📄 হিংসিতের বিজয়
ইউসুফের ছিল এগারোটি ভাই। ছোটবেলায় একরাত্রে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, এগারোটি তারা ও চাঁদ-সূর্য নেমে এসে তাঁকে সিজদাহ করছে। এ আশ্চর্য স্বপ্ন তিনি আব্বার কাছে প্রকাশ করলেন। আব্বা ছিলেন একজন নবী। তাঁর নাম ছিল ইয়াকুব। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যায় ইউসুফকে জানালেন যে, বড় হলে তুমি রাজা হবে। আর এ কথাও বলে দিলেন যে, এ স্বপ্ন যেন তিনি তাঁর ভাইদের কাউকে না জানান। কারণ তারা জানতে পারলে হিংসা ও চক্রান্ত করবে। কিন্তু কোন প্রকারে তাঁর ভাইরা সে কথা শুনেই ফেলে এবং তাতে তাদের হৃদয়-মন জ্বলে ওঠে। তারপর তারা এগারো ভাই মিলে কীভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারে সেই কৌশল অনুসন্ধান করে। একদা তারা আব্বাকে বলল, আমরা কাল বাগানে খেলতে যাব। আমরা ছোট ভাই ইউসুফকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। সেও আমাদের সাথে খেলা করবে।
আব্বা বললেন, আমার ভয় হয় যে, তোমরা খেলায় মত্ত হয়ে পড়বে এবং ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলবে। ভাইরা বলল, তা কি হতে পারে? আমরা এতগুলো ভাই, একটি শক্তিশালী দল থাকতে কি বাঘ আমাদের মাঝখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাবে? তারা তাদের আব্বাকে বুঝিয়ে ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে গেল। তারা পরামর্শ করে স্থির করল, তারা তাঁকে হত্যা করবে। কেউ বলল, বরং ওকে কুয়োতে ফেলে দেওয়া হোক। অবশেষে তারা তাঁর গায়ের জামা খুলে নিয়ে তাঁকে এক কুঁয়োতে ফেলে দিল। কিন্তু আল্লাহ রাখেন যাকে, মারে কে তাহাকে? আল্লাহ তাঁর হিফাযত করলেন। কুয়োর তলদেশে একটি পাথরে জায়গা পেয়ে বেঁচে থাকলেন ইউসুফ। এদিকে ভাইরা আব্বাকে বুঝাবার জন্য একটি ছাগলছানা হত্যা করে ইউসুফের জামায় তার রক্ত লাগিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরল। তারা মিথ্যা কান্না করে আব্বাকে বলল, আমরা খেলার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পরলে এক বাঘ এসে ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছে! এ অবস্থা শুনে ও বুঝে আব্বা চরম দুঃখিত হলেন। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য ভিক্ষা করলেন এবং ধৈর্য ধারণ করলেন। এদিকে একদল মুসাফির সে পথে যাওয়ার সময় ঐ কুয়ো থেকে পানি আনতে গিয়ে দেখে তাতে একটি অতি সুন্দর শিশু পড়ে আছে। তাঁরা তাকে তুলে নিয়ে এসে মিসরের রাজার কাছে বিক্রয় করে।
রাজবাড়িতে মানুষ হন ইউসুফ। রাজার কোন ছেলেমেয়ে ছিল না। সেখানে তিনি নিজের কৃতিত্ব ও জ্ঞান দেখিয়ে বিনা দোষে জেল খাটার পর সেখানকার রাজা হন এবং নবীও হন।
পরবর্তীতে তাঁর আব্বা-আম্মা ও ভাইরা সেখানে চলে আসেন। ধৈর্য ধরেছিলেন ইউসুফ। ধৈর্য ধরেছিলেন তাঁর আব্বা-আম্মা। তাই তার প্রতিফল পেলেন সকলেই। বাস্তব হল ইউসুফের স্বপ্ন।
📄 হিংসার জ্বালা
এক ব্যক্তি প্রতিবেশীর একজনের ভাল ছেলেকে হিংসার জ্বালায় সহ্য করতে পারত না। সে শুনল, সে ছেলে পড়াশোনায় খুব ভাল। সুতরাং সে জ্বলে উঠে বলল, 'ও পাশ করতে পারবে না।' কেউ বলল, 'পাশ কী? খুব ভাল নম্বর ওর।' হিংসুক বলল, 'ভাল নম্বর হলে কী হবে? ফার্স্ট হতে পারবে না।' লোকটি বলল, 'ও তো পরীক্ষায় ফার্স্টও হয়েছে।' হিংসুক বলল, 'ফার্স্ট হলে কী হবে? চাকরি পাবে না।' লোকটি বলল, 'চাকরিও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'চাকরি পেলে কী হবে? বেতন পাবে না।' লোকটি বলল, 'বেতনও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'বেতন পেলে কী হবে? বেতনে বরকত থাকবে না।' তার মানে ---- দেখতে নারি চলন বাঁকা, হিংসে-কথা গরল-মাখা।
📄 পাত পড়ে, কলি হাসে
এক জাঁদরেল বউ তার বৃদ্ধা শাশুড়ীকে মালসায় খেতে দিত। ব্যাপারটা কলেজ-পড়া পোতার ভালো লাগতো না। একদিন মালসাটা বুড়ির হাত থেকে পড়ে ভেঙে গেলে শাশুড়ী তাকে খুব গালাগালি করতে লাগল। পোতা কলেজ থেকে বাড়ি এসে দেখল, ব্যাপার তুঙ্গে। সেও গালাগালি শুরু করল দাদীকে। বলল, 'বুড়িও শয়তান আছে। ও ওটা ভাঙ্গল কেন? গোটা রাখলে ঐটাতেই আমার স্ত্রী তার শাশুড়ীকে ভাত দিতো।'
📄 বিষয়-বিতৃষ্ণা
সুলতান মাহমুদের ওস্তাদ আল্লাহর অলী ছিলেন। একবার তিনি তাঁর দারিদ্র্যের কথা স্মরণ ক'রে কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে তাঁকে দেখা করতে গেলেন। হাদিয়া দেখে তিনি সুলতানকে বললেন, 'বাবা! তুমি যখন আমার ঘরে এসেছ, তখন আমার কিছু খাবার খেয়ে যাও; ঐ দেখ খাবার ঢাকা আছে খেয়ে নাও।'
ঢাকা খুলে বাদশা দেখলেন, দু'টি শুক্লা রুটি। কিছু খেতেই গলায় আটকে গেল। ওস্তাদ মাটির কলসি থেকে পানি খেতে বলে বললেন, 'আমার ঘরের খাবার যেমন তোমার গলায় আটকে যাচ্ছে, তেমনি তোমার ঘরের খাবার আমার গলাতেও আটকে যাবে বাবা! দয়া ক'রে তুমি ওগুলো ফিরে নিয়ে যাও।'