📄 বিনয়ের নমুনা
একদা রাত্রে উমার বিন আব্দুল আযীযের নিকট এক মেহমান ছিল। তিনি কিছু লিখছিলেন। এমন সময় তেলের বাতি নিভুনিভু হল। মেহমানটি বলল, 'বাতিটা ঠিক ক'রে দিই।' তিনি বললেন, 'মেহমানকে কাজে লাগানো বা মেহমানের নিকট থেকে খিদমত নেওয়া আতিথেয়তা-বিরোধী।' মেহমান বলল, 'তাহলে চাকরকে জাগিয়ে দিই।' তিনি বললেন, 'ও এই মাত্র প্রথম ঘুমিয়েছে, ওকে জাগাও না।' অতঃপর তিনি নিজে উঠে গিয়ে বাতিতে তেল ভরে তা ঠিক ক'রে আনলেন।
মেহমানটি বলল, 'আপনি নিজে কষ্ট করলেন, হে আমীরুল মু'মেনীন!' তিনি উত্তরে বললেন, '(তেল ভরতে) গেলাম, তখন আমি উমার ছিলাম, আর এলাম তখনও উমার। আমার মধ্যে কিছুই কমে যায়নি। পরন্তু শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে আল্লাহর কাছে বিনয়ী।'
📄 রাষ্ট্রনেতা হলে এমন
একদা উমার বিন আব্দুল আযীযকে দেখা গেল, তিনি রোদে বসে আছেন। জিজ্ঞাসা করা হল, 'আপনি কি অসুস্থ?' তিনি বললেন, 'না, আমি আমার (পরিহিত) কাপড় শুকাচ্ছি!' প্রশ্নকারী অবাক হয়ে বলল, 'আপনার পোশাক কী, হে আমীরুল মু'মিনীন!' তিনি বললেন, 'লুঙ্গি, কামীস ও চাদর।'
প্রশ্নকারী বলল, 'আর একটি ক'রে লুঙ্গি, কামীস ও চাদর গ্রহণ করেন না কেন?' তিনি বললেন, 'ছিল, পুরনো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।' প্রশ্নকারী বলল, 'অন্যও তো গ্রহণ করতে পারেন?' এ কথা শুনে তিনি মাথা নিচু ক'রে কেঁদে ফেললেন এবং কুরআনের একটি আয়াত পাঠ করলেন---যার অর্থ, এ পরলোকের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। আর সাবধানীদের জন্য শুভ পরিণাম। (ক্বাস্বাস্বঃ ৮৩)
📄 হারানো মুদ্রা-কলস
এক ব্যক্তি লম্বা সফরে বিদেশে গিয়েছিল। তখনকার যুগে কোন ব্যাংক ছিল না। সুতরাং জমানো স্বর্ণ বা রৌপ্য-মুদ্রা কলসে ভরে মাটিতে পুঁতে গোপন রাখতে হতো। সে তাই করেছিল। তার বাড়ির বাগানের একটি জায়গায় মুদ্রার কলসটি পুঁতে রেখেছিল। কিন্তু বহু দিন পর ফিরে এসে সেই জায়গাটি আর মনে পড়ছিল না। তার উপার্জিত ধন হারিয়ে যাবে, তা কীভাবে হয়? তার চলবে কীভাবে? সুতরাং সে এক সময় ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর নিকট কোন ব্যবস্থা নিতে উপস্থিত হল। যদিও এটি কোন দ্বীনী মসলা ছিল না, তবুও জ্ঞানী ভক্তিভাজনের কাছে দুনিয়াবী সমস্যার কথাও জানানো হয়। সে বলল, 'জনাব! আমি আমার মুদ্রার কলসটি কোথায় পুঁতে রেখেছি, তা মনে পড়ছে না। এখন আমি কী করতে পারি?'
বিচক্ষণ ইমাম চট্ ক'রে বললেন, 'তুমি আজ সারা রাত নামায পড়ো।' লোকটি অবাক হয়ে বলল, 'জনাব! মুদ্রার কলসের সাথে নামাযের কী সম্পর্ক?' তিনি বললেন, 'আমি যা বললাম, তাই করো। তারপর সকালে এসে ফলাফল বলো।' লোকটি নিরাশ মনেও আশাবাদী হয়ে ফিরে গেল। এশার নামাযের পর শুরু করল নফল নামায পড়তে। কিন্তু কী আশ্চর্য! এক রাকআত শেষ হতে না হতেই তার সেই জায়গাটির কথা মনে পড়ে গেল, যেখানে সে কলসটি পুঁতে রেখেছিল। সুতরাং দু'রাকআত কোন রকমভাবে শেষ ক'রে কোদাল নিয়ে ছুটল সেই জায়গার দিকে। কিছু খুঁড়তেই বের হয়ে এল মুদ্রার সেই কলস! সে যে কী খুশি! তাকে আর নামায পড়তে হল না। লোকটা বড় অবাক হল, নামাযের এত বড় ক্ষমতা? ফজরের নামায পড়েই সে ইমাম সাহেবের সঙ্গে দেখা ক'রে বলল, 'দারুণ প্রেসক্রিপশন হুজুর! এক রাকআত শেষ না হতেই মনে পড়ে গেল!' ইমাম সাহেব বললেন, 'আমি জানতাম, শয়তান তোমাকে সারা রাত নামায পড়তে দেবে না।' তার মানে শয়তান জরুরি জিনিস ভুলিয়ে দেয়, যাতে মানুষের ক্ষতি হয়, আবার জরুরি জিনিস মনেও পড়িয়ে দেয়, যদি তার মাধ্যমে মানুষের অধিকতর বড় ক্ষতি হয়। সে অনেক সময় মানুষের উপকার করে, কিন্তু তা কেবল তার ক্ষতি করার জন্য। এই জন্য নামাযের মধ্যে অনেক বিস্মৃত কথা সে মনে পড়িয়ে দেয়।
📄 শয়তানের কাজ
এক ছাত্র তার উস্তাদকে জিজ্ঞাসা করল, 'হযরত! শয়তানের কাজ কেমন?' উস্তাদ বললেন, 'শয়তানের কাজ ছোট্ট কিছু লাগিয়ে দেওয়া।' ---জি! বুঝলাম না। ---সে সামান্য কিছু দিয়ে লাগিয়ে দেয়। অতঃপর তার থেকে শুরু হয় বিরাট হাঙ্গামা। যেমন ছোট্ট একটি অঙ্গার টুকরা একটি গ্রাম বা শহর বা বিরাট জঙ্গলকে ছারখার করতে পারে, তেমনি শয়তানের সামান্য চক্রান্তও বিরাট ধ্বংস-লীলা আনতে পারে। চল মিষ্টির দোকানে গিয়ে তোমাকে শয়তানের লীলা দেখাই।
উস্তাদ-ছাত্র মিলে একটি মিষ্টির দোকানে বসে মিষ্টি খেতে লাগল। খেতে খেতে উস্তাদ মিষ্টির একটু রস লাগিয়ে দিলেন দেওয়ালে। ক্ষণেক পর ঐ রসে কিছু মাছি এসে বসল। তা দেখে টিকটিকি এল মাছি ধরতে। ইত্যবসরে এক ক্রেতার পোষা কুকুর সেই টিকটিকিকে ধরতে লাফ মারল। কিন্তু ঘুরে পড়ে গেল মিষ্টির গামলায়। তা দেখে ময়রা চিৎকার করে কুকুরটিকে মারতে শুরু করল। তা দেখে কুকুর-ওয়ালা বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা হতে হতে হাতাহাতি, লাঠালাঠি ও শেষে থানা-পুলিশ হয়ে গেল।
বলা বাহুল্য, দেওয়ালে মিষ্টির রস লাগানোর মত ছোট্ট কাজ ঐ শয়তানের। কিন্তু জ্ঞানীরা যদি ধৈর্যের সাথে শুরুতেই শয়তানের চক্রান্তকে প্রতিহত করে, তাহলে এত বাড়াবাড়ি আর হয় না।