📄 দুঃখ ছাড়া কি সুখলাভ হয়?
কাজলা দিঘির পানিতে পদ্মফুল ফুটে থাকতে দেখে নাবীল তার বন্ধু অসীমকে বলল, 'ঐ সুন্দর ফুলটি আমি পেতে চাই।'
নাবীল বলল, 'নেমে পড় পানিতে। আর মনে রেখো, পদ্ম কাঁটা আছে।'
অসীম বলল, 'থাক তাহলে দরকার নেই।'
নাবীল বলল, 'কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।' "কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে, দুখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহিতে?"
📄 অন্ধের হাতি দেখা
তিন জন অন্ধের ইচ্ছা হল হাতি দেখার। একদিন কারো সাহায্যে হাতির নিকট গেল। সে একজনকে হাতির পা, দ্বিতীয়জনকে তার কান, তৃতীয়জনকে তার সুঁড় ধরিয়ে দিয়ে বলল, 'এটাই হল হাতি।' সুতরাং প্রথমজন ভাবল, হাতি থামের মতো! দ্বিতীয়জন ভাবল, হাতি কুলোর মতো! আর তৃতীয়জন ভাবল, হাতি পাইপের মতো! বলা বাহুল্য, অন্ধের হাতি দেখার মত বহু মানুষ অপরের অন্ধানুকরণ করে অমূলক বিশ্বাস ও ধারণা পোষণ ক'রে থাকে।
📄 অন্ধের পায়েস খাওয়া
পাড়ার ছেলেরা মিলে বন-ভোজনে যাবার ইচ্ছা করল। পরামর্শ ক'রে স্থির করল, আজ তারা সেখানে পায়েস রান্না ক'রে খাবে। তাদের মধ্যে একজন অন্ধ ছিল। সে ইতিপূর্বে 'পায়েস' খায়নি, 'পায়েস' নামটাও শুনেনি। সে একজন বন্ধুকে পাশে ডেকে নিয়ে বসে জিজ্ঞাসা করল, 'আচ্ছা! পায়েস জিনিসটা কেমন?' বন্ধু বলল, 'সাদা।' অন্ধ বলল, 'সাদা আবার কেমন?' বন্ধু বলল, 'বকের মতো।' অন্ধ বলল, 'বক আবার কেমন?' বন্ধু ভাবল, কথার উদাহরণে অদেখা জিনিস সে বুঝতে পারছে না। তাই সে তার হাতটা টেনে নিয়ে কব্জিটা বাঁকা ক'রে বলল, 'এই দ্যাখো, বক এই রকম।' অন্ধ বলল, 'বাব্বা! এমন টেরা-বাঁকা। এ তো গলায় আটকে যাবে! আমি ভাই তোমাদের সাথে বন-ভোজনে গেলেও পায়েস কিন্তু খাব না।' অনেকে পরের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে ভুল ধারণা নিয়ে সহজটাকে কঠিন ধারণা ক'রে বহু কল্যাণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে। তারাও কিন্তু আসলে জ্ঞানান্ধ।
📄 পরের অনুকরণ
কোন বিহারীর অভিজ্ঞতায় কোন বাঙ্গালী খারাপ হলে সে সকল বাঙ্গালীকেই খারাপ ধারণা করে। আবার কোন বাঙ্গালীর অভিজ্ঞতায় কোন বিহারী খারাপ হলে সে সকল বিহারীকেই খারাপ মনে করে। অনুরূপ তার কাছ থেকে শুনে অন্যেরাও অনেকে ঐ ধারণা ক'রে থাকে। অথচ এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকে না জেনে অনেক বিষয় সম্বন্ধে অনুচিত মন্তব্য করে। অনেকে আন্দাজ ও অনুমানে ভালোকে মন্দ এবং মন্দকে ভালো জ্ঞান করে। অনেকে পরের মুখে ঝাল খায়। এক ইংরেজ দম্পতি জঙ্গল-মহলে বেড়াতে এসে মধু ও তার উপকারিতার কথা শুনে তা পাওয়ার আশায় জঙ্গলে বের হল। এক গাছে মৌচাকের সন্ধান পেল। মধু কীভাবে গালতে হয়, মৌমাছির বিঁধুনি আছে -এসব কিছুও জানে না তারা। মৌচাক ছিল উঁচুতে। স্ত্রীকে কাঁধে চাপিয়ে মধু পাড়তে বললে, চাকে হাত দিতেই বিঁধতে লাগল মৌমাছিতে। কষ্টে ও ভয়ে ম্যাডামের পেশাব কাপড়ে-চোপড়ে হয়ে গেল। পা বেয়ে গড়িয়ে পড়ল স্বামীর মুখে। স্বামী ভাবল ওটাই হয়তো মধু! লাগল মুখ নেড়ে খেতে! অতঃপর সে ভেদ সে জানতে না পারলে তাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে, মধুর স্বাদ কেমন? তাহলে নিশ্চয় সে বলবে, নোনতা!! যার যেমন অভিজ্ঞতা, সেই মতো কয় কথা।