📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 অন্ধের পায়েস খাওয়া

📄 অন্ধের পায়েস খাওয়া


পাড়ার ছেলেরা মিলে বন-ভোজনে যাবার ইচ্ছা করল। পরামর্শ ক'রে স্থির করল, আজ তারা সেখানে পায়েস রান্না ক'রে খাবে। তাদের মধ্যে একজন অন্ধ ছিল। সে ইতিপূর্বে 'পায়েস' খায়নি, 'পায়েস' নামটাও শুনেনি। সে একজন বন্ধুকে পাশে ডেকে নিয়ে বসে জিজ্ঞাসা করল, 'আচ্ছা! পায়েস জিনিসটা কেমন?' বন্ধু বলল, 'সাদা।' অন্ধ বলল, 'সাদা আবার কেমন?' বন্ধু বলল, 'বকের মতো।' অন্ধ বলল, 'বক আবার কেমন?' বন্ধু ভাবল, কথার উদাহরণে অদেখা জিনিস সে বুঝতে পারছে না। তাই সে তার হাতটা টেনে নিয়ে কব্জিটা বাঁকা ক'রে বলল, 'এই দ্যাখো, বক এই রকম।' অন্ধ বলল, 'বাব্বা! এমন টেরা-বাঁকা। এ তো গলায় আটকে যাবে! আমি ভাই তোমাদের সাথে বন-ভোজনে গেলেও পায়েস কিন্তু খাব না।' অনেকে পরের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে ভুল ধারণা নিয়ে সহজটাকে কঠিন ধারণা ক'রে বহু কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে। তারাও কিন্তু আসলে জ্ঞানান্ধ।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 পরের অনুকরণ

📄 পরের অনুকরণ


কোন বিহারীর অভিজ্ঞতায় কোন বাঙ্গালী খারাপ হলে সে সকল বাঙ্গালীকেই খারাপ ধারণা করে। আবার কোন বাঙ্গালীর অভিজ্ঞতায় কোন বিহারী খারাপ হলে সে সকল বিহারীকেই খারাপ মনে করে। অনুরূপ তার কাছ থেকে শুনে অন্যেরাও অনেকে ঐ ধারণা ক'রে থাকে। অথচ এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকে না জেনে অনেক বিষয় সম্বন্ধে অনুচিত মন্তব্য করে। অনেকে আন্দাজ ও অনুমানে ভালোকে মন্দ এবং মন্দকে ভালো জ্ঞান করে। অনেকে পরের মুখে ঝাল খায়। এক ইংরেজ দম্পতি জঙ্গল-মহলে বেড়াতে এসে মধু ও তার উপকারিতার কথা শুনে তা পাওয়ার আশায় জঙ্গলে বের হল। এক গাছে মৌচাকের সন্ধান পেল। মধু কীভাবে গালতে হয়, মৌমাছির বিঁধুনি আছে -এসব কিছুও জানে না তারা। মৌচাক ছিল উঁচুতে। স্ত্রীকে কাঁধে চাপিয়ে মধু পাড়তে বললে, চাকে হাত দিতেই বিঁধতে লাগল মৌমাছিতে। কষ্টে ও ভয়ে ম্যাডামের পেশাব কাপড়ে-চোপড়ে হয়ে গেল। পা বেয়ে গড়িয়ে পড়ল স্বামীর মুখে। স্বামী ভাবল ওটাই হয়তো মধু! লাগল মুখ নেড়ে খেতে! অতঃপর সে ভেদ সে জানতে না পারলে তাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, মধুর স্বাদ কেমন? তাহলে নিশ্চয় সে বলবে, নোনতা!! যার যেমন অভিজ্ঞতা, সেই মতো কয় কথা।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 বড় কে?

📄 বড় কে?


দুই ভাই পিঠের পিঠ। সদা-সর্বদা তর্ক-বিতর্ক ও কথায় কথায় ঝগড়া। একদিন তর্ক শুরু হল, চরিত্র ও গুণে বড় কে?

রাজু বলল, 'আমি বড়', কাজু বলল, 'আমি।' রাজু বলল, 'আমি বাড়ির কাজ বেশি করি।' কাজু বলল, 'তুমি নও আমি।' রাজু বলল, 'মা-বাপের কথা আমি বেশি শুনি।' কাজু বলল, 'তুমি নও, আমি।' রাজু বলল, 'তোমার থেকে আমার বুদ্ধি বেশি।' কাজু বলল, 'বরং আমার বুদ্ধিই বেশি।'

রাজু বলল, 'আমি বেশি ভাল পড়াশোনা করি।' কাজু বলল, 'আমিই পড়াশোনাতে তোমার থেকে ভাল।'

পরিশেষে আব্বা বললেন, "আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়, লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়। বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার, সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার।"

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 গাছের পাখিটি কী বলে?

📄 গাছের পাখিটি কী বলে?


এক রৌদ্রতপ্ত দুপুরে শহর ও বহু গ্রামের মাঝে এক বটগাছের ছায়ার নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিল জনা কয়েক লোক। পরিচয়ের পর আপোসে গল্প করছিল। এমন সময় গাছের ডালে একটি পাখি ডাক দিতে লাগল। ওদের মধ্যে একজন বলল, 'আচ্ছা! আপনারা কি বলতে পারেন, পাখিটা কী বলছে?'

প্রথম ব্যক্তি চট্ ক'রে বলে উঠল, 'আমি জানি, পাখিটা কী বলছে। ও বলছে, "পিয়াজ-রসুন-আদরক"।'

দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রতিবাদ ক'রে বলল, 'আরে ধুৎ! পাখিটা বলছে, "সি-বা-জল ট্যাবলেট"।'

তৃতীয় ব্যক্তি বলল, 'না-না, আসলে পাখিটা বলছে, "সুবহা-ন তে-রী কুদরত"।'

চতুর্থ ব্যক্তি বলল, 'অসম্ভব! পাখিটা বলছে, "ইযাস সামা-উন ফাত্মারাত"।'

আসলে প্রথম ব্যক্তিটি ছিল একজন সবজি-ব্যবসায়ী। দ্বিতীয় ব্যক্তিটি ছিল চিকিৎসক। তৃতীয় ব্যক্তিটি ছিল ভিক্ষুক। আর চতুর্থ ব্যক্তিটি ছিল মাদ্রাসার ছাত্র। সকলে নিজ নিজ নিত্য ব্যবহৃত শব্দ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে পাখির বুলিকে কল্পনা করল। সাধারণতঃ এমনটাই হয়ে থাকে, যে যেমন মানুষ, তার তেমন ধারণা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00