📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 কুয়াতে বিড়াল মরা

📄 কুয়াতে বিড়াল মরা


এক ব্যক্তির বাড়ির কুয়াতে বিড়াল পড়ে মারা গেছে। তা কেউ খেয়াল করেনি। দু-তিন দিনের ভিতরে পানিতে গন্ধ সৃষ্টি হল। লোকটি ফতোয়া নিতে ছুটল ইমাম সাহেবের কাছে। বলল, 'হুজুর! আমার বাড়ির কুয়াতে বিড়াল পড়ে মারা গেছে, পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এখন তাতে উযু-গোসল হবে কি?' হুজুর বললেন, 'না। ও পানি নাপাক হয়ে গেছে।' ---তাহলে উপায়? ---উপায়, চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলতে হবে। ---তাহলে কুয়ার পানি পাক হয়ে যাবে? ---তাই তো হওয়ার কথা।

লোকটি বাড়ি ফিরে চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলল। কিন্তু পানির দুর্গন্ধ দূর হল না। হুজুর কি ফতোয়া ভুল দিলেন নাকি? পরদিন সে আবার হুজুরের কাছে গেল এবং অবস্থা খুলে বলল। হুজুর বললেন, 'আবার চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলতে হবে, তাহলে পাক হয়ে যাবে।'

লোকটি বাড়ি ফিরে তাই করল। কিন্তু যথা পূর্বং, তথা পরম্। সেই একই দুর্গন্ধ; বরং তার থেকেও বেশি। পরদিন আবার গেল হুজুরের কাছে। বলল, 'কেমন ফতোয়া হুজুর? পানির দুর্গন্ধ বেড়ে যায় বৈ কমে না!' হুজুর বললেন, 'আপনার বালতি ছোট না বড়?' ---বড় বালতি। ---গুনতে ভুল হয় না তো? ---মোটেই না। আমি তুলি, আমার স্ত্রী গনে। ---ঠিক আছে, আরও চল্লিশ বালতি পানি তুলে ফেলে দিন। এবার আশা করি পানি পাক হয়ে যাবে।

লোকটি তাই করল। কিন্তু কোন ফায়দা দেখল না। হুজুরের কাছে এসে বিরক্তি-সুরে বলল, 'কোন লাভ নেই হুজুর! আপনার ফতোয়ায় মনে হয় গলদ আছে!'

হুজুর রেগে গেলেন এবং লোকটির কুয়ো দেখতে চাইলেন। নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, সাদা মতো পানির উপরে কী যেন ভাসছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, 'সাদা মতো ওটা কী?' ---কী জানি, মনে হয় বিড়ালটা হবে। ---আরে সে কী? আপনি বিড়াল আগে তুলে না ফেলেই বালতি-বালতি পানি তুলে ফেলে যাচ্ছেন? ---বিড়াল তুলে ফেলতে তো বলেননি হুজুর! ---বড় বোকা আপনি! সেটাও কি বলতে হতো? ---ভেঙে না বললে আমরা মূর্খ মানুষ বুঝব কীভাবে?

বলা বাহুল্য, ডাক্তার, মুফতী ও বিচারকের উচিত, অবস্থা ভালোভাবে বুঝে, ভেঙে বলে ব্যবস্থা দেওয়া। অন্যথা ব্যবস্থা নিষ্ফল হয় অথবা হিতে বিপরীত হয়। দ্বিতীয়তঃ যে পাপী তওবা করে, তার উচিত, আগে পাপ বর্জন করা। অবৈধ উপায়ে নেওয়া জিনিস তার মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া। অন্যথা তওবা কবুল হবে না। অন্তরে কপটতা গোপন রেখে কোন ঈমান গ্রহণযোগ্য নয়। হৃদয়ে ঘৃণা লুকিয়ে রেখে হাতে হাত মিলানো উপকারী নয়।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 বাড়ির প্রভাব স্কুলে

📄 বাড়ির প্রভাব স্কুলে


অঙ্কের মাস্টার মশাই তাঁর এক বোকা ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করলেন, ৪ ভাজিত ২ সমান কত?
প্রথমে সে বলল, 'শুনতে পাইনি স্যার।'
তারপর বললে বলল, 'বুঝতে পারলাম না স্যার, বুঝিয়ে দিন।' বললেন, 'যদি তোমার বাবার কাছে ৪ টাকা থাকে এবং তা তোমার ও তোমার ভাই-এর মাঝে ভাগ ক'রে দেয়, তাহলে তুমি ও তোমার ভাই কত ক'রে ভাগ পাবে?' চট্ ক'রে সে বলল, 'আমি ১ টাকা, আর আমার ভাই ৩ টাকা স্যার।' মাস্টার টেবিল ঠুকে বললেন, 'ভুল, ভুল।' কিন্তু ছাত্রটি বলল, 'না স্যার, ঠিকই। আমার বাবা আমার ভাইকেই সর্বদা বেশি দেয়।'

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 হিংসিতের বিজয়

📄 হিংসিতের বিজয়


ইউসুফের ছিল এগারোটি ভাই। ছোটবেলায় একরাত্রে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, এগারোটি তারা ও চাঁদ-সূর্য নেমে এসে তাঁকে সিজদাহ করছে। এ আশ্চর্য স্বপ্ন তিনি আব্বার কাছে প্রকাশ করলেন। আব্বা ছিলেন একজন নবী। তাঁর নাম ছিল ইয়াকুব। তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যায় ইউসুফকে জানালেন যে, বড় হলে তুমি রাজা হবে। আর এ কথাও বলে দিলেন যে, এ স্বপ্ন যেন তিনি তাঁর ভাইদের কাউকে না জানান। কারণ তারা জানতে পারলে হিংসা ও চক্রান্ত করবে। কিন্তু কোন প্রকারে তাঁর ভাইরা সে কথা শুনেই ফেলে এবং তাতে তাদের হৃদয়-মন জ্বলে ওঠে। তারপর তারা এগারো ভাই মিলে কীভাবে তাঁকে হত্যা করতে পারে সেই কৌশল অনুসন্ধান করে। একদা তারা আব্বাকে বলল, আমরা কাল বাগানে খেলতে যাব। আমরা ছোট ভাই ইউসুফকেও সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই। সেও আমাদের সাথে খেলা করবে।

আব্বা বললেন, আমার ভয় হয় যে, তোমরা খেলায় মত্ত হয়ে পড়বে এবং ইউসুফকে বাঘে খেয়ে ফেলবে। ভাইরা বলল, তা কি হতে পারে? আমরা এতগুলো ভাই, একটি শক্তিশালী দল থাকতে কি বাঘ আমাদের মাঝখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাবে? তারা তাদের আব্বাকে বুঝিয়ে ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে গেল। তারা পরামর্শ করে স্থির করল, তারা তাঁকে হত্যা করবে। কেউ বলল, বরং ওকে কুয়োতে ফেলে দেওয়া হোক। অবশেষে তারা তাঁর গায়ের জামা খুলে নিয়ে তাঁকে এক কুঁয়োতে ফেলে দিল। কিন্তু আল্লাহ রাখেন যাকে, মারে কে তাহাকে? আল্লাহ তাঁর হিফাযত করলেন। কুয়োর তলদেশে একটি পাথরে জায়গা পেয়ে বেঁচে থাকলেন ইউসুফ। এদিকে ভাইরা আব্বাকে বুঝাবার জন্য একটি ছাগলছানা হত্যা করে ইউসুফের জামায় তার রক্ত লাগিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরল। তারা মিথ্যা কান্না করে আব্বাকে বলল, আমরা খেলার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পরলে এক বাঘ এসে ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছে! এ অবস্থা শুনে ও বুঝে আব্বা চরম দুঃখিত হলেন। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য ভিক্ষা করলেন এবং ধৈর্য ধারণ করলেন। এদিকে একদল মুসাফির সে পথে যাওয়ার সময় ঐ কুয়ো থেকে পানি আনতে গিয়ে দেখে তাতে একটি অতি সুন্দর শিশু পড়ে আছে। তাঁরা তাকে তুলে নিয়ে এসে মিসরের রাজার কাছে বিক্রয় করে।

রাজবাড়িতে মানুষ হন ইউসুফ। রাজার কোন ছেলেমেয়ে ছিল না। সেখানে তিনি নিজের কৃতিত্ব ও জ্ঞান দেখিয়ে বিনা দোষে জেল খাটার পর সেখানকার রাজা হন এবং নবীও হন।

পরবর্তীতে তাঁর আব্বা-আম্মা ও ভাইরা সেখানে চলে আসেন। ধৈর্য ধরেছিলেন ইউসুফ। ধৈর্য ধরেছিলেন তাঁর আব্বা-আম্মা। তাই তার প্রতিফল পেলেন সকলেই। বাস্তব হল ইউসুফের স্বপ্ন।

📘 ছোটদের ছোট গল্প > 📄 হিংসার জ্বালা

📄 হিংসার জ্বালা


এক ব্যক্তি প্রতিবেশীর একজনের ভাল ছেলেকে হিংসার জ্বালায় সহ্য করতে পারত না। সে শুনল, সে ছেলে পড়াশোনায় খুব ভাল। সুতরাং সে জ্বলে উঠে বলল, 'ও পাশ করতে পারবে না।' কেউ বলল, 'পাশ কী? খুব ভাল নম্বর ওর।' হিংসুক বলল, 'ভাল নম্বর হলে কী হবে? ফার্স্ট হতে পারবে না।' লোকটি বলল, 'ও তো পরীক্ষায় ফার্স্টও হয়েছে।' হিংসুক বলল, 'ফার্স্ট হলে কী হবে? চাকরি পাবে না।' লোকটি বলল, 'চাকরিও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'চাকরি পেলে কী হবে? বেতন পাবে না।' লোকটি বলল, 'বেতনও পেয়েছে।' হিংসুক বলল, 'বেতন পেলে কী হবে? বেতনে বরকত থাকবে না।' তার মানে ---- দেখতে নারি চলন বাঁকা, হিংসে-কথা গরল-মাখা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00