নাম জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, 'এটি বেগুন, হুজুর! এর বেহদ্দ গুণ। এ হল শতরোগের মহৌষধ। এ খেলে ব্রেন তাজা হয়, রাজনীতিতে মন বসে, যৌন-ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, পরকালে বেহেশতে বেহেশতীদের মাঝে এই তরকারি প্রথম পরিবেশন করা হবে।'
বেগুনের এত সব গুণ শুনে বাদশা খুব খেলেন। পরদিন সকালে বললেন, 'বীরবল! তোমার ঐ শতগুণের বেগুন খেয়ে আমার পেটে সারা রাত ব্যথা।' পাচক বলল, 'হুজুর! ওটা তো বেগুন, ওর কোন গুণ নেই। খেলে নানা রোগ হয়, যৌন-ক্ষমতা কমে যায়, পেটে ব্যথা হয়, দুশ্চিন্তা বাড়ে, পরকালে দোযখে দোযখীদের মাঝে সর্বপ্রথম ঐ তরকারি পরিবেশন করা হবে!' বাদশা বললেন, 'কাল তুমি এর এত প্রশংসা করলে, আর আজ এর এত নিন্দা কেন?'
পাচক বলল, 'কাল হুজুরকে ভালো লেগেছিল, তাই প্রশংসা করেছিলাম। আজ হুজুরকে খারাপ লেগেছে, তাই নিন্দা করছি। আমি তো হুজুরের চাকরি করি, বেগুনের নয়।' বলা বাহুল্য, এমন ব্যক্তিপূজারী বহু মানুষ আছে, যারা স্বার্থের তরে রায় ও দল বদলে নেয়।