📄 হিংসার জ্বালা
এক ব্যক্তি প্রতিবেশীর একজনের ভাল ছেলেকে হিংসার জ্বালায় সহ্য করতে পারত না। সে শুনল, সে ছেলে পড়াশোনায় খুব ভাল। সুতরাং সে জ্বলে উঠে বলল, 'ও পাশ করতে পারবে না।' কেউ বলল, 'পাশ কী? খুব ভাল নম্বর ওর।' হিংসুক বলল, 'ভাল নম্বর হলে কী হবে? ফার্স্ট হতে পারবে না।' লোকটি বলল, 'ও তো পরীক্ষায় ফার্স্টও হয়েছে।' হিংসুক বলল, 'ফার্স্ট হলে কী হবে? চাকরি পাবে না।' লোকটি বলল, 'চাকরিও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'চাকরি পেলে কী হবে? বেতন পাবে না।' লোকটি বলল, 'বেতনও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'বেতন পেলে কী হবে? বেতনে বরকত থাকবে না।' তার মানে ---- দেখতে নারি চলন বাঁকা, হিংসে-কথা গরল-মাখা।
📄 পাত পড়ে, কলি হাসে
এক জাঁদরেল বউ তার বৃদ্ধা শাশুড়ীকে মালসায় খেতে দিত। ব্যাপারটা কলেজ-পড়া পোতার ভালো লাগতো না। একদিন মালসাটা বুড়ির হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেলে শাশুড়ী তাকে খুব গালাগালি করতে লাগল। পোতা কলেজ থেকে বাড়ি এসে দেখল, ব্যাপার তুঙ্গে। সেও গালাগালি শুরু করল দাদীকে। বলল, 'বুড়িও শয়তান আছে। ও ওটা ভাঙ্গল কেন? গোটা রাখলে ঐটাতেই আমার স্ত্রী তার শাশুড়ীকে ভাত দিতো।'
📄 বিষয়-বিতৃষ্ণা
সুলতান মাহমুদের ওস্তাদ আল্লাহর অলী ছিলেন। একবার তিনি তাঁর দারিদ্র্যের কথা স্মরণ ক'রে কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে তাঁকে দেখা করতে গেলেন। হাদিয়া দেখে তিনি সুলতানকে বললেন, 'বাবা! তুমি যখন আমার ঘরে এসেছ, তখন আমার কিছু খাবার খেয়ে যাও; ঐ দেখ খাবার ঢাকা আছে খেয়ে নাও।'
ঢাকা খুলে বাদশা দেখলেন, দু'টি শুক্লা রুটি। কিছু খেতেই গলায় আটকে গেল। ওস্তাদ মাটির কলসি থেকে পানি খেতে বলে বললেন, 'আমার ঘরের খাবার যেমন তোমার গলায় আটকে যাচ্ছে, তেমনি তোমার ঘরের খাবার আমার গলাতেও আটকে যাবে বাবা! দয়া ক'রে তুমি ওগুলো ফিরে নিয়ে যাও।'
📄 সব কাজে আন্তরিকতা
আমেরিকার এক ছুতোর কাঠের ঘর বানানোর এক কোম্পানিতে চাকরি করত। কাজে বহু পুরাতন ও কারিগরিতে বড় সুদক্ষ ছিল সে। মাসিক বেতনে খুব সুন্দর কাজ করত। এক সময় সে কাজ থেকে অবসর চাইল মালিকের কাছে, বোনাসও চাইল। মালিক বলল, 'সবশেষে একটি ঘর বানিয়ে তোমাকে অবসর দেব।' মন না চাইলেও ছুতোর তা বানাতে বাধ্য হল। সুতরাং সে ঘরটি তেমন সুন্দর হল না। মালিক বলল, 'এবার তুমি অবসর নিতে পার। আর এই ঘর তোমার বোনাস।' ছুতোরের বড় আফসোস হল, আগে জানলে ঘরটাকে সে আরো সুন্দর, বরং সবচেয়ে বেশি সুন্দর ক'রে বানাতো।
বলা বাহুল্য, ইখলাস ও ইহসান সবার ক্ষেত্রে সমান থাকলে নিজেকে ঠকতে হয় না।